০৪ এপ্রিল ২০২০

আহতাবস্থায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করেছিল পুলিশ, মারা গেছেন সেই ফয়জন

আহতাবস্থায় জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করেছিল পুলিশ, মারা গেছেন সেই ফয়জন। - ছবি : সংগৃহীত

‘ভারত ভাগ্য বিধাতা.....’র গান গাইতে গাইতে এই ভারতেই প্রাণ গেল এক মুসলমান যুবকের।

কয়েক দিন আগেই দিল্লির একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বছর ২৩-এর এক যুবকসহ চার মুসলমান ব্যক্তিকে জোর করে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ানো হচ্ছে। রাস্তায় রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন ওই চার ব্যক্তি। এরই মাঝে লাঠি উঁচিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়াচ্ছে পুলিশ।

ওই চার আহত ব্যক্তির মধ্যে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। ওই যুবকের নাম ফয়জান, তিনি উত্তর-পূর্ব দিল্লির কর্দমপুরীর বাসিন্দা।

দিল্লির এক অংশে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে চার দিনের ধ্বংসলীলার সময়ে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। এই সহিংসতায় ইতিমধ্যেই ৪২ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন শত শত মানুষ।

ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট অলটনিউজের মাধ্যমে যাচাই করা উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, পাঁচজন আহত ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে রয়েছেন এবং জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন। কয়েকজনকে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হচ্ছে। রায়ট গিয়ারে থাকা একদল পুলিশকে ওই ব্যক্তিদের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে দু’জন ওই ব্যক্তিদের মুখে লাঠি উঁচিয়ে রয়েছে। ‘আচ্ছি তারাহ গা,’ ধমকের সুরে বলেন এক পুলিশ!

দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর (জিটিবি) হাসপাতালে ফয়জানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ফয়জানের পরিবারের অভিযোগ, ফয়জানকে এবং ভিডিওতে দেখতে পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে।

‘তাকে এবং অন্যদের জঘন্যভাবে মারধর করা হয়। তাকে লোহার রড দিয়ে মারা হয়েছিল। ওর পা ভেঙে যায়, মারের কারণে তার পুরো শরীর কালো হয়ে যায়। প্রথমে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছিল। ওরা (পুলিশ) নিশ্চয় তখনই ওকে তুলে নিয়ে যায়। তবে আমি সেটা সম্পর্কে কিছুই জানি না,’ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন ফয়জানের মা।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার পরিচিত একজন ফয়জানকে চিনতে পেরে আমাকে জানিয়েছিল, আমি হাসপাতালে যাই, সেখানে ওকে না পেয়ে আমি জ্যোতি কলোনির থানায় যাই। ও থানায় ছিল, আমি তাদের (পুলিশ) ছবি দেখালাম, পুলিশ নিশ্চিত করল যে আমার ছেলে ওখানেই আছে। আমি ছেলের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম এবং ওকে মুক্তি দেয়ার জন্য অনুরোধও করেছিলাম। পুলিশ ফয়জানকে আমার সাথে দেখা করতে দেয়নি। আমি রাত ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম।’

ফয়জানের মা জানান, পরদিন সকালে তিনি আরো দু’জনকে নিয়ে থানায় ফিরে এলে তাদের আটকের হুমকি দেয়া হয়েছিল। ‘তিনি যখন মারা যাচ্ছিলেন তখন তারা রাত ১১টার দিকে আমাকে ফোন করেছিল,’ তিনি বলেছিলেন। ‘তিনি এই প্রতিবাদে অংশ নেননি,’ অন্য এক আত্মীয় জানিয়েছেন। পুলিশ ফয়জানকে মুক্তি দেয়ার পরে পরিবার তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়।

‘যখন তিনি আমার কাছে আসেন, তখন তার মা বলেন যে, পুলিশ তাকে মারধর করেছে এবং পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল এবং দুদিন পরে ছেড়ে দেয়,’ কর্দমপুরীর ডাক্তারখানায় বসে এনডিটিভিকে বলেন ডা: খালিক আহমেদ শেরওয়ানি।

‘ওর রক্তচাপ এবং পালস রেট কম ছিল। ওকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছিল। মাথায় গভীর আঘাত এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতও ছিল। পিঠে আঘাতের ফলে নীল দাগ হয়েছিল,’ বলেন চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে যে, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে।

অভিযোগ, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনকে সমর্থনকারী এবং বিরোধীদের সংঘর্ষ চলা বহু জায়গায় পুলিশের ন্যূনতম উপস্থিতিও নেই। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর থানার কল রেকর্ড বলছে, চার দিনে দিল্লি পুলিশ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ ফোন পেয়েছিল সাহায্যের জন্য। তবে এই ফোনে কতখানি সাড়া দিয়েছিল পুলিশ তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি


আরো সংবাদ