০৭ মে ২০২১
`

ভারতের কুম্ভমেলায় করোনার তীব্র সংক্রমণ

একমাস ধরে চলে কুম্ভমেলা। - ছবি : ডয়চে ভেলে

করেনাকালেও ভারতের কুম্ভমেলায় লাখো মানুষ ভিড় করেছেন। হিন্দুদের এ পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা বাড়ার কারণে করোনার তীব্র সংক্রমণও দেখা গেছে সেখানে। গোটা ভারতের করোনা পরিস্থিতিও শঙ্কাজনক। কোনো হাসপাতালে খালি বেড পাচ্ছেন না সংক্রমিতরা। শনিবার ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

হরিদ্বারের কুম্ভমেলায় লাখ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছে। একমাস ধরে চলে কুম্ভমেলা। এর মধ্যে দু’বার শাহি স্নান হয়েছে। একটি হিসাব বলছে, একটি স্নানে একসাথে ২৮ লাখ মানুষ ছিল সেখানে। করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে কুম্ভমেলায়। তাও মানুষের আসার শেষ নেই।

তীব্র সংক্রমণের কারণে এক দিনেই ৩০ জন সাধু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। একইসাথে পুণ্যলাভের আশায় যে অসংখ্য মানুষ সমবেত হয়েছেন, তাদের মধ্যেও করোনা ছড়াচ্ছে দ্রুত।

দু’টি প্রভাবশালী আখড়া জানিয়ে দিয়েছে, তারা শনিবারই কুম্ভমেলা ছেড়ে চলে যাবে। নিরঞ্জনী আখড়া ও তপোধন শ্রী আনন্দ আখড়া। মোট ১৩টি প্রধান আখড়া কুম্ভমেলায় আসে। তার মধ্যে নিরঞ্জনী আখড়া যথেষ্ট প্রভাবশালী। প্রচুর নাগা সন্ন্যাসী এ আখড়ার সাথে যুক্ত। তারা জানিয়েছে, আখড়ার সাধুরা শনিবার স্নান করে হরিদ্বার ছাড়বেন। কুম্ভের অবস্থা ভালো নয়। তাদের অনেক সাধুর মধ্যে মরণব্যাধি করোনার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মধ্যপ্রদেশের নিরওয়ানি আখড়ার প্রধান মহামণ্ডলেশ্বর কপিল দেব দাসের মৃত্যু হয়েছে। তারপরই আখড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর কুম্ভে এত মানুষ এসেছেন ও স্নান করছেন যে সামাজিক দূরত্বের বিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় বারবার প্রশ্ন উঠছে, করোনাকালে কেন এভাবে কুম্ভমেলা হচ্ছে? কেন কুম্ভে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না? করোনার সময়ে দিল্লিতে সব ধরনের জমায়েত বন্ধ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রেও তাই। সেখানে হরিদ্বারে লাখো মানুষ জমায়েত হয়েছেন। রাজ্য সরকার বলছে, তারা মানুষের বিশ্বাসে আঘাত দেবে না।

এত দ্রুত করোনা ছড়ানোয় হাসপাতালের সব বেড ভর্তি। দিনভর চেষ্টা করেও করেনা আক্রান্তরা হাসপাতালে জায়গা পাচ্ছেন না। দিল্লি, মুম্বাই, লখনউ, কলকাতাসহ সব জায়গার ছবিই এক।

করোনা রোগীকে অনেক সময়ই রেমডেসিভির দেন চিকিৎসকরা। ওই রেমডেসিভির পাওয়া যাচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার আরো ১০০টি হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর অনুমতি দিয়েছে। অক্সিজেন পাওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

দিল্লিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না হাসপাতালগুলো। এইমসের মতো হাসপাতালের প্রধান জানিয়েছেন, তাদের প্রচুর নার্স করোনায় আক্রান্ত। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, দিল্লি সরকারের হাসপাতালে একটা সিঙ্গল বেডে দু’জন করোনা রোগীকে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে



আরো সংবাদ