১০ জুলাই ২০২০

করোনাভাইরাস : ভারতে বিমান চলাচল শুরু, স্কুল খুলছে অস্ট্রেলিয়ায়

ভারতে আজ থেকে চালু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল। - এনডিটিভি ফাইল ছবি

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও আজ সোমবার থেকে চালু হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল। প্রায় দুই মাস বিমান চলাচল বন্ধ থাকার পর লকডাউন শিথিল করার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

তবে ভ্রমণ করতে হলে যাত্রীদের অবশ্যই সরকারি একটি কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ ডাউনলোড করা এবং থার্মাল স্ক্যানিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আসাম এবং উত্তরপ্রদেশ জানিয়েছে যে, যাত্রীদেরকে পৌঁছানোর পর কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। পাঞ্জাব ও কর্ণাটক প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্ত দিয়েছে। তবে দিল্লি জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর উপসর্গ নেই তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে না।

সোমবার যারা ভ্রমণ করবেন এদের মধ্যে রয়েছে আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য, শিক্ষার্থী এবং অভিবাসী শ্রমিক।

করোনাভাইরাসের কারণে ভারতে এ পর্যন্ত এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ সংক্রমিত এবং ৩৮৬৭ জন মারা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে স্কুল খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বার্তা দিচ্ছে এটি।

তবে দেশটির অন্যান্য রাজ্য যেমন ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডে এখনো স্কুল বন্ধ রয়েছে।

শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রেণীকক্ষে দেশটিতে স্বীকৃত দেড় মিটার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হবেন না তারা।

তবে স্কুল খুললেও বাচ্চাদের দুপুরের খাবারের বিরতি, সাধারণ পানির ঝর্ণা ব্যবহার, জমায়েত বা শরীরচর্চা, অর্কেস্ট্রা বা সাঁতার কাটার মতো অতিরিক্ত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাবা-মাকে বলা হয়েছে তারা যাতে নিজেদের গাড়ি বা পায়ে হেঁটে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেন যাতে করে গণপরিবহন এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। সিডনিতে প্রতিদিন অন্তত এক লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী গণপরিবহন ব্যবহার করে।

চীনে গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এই সংখ্যা গত তিন দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।

তবে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, তাদের অভ্যন্তরীণ কোন সংক্রমণ নেই। বরং নতুন সংক্রমিত সবাই বিদেশ থেকে এসেছে।

এছাড়া উপসর্গবিহীন সংক্রমিতদের সংখ্যা আলাদাভাবে হিসাব করে চীন। উপসর্গ না থাকলেও করোনাভাইরাস রয়েছে নতুন করে এমন ৪০ জনের মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে এখনো পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। রবিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলেছেন, দেশটিতে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে মহামারি নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা’ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ভাইরাস দিয়ে সংক্রমিত যা কিছু রাজনীতিবিদকে চীনকে আক্রমণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

‘যুক্তরাষ্ট্র কোভিড-১৯ এর মহামারি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সময় এবং জীবন দুই-ই অপচয় করছে,’ তিনি বলেন।

চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার একই অভিযোগ তুলেছেন যে তারা মহামারিকে লুকানোর চেষ্টা করেছে এবং বিশ্বকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে।

চিলিতে করোনাভাইরাস মহামারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতাকে ‘সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে’ বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই সতর্কতার সাথে লক্ষ্য করছি যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই চাপের মুখে রয়েছে।’

চিলিতে এ পর্যন্ত ৭০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ পর্যন্ত সাত শতাধিক মানুষ মারা গেছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাডর বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে জরুরি নয় এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে অন্তত ১০ লাখ মানুষ চাকরি হারাবে।

‘আমার অনুমান হচ্ছে করোনাভাইরাসের কারণে অন্তত ১০ লাখ চাকরি হারিয়ে যাবে, কিন্তু আমরা অন্তত ২০ লাখ সুযোগ তৈরি করবো,’ তিনি বলেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং এখনো পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ মারা গেছে।

দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে বিদেশে থাকা নাগরিকদের ব্যবহারের জন্য কয়েক লাখ মাস্ক পাঠাবে দেশটি। সোমবার এসব মাস্ক পাঠানো শুরু হবে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় তিন লাখ ৭০ হাজার মাস্ক বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে যার অন্তত ৬০% পাঠানো হবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে।

বিদেশে থাকা দেশটির ১ লাখ ৬৭ হাজার নাগরিকের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। বাকিরা ফ্রান্স, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে বাস করে।

বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের পরে ব্রাজিলেই এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

রোববার দেশটিতে ৬৫৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ হাজার ৬৬৬ জনে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ২১১ জনে যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত এবং প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও দেশটিতে রবিবার নতুন করে ৬৩৮ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট ৯৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারালো।

তবে এক টুইটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা ব্যক্ত করেছেন যে, মৃতের সংখ্যা কমাটা হয়তো অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গত ১৪ দিনের মধ্যে যারা ব্রাজিল সফর করেছেন এমন বিদেশী নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না।

তবে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো।

রোববারও তিনি রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় শত শত সমর্থকের সাথে দেখা করেছেন। তবে তিনি কোনো মাস্ক পরে যাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর উপর কোনো ধরণের প্রভাব ফেলতে পারবে কিনা সে নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ