০৮ এপ্রিল ২০২০

কেন সম্রাট শাহজাহান পুত্র দারা শিকোর কবর খুঁজতে উঠে পড়ে লেগেছে মোদি সরকার?

ভারতের মোদি সরকারের নতুন লক্ষ্য মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভাই তথা শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহর কবর খুঁজে বের করা! কিন্তু কেন?

জানা গেছে, হুমায়ূনের কবরের পাশেই মোঘল শাসকদের প্রথম কবরস্থান। এখানে ১৪০টি কবর রয়েছে তবে এর মধ্যে কোনটি দারা শিকোহর তা খুঁজে বের করা মুশকিল।

আরো জানা যায়, দারা শিকো ভগবত গীতার ফারসি অনুবাদ করেন। তিনি ৫২ উপনিষদেরও অনুবাদ করেছেন। তাই মোদি সরকারের নয়া উদ্যোগ দারা শিকোহর কবর খুঁজে বের করে তার ইতিহাস বর্ণনা করে দারাকে হিন্দুস্তানের ‘সাচ্চা মুসলমান' প্রমাণ করা। এমন এক মুসলমান যিনি ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে ভীষণভাবে প্রভাবিত।

এজন্যে কেন্দ্র সরকার সাত সদস্যের এক কমিটি করেছে। এই কমিটি তিন মাসের মধ্যে দারা শিকোহর কবর অনুসন্ধান করবে। যদিও কাজটা মোটেই এত সহজ নয়। এখানে এমন কবরের সংখ্যাই বেশি যেখানে কোনো নাম লেখা নেই।

শাহজাহাননামাতে লেখা আছে, আওরঙ্গজেবের কাছে হেরে যাওয়ার পরে দারা শিকোহর মাথা কেটে আগ্রায় পাঠানো হয়। দেহের বাকি অংশটা হুমায়ূনের কবরের আশেপাশেই কোথাও কবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে বেশিরভাগ কবরেই কিচ্ছু লেখা নেই। এই সমস্ত কবরই মোঘল শাসকদের আত্মীয়দের। এর মধ্যে কোনটি দারা শিকোহর তা অনুসন্ধান করা সহজ নয়।

পদ্মশ্রী পুরাতত্ত্ববিদ কে কে মহাম্মাদ জানান, দারা শিকোহর কবরের সন্ধান করা একটু মুশকিল। কিন্তু প্রায় ১৬৫২ সালের কাছাকাছি স্থাপত্য শৈলীর ভিত্তিতে একটি ছোট কবর চিহ্নিত হয়েছে। তবে কবরের গায়ে কিছুই লেখা নেই তাই এটাই সেই কবর কিনা বলা মুশকিল।

দারা শিকোহর কবর অনুসন্ধানের দলটিতে রয়েছেন- ডাঃ আরএস ভট্ট, কে. কে মহাম্মদ, ডাঃ বিআর মণি, ডাঃ কেএন দত্ত, ডাঃ বি.এম. পান্ডে, ডাঃ জামাল হাসান এবং অশ্বিনী আগরওয়াল। কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ প্যাটেল নিজে এর আগে হুমায়ূনের কবর দেখতে যান। তারপরেই দারা শিকোহর কবর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে।

১৬৫৯ সালের ৩০ অগাস্ট দারা শিকোহর মৃত্যু হয়। শাহজাহান নিজের চার পুত্রের মধ্যে দারা শিকোহকে খুব পছন্দ করতেন। দারা শিকোহ উদারবাদী চিন্তক এবং বড় মনের মানুষ ছিলেন বলেই শোনা যায়। শাহজাহানের মৃত্যুর পরে চার ভাইয়ের মধ্যে সিংহাসনের লড়াই শুরু হয়।

তবে দারার কাছে আওরঙ্গজেবের থেকেও বড় সেনাদল ছিল, কিন্তু দারা শিকোহর রণনীতি বেশ দুর্বল ছিল এবং বিশ্বস্ত মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় দারা হেরে যান এবং আওরঙ্গজেব জিতে যান। দারাকে তার পুত্রদের সঙ্গেই বন্দি করা হয়। কিছু দিন পরে আওরঙ্গজেবের এক সেনাপতি দারা শিকোহর গর্দান ধড় থেকে পৃথক করে তা আগ্রাতে আওরঙ্গজেবের কাছে নিয়ে যান। এনডিটিভি।


আরো সংবাদ

দীর্ঘদিন জেলখাটা আসামিদের মুক্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (২৭৯১৩)করোনা ছড়ানোয় চীনকে যে ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়ার দাবি উঠল জাতিসংঘে (১৭৬৭৩)গাদ্দাফিকে উৎখাতকারী জিবরিলের করোনায় মৃত্যু (১৫৭৯০)রমজান মাসে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ (১৪৩১৪)উকুন মারার ওষুধে ৪৮ ঘণ্টায় খতম করোনা (১৩৯১৯)করোনায় মৃতদের জানাজা-দাফনে প্রস্তুত এক ঝাঁক আলেম (১২৯১৩)এবার করোনায় আক্রান্ত বাঘ (১০৬৬১)৩ ঘণ্টার রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন ২ দিন, খরচ হয়েছে ৪ হাজার টাকা! (১০৫১৮)'মেয়েকে কোলেও নিতে পারছি না!' দূর থেকে ভেজা চোখে তাকিয়ে পুলিশ অফিসার (১০০৭২)করোনার চিকিৎসায় তুরস্কের অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, পাল্টে যাচ্ছে চিকিৎসা পদ্ধতি (৯৭০৭)