৩০ নভেম্বর ২০২০

ভারতে পঙ্গপালের হানা : দরজা-জানালা সব বন্ধ রাখার নির্দেশ

ভারতে পঙ্গপালের হানা : দরজা-জানালা সব বন্ধ রাখার নির্দেশ - ছবি : এনডিটিভি

ভারতে করোনাভাইরাস মহামারির মাঝেই আক্রমণ করেছে ফসলের মহাশত্রু পঙ্গপাল। পঙ্গপালের এই ঝাঁক ইতোমধ্যেই রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানার পরে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং পঞ্জাবে হামলা চালিয়েছে। এবার উড়ে আসছে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রামে।

পঙ্গপালের হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার জন্য বাসিন্দাদের উদ্দেশে শুক্রবার বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে গুরুগ্রাম প্রশাসন।

মহেন্দ্রগড়ে জেলায় ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল পৌঁছে গিয়েছে। শিগগিরই রেওয়ারি সীমানা পেরিয়া গুরুগ্রামে ঢুক পড়বে তারা। এই পরিস্থিতিতে দরজা-জানালা সব বন্ধ রাখার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। না হলে খোলা দরজা-জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়তে পারে পঙ্গপালের দল।

দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাসনপত্র-ঢাক-ঢোল পেটানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খুব জোরে নানারকম আওয়াজ করলে পঙ্গপালের ঝাঁক ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গুরুগ্রামের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল গুরুগ্রামে ঢুকে পড়তে চলেছে। এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সব দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বাসিন্দাদের। এর সাথে নানারকম আওয়াজ করলে কোনো একটি জায়গায় থাকতে পারবে না পঙ্গপালের ঝাঁক।’

পঙ্গপালের হাত থেকে শস্য রক্ষা করতে কৃষকদের কীটনাশক স্প্রে প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলেই তা ব্যবহার করতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে ১১টি কন্ট্রোল রুম খুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

গত মাসেই হরিয়ানার মুখ্যসচিব কেশনি আনন্দ অরোরা পঙ্গপালের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে সব রকম পদক্ষেপ নিতে সে রাজ্যের কৃষি দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

আফ্রিকা থেকে এই পঙ্গপালের ঝাঁক ইরান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে ঢুকেছে। বিপুল পরিমাণ খাবার খেতে সক্ষম এই পতঙ্গ শস্যের ব্যাপক ক্ষতি করে।

তবে এই পঙ্গপালের ঝাঁকের থেকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আশঙ্কার কারণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।

জাতিসঙ্ঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের সিনিয়র লোকাস্ট ফোরকাস্টিং অফিসার কিথ ক্রেসম্যান জানিয়েছেন, ‘জুনে পশ্চিমবঙ্গে পঙ্গপাল ঢোকার সম্ভাবনা কম। মাস যত শেষের দিকে যাবে, সম্ভাবনা আরো কমবে। গ্রীষ্মে উত্তর ভারত থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে বায়ুপ্রবাহ থাকে। বর্ষা চলে এলে উল্টোটা হবে। বলা যায়, মৌসুমি বাতাসের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ রক্ষা পাবে।’

সূত্র : এনডিটিভি, এই সময়


আরো সংবাদ