৩০ নভেম্বর ২০২০

‘আমার বুড়ি মা পালাতে পারেনি, আজ তার দাফন’


ভরদুপুরে দুধ কিনতে বেরিয়ে মোহাম্মদ সাঈদ সালমানি খবর পেলেন, তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। শ’খানেক সশস্ত্র লোক তছনছ করে ফেলছে তার পাড়া, তার বাড়ি— যার নীচের দু’টো তলায় দর্জির দোকান। বুধবার ছোট ছেলের ফোনে সালমানি এ-ও জানতে পারেন, তার পরিবার এবং দোকানের ৬ কর্মী ছাদে উঠে দরজা বন্ধ করে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর জ্বলন্ত তিনতলা বাড়ি সবাই ছুটে বেরিয়ে গেলেও শুধু নড়তে পারেননি সালমানির ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা আকবরি। দিল্লির খাজুরি খাস থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে গামরি এক্সটেনশনের বাড়িতে ফিরে সালমানি আর্তনাদ, আহাজারি আর হাহাকার করছেন,‘আমার বুড়ি মা পালাতে পারল না। আমি থাকলে মাকে ছাদে নিয়ে যেতাম।’

বৃহস্পতিবার তার নিহত মায়ের লাশ দাফন করবেন তিনি। নিঃস্ব, বিধ্বস্ত সালমানির পরিবারে ঠিক পরের দিনই এসেছে নবজাতক। হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন সালমানির পুত্রবধূ।

এটাই কী সব! এমন ঘটনা আরো আছে। দিল্লির চাঁদবাগের মোহাম্মদ জুবের নিজের ছবি দেখেই কেঁপে উঠছেন। গত মঙ্গলবার ভারতের প্রায় সমস্ত পত্রিকার প্রথম পাতায় ছিল জুবেরের ছবি। ছবিতে দেখা যায়, জুবের রাস্তায় পড়ে। আর একটা ভিড় উন্মত্তের মতো দুর্বৃত্তরা লাঠি আর রডপেটা করছে তাকে।

সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন জুবের। তারপর বিয়েবাড়ি থেকে স্ত্রীকে নিয়ে ফেরার কথা ছিল বাড়িতে। গরিব দিনমজুর জুবের তিন শিশুসন্তানের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন খানিকটা হালুয়া আর পরোটা। হঠাৎ একটা ভিড় ঘিরে ধরে পেটাতে শুরু করে তাকে। জুবের বলছিলেন,‘যত মিনতি করছিলাম, তত মার খাচ্ছিলাম। ওরা ধর্ম তুলে কটূক্তি করছিল, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের নামও নিচ্ছিল।’

জিটিবি হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পরে ভাইয়েরা তাকে নিজেদের ইন্দ্রপুরীর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রেখেছেন। জুবের বলছেন,‘জানি না বৌ-বাচ্চাদের আর দেখতে পাব কি না।’ সূত্র : আনন্দবাজার।


আরো সংবাদ