২৮ অক্টোবর ২০২০

বিক্ষোভের আগুন আসামে এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়াবে, ভাবেননি অমিত শাহেরা

বিক্ষোভের আগুন আসামে এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়াবে, ভাবেননি অমিত শাহেরা - ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় পার্লামেন্টে নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস হওয়ার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিশেষ করে আসামে অশান্তি হবে জানা ছিল। কিন্তু এভাবে বিক্ষোভের আগুন স্বতঃস্ফূর্তভাবে গোটা আসামে ছড়িয়ে যাবে তা সম্ভবত ভাবতে পারেননি অমিত শাহেরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যতক্ষণে পূর্ণ উদ্যমে নামলেন ততক্ষণে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জানিয়ে মারা গিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। আসামে বিজেপিরই সরকার থাকায় সেখানে প্রাণহানির ঘটনায় রীতিমতো অস্বস্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

বিশেষ করে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরে রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল গোটা উপত্যকায়। তলে তলে চিন্তায় ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু প্রায় চার মাসের পরে সেখানে কোনো নাগরিকের মৃত্য হয়নি বলে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে দাবি করেন, তখন বিল ঘিরে তুমুল অশান্তি চলছে আসামে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গোয়েন্দা তথ্য ছিল আসামের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ হতে পারে। তাই কেন্দ্র বিলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত এলাকাগুলোতে ওই আইন প্রযোজ্য হবে না। জনজাতিদের জমি কেড়ে নেয়া বা সেই এলাকায় কাউকে অন্যদের বসবাস করতে দেয়ার প্রশ্নই নেই। তা ছাড়া বাঙালি হিন্দুরা মূলত বসবাস করেন বরাক এলাকায়। যা জনজাতিদের এলাকা থেকে অনেকটাই দূরে। তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবেও প্রচার চালানো হয় যে ওই আইন প্রযোজ্য হলে স্থানীয় জনজাতিদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

তার পরও অশান্তির পরেও মূলত দু’টি কারণকে দায়ী করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রথমত- ওই প্রচার অনেক আগে থেকেই শুরু করা উচিত ছিল। যাতে তা সর্বস্তরের পৌঁছতে সক্ষমহত। তড়িঘড়ি বিলটি আনায় স্থানীয় পর্যায়ে সেই প্রস্তুতির সময় পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত- আইন পাশ হলে বাঙালিরা (হিন্দু ও মুসলিম) আসামে সংখ্যাগুরু হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে ভূমিপুত্রদের। সেই আশঙ্কা মেটাতে কোনো বার্তা দেয়া বা পদক্ষেপ করা- কোনোটাই করেনি সরকার।

এই আবহে আসামবাসীকে বার্তা দিতে বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনী সভায় মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার গিরিডির জনসভা থেকে আসামবাসীকে আশ্বস্ত করে অমিত শাহ বলেন, ‘‘আমি আসাম ও উত্তর-পূর্বের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে বলছি তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, সামাজিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক অধিকার কোনোটাই ওই আইনের ফলে ক্ষুণ্ণ হবে না।’’

বাংলাদেশের মন্ত্রীদের ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিলের পরে শনিবার ফের ওই বিলের কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে অস্বস্তির মুখে ভারত। দেশের নাগরিকদের ভারত সফর করা নিয়ে শনিবার সতর্ক করে নির্দেশিকা জারি করে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ইসরাইলের মতো ভারতের বন্ধু দেশগুলো।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 


আরো সংবাদ