১৯ এপ্রিল ২০২১
`

বিক্ষোভের শততম দিনে কৃষকদের দিল্লি প্রবেশের রাস্তায় অবরোধ

বিক্ষোভরত কৃষক - ছবি : রয়টার্স

ভারতের কৃষি বাজারের নিয়ন্ত্রণহীনতার বিরুদ্ধে কৃষকদের বিক্ষোভের শততম দিনে রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরের ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে। দাবি আদায়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ দিতে শনিবার এই কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভরত কৃষকেরা।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হওয়া তিন কৃষি আইনের বিরোধিতায় যুবা-বৃদ্ধ কৃষকেরা গাড়ি, ট্রাক ও ট্রাক্টর নিয়ে মহাসড়কটিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য অবরোধ পালনের জন্য যান। বিক্ষোভকারী কৃষকদের দাবি, এই আইনের আওতায় কৃষিখাতকে বেসরকারি প্রতিযোগীদের জন্য খুলে দেয়ার মাধ্যমে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলছেন, দেশটির বিশাল ও সেকেলে কৃষিখাতকে সংস্কারের প্রয়োজনেই এই আইন করা হয়েছে। কৃষকদের বিক্ষোভকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের ৬৮ বছর বয়সী কৃষক অমরজিৎ সিং বলেন, ‘মোদি সরকার এ বিক্ষোভটিকে তাদের ইগোর প্রশ্নে পরিণত করেছে। তারা কৃষকদের কষ্ট দেখতে পান না। আমাদের জন্য প্রতিবাদ করা ছাড়া কোনো পথই তারা খোলা রাখেননি।’

তীব্র শীত উপেক্ষা করে ডিসেম্বর থেকেই ভারতের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের হাজার হাজার কৃষক মোদির কৃষি সংস্কার আইন বাতিলের দাবিতে রাজধানীর বাইরে তাবু খাটিয়ে আন্দোলন করে আসছেন।

কৃষকদের এই আন্দোলন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। জলবায়ু নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও মার্কিন গায়িকা রিহানাসহ খ্যাতনামা তারকাদের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমর্থন লাভ করেছে ভারতীয় কৃষকদের এই আন্দোলন।
কিন্তু, সংকটের সমাধানে মীমাংসায় সরকার ও কৃষক নেতাদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পরও সমাধান আসেনি।

মোদি সরকার এ আন্দোলনের সমর্থকদের দমন করছেন এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

শান্তিপূর্ণভাবে এই আন্দোলন পালিত হলেও, ২৬ জানুয়ারি ক্ষণিকের এক সহিংসতায় একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ওই দিনের ঘটনা নিয়ে ভুয়া প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য আট সাংবাদিককে অভিযুক্ত করে পুলিশ মামলা করে।

হিউম্যান রাইট ওয়াচ গত মাসে এক বিবৃতিতে বলে,‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদেরকে কলঙ্ক দেয়ার ওপর নজর দিয়েছে এবং যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের হয়রানি করছে। এ বিষয়ে যারা খবর প্রকাশ করছে তাদের ওপরও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।’

এদিকে রাজধানীতে তীব্র গরম শুরু হওয়ার সাথে সাথে চাষাবাদের মওসুম শুরু হলেও শনিবারে সমবেত কৃষকরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফিরবেন না।

পাঞ্জাবের ৫৮ বছর বয়সী কৃষক রাজা সিং বলেন, ‘তীব্র শীত আমাদের আন্দোলনে প্রভাব ফেলতে পারেনি, শুষ্ক তাপও কাবু করতে পারবে না।’

সূত্র : রয়টার্স



আরো সংবাদ