০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

‘দেশে সৃষ্টি হয়েছে এক কৃষ্ণ গহ্বর’

লেখক : সালাহউদ্দিন বাবর - ফাইল ছবি

অনিয়ম করে অপচয়, অপব্যয় ও গাফিলতির কারণে অর্থব্যয়, সে সাথে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অব্যবস্থা। এক কথায় বলা যায়, এসবই জাতির সাথে বিশ্বাসভঙ্গেরই শামিল। যথাযথ তদারকির অভাবে সময় ক্ষেপণ করার ফলে নিয়ত প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য সামগ্রিকভাবে জাতীয় সম্পদের অপচয় আমাদের প্রশাসনের নিত্যকার একটা শৈলী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণ করে ঘি খাওয়া প্রশাসনের এতটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে মাথাপিছু ঋণের বোঝা আগামী বছর বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। যে জাতির ঘাড়ে নিয়ত ঋণের বোঝা বাড়ছে, তার পক্ষে কোনো কালে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখা একেবারেই অসম্ভব। অথচ প্রশাসন কত না খোয়াব মানুষকে দেখিয়েছে, এখন দিন শেষে গোধূলি বেলায় দেখা যাচ্ছে সেসবই ছিল নিছক দিবাস্বপ্ন, আলেয়া কিংবা মরীচিকা। অথচ এ নিয়ে কোথাও কোনো উচ্চবাচ্য নেই।

এক সময় যাদের মুখে উন্নয়ন নিয়ে খই ফুটত এখন সেই অরিন্দমদের সব বচন বাক্যের বাষ্পে ভরা বেলুন নিমিষেই চুপসে গেছে। জাতির ভাগ্যের বিনিময়ে এতকাল সব কিছু ফেলে কেবল নিজেদের ভাগ্যের অন্বেষণ করেছে তারা। এসব মানুষের অপকর্মের জেরে এখন রাষ্ট্রের সঞ্চয় পরিপুষ্ট না হয়ে সেটি ফোকলা হয়েছে। আগামীতে কোথায় গিয়ে জাতিকে দাঁড়াতে হবে সে কথা ভেবে মানুষের হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। এ থেকে ‘স্যালভেশনের’ কোনো পথ কি এখন খোলা আছে? বরং সম্মুখে ভয়াবহ দিনের সম্মুখীন হতে হবে এমন কথাই শোনানো হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এত দিন জাতিকে নিয়ে ‘ক্যারিকেচার’ করা হয়েছে।

অপব্যয় অপচয় নিয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী সেটা সংক্ষেপে দেখে নিতে পারি। পবিত্র কুরআন ও মহানবী সা:-এর হাদিস থেকে মাত্র দু-একটি উদ্ধৃতি করি। হয়ত অপচয়ের ক্ষতিকর দিকটা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে এগুলো তাদের কাছে ধন্বন্তরির মতোই কাজ করবে এবং অপচয় করা থেকে নিজেরাই কেবল দূরে থাকবে না, সুহৃদ সুজনদেরও দূরে থাকার পরামর্শ দেবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অসংখ্যবার অপচয় করতে নিষেধ করেছেন। এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে আদম সন্তান প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর পোশাক গ্রহণ করো। আর পানাহার করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয় পছন্দ করেন না’ (সূরা আরাফ, আয়াত ৩১)। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন, ‘তুমি একেবারে ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না, আর একেবারে মুক্তহস্ত হয়ো না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত, নিঃস্ব হয়ে বসবে’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৯)। এক হাদিসে রয়েছে, বহমান নদীর তীরে বসে কেউ যদি অতিরিক্ত একটি কুলি করে তার অর্থ অপচয়। অপচয়ের কী অপূর্ব উদাহরণ ও দ্যোতনা। এসব উদ্ধৃতি থেকে অপচয়ের কুফলই কেবল পরিষ্কার হবে না, সেই ইসলাম যে মানুষকে খায়খরচ, চলাফেরা, আহার বিহার, পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে একটা মধ্যমপন্থা গ্রহণের দিকনির্দেশনা দেয়, সেটাও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে। অপচয় নিয়ে এক কবির এমনই বোধ, ‘যে জন দিবসে মনের হরষে জ্বালায় মোমের বাতি/আশু গৃহে তার দেখিবে না আর নিশীথে প্রদ্বীপ ভাতি।’ (কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার)।

দেশের ছোট, মাঝারি ও বড় উন্নয়ন প্রকল্পের সংখ্যা অনেক। যদি লক্ষ্য করা হয়, তথা বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কিত সরকারি দলিলে দৃষ্টি দেয়া হয়, তবে দেখা যাবে অধিকাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়নি, বছরের পর বছর সেগুলো ঢিমেতালে চলছে। এর দ্বিবিধি ক্ষতির কারণ রয়েছে; প্রথমত, প্রকল্প শেষ হতে যত বেশি সময় লাগবে ব্যয় তত বাড়বে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্প শেষ হতে যত বেশি সময় লাগবে তত দেরিতে মানুষ সুবিধাটা ভোগ করবে। সে জন্য তাদের দীর্ঘ সময় কষ্টভোগ করতে হবে।

বড় বড় দুটো প্রকল্পের উদাহরণ এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করছি, যাতে সবাই বিবেচনায় নিতে পারেন আমাদের তথা দেশের ক্ষতিটা কত বেশি হয়। প্রথমে পদ্মা সেতুর কথাই বলছি। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২৬ নভেম্বর ২০১৪ সালে। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২৩ জুন ২০২২।

সেতু চালু হয় ২৬ জুন ২০২২ সালে। সময় লেগেছে আট বছরের বেশি। ফলে সেতু নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পায়। নির্মাণ শেষ করতে ব্যয় হয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় আরো ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয় ফলে তখন পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু নিয়ে নানা গড়িমসির জন্য সময়ক্ষেপণ হয় এবং ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। এভাবে নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি তো পেলোই সে সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এর থেকে সেবা অনেক সময় অপেক্ষা করতে হলো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সেতু চালুর পর দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সেতু আরো পূর্বে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালের জুলাই মাসে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০০৪ সালে শেষ করা পরিকল্পনা করা হয়েছিল তখন নির্মাণ ব্যয় ২৬৯৩.৫০ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। সেভাবে যদি কাজ শুরু ও শেষ করা যেত। দেশ কত দিক থেকে না উপকৃত হতো।

আর একটি বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। হালে এর নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ১৯৬০ দশক থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখনো ঢিমেতালে এর নির্মাণ চলছে। কেউই বলছে না এই প্রকল্প কবে নাগাদ শেষ হবে ও সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে। আর ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রকল্পের ভাগ্য নিয়ে বাংলাদেশে পক্ষে বলার আর কিছু নেইও। সেই সাথে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ ‘ফুল সুইং’ শুরু হলে তার নির্মাণে কত অর্থ ব্যয় হবে তা-ও একটা মাথাব্যথার বিষয়। সব কিছু চরম নিশ্চয়তার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। এর নির্মাণ ব্যয়ের ৯০ শতাংশ আসবে রাশিয়ার ঋণ থেকে। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কত বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, এখন থেকে সেটাও বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, উপরি উক্ত দুই প্রকল্পের জন্য সরকারকে কত শত কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে তা আল্লাহই জানেন। এখানে সরকারের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেননা এ দেশের নিরীহ অসহায় মানুষের ওপর করারোপ করে সব তুলে নেয়া হবে। এ জন্য সরকারকে তো কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না।

রাজধানীসহ অপর এক বৃহৎ নগরীর রাজপথ ও মহাসড়কের যানজটের কারণে জনজীবন প্রতিদিনই স্থবির হয়ে পড়ছে। যানজটের কারণে জাতীয় সম্পদ ও মানুষের কর্মঘণ্টা কতটা মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে তার সঠিক হিসাব হয়তো কারো কাছে নেই। তবে রাজধানীর এ সম্পর্কিত কিছু তথ্য-উপাত্ত এখানে সন্নিবেশিত করার চেষ্টা করছি। রাজধানীতে যানজটের জন্য একটি যানবাহন এখন ঘণ্টায় কতটা পথ অতিক্রম করতে পারছে? জানা যায়, গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার। ১২ বছর আগেও এর গতি ছিল ১১ কিলোমিটার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার ফলে যাত্রীদের দৈহিক ও মানসিক চাপ ও দুর্ভোগ হচ্ছে অপরিসীম। এই চাপ আবার কাজ করে অন্যান্য রোগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে। কেননা রাজপথে বায়ুর মান অত্যন্ত নিম্ন। যেমন তাতে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যানজটের কারণে ঢাকায় মানুষের প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে এই অপচয় আরো বাড়বে। কারণ পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যদি সড়কের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণসহ যানজট নিরসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকত তবে ক্ষতির পরিমাণ ৬০ শতাংশ বা ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা যেত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

গবেষণায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ দিকে ঢাকায় বড় সড়কের সংখ্যা হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি। ট্রাফিক মোড়গুলো এখন শহরের বিষফোঁড়া। এর সাথে যুক্ত হয়েছে, সড়কের মধ্যে বসা হাটবাজার। ফুটপাথ তো বহু দিন আগে থেকেই হকারদের দখলে। সে জন্য মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাফেরা করতে হচ্ছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বহু মানুষ, হতাহত হচ্ছে।

বড় বড় অব্যবস্থাজনিত অপচয় ছাড়াও আমাদের দিন যাপনে, দৈনন্দিন কর্ম কাজে, ঘরে বাইরে অসতর্কতা অজ্ঞানতা ও উপলব্ধির অভাবে প্রতিটি মানুষ, পরিবার, সমাজজীবনে কত অসংখ্য ছোট খাটো অপচয় করে যাচ্ছি তার ইয়ত্তা নেই। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, আমি যদি সামান্য এতটুকু অপচয় করিই, তাতে আর কি এসে যাবে! না, মনে রাখতে হবে তিলে তাল হয়। কবি বলেন, ‘ছোট ছোট বালু কণা, বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল।’ এ কথাগুলো যদি আমাদের মনে থাকে সব ছোট অপব্যয়, অপচয় ধর্তব্যে আসবে।

আমাদের শহরগুলোতে বহু পরিবারে বর্ষায় কাপড় শুকানোর জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হয়, বা দিয়াশলায়ের একটা কাঠি বাঁচানোর জন্য গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হয়। প্রতিদিনই আমাদের দাঁত ব্রাশ করতে ও শেভ করতে হয়। লক্ষ করে দেখবেন, এ সময় কিন্তু আমরা অনেকে বেসিনের কলটা খুলে রেখেই এসব কাজ করি। এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, জনপ্রতি আমরা বেশ কয়েক লিটার পানি এভাবে অপচয় করে থাকি। পানি অপচয়ের আরো একটি ব্যাপার হয়তো কারো নজরে পড়ছেন না, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মহানগরীতে শত শত বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার বহুতল ভবন নির্মাণ করছে। এসব ভবনের নির্মাণ করার সময় এরা, ইট ভিজানো, ফ্লোর ও পিলারে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা, বালু সিমেন্ট ও পাথরের সংমিশ্রণ করছে সুপেয় পানির মাধ্যমেই। ভবনে যখন এসব কাজ করা হয়, তখন সেখানে সুপেয় পানি এমনভাবে অপব্যবহার হয়ে থাকে। এসব লাইন বহুক্ষেত্রেই পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে অবৈধভাবে দেয়া হয়। এর পাশাপাশি বাস্তব চিত্র হচ্ছে, ঢাকার বহু স্থান মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের জন্য পানি ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারছে না। স্মরণ রাখা উচিত প্রতি লিটার পানি পরিশোধ ও সঞ্চালন ব্যয় প্রচুর। অথচ এ জাতীয় হেলা অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে।

এমন আরো বহু ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে আমাদের অসতর্কতার কারণে জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। মাত্র কিছু দিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার ছোট্ট একটি এলাকায় গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাত হাজার বাড়ি থেকে অবৈধভাবে নেয়া গ্যাসের লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। জানা গেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে গ্যাস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে এসব লাইন নেয়া হয়েছে। অনুমান করুন ছোট একটি এলাকায় যদি এত অবৈধ গ্যাস লাইনের সংযোগ থেকে থাকে, তবে দেশের অন্যান্য স্থানে কী পরিমাণ অবৈধ সংযোগ থাকতে পারে? এভাবে যদি দেশের মহামূল্যবান সম্পদের অপচয় হতে থাকে, জাতির ভাগ্যের কিভাবে অগ্রগতি সমৃদ্ধি অর্জিত হবে।

প্রকৃত বিষয় হচ্ছে, অবৈধ কাজে যা কিছু ব্যয় হবে তার পুরোটাই অপচয়। এমনকি বৈধ কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় বা অব্যবস্থাজনিত ব্যয়, কালক্ষেপণে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া এসব ন্যায়নীতির আলোকে শুধু অপচয় অপব্যয় নয়, গর্হিত অপরাধ। আমাদের সমাজের মানুষ অপচয় এবং অপব্যয়ের ক্ষেত্রে একেবারেই সতর্ক নই। নিভৃত পল্লীতেও দেখা যায়, বিয়ে করতে যেতে মানুষ বহু অর্থ ব্যয় করে হেলিকপ্টারে চড়ে যেতে দ্বিধা করে না। অথচ আমাদের বহু প্রতিবেশী অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এমন সব বিষয় আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। এর অন্যতম কারণ নীতিনৈতিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা-দীক্ষা নেই বলে আমরা নৈতিকতার এক চরম দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে পৌঁছে গেছি।

দূর মহাশূন্যে ‘ব্ল্যাক হোল’ বা কৃষ্ণ গহ্বর আছে, যার কাছাকাছি যা কিছু পৌঁছায়, মুহূতের্র ভগ্নাংশের মধ্যেই তাকে সেই কৃষ্ণ গহ্বর কোথায় নিয়ে যায় কেউ বলতে পারে না। আমাদের দেশে এখন এমনই এক ভয়ঙ্কর কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির অর্থ, লোপাট ও পাচার হয়ে যাওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা, অপচয় অপব্যবহারসহ নানা অসৎ উপায়ে অর্জিত সম্পদ সেই কৃষ্ণ গহ্বরের মাধ্যমে মুহূর্তেই আমাদের সীমান্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। যে ঝুড়ির তলা থাকে না, তাতে যত সোনাদানা রাখা হোক সেটা কোনো কালেই ভরা যাবে না।

ndigantababar@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement