১৩ মে ২০২১
`

করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড, তবু লকডাউনে যাবে না ভারত

কার্যত লকডাউনে রুটিরুজি হারানোর আশঙ্কা করছেন মুম্বাইয়ের হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক - ছবি : বিবিসি

ভারতে নতুন শনাক্ত করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘন্টায় আগের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। মারাও গেছেন ১ হাজার ২৭ জন। ফলে দেশটিতে কোভিডে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ৭২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

তবে করোনার এই দ্বিতীয় ধাক্কায় পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও কেন্দ্রীয় সরকার যে পূর্ণ লকডাউন জারি করছে না, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বিশ্ব ব্যাংকের সাথে এক আলোচনায় তা জানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু যেসব রাজ্যে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ তারা নিজেদের মতো ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে - যেমন মুম্বাইসহ গোটা মহারাষ্ট্রে বুধবার রাত ৮টা থেকে প্রায় লকডাউনের মতোই নানা বিধিনিষেধ চালু হয়ে যাচ্ছে।

বস্তুত ভারতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা গত বছরের চেয়েও অনেক বেশি ব্যাপক আকারে ও অনেক দ্রুত গতিতে আঘাত হেনেছে - গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা।

ভারতে এযাবত মোট রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখ, যা ব্রাজিলকেও ছাপিয়ে গেছে - এবং তার মধ্যে ৯.২৪ শতাংশ এই মুহূর্তে অ্যাকট্ভি কেস, অর্থাৎ তারা এখনো রোগের সাথে লড়ছেন।

প্রায় ৯০ শতাংশের মতো রোগী সেরে উঠেছেন, আর মৃত্যুর হার ১.২৫ শতাংশের মতো - অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার করোনা রোগীর মধ্যে সোয়া শ’ জনের মতো মারা যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রাজেশ ভূষণ মেনেই নিয়েছেন পরিস্থিতি সত্যিই দুশ্চিন্তায় ফেলার মতো।

তিনি বলেন, ‘আগে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির যা রেকর্ড ছিল, তা এর মধ্যেই ছাপিয়ে গেছে - এবং এই প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী, প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে।’

‘ফলে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক - আর প্রতিটা রাজ্যকে আমরা ক্রমাগত সেই কথাটাই বলে চলেছি, তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’

‘এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের ৫৩টি বিশেষজ্ঞ দল দেশটির সবচেয়ে আক্রান্ত ৫৩টি জেলায় ক্যাম্প করে আছেন, মহামারী মোকাবিলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন,’ জানান রাজেশ ভূষণ।

এই মুহূর্তে কোভিড পরিসংখ্যান গত বছরের চেয়েও অনেক খারাপ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে যে দেশব্যাপী লকডাউন জারির কথা ভাবা হচ্ছে না, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সাথে এক ভিডিও বৈঠকে মিস সীতারামন বলেন, ভারত কোভিডের মোকাবিলা করবে টেস্টিং, ট্র্যাকিং, ট্রিটমেন্ট, টিকা আর কোভিড-সম্মত আচরণবিধি পালনে জোর দিয়ে - লকডাউন দিয়ে নয়।

তার কথায়, ‘যতই দ্বিতীয় ধাক্কা আসুক, আমাদের স্পষ্ট কথা হলো, ভারত বড় আকারে কোনো লকডাউনে যাবে না।’

‘অর্থনীতির চাকাকে আমরা স্তব্ধ করতে চাই না।’

‘শনাক্ত রোগীদের আইসোলেশনে রেখে বা আক্রান্ত এলাকা কোয়ারেন্টিন করেই আমরা সেকেন্ড ওয়েভের মোকাবিলা করব, কোনো লকডাউন জারি করা হবে না,’ বলেন সীতারামন।

তবে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য, যেখানে দৈনিক ৫৫ থেকে ৬০ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তারা বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকেই কার্যত লকডাউনের কবলে পড়তে চলেছে।

যার ফলে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইসহ গোটা রাজ্যেই খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

আগামী ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন সব দোকানপাটও।

তবে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এই পদক্ষেপকে লকডাউন বলতে রাজি নন।

উদ্ধব ঠাকরে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তার ভাষণে বলেন, ‘একে বলা যেতে পারে ব্রেক দ্য চেইন, অর্থাৎ কোভিড সংক্রমণের শৃঙ্খলকে ভাঙার চেষ্টা।’

‘সেই লক্ষ্যেই আমরা ১৫ দিনের জন্য রাজ্যে লোকজনের মেলামেশা, অপ্রয়োজনীয় সব যাতায়াত এগুলো বন্ধ করতে চাইছি।’

এই বিধিনিষেধকে লকডাউন বলা হলো কি হলো না, তাতে অবশ্য অভিবাসী শ্রমিকদের কিছু যায় আসে না - আরো একবার রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় তারা বিপুল সংখ্যায় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন রেলস্টেশনে গ্রামে ফেরার ট্রেন ধরতে জড়ো হচ্ছেন।

একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে দিল্লির বিভিন্ন বাস টার্মিনাস ও রেল স্টেশনেও।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি বৈঠকের পর এবছর ক্লাস টুয়েলভের বোর্ড পরীক্ষা আবারো পিছিয়ে দেয়ার এবং ক্লাস টেনের বোর্ড পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ