১৩ জুলাই ২০২০

৯ বছর সংসার করার পর জানা গেলো স্ত্রী আসলে একজন পুরুষ

হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা জানালেন তিনি জিনগতভাবে আসলে পুরুষ। - প্রতীকী ছবি

দেখতে-শুনতে, আচারে-ব্যবহারে, শারীরিক গঠনে পুরোপুরি একজন নারী হিসাবেই ৩০টি বসন্ত পার করে ফেলেছিলেন। গোল বাঁধলো হঠাৎ করে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হওয়ায়।

এই লকডাউনের মধ্যেই অনেক ঝক্কি-ঝামেলা সামলে তাকে কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসকরা যা জানালেন তাতে চক্ষু চড়কগাছ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বাসিন্দা ওই নারীর।

চিকিৎসকরা জানালেন, টেস্টিকুলার ক্যান্সারে ভুগছেন তিনি। অর্থাৎ তিনি জিনগতভাবে আসলে পুরুষ। কারণ পুরুষদের যৌনাঙ্গের ক্যান্সারেরই একটি প্রকার হল টেস্টিকুলার ক্যান্সার।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এ ধরণের ক্যান্সার শারীরিকগঠনের কারণেই কোনো নারীর হওয়া সম্ভব নয়।

ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ড. অনুপম দত্ত এবং সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ড. সৌমেন দাস ওই নারীর শরীরের যাবতীয় পরীক্ষার পর জানতে পারেন, আসলে জন্ম থেকেই ‘অ্যান্ড্রোজেন সেনসিটিভিটি সিন্ড্রোম’ নামে একটি বিরল রোগের শিকার তিনি। প্রতি ২২ হাজার মানুষর মধ্যে একজনের শরীরে এমন রোগ থাকে। এর ফলে একটি শিশু জেনেটিকালি পুরুষ হিসেবেই জন্ম নেয় কিন্তু তার মধ্যে একজন নারীর সমস্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে।

৯ বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। চিকিৎসকদের কথায়, তার সাথে কথা বললে বা তাকে দেখলে কারোর মনেই এ সন্দেহ জাগার কথা নয় যে, তিনি জেনেটিক্যালি পুরুষ।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে ড. অনুপম দত্ত বলেন, ‘ওনাকে দেখলে বা ওনার কণ্ঠস্বর শুনলে আপনার কোনোভাবেই মনে হবে না যে উনি জেনেটিক্যালি পুরুষ। স্তন থেকে শুরু করে জননেন্দ্রিয়, একজন নারীর মতো সব কিছুই রয়েছে তার শরীরে। কিন্তু জন্মের সময় থেকেই তার জরায়ু এবং ডিম্বাশয় কোনোটাই ছিল না। এমনকী জীবনে কখনো ঋতুস্রাবও হয়নি তার।’

‘ওর খুব পেটে যন্ত্রণা হওয়ার কারণে আমরা বেশ কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে দেখি। কিন্তু তাতে দেখা যায়, ওর শরীরে অণ্ডকোষ রয়েছে। বায়োপসি করানো হয়। তারপরই ধরা পড়ে যে, তিনি আসলে টেস্টিকুলার ক্যানসারে আক্রান্ত’, একথাও বলেন ওই চিকিৎসক।

বর্তমানে ওই ব্যক্তির শরীরে কেমোথেরাপি চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

কিন্তু যিনি এতদিন নারী হিসাবে নিজেকে জেনে এসেছেন, হঠাৎ করে তার শরীরে পুরুষত্বের প্রমাণ মেলায় কতটা স্বাভাবিক থাকতে পারবেন তিনি ও তার পরিবার- এসম্পর্কে চিকিৎসকদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, ‘হ্যাঁ, একজন নারী হিসেবেই বড় হয়েছেন তিনি। প্রায় এক দশক ধরে বিবাহিত জীবনও কাটিয়েছেন তিনি। তাই আমরা এখন তাকে ও তার স্বামীকে পরামর্শ দিয়েছি, যেভাবে এতগুলো বছর তারা দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে এসেছেন, ঠিক সেভাবেই বাকি জীবনটা যেন কাটান তারা।’

জানা গেছে, ওই দম্পতি গত কয়েকবছর ধরে বেশ কয়েকবার গর্ভধারণের চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিলেন না। তবে বর্তমানে জানা গেল তার আসল কারণ।

সম্ভবত এই রোগটি জিনগত, একথাও বলেন চিকিৎসক অনুপম দত্ত। ‘ওর দুই খালারও একই ধরনের রোগ ছিল। অর্থাৎ তারাও অ্যান্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি রোগাক্রান্ত ছিলেন। সম্ভবত এই রোগটি জিনগতই। এর থেকে বেশি আমরা বিরল এই রোগটির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছু জানতে পারিনি’, জানান চিকিৎসক।

সূত্র : এনডিটিভি


আরো সংবাদ