০১ জুন ২০২০

করোনা আতঙ্কে সেই মোদির হাতেই সক্রিয় হলো সার্ক

দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা সার্ক। এই সংস্থার ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানে। ২০১৬ সালের ৯ ও ১০ই নভেম্বর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় একই বছরের মার্চ মাসে নেপালের পর্যটন শহর পোখরায় সার্ক এর সদস্য দেশ সমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে। ঐ বৈঠকে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলি উপস্থিত ছিলেন বলে খবরে বলা হয়।

তবে নভেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া কথা থাকলেও একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে তা স্থগিত হয়ে যায়। সার্কের বর্তমান সভাপতি দেশ নেপালের কাছে প্রথমে ভারত ও পরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান না করার কথা জানিয়ে দেয়। পরে আফগানিস্তান ও ভুটানও সম্মেলনে যোগদানে অসম্মতি জানালে শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। সার্ক সনদ অনুযায়ী, সদস্য যে কোনো একটি দেশ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানে অসম্মত হলেই আপনা-আপনি সেই সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। অর্থ্যাৎ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত প্রথমে যোগদানে অস্বীকৃতি জানানোর পরই সম্মেলনটি অননিুষ্ঠানিক ভাবে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আর ভারতের এই সিদ্ধান্ত এসেছিল নরেন্দ্র মোদির সরকারের তরফ থেকেই। কারণ বর্তমানের মতো সেই সময়ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি।

এরপর ২০১৮ সালে ভারত আবারো পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের বিরোধিতা করে। পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের শীর্ষ সম্মেলন পাকিস্তানে আয়োজন করা হলে নয়া দিল্লি তাতে অংশ নেবে না।

আর তাই ২০১৬ সালের পর ২০১৮ সালেও ভারতের বিরোধীতায় পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি বাতিল হয়ে যায়।

এদিকে ভারতের কূটনৈতিক চালে ২০১৬ ও ২০১৮ সালের নির্ধারিত শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে গেলেও সেই ঘটনার পর অনেকটা বাধ্য হয়েই আবারো সার্কের দ্বারস্থ হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেয়া করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্ক সচলের উদ্যোগ নেন মোদি।

শুক্রবার সকালে (১৩ মার্চ) এক টুইট বার্তায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একসাথে কাজ করতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি বলেন,‘আমাদের নাগরিকদের কীভাবে সুস্থ রাখা যায়, সে বিষয়ে আমরা ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করতে পারি। একসাথে আমরা বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর পৃথিবী গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারি।’

এরপর বাংলাদেশসহ অন্য সাত সার্ক সদস্য দেশ তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেয়ার কথা জানায়।

এরপর করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ রোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত কর্মপন্থা ঠিক করতে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রর মোদির সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হন সার্কভুক্ত আট দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা। ভিডিও কনফারেন্সে মোদির সাথে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই ভিডিও কনফারেন্স সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্কের নেতারা এ ভাইরাস রোধে করণীয় নিয়ে মতামত তুলে ধরছেন। পাশাপাশি নিজেদের গৃহীত পদক্ষেপও তুলে ধরেন।


আরো সংবাদ