০৭ মে ২০২১
`

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হলো টিএলপি

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ - ছবি : সংগৃহীত

আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকার দেশটির উগ্র রক্ষণশীল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পার্টিকে (টিএলপি) নিষিদ্ধ করেছে। দলীয় প্রধানকে গ্রেফতারের জেরে সারাদেশে দলটির কর্মীদের সহিংস বিক্ষোভের পর বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীন টিএলপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের বিশ্বাসের যুক্তিযুক্ত ভিত্তি রয়েছে যে তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত, যারা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিচার বহির্ভুত আচরণ প্রদর্শন করেছে, জনগণকে হুমকির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও নিরীহ পথচারীদের শারীরিক ক্ষতি, আঘাত ও মৃত্যুর কারণ তৈরি করেছে, বেসামরিক লোক ও কর্মকর্তাদের আক্রমণ করেছে, বিপুলমাত্রায় সংকট তৈরি করেছে, হুমকি, কুটক্তি ও ঘৃণাকে উৎসাহিত করেছে, যানবাহনসহ জনগণের ও সরকারের সম্পত্তিতে লুটপাট করেছে ও আগুন দিয়েছে, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরবরাহে বাধা দিয়েছে এবং সরকার ও জনগণকে হুমকি, নিগ্রহ ও ভীতি দেখিয়েছে এবং সমাজে ও জনসাধারণের মাঝে বৃহৎ পরিসরে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এর পরিপ্রেক্ষিতে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ১৯৯৭ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার তেহরিক-ই-লাব্বাইককে বর্ণিত আইনের উদ্দেশ্য অনুসারে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে লিপিবদ্ধ করছে।’

ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ ঘোষণা করেন, মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দলটিকে বিলুপ্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা খাদিম হুসাইন রিজভীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত টিএলপি গত বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের ইসলামবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকে ফরাসি পণ্য বর্জন ও ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

দাবির কথা বিবেচনার আশ্বাসে সরকারের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পরও গত নভেম্বরে দলটি রাজধানী ইসলামাবাদের প্রধান মহাসড়কে বৃহৎ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দলটি আবারো বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিলে সরকার তাদের সাথে আর নতুন করে কোনো চুক্তিতে যায়নি, তবে সরকারের আলোচকরা পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে একটি সময়সীমার ব্যাপারে তাদের রাজি করাতে সক্ষম হন।

২০ এপ্রিল নতুন সময়সীমার আগে সোমবার পুলিশ টিএলপি প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সাদ রিজভীকে গ্রেফতার করে। গত নভেম্বরে খাদিম হুসাইন রিজভীর মৃত্যুর পর সাদ রিজভী দলটির প্রধান নির্বাচিত হন।

সাদ রিজভীর এ গ্রেফতারের প্রতিবাদে তার সমর্থকরা বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং দেশজুড়ে সড়ক ও জনপথ অবরোধ করে রাখে। করাচি, লাহোর এবং দেশের অন্য অনেক জায়গায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

সূত্র : ডন



আরো সংবাদ