১৫ আগস্ট ২০২০

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কতটা কাজের, পূর্বাভাস সোমবার

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন কতটা কাজের, পূর্বাভাস সোমবার - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

করোনাভাইরাস নিয়ে হাজারো নেতিবাচক আলোচনার মধ্যে অন্যতম আশার আলো ভ্যাকসিনের গবেষণা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তেমন একটি গবেষণাই বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছে। যে ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য প্রকাশিত হতে চলেছে সোমবার, বিজ্ঞান পত্রিকা ল্যানসেটে। ভ্যাকসিন কতটা নিরাপদ, কতটা কাজের, তার একটি আভাস পাওয়া যাবে ফেজ ওয়ান ট্রায়ালের সেই রিপোর্ট সামনে এলে। ইতিমধ্যেই ফেজ থ্রি হিউম্যান ট্রায়াল চলছে ব্রাজিলে। সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা নিয়ে আরো বড় আকারের গবেষণা চলছে সেখানে।


তবে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ মিডিয়ার দাবি, ভ্যাকসিন গবেষণা নিয়ে আশাবাদী গবেষকরা। তাদের মতে, অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনটি করোনার বিরুদ্ধে জোড়া অস্ত্রে শান দেবে। বিশেষ করে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর দেখা গিয়েছে, অ্যান্টিবডির পাশাপাশি ‘কিলার টি সেল’ও তৈরি হচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব নিয়ে বিশ্ব জুড়েই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। তবে টি সেল বেশ কয়েক বছর মানবশরীরে থেকে পাহারা দেওয়ার কাজ করে। তাই একটি অস্ত্র না-থাকলেও অন্যটি করোনার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে থাকবে। জোড়া অস্ত্র একসঙ্গে কাজ করলে তো কথাই নেই। ফেজ ওয়ান ট্রায়ালে এক হাজার জনের উপর পরীক্ষামূলক ভাবে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি ও টি সেল- দুয়েরই অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।

অবশ্য আশাবাদী হওয়ার ফাঁকে কয়েকটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে ভুলছেন না গবেষকরা। সম্ভবত এই প্রথম কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে এত তাড়াতাড়ি ভ্যাকসিন বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে সাফল্য ১০০% হবে কি না, তা এখনই বলার সময় আসেনি। গোটা প্রচেষ্টা ব্যর্থও হয়ে যেতে পারে। আবার ভ্যাকসিন কত বছর সুরক্ষা দিতে পারবে, প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়েও।

আগামী দু'বছরে ২০০ কোটি ভ্যাকসিন বানানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি। প্রসঙ্গত, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ হয়েছে তারা। ফলে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সাফল্য পেলে ভারতীয় বাজারে আসতে বেশি সময় লাগবে না। দেশের জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে বিপুল চাহিদা মেটাতে অবশ্য সময় লাগবে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্য দেশের ভ্যাকসিন গবেষণা নিয়েও বেশ কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না জানিয়েছে, ২৭ জুলাই থেকে ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল তারা শুরু করবে। তাতে ৩০ হাজার আমেরিকান অংশ নেবেন। মডার্নার প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা নিয়েও আশার সঞ্চার হয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে তারা শেষ পর্যায়ের কাজ শুরু করবে। জার্মানির বায়োনটেক মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা ফাইজারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে ট্রায়ালের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

সূত্র : এই সময়


আরো সংবাদ