০৩ আগস্ট ২০২১
`

করোনায় বিধ্বস্ত গ্রামীণ ভারত, টাকার অভাবে নদীর পাড়ে পুঁতে দেয়া হচ্ছে লাশ

গঙ্গার ঘাটের কাছে অন্তত শ’খানেক কবরের জায়গা খুঁজে পাওয়া গেছে। - ছবি : সংগৃহীত

করোনা সংক্রমণ এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, হিন্দুদের কাছে পুণ্য নদী গঙ্গাতেও বেওয়ারিশ লাশ ভাসতে দেখছে ভারত। শুক্রবারও একই চিত্র দেখা গেছে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের গাহমার ঘাটে। পাঁচটি লাশ ঘাটের কাছে পাওয়া যায়। দুটি গঙ্গার পাড়ে বালিতে আটকে, একটি ভাসমান এবং দুটি দেহাবশেষ।

সেখান থেকে আরো একটু দূরে উন্নাওতে অন্তত ২০০টি লাশ গঙ্গার পাড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চলতি সপ্তাহেই লাশগুলো বালিতে পুঁতে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টিতে বালি সরে গিয়ে লাশগুলো বেরিয়ে এসেছে।

এই ভয়াবহতা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের গ্রামীণ মানুষদের অসহায়তার বর্ণনা তুলে ধরে। গাজিপুর ও উন্নাওয়ের স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং মৃতের পরিজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই পরিত্যক্ত লাশগুলোর নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ বদঅভ্যাস, গভীর আর্থিক সঙ্কট এবং লাশ সৎকারের তাড়াহুড়ো। করোনা মহামারী শহর ছেড়ে গ্রামীণ ভারতে কী ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে তার খণ্ডচিত্র হলো এই লাশগুলো। এমন বহু মৃত্যু সরকারি খাতায় নথিভুক্তও হয়নি।

বিহার সীমান্ত থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে গাহমার ঘাটে গত তিন দিন ধরে স্থানীয়রা, পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তারা লাশগুলো সৎকারে ব্যস্ত। কিছু লাশ জ্বালিয়ে এবং কিছু বালিতে পুঁতে দেয়া হচ্ছে।

কমলা দেবী নামে স্থানীয় এক ডোম বলছেন, ‘এমন দৃশ্য আমি আগে কখনো দেখিনি। নৌকায় চেপে ভাসমান লাশগুলো পাড়ে নিয়ে আসছি আমরা। পচা-দুর্গন্ধে বাতাসে শ্বাস নেয়া দায়। এখানে গঙ্গা নদী বাঁক নিয়েছে। তাই লাশগুলো নিম্নপ্রবাহে এখানে এসে পাড়ে আটকে যাচ্ছে। অন্তত ৮০টি লাশ তো হবেই।’

প্রদীপ কুমার নামে বাকসার ঘাটের এক নাপিতের কথায়, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সৎকারের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। চিতার কাঠ যেখানে আগে ৫০০ টাকায় মিলত, এখান দেড়-দু হাজার টাকা লাগছে। গোটা সৎকার প্রক্রিয়ার জন্য লাগছে অন্তত ১০ হাজার টাকা। ১৫ দিন আগে এখানে বালির মধ্যে স্থানীয় একজনকে পুঁতে দেয়া হয়েছে। মাদকাসক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি বৃষ্টিতে বালি সরে যাওয়ায় কুকুরে তার লাশ খুঁড়ে বের করে। আমি দেখছি, সৎকারের টাকার অভাবে অনেকেই বালিতে দেহ পুঁতে দিচ্ছেন।’

গঙ্গার ঘাটের কাছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অন্তত শ’খানেক কবরের জায়গা খুঁজে পেয়েছে। বৃষ্টিতে বালির স্তূপ সরে গিয়েছে।

স্থানীয় এক জেলে করণ সিং বলছেন, ‘সপ্তাহ খানেক আগে দিনে ১০০টা লাশ আসত ঘাটে দাহ করার জন্য। অর্ধেক তার মধ্যে বালিতে পুঁতে দেয়া হতো।’

কিন্তু বর্তমানে জেলা প্রশাসন বালিতে কবর দেয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



আরো সংবাদ