২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

মালয়েশিয়ায় জোট রাজনীতির নির্বাচন


গত ১৯ নভেম্বর ২০২২ মালয়েশিয়ায় পঞ্চদশ সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ফলাফলে দেখা যায় কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে একটি ঝুলন্ত সংসদ হচ্ছে।

মালয়েশিয়া জোট রাজনীতির নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। জনগণ চায় মালয়েশিয়া বিশ্বমানের মহান দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশের পতন রোধে জোট নেতারা নির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রণয়ন করুক।

‘মালয়েশিয়াকে আবার মহান করে তুলুন’ জোটে ১৯০ জন সংসদ সদস্যের সম্মতি রয়েছে। তাহলে ১৯৬৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী সারাওয়াক এবং সাবাহকে তাদের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য মালয়েশিয়ার সংবিধান সহজে সংশোধন করা যাবে। এই সংখ্যাটি ২২২টি সংসদীয় আসনের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। কোনো জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠ না হওয়ায় বিভিন্ন জোটে অবস্থিত সদস্যরা ভোটের চার দিন পর পরস্পর মুখোমুখি অবস্থানে এবং জোট রাজনীতিতে কিছুটা অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য প্রথম সারির নেতাদের বক্তব্য ও আচরণ দায়ী।

এবার ওয়ারিসান ন্যাশনাল, বিএন ও উমনো রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ পরাজয়ের মুখে পড়েছে। অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিকের মতো ঝানু কূটনীতিক কিট সিয়াংও ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও টেংকু রাজালেগকে প্রার্থী না হওয়ার এবং পরামর্শক হিসেবে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। তারা যদি সেটাই করতেন তাহলে নির্বাচনে পরাজয়ের এই অপমান এড়িয়ে যেতে পারতেন। ১৫তম এই সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল মালয়েশিয়ার জন্য ছোটখাটো বিপর্যয়ের মতো।

পাকাতান হারাপান-বিএন জোট ফেডারেল সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে। আনোয়ার ইব্রাহিমের জন্য দেওয়ান রাকিয়াতে বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ১১২টি আসন সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট যদি তিনি বিএন, ওয়ারিসানের তিন আইনপ্রণেতা এবং পিবিএম সভাপতি ল্যারি স্যাং থেকে কমপক্ষে ২৬ জন সংসদ সদস্য পেয়ে যান।

বিএন ইতোমধ্যে হারাপানের কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে এবং হারাপান এবং বিএন নেতাদের সাথে দফায় দফায় মিলিত হচ্ছে।

জনাব আনোয়ারের লক্ষ্য পূরণের জন্য ওয়ারিসান দলকেই বেশি দরকার। ওয়ারিসানের নেতারা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি সরকারকে সমর্থন এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এটি রাজনৈতিক বক্তব্য। ওয়ারিসান এবং বিএন-এর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা কঠিন হবে, তবে তা অসম্ভব নয়। হারাপান ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বেশি আসন থাকা সত্ত্বেও পেরাক রাজ্য বিএনকে সরকার গঠনের জন্য সমর্থন করেছে। আনোয়ার এই রিস্ক নিয়েছেন যাতে ফেডারেল সরকারে বিএন সর্বাত্মক সমর্থন দেয়।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, পাকাতান হারাপান মালয়েশিয়ার সবচেয়ে মজবুত রাজনৈতিক দল। এবার তারা বিগত নির্বাচনের ৭০টি আসন ধরে রেখেছে যা কোনো দল অর্ধেকও অর্জন করতে পারেনি। নতুন করে ১২টি আসন পেয়েছে কিন্তু আগের ২০ আসনে হেরেছে। এ জন্য জনাব আনোয়ার ইব্রাহিমকে গত তিনদিন ধরে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। তার জোট মোট ৮২টি আসন পেয়েছে জোটে রয়েছে ডেপ, পিকেআর, আমানাহ, ইউপিকেও ও মুদা। নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
দ্বিতীয় শক্তিশালী পেরিকাতান ন্যাশনাল পিএন জোটে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ইসলামী দল পাস। জোটের ৭৩টি সিটের মধ্যে এই দল ৪৪টি আসন পেয়েছে। পেরিকাতান ন্যাশনালের নেতৃত্বে রয়েছেন মুহিউদ্দিন ইয়াসিন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে সময়ের আগেই নির্বাচন দিয়েছেন। এই দলে আরো আছে বেরসাতু, পাস আরো কিছু ছোট দল যারা কোনো আসন পায়নি।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জোট ওয়ারিসান ন্যাশনাল (নেশিওনাল)। এই জোট পেয়েছে ৩০ আসন যার মধ্যে উমনু একাই পেয়েছে ২৬টি। এই জোটে শরিক দলগুলো হলো উমনু, এমসিএ, এমআইসি, পিবিআরএস ও ছোটখাটো দল যারা নির্বাচনে কোনো আসন পায়নি। দুর্নীতিতে জর্জরিত ওয়ারিসান ন্যাশনাল কোয়ালিশন ব্রিটেনের কাছ থেকে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশ চালিয়েছে। তারা এবার বিপর্যয়ে পড়লেও নির্বাচন-পরবর্তী জোট গঠন করে এখনো ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে।

চতুর্থ শক্তিধর জোট গাবুনগান পার্টি সারাওয়াক বা জিপিএস। এই দলে জোট বেঁধেছে আরো চারটি ছোট দল। জোটের ২২টি আসনের মধ্যে পিবিবি দল পেয়েছে ১৪টি আসন।

সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে নভেম্বরের ৪ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত ৩,৪১৭টি মামলা পুলিশ রেকর্ড করেছে, এর মধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্বাচনী বিধি ৯ এবং দণ্ডবিধি আইনে এসব মামলা রুজু হয়। এরই মধ্যে ২৪টি মামলার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

১৫তম সাধারণ নির্বাচনে যেমন একটি ঝুলন্ত সংসদ তৈরি হয়েছে তেমনই রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেক বড় বড় নেতা ধরাশায়ী হয়েছেন। প্রধান আলোচিত হলেন জনাব মাহাথির মোহাম্মদ। দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী লংকাবিতে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন, পাঁচজনের লড়াইয়ে চতুর্থ স্থান পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। এই আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন ইয়াসিনের পেরিকাতান ন্যাশনালের প্রার্থী মোহাম্মদ সুহাইমি আবদুল্লাহ জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে মাহাথিরের জোট দুর্নীতিগ্রস্ত ওয়ারিসান ন্যাশনাল সরকারকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া জাগাতে পারেনি। জনাব মাহাথির প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগও পাননি। মাহাথির দুই যুগ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্ধশত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার মাহাথিরের প্রথম নির্বাচনী পরাজয় হলো। তিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের জোরালো কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই। মালয়েশিয়ার উন্নয়নের মহাসড়ক তার হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে, তারই নির্দেশনা ও চিন্তাভাবনার আলোকছটা দিশারি হিসেবে কাজ করেছে।

যখন ড. মাহাথির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন লঙ্কাবী দ্বীপে প্রচুর বিনিয়োগ করেছিলেন ফলে লঙ্কাবী আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছিল। অক্টোবরে প্রার্থি ঘোষণা করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী ১৬তম সাধারণ নির্বাচনের সময় আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।’ মাহাথির ও আনোয়ার গত রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় সংসদে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেন এবং ওয়াদাবদ্ধ হন যে ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক অবস্থানে তারা এক সাথে কাজ করবেন। সংসদ সদস্যরা এই দৃশ্যে অভিভূত হয়ে যান, অনেকে তাদের সাথে কাঁদেন। কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল মাহাথির পাকাতান হারাপান জোটে না এসে হোমল্যান্ড ফাইটার্স পার্টি থেকে দাঁড়ান। এই রাজনৈতিক দলটি তিনি নিজেই ২০২০ সালের আগস্টে গড়েছিলেন। দলটি মালয় জাতিসত্তাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে প্রচার করা হয় যে, তিনি চীনাদের প্রভাব কমানোর জন্য এই দলকে প্রমোট করছেন। তার রাজনীতির প্রথম দিকে এ রকম কোনো ধারণা নিয়ে কাজ করেননি। ফলে এই নির্বাচনে তিনি ও তার দল অযথা বিতর্কিত হয়ে পড়ে। তিনি পেরিকাতান ন্যাশনালের বিরোধিতার জন্যও এই দল করেন। তিনি জানান যে, পেরিকাতান দুর্নীতিগ্রস্ত দল, তারা দেশ-মানুষের শত্রু। তিনি মহিউদ্দিন ইয়াসিন বিরোধী ছিলেন। অপর দিকে আগোং বা রাজা মহিউদ্দিনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।

বড় নেতাদের মধ্যে আরো যারা হেরেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন খায়েরী জামালউদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যিনি উমনোকে নির্মূল করার এবং ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরাজিত প্রথম সারির অন্য নেতারা হলেন আজমান আলী, জামাল মোহাম্মদ ইউনুছ। মহিলাদের মধ্যে প্রথম কাতারের নেত্রী জুরাইদা কামারুদ্দিন, নিকোল ওয়াং, রীনা হারুন হেরেছেন। আনোয়ার-কন্যা নুরুল ইজাহ আনোয়ারও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে রাজা কী করেন সে বিষয়ে আলোচনায় মালয়েশিয়া এখন সরগরম। ইয়াং দি-পারতুয়ান আগোং, ফেডারেশনের সর্বোচ্চ প্রধান, যিনি শুধু আগোং নামেও পরিচিত। তিনি মালয়েশিয়ার সাংবিধানিক রাজা এবং রাষ্ট্রপ্রধান।

মালয়েশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল টমি থমাস বলেছেন, রাজা পাকাতান হারাপান প্রধান আনোয়ার ইব্রাহিমকে দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন এবং তাকে সরকার গঠনের জন্য বলতে পারেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, যুক্তরাজ্যের ১৯৭৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর রানী এলিজাবেথ সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জোটের নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের পর সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী কোনো জোট ছিল না, হ্যারল্ড উইলসন বৃহত্তম দলের নেতা ছিলেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি সবচেয়ে বেশি ৩০৬টি আসন পেয়েছিল। তৎকালীন নেতা ডেভিড ক্যামেরনকে লিবারেল পার্টির ৫৭টির সাথে জোট গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। রাজার বিরুদ্ধে আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে পক্ষপাতমূলক আচরণের অনেক কাহিনী জনসমক্ষে প্রচারিত। রাজনৈতিক নেতারা মালয়েশিয়ায় রাজার ক্ষমতা খর্ব করা এবং রাজার কর্মপরিধি সংবিধানে বিধিবদ্ধ করার আওয়াজ তুলেছিলেন। তাদের মধ্যে আনোয়ার ইব্রাহিমও ছিলেন।
পাকাতান হারাপান প্রধান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং পেরিকাতান ন্যাশনাল প্রধান মুহিউদ্দিন ইয়াসিন পুত্রজায়া হাত করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন এবং দাবি করছেন যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। আগং উভয়কে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করার জন্য ২২ নভেম্বর বেলা ২টা পর্যন্ত সময় দেন। কোনো জোট তা করতে পারেনি।

উমনু ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাবরী ইয়াকুব ২টার পর জানান, তাদের দল ও জোট ওয়ারিসন ন্যাশনাল হারাপান এবং পেরিকাতান ন্যাশনাল কোনো দলের সাথেই জোট বাঁধবে না। দলের সুপ্রিম কাউন্সিলের মতে তারা বিরোধী শিবিরের সাথে জোট বাঁধবে। বিএনের ৩০টি আসন ছাড়া কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারছে না। পিএনের সমর্থন পাবে এমন কিছু সদস্যও এখন বিএনের মতো নিরপেক্ষতা অবলম্বন করছেন।

রাজা পিএন চেয়ারপারসন মুহিউদ্দিন ইয়াসিনকে পাকাতান হারাপানের সাথে জোট সরকার গঠন করার পরামর্শ দিলে মুহিউদ্দিন তাতে অসম্মতি জানিয়েছেন। মিডিয়া সমাবেশে তিনি জানান, শুরু থেকেই হারাপানের সাথে কোনো সহযোগিতা না করার ঘোষণা দেয়া আছে। আমরা এখন এই ম্যান্ডেট ভাঙতে পারি না।

মুহিউদ্দিন জানান, তিনি ১১৫ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে পারবেন ও সরকার গঠন করতে পারবেন। তথাপি এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে রাজার পক্ষ থেকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে ১১২ আসন দরকার। রাজার দফতর থেকে বলা হয়, ‘এই সংখ্যা যথেষ্ট নয়।’ ২২টি আসন পাওয়া জিপিএস-গাবুনগান পার্টি সারাওয়াক জানায়, মহিউদ্দিন যে ১১৫ সদস্যের স্বাক্ষর নিয়ে ঘুরছেন সে তালিকা মিডিয়ায় প্রকাশ করা হোক, তখন দেখা যাবে দাবি কতটুকু সঠিক (এ বিষয়ে ২৩ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি)।

২০১৮-২০২১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, কোনো ফেডারেল সরকার স্থিতিশীল হতে পারে না যদি না বিরোধী দলগুলো প্রান্তিক হয়। গত পাঁচ বছরে মালয়েশিয়ায় তিনটি সরকার পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

কয়েক দিনের আলোচনা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর, কনফারেন্স অব রুলার্সদের সাথে বৈঠক শেষে আগং অবশেষে জনাব আনোয়ার ইব্রাহিমকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পাকাতান হারাপানের প্রধান অংশীদার হিসেবে ওয়ারিসান ন্যাশনাল বা বিএন-এর সাথে একটি ঐক্য সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, ২৪ নভেম্বর (কলাম লেখার তারিখ) মালয়েশিয়ার দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

একটি ঝুলন্ত সংসদ মালয়েশিয়ার রাজনীতিকে নৃ-তাত্ত্বিক লড়াই এবং পৃষ্ঠপোষকতা থেকে উন্নীত করার সর্বোত্তম সুযোগ দিতে পারে। অবশ্যই, এটি সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্নও হতে পারে যদি দলগুলো সহাবস্থান করতে না পারে এবং পরস্পর অন্যায্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ


premium cement