১৩ মে ২০২১
`

ব্যাপক বিক্ষোভের পর পাকিস্তানে ‘নিষিদ্ধ’ হচ্ছে উগ্র ডানপন্থী দল টিএলপি

পুলিশকে ঢিল ছুঁড়ছেন টিএলপির বিক্ষোভকারীরা - রয়টার্স ফাইল ছবি

দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের পর পাকিস্তান সরকার দেশটির উগ্র ডানপন্থী দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানকে (টিএলপি) নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

বুধবারও দলটি দেশব্যাপী বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টার এ বিক্ষোভে অন্তত দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪০ জন।

বুধবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা টিএলপিকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজই তা সংসদে অনুমোদনের জন্য যাবে।

পরে এক টুইটে তিনি বলেন, পাকিস্তানি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে।

রাশিদ বলেন, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ সদস্যদের অপহরণ করেছে। তবে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে মুক্ত করা হয়েছে।

ইসলামিক গ্রুপ টিএলপি প্রতিষ্ঠা হয়েছে মুসলিম নেতা খাদিম হুসাইন রিজভীর নেতৃত্বে। গত বছর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসলামবিরোধী বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকে এ গ্রুপটি গত নভেম্বর থেকে ফরাসি পণ্য বর্জন ও ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।

দাবির কথা বিবেচনার আশ্বাসে সরকারের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পরও গত নভেম্বরে দলটি রাজধানী ইসলামের প্রধান মহাসড়কে বৃহৎ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দলটি আবারো বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিলে সরকার তাদের সাথে আর নতুন করে কোনো চুক্তিতে যায়নি, তবে সরকারের আলোচকরা পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে একটি সময়সীমার ব্যাপারে তাদের রাজি করাতে সক্ষম হন।

২০ এপ্রিল নতুন সময়সীমার আগে সোমবার পুলিশ টিএলপি প্রধান ও এর প্রতিষ্ঠাতার ছেলে সাদ রিজভীকে গ্রেফতার করে। খাদিম হুসাইন রিজভী গত নভেম্বরের বিক্ষোভের পর স্বাভাবিক কারণেই মারা গেলে দলটির প্রধান হন সাদ রিজভী।

সাদ রিজভীর এ গ্রেফতারের প্রতিবাদে তার সমর্থকরা বিক্ষোভের ডাক দেয় এবং দেশজুড়ে সড়ক ও জনপথ অবরোধ করে রাখে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, করাচি, লাহোর এবং দেশের অন্যান্য অনেক জায়গায় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা



আরো সংবাদ