৩১ মার্চ ২০২০

পুরো ভারতে টানা ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা মোদির

সারা ভারতজুড়ে নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। আর তারই জের ধরে এবার সমগ্র ভারত আগামী তিন সপ্তাহের জন্য অর্থ্যাৎ ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন জারি থাকবে। ওই সময়ে ভারতের কোনো নাগরিকের বাড়ির বাইরে পা রাখা উচিত নয় বলে জানান মোদি। মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি।

ভাষণে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ দিনের লকডাউন দীর্ঘ সময়, কিন্তু আপনাদের জীবন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস প্রত্যেক ভারতবাসী সরকারের নির্দেশ মেনে চলবেন। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি এই সঙ্কট কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারব আমরা।

তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই সঙ্কটের সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। আমার বিশ্বাস প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলবেন। এই সঙ্কটের সময় নানারকম গুজবও ছড়াচ্ছে। এই ধরনের গুজব এবং কুসংস্কার এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে চলুন।

মোদি বলেন, ভারতের স্বাস্থ্য সেবাকে মজবুত করতে মঙ্গলবার ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। এতে আইসোলেশশন বেড, আইসিইউ, ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো যাবে। এরই সঙ্গে মেডিক্যাল এবং প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণের কাজও গতি পাবে। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলো নিরন্তর কাজ করে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনাদের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, জীবন বাজি রেখে যারা কাজ করে চলেছেন, সেই ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক্যাল কর্মী, হাসপাতাল কর্মী, অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য প্রার্থনা করুন। যত দিন দেশ লকডাউন থাকবে তত দিন এই সঙ্কল্প নিয়ে চলতে হবে।

মোদি বলেন, ভারত এখন এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে যেখানে আমাদের সকলকে সংযম বজায় রাখার সঙ্কল্প নিতে হবে। প্রাণ থাকলে তবেই দেশ থাকবে। করোনা থেকে বাঁচার একটাই উপায়, বাড়ির বাইরে বের হবেন না। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুরুতে দেখলে বোঝাই যায় না। তাই বাড়িতে থাকুন। কেউ রাস্তায় বের হবেন না। এই ক’দিন বাইরের বাইরের জীবন ভুলে যান।

চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, ইতালির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিষেবা অত্যন্ত উন্নত। তা সত্ত্বেও করোনার মোকাবিলা করতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে উপায় কি? একটাই উপায়, যারা করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে পেরেছেন তাদের থেকে শিক্ষা নেয়া। ওই সব দেশে সরকারের কথা শুনে বাড়ির বাইরে বেরোননি সাধারণ মানুষ। আমাদেরও তা মেনে চলতে হবে।

মোদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নয়, আপনাদের পরিবারের এক জন সদস্য হিসাবে লকডাউন ঘোষণা করছি। এটা না করলে দেশ আরো ২১ বছর পিছনে চলে যাবে। আগামী তিন সপ্তাহ এই লকডাউন জারি থাকবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই সময় যে যেখানে রয়েছেন, সেখানেই থাকুন। প্রত্যেক ভারতীয়, প্রত্যেক পরিবারকে বাঁচানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দেশের যা পরিস্থিতি, তাতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভারতের প্রতিটি রাজ্য, জেলায় এই নির্দেশ কার্যকর হবে। করোনার থেকে বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। সূত্র : আনন্দবাজার


আরো সংবাদ

করোনার পিকটাইম মোকাবেলায় সরকারের কৌশল কী করোনা উপসর্গে রাজবাড়ীতে একজনের মৃত্যু ঝালকাঠিতে জ্বরে আক্রান্ত দিনমজুরের মৃত্যু, এলাকায় করোনা ভীতি চিকিৎসক ও গণমাধ্যম কর্মীদের পিপিই দিলেন মাশরাফি করোনায় আক্রান্ত নন জয়পুরহাটের ৩ রোগী ফটিকছড়িতে দুস্থদের মাঝে পুলিশের খাদ্য বিতরণ করোনা সচেতনতায় উপজেলা জুড়ে ব্যানার সাঁটাচ্ছে প্রশাসন ইউরোপে করোনাভাইরাসে কনিষ্ঠতম শিশুর মৃত্যু করোনাভাইরাস : ভারতে মাওলানা সাদ ও তাবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করোনা আতঙ্কের মধ্যে গণজমায়েত করে বিচারের আয়োজন, মারামারি করে ভণ্ডুল চৌগাছায় অর্ধশত দুস্থ পরিবারকে খুঁজে খাদ্য সামগ্রী দিলেন ইউএনও

সকল