০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ১৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

এ আঁধার কিভাবে দূর হবে

লেখক : সালাহউদ্দিন বাবর - ফাইল ছবি

সব কিছু তার স্বভাব, স্বরূপ বজায় রেখে যদি বিকশিত ও বর্ধিত হতে পারে তবে তার সৌন্দর্য শোভার প্রভাব বিচ্ছুরিত হয় এবং সব কিছু আলোকিত করে তোলে। তাতে আঁধার দূরীভ‚ত হয়। অন্যদিকে কৃত্রিমতার অর্থ যত মেকি গিল্টি করা বিধি ব্যবস্থা। যখন কোনো কিছুতে স্বার্থান্ধ মানুষের লোলুপ হাতের ছোঁয়া লাগে, তখন সেই বস্তু তার মৌলিকত্ব হারায়। মানুষ বা কোনো বস্তুর স্বভাব, স্বরূপ তো স্রষ্টার সৃষ্টি। সেভাবে বেড়ে উঠলে, সে পথে অগ্রসর হলে মানুষ বা অন্য সব কিছু অপূর্ব-অপরূপ হয়ে ওঠে। তা ছাড়া স্রষ্টা যাদের জ্ঞান ব্যুৎপত্তি দিয়ে ধন্য করেছেন, সেই জন বা জনগোষ্ঠী যা ভাবেন, বিকাশ-বিন্যাস ঘটান তখন তার লক্ষ্য থাকে সার্বজনীন কল্যাণ আর মঙ্গল।

কৃত্রিমতা এক সময় অসার-বিবর্ণ-ফিকে হয়ে যাওয়ারই অপর নাম। অথচ স্রষ্টার সৃষ্টি কাল-কালান্তরে সতেজ-সজীব প্রাণবন্ত থাকে এবং তা চির নতুন। তার আশীর্বাদপুষ্টদের কর্ম-সাধন অমলিন ও ভাস্বর হয়ে থাকে। তবে এসব কিছুই ‘আনটাচড’ তথা লোভী মানুষের স্পর্শের বাইরে রাখলেই তার বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে। যত দিন তাকে এভাবে লালন করা যায় ঠিক তত দিন পর্যন্ত তার কল্যাণের ফল্গুধারায় সব মানুষ ও প্রাণী সিক্ত হতে থাকে, সপ্রাণ থাকে। কিন্তু অর্বাচীন-অবিবেচক মানুষ অতিমাত্রায় লোভাতুর, স্বার্থান্ধ। সে সব কিছু তাৎক্ষণিক পেতে চায় এবং ধরণীর যত অমৃত্য আছে মুহূর্তে সব শুষে নিংড়ে খেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, ওই ব্যক্তিদের লালসার কারণে অতীতে যা ছিল সৌন্দর্যের আধার আর রূপ রসে ভরপুর সেটা পরে বিবর্ণ ধূসর হয়ে গেছে।

অতীতে মানুষের জন্য প্রকৃতি ফুল ফলের ডালি সাজিয়ে রাখত। কিন্তু এক শ্রেণীর অবিবেচক মানুষেরই অপকর্মে ধরণীতে নেমে এসেছে বন্ধ্যাত্ব। সব সুখাদ্যের, সব সুষমার ফলন যেন কেবলই চলছে তলানীর দিকে। এর কারণ একটাই, নির্বোধ মানুষের আগ্রাসী ভূমিকা।

বিশ্বের পরিবেশ প্রকৃতির সাথে বোধ-বিবেচনা-চেতনাহীন মানুষের অকরুণ ব্যবহার, হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ব এই মুহূর্তে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নিরীহ নিরপরাধ মনুষ্যকুল, জীবজন্তু পক্ষীকুল, সরিসৃপ, বনবনানী গুল্মলতা কবে কখন যেন নোনাজলে তলিয়ে যায়। সব কিছুর সলিল সমাধি ঘটে। স্রষ্টার নিপুণ স্পর্শ-ছোঁয়ায় অনিন্দসুন্দর, চোখজুড়ানো যে বিশ্ব রচিত হয়েছে, কত শত কোটি বছর আগে কে জানে! কিন্তু মুষ্টিমেয় মানুষ পাপপঙ্কিল হাতে হলাহল ঢেলে মাত্র এক শতাব্দীর কম সময়ের মধ্যেই বিশ্বকে, তার স্বাভাবিক চলার পথকে বিষবাষ্পে ভরিয়ে দিয়েছে। সেজন্য বিশ্বের এখন শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসতে শুরু করেছে। মহাপ্রলয়ের সেই করুণ ঘণ্টাধ্বনি ধরণীর বুকে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।

মানুষের অন্যতম মৌলিক যে বৈশিষ্ট্য সেটা হচ্ছে বিবেক। কিন্তু সেই মনুষ্যরূপীরা নিজেদের বিবেক বা অশরীরি চেতনাকে হত্যা করে নিজেরাই পাষাণে পরিণত হয়েছে। সত্যিকার যে মানুষ সে তার স্বভাব স্বরূপের মধ্যে কখনো ভুলেও একটি অন্যায় ঢুকে গেলে বা তার সামান্য পদস্খলন ঘটলে বিবেকের দংশনে বিচলিত হয়, একাধিক পুণ্যের কাজ করে এর প্রায়শ্চিত্য করতে চায়। কিন্তু ওইসব পাষাণ হৃদয়ের ভেতর কোনো অনুশোচনা নেই। অথচ বিশ্বের লক্ষ কোটি সাধারণ মানুষ তাদের অনিবার্য পরিণতির কথা ভেবে আর্তচিৎকার করে চলেছে। সেই ক্রন্দনরতদের মিথ্যা প্রবোধ দিতে ওই পাষাণরা কালেভদ্রে পৃথিবীকে তার স্বরূপে ফিরিয়ে নেয়ার অঙ্গীকারের কথা বলে। কিন্তু সেই বাক্যবচন মুখ নিসৃত হওয়ার মুহূর্তেই হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। অবাক হতে হয়, বিশ্বের শত কোটি মানুষকে ভাঁওতা দেয়ার পরও তাদের কোনো বিকার কিংবা অন্তর্জ্বালা নেই।

আমাদের এখানেও এমন অনেক ক্ষেত্রেই বহু কিছু উল্লেখ করার মতো বিষয় আছে যা আমাদের পূর্বসূরিরা তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তার অন্যতম হচ্ছে এ দেশের এক অনন্য সংবিধান। ১৫৩ ধারা সংবলিত এই সংবিধানের প্রতিটি ধারার ছত্রে ছত্রে নাগরিকদের জন্য বৈষম্যহীন এক অনাবিল শান্তির জনপদ সৃষ্টির যাবতীয় ব্যবস্থা করে গেছেন প্রাতঃস্মরণীয়রা। কিন্তু অনুতাপ-পরিতাপের বিষয় সেই সংবিধান ও তার ধারা কখনো ঠিকমতো চর্চিত না হওয়া। সেই সংবিধান হয়ত বেদনায় বাকরুদ্ধ হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু পবিত্র সেই গ্রন্থে কান পাতলে হয়তো তা থেকে সমুদ্রের ক্রুদ্ধ গর্জন শোনা যাবে। আমরা দেশের পবিত্র আইন গ্রন্থ থেকে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব। তবে তার আগে একটা কথা এখানে উল্লেখ করে যেতে চাই, এই রচনা ও ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার, এর মাত্র কিছুদিন পরপরই সংশোধন করা হয়। এ পর্যন্ত ১৭ দফা সংবিধানকে কাটাছেঁড়া বা সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনের কতক হয়েছে একান্তভাবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে। আবার কোনো কোনো সংশোধনী হয়েছে এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনা-মানসের বিপরীতে।

অনন্য এই সংবিধানে ধারাওয়ারী আলোচনার পূর্বে সাধারণভাবে কিছু কথা বলা দরকার। কোনো দেশের সংবিধান লিখিত করার উদ্দেশ্যই হলো সরকারের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা এবং এর রূপরেখা স্পষ্ট সুনির্দিষ্ট করা। তা ছাড়া সংবিধানের দিক-নির্দেশনাকে অত্যন্ত যত্ন ও নিষ্ঠার সাথে অনুশীলন করা। সরকারের তিনটি বিভাগের ক্ষমতা ও কর্তব্য-কাজকে সংবিধানে নির্দিষ্ট করে দেয়া এবং আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে দেয়া। প্রায় প্রতিটি লিখিত সংবিধানে এই মর্মে বিধান করা আছে যে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোনো বিধিবিধান সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্য হতে পারবে না; সরকারের বিভাগসমূহ সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।

আমরা এখন সংবিধানের মাত্র কয়েকটি ধারা ধরে কিঞ্চিত আলোচনার সুযোগ নেবো। দেখার চেষ্টা করব সংবিধানে কী রয়েছে এবং তার ব্যত্যয় কতটা ঘটছে। সংবিধানের ২ক এ রয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সেই সাথে অন্যান্য ধর্ম যথা- হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করবে।

ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিধান হচ্ছে নামাজ ও জাকাত। আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে, দেশে মানুষের কাছ থেকে জাকাতের অর্থ কি সরকার সংগ্রহ করছেন? এর পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। আর তা দিয়ে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব দুস্থদের অপরিসীম কল্যাণ করা যেত। কিন্তু এ নিয়ে কেন এত দায়সারা ভাব প্রশাসনের। ইসলাম সব শ্রেণী ও ধর্মাবলম্বী মানুষের সমস্ত অধিকার নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে সরকারের কী কোনো ভাবনা রয়েছে। ইসলাম ছাড়া অন্য সব ধর্ম পালনের অধিকার কী নিশ্চিত করতে পেরেছেন কর্তৃপক্ষ? অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান প্রার্থনা সমাবেশে হামলা হয় কেন, তার জবাব কি জনগণ চাইতে পারে না! যেসব দুর্বৃত্ত এ জন্য দায়ী তাদের কী চিহ্নিত করা ও যথাচিত শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। নাকি সেখানে চলছে নিরেট মিথ্যাচার।

সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতিতে রয়েছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পুরো নির্দেশনা, প্রবাদে যেমন বলে ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। আমাদের সংবিধানের সব সুনীতি-সুবিন্যস্ত আছে বটে; কিন্তু কাজীর গরুর মতো বাস্তবের প্রয়োগ-অনুশীলন নেই। আমাদের দেশে গণতন্ত্রের হাল অবস্থা কেমন, পথে ঘাটে কেমন চর্চা হচ্ছে তা কেবল বধির-কালা-অন্ধ ছাড়া সবাই বোঝে জানে। গণতন্ত্র নিয়ে নিরন্তর আলোচনা-সমালোচনা আর বিতর্কের কোনো শেষ নেই। বিতর্কের সে ঝড় আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করে বহু জায়গায় পৌঁছে গেছে। আর মানবাধিকার সে তো সোনার হরিণ সে তো গহিন বনের ঝোপ ঝাড়ে লুকিয়ে আছে, সে হরিণ হিংস্র জন্তুর ভয়ে শঙ্কায় অস্ফুট স্বরে কেঁদে কেঁদে ফিরছে।

দেশের সংবিধানে জনগণের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে সরকারের গোঁজামিলের ভূরি ভূরি উদাহরণ দেয়া যাবে। কত মানুষ আধ পেটে খেয়ে দিন গুজরান করছে তা নগর-বন্দরে মানুষের মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। রাজপথে, অলিতে-গলিতে কত পথ শিশু বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে ফেউ ফেউ করে ঘুরছে রাজপথে। হাজারো শিশু-কিশোর বই খাতা কলম ফেলে পেটের তাগিদে বহু ঘণ্টা ধরে নানা স্থানে ঘাম ঝরিয়ে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে। অথচ শুনলে হয়ত অনেকে হাসবেন, সংবিধানে রয়েছে সব বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দিতে হবে। আরো হাস্যকর যে, সংবিধানে রয়েছে, সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের সরকারের। দেশের বিভিন্ন শহরে লোকালয়ে কত শত আশ্রয়হীন কত মানুষ রাজপথে দিবা-রাত্রি খেয়ে না খেয়ে বছরের পর বছর অতিক্রান্ত করছে, তার কোনো ইয়াত্তা নেই। অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে চরম পুষ্টিহীনতায় নানা রোগ-শোকে ভুগে বহু শত মানুষ বিনা-চিকিৎসায় অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। সংবিধানে এমন ধারা সন্নিবেশিত রয়েছে, বেকারত্ব ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈষম্য, মাতা-পিতৃহীনতা, বা বার্ধক্যজনিত কিংবা.... অভাবগ্রস্তর ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার’ সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

সংবিধানে স্পষ্ট করা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’ সেই ‘মালিকের’ হাল হকিকত কি সেটা আর কারো বোঝার বাকি নেই। কিছু ব্যক্তি এখন এসব মালিককে এক হাটে বিক্রি করে, আবার আরেক হাট কেনে। এমন হাটে হাটে ঘুরতে ঘুরতে মালিককের এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। গত ৫০ বছরে এই মালিকদের কত জনের ওপর যে আস্থা বিশ্বাস জবরদস্তিমূলকভাবে আদায় করে নেয়া হয়েছে; কিন্তু দিনের শেষে সব কিছু শূন্যে মিলিয়ে গেছে। এমন প্রতারণা আর কতকাল চলতে থাকবে সেটা কে বলবে! এই ভূখণ্ডের স্বত্বাধিকারীদের সত্যিই জানা নেই।

সংবিধানে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতার কথা বলা হলেও জনগণের যে অবহেলার শেষ নেই, সেটা বোধ হয় কিছুটা হলেও পরিষ্কার করা গেছে। অথচ দেশের সরকারপ্রধনাসহ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী সবই সংবিধানের অধীনে এই শপথ গ্রহণ করেন, ‘....আমি সংবিধানের রক্ষণ সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব’; কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন।

যা নিয়ে এই নিবন্ধের সূচনা করা হয়েছিল, তার জের ধরেই এর সমাপ্তি টানতে চাই, অর্থাৎ বিশ্বের প্রকৃতি পরিবেশ নিয়ে এ দেশের অবস্থান কোথায়? শেষে আমরা এ-ও দেখতে চাইব আমাদের কথা কাজের মধ্যে কতটা সামঞ্জস্য বিধান করা হচ্ছে। আমাদের সংবিধানে রয়েছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি বন্য প্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’
একটা কথা মনে রাখা দরকার, এই সংবিধান কিন্তু ৫০ বছর আগে রচনা ও কার্যকর হয়। সে সময় অবশ্য বাংলাদেশসহ বিশ্ব প্রকৃতি পরিবেশ আজকের মতো এতটা বিপদগ্রস্ত ছিল না; কিন্তু সংবিধান রচয়িতাগণ এতটা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন যে তখনই তারা পরিবেশ নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছেন। সেই দিনে তারা যতটা অগ্রসর চিন্তার অধিকারী ছিলেন আজ আমরা ঠিক ততটা পেছন পানে ছুটছি। আজ বন উজাড় হচ্ছে, পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে, খাল-বিল সব দখল কিংবা অযত্ন অবহেলায় ভরাট হতে চলেছে। প্রাকৃতিক-ভারসাম্য ধ্বংস হতে চলেছে। অথচ সবার জানা, জলবায়ুজনিত কারণে বিশ্বে যে ক’টি দেশ সবচেয়ে বেশি বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ তার অন্যতম।

আসলে এ থেকে আমরা দরে নিতে পারি যে, দেশ ও জাতিকে অনিবার্য এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো ‘কমিটমেন্ট’ নেই বা তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ নন।
ndigantababar@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement

সকল