৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

একজন নিকৃষ্ট খোদাদ্রোহী ফ্যাসিস্টের আত্মকথা!

-

আমার বয়স যে এখন কত হলো তা শত চেষ্টা করেও স্মরণ করতে পারছি না। আমাজনের গহিন অরণ্যের নির্জনতা, মানুষখেকো আদিবাসীদের আতঙ্ক এবং হিংস্র জন্তুজানোয়ারের সাথে দীর্ঘ দিন লড়াই করে টিকে থাকতে গিয়ে আমি আমার আত্মপরিচয়, আশা-আকাক্সক্ষা, ভয়ভীতি ও বাঁচা-মরার আকুতি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ এমন একটি সময় ছিল যখন আমার রাজ্য ছিল, রাজধানী ছিল এবং পাইক-পেয়াদা-কোতোয়াল ছিল। আমার আগমনে সানাই-নহবত বেজে উঠত এবং আমার সিংহাসনের একটু কাছাকাছি আসার জন্য কোটি কোটি লোভী স্বার্থপর ও ইবলিশের প্রেতাত্মারা দিবানিশি মরণপণ প্রতিযোগিতা করত। আমার গুণকীর্তনকারী চাটুকাররাও আমাকে বিশ্বের অবিনশ্বর পরাক্রমশালী মানুষরূপী দেবতা বানানোর জন্য মহাভারতের চেয়ে বড় আকৃতির অসংখ্য অপাঠ্য মহাকাব্য রচনা করত।

আজ সকালে আমাজনের একটি ঝরনার মধ্যে আত্মরক্ষার্থে ঝাঁপ দিয়ে যে বিপদে পড়েছি সেখান থেকে হয়তো আর রক্ষা পাবো না। তাই ঝরনার পানিতে হাবুডুবু খেতে খেতে হঠাৎ করেই ভুলে যাওয়া কথাগুলো মনের মধ্যে চলে এলো এবং তীরে উঠে বালুকারাশির ওপর একটি বৃক্ষের ক্ষুদ্রকায় ডালকে কলম বানিয়ে মনের কথাগুলো লিখতে শুরু করলাম। লেখার শুরুতেই আমি দাঁতাল বুনো শুয়োরটিকে ধন্যবাদ জানাই। আজ সকালে একটি মৃত পশুর মাংস ভক্ষণ করতে গিয়ে আমি ওটার রোষানলে পড়ি। প্রথম দিকে আমি শুয়োরটির সাথে শুয়োরের মতো আচরণ করে ওটিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমাজনের দাঁতাল শুয়োরের বুদ্ধি-কৌশল ও শক্তিমত্তার কাছে পরাজিত হয়ে প্রাণভয়ে দৌড়াতে শুরু করি এবং এই ঝরনাটির কিনারে এসে লাফ দিয়ে ঝরনার পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। শুয়োরটি আমার করুণ দশা দেখে দয়াপরবশ হয়ে ফিরে যায়। ঝরনার পানির স্পর্শে আমি স্মৃতিশক্তি ফিরে পাই এবং প্রথমেই অবাক হয়ে ভাবি, দাঁতাল বুনো শুয়োরটির মনে এত দয়া ও করুণা এলো কোত্থেকে!

আমার উল্লিখিত উপলব্ধি ও আমাজনে অবস্থান সম্পর্কে যদি আপনার মনে কোনো কৌতূহলের সঞ্চার হয় তবে শুনুন- আমার যখন ক্ষমতা ছিল তখন মনুষ্যসমাজে মানুষের আকৃতিতে বসবাস করলেও আমি ছিলাম হিংস্র দাঁতাল শুয়োরের চেয়েও ভয়ঙ্কর। আমার ভয়ে কত মানুষ পাহাড় থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়েছে, কত মানুষ গহিন অরণ্যে পালিয়ে বেড়িয়েছে এবং কত মানুষ যে জবান-বিবেক-বুদ্ধি স্তব্ধ করে মানবেতর জীবন কাটিয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু মানুষের কোনো করুণ দশাই কোনোকালে আমার মনে করুণার সঞ্চার করেনি; বরং তাদের কান্না হাহাকার ও রক্ত দেখলে আমার মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যেত এবং আমার রাজ্যের সব নির্যাতিত মানুষের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল, আমার সব জুলুম অত্যাচার মাটিচাপা দিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে শামিল হওয়া। এসব কারণে আমার পুরো রাজ্যটি জীবন্ত মৃত্যুপুরী বা জীবন্ত শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। মাইকেল জ্যাকসনের বিখ্যাত মিউজিক ভিডিও থ্রিলারে যেভাবে করে স্থান থেকে লাশেরা উঠে এসে শিল্পীর সাথে নাচগান শুরু করে তদ্রূপ আমার রাজ্যের সব ক্ষুধার্ত, ক্রসফায়ারে মৃত, গুম-খুনের শিকার ও জেল-জুলুম-হুলিয়ার আসামিদের মনোরঞ্জনের জন্য হাসতে-গাইতে-নাচতে হতো।

আমার কথা শুনে এতক্ষণে নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আমার পরিচয় ও আমাজনের জঙ্গলে কিভাবে এলাম তা জানার প্রবল আগ্রহ হয়েছে। আমি ছিলাম পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ডের সম্রাট। আমার দেশটির একটি নাম ছিল, যা হাজার বছর ধরে দেশ-বিদেশে পরিচিত ছিল। কিন্তু ক্ষমতা লাভের কয়েক মাসের মাথায় আমি দেশটির নাম পরিবর্তন করে ফেলি। ইতালির দুনিয়া কাঁপানো স্বৈরশাসক বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিবাদে আমি দারুণভাবে প্রভাবিত ছিলাম এবং মুসোলিনির আদলে সব কিছু করার মানসে দেশের নাম পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ড রাখার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ ইতালির অবস্থান পশ্চিম গোলার্ধে হওয়ার দরুন সেটিকে আমি মনেপ্রাণে পশ্চিম ফ্যাসিল্যান্ড মনে করলাম এবং আমার মানসপিতা মুসোলিনির প্রতি সম্মান জানিয়ে তার শাসন-চিন্তাচেতনা ও চরিত্রকে আরাধ্য বানিয়ে আমি আমার রাজ্যটির নাম পাল্টানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তিগুলোও ফ্যাসিবাদের আদলে পরিবর্তন করে ফেলি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ফ্যাসিবাদের সাথে হিটলারের নাৎসিবাদের সংমিশ্রণ করে ফেলি এবং এই দু’টি নীতির ওপর মধ্যযুগীয় শয়তান বলে পরিচিতি পাওয়া ইতালির কুখ্যাত রাজনীতিবিদ ম্যাকিয়াভেলির মতাদর্শকে স্থান দিয়ে এমন এক ফ্যাসিবাদ চালু করি, যা দেখলে মুসোলিনি ও হিটলার যারপরনাই চমকিত হয়ে আমাকে চুমো দিতেন। আমার নয়া ফ্যাসিবাদের প্রভাবে আমি ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সম্রাটরূপে পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ডের মানুষের মনে এমন ভয় জাগিয়ে তুলি যার ফলে তারা মনে করতে থাকে যে, হিমালয়ের উচ্চতা অতিক্রম করা সম্ভব কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরের অতলান্তে পৌঁছানো সম্ভব; কিন্তু আমার ক্ষমতার সীমা-পরিসীমা কল্পনা করাও সম্ভব নয়।

উল্লিখিত অবস্থায় আমার রাজ্যে হররোজ কী ঘটত, আমি কিভাবে প্রথমে মোনাফেক এবং পরে মিথ্যার রাজায় পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে খোদদ্রোহী হয়ে গেলাম তা বলার আগে আমার জীবননাট্যের শেষ দৃশ্যটুকু আপনাদের কাছে আগে বলে নিই। অর্থাৎ আমি কিভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলাম- কিভাবে পালালাম ও কিভাবে আমাজনের জঙ্গলে এলাম সেই কাহিনী শুনলে আপনারা অবাক না হয়ে পারবেন না।

ঘটনার দিন আমি ছিলাম দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষদের একজন। নিজের স্বর্ণকমল প্রাসাদে মধ্যাহ্নভোজনের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিলাম। অর্থাৎ সব লোভনীয় খাদ্য টেবিলে পরিবেশন করে আমার চাকরবাকররা দাঁড়িয়ে ছিল ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায়। কারণ আমার তিন বেলা আহার এবং তিন বেলা হালকা নাশতা বা পানীয় গ্রহণের সাথে বাবুর্চি-খানসামা-আয়া-বুয়া প্রকৃতির কয়েক শ’ লোকের পদোন্নতি-পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি, নির্বাসন ও ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যুদণ্ড তাদের মাথার ওপর ঝুলত। ফলে খাবার গ্রহণ শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর না তোলা পর্যন্ত তারা ভয়ে থরথর করে কাঁপত এবং তাদের সেই কাঁপাকাঁপি না দেখলে আমার আবার খাদ্য গ্রহণে কোনো রুচি আসত না। উল্লিখিত কারণে আমি খাবার টেবিলে বসে দুই-চার মিনিট একটু ঢং করতাম যেন ওরা ভয় পায়। তারপর মহা বিরক্তি নিয়ে দানাপানি মুখে দিতাম। তো, সে দিন যখন মুখে দানা তুলব ঠিক তখন আমার প্রধান দেহরক্ষী গত কয়েক যুগের প্রটোকল ভেঙে হঠাৎ আমার নাশতার টেবিলে এসে আমার হাতে ঝটকা টান মেরে আমাকে দাঁড় করিয়ে ফেলল। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তাকে একটি গালি দিলাম। সেও পাল্টা গালি দিয়ে বলল- আরে কুত্তার বাচ্চা! জনগণ প্রাসাদ আক্রমণ করেছে এখনই পালাতে হবে। তারপর আমাকে টেনে হিঁচড়ে হেলিকপ্টারে তুলে প্রতিবেশী বন্ধুরাষ্ট্রে নিয়ে গেল। কিন্তু আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধুরা আমার সাথে বেঈমানি করল। কয়েক দিন গৃহবন্দী করে রাখল; তারপর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মিলিটারি ক্যাম্পে পাঠানোর জন্য সাবমেরিনের মধ্যে ঢুকাল।

আমার জীবনের দুঃসময়গুলো এত আকস্মিকভাবে এবং এত দ্রুততার সাথে একের পর এক এমনভাবে আসতে থাকল যা আমার শরীর, মন ও মস্তিষ্ক ধারণ করতে পারছিল না। অনেক কিছু ঘটল আমার মনে নেই, আবার এমন কিছু ঘটল যা আমি কারো কাছে বলতে পারব না। আমাকে বহনকারী সাবমেরিনটি একদিন হঠাৎ গভীর মহাসমুদ্রের তলদেশের এক পাহাড়ি উপত্যকায় থেমে গেল। আমি পেরিস্কোপের পর্দায় সমুদ্রের তলদেশের ভয়ঙ্কর সব প্রাণীদের দেখতে লাগলাম এবং অজানা ভয় আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের কারণে অস্থির হয়ে পড়লাম। এমন সময় দেখতে পেলাম যে, একটি ফ্যান্টশিপ এসে সাবমেরিনের বিশেষ কামরায় ঢুকে পড়ল। আমাকে ফ্যান্টশিপে তোলা হলো, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে সাগরের অতলান্ত থেকে সাগরবক্ষে ভেসে উঠল এবং কিছুক্ষণ পর হেলিকপ্টাররূপে উঠতে শুরু করল।

আমি রুদ্ধশ্বাসে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলাম এবং নিয়তির ওপর নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। এ অবস্থায় হঠাৎ লক্ষ করলাম, আমার শরীরে প্যারাস্যুট বাঁধা হচ্ছে। বুঝতে বাকি রইল না যে, উড়ন্ত ফ্যান্টশিপ থেকে আমাকে ফেলে দেয়া হবে এবং ঘটলও তাই। আমার যখন জ্ঞান ফিরল তখন টের পেলাম যে, আমি কাদামাটিতে ডুবন্ত অবস্থায় আছি এবং আমাকে ভক্ষণ করার জন্য হায়েনা, চিতা ও জঙ্গলের মানুষখেকো আদিবাসীও দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কেউ-ই কাদার মধ্যে নেমে আমাকে দখল করার ঝুঁকি নিতে রাজি ছিল না। এমন সময় হঠাৎ শুরু হলো অঝোরে বৃষ্টি এবং মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পুরো এলাকা ডোবায় পরিণত হলো। এ অবস্থায় বনের পশুদেরকে হারিয়ে আদিবাসীরা আমাকে দখলে নিলো এবং আমি তাদের কবলে পড়ে আবার সংজ্ঞা হারালাম। উপরোক্ত ঘটনার পর থেকে আজকে ঝরনার পানিতে লাফিয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত আমার জীবনের কতটা সময় পার হয়েছে এবং কী কী ঘটেছে তা এই মুহূর্তে মনে আসছে না। আমার কেবলি মনে আসছে, পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ডে আমি কিভাবে সফলতার স্বর্ণশিখরে উঠে আবার আপন কুকর্মের কারণে সবকিছু হারালাম তার হাজারো উপাখ্যান। সব কথা লেখার সময় হয়তো পাবো না। কারণ আমি টের পাচ্ছি যে, আমার জীবনবায়ু শেষ হতে চলেছে এবং আমার মরদেহ ভক্ষণের জন্য অনেক শকুন বসে আছে। কাজেই সময়ের অপচয় না করে আমি খুব সংক্ষেপে এমন কিছু বলতে চাই যা কিনা অনাগত পৃথিবীর জন্য একটি বার্তা বহন করতে পারে।

আমার পতনের মূল কারণটি শুরু হয়েছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হরণ এবং পুরো গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা হত্যা করার মাধ্যমে। ক্ষমতার দম্ভে আমি মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরা, সভা-সমিতি করা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছিলাম। ফলে পুরো রাজ্যে কোনো শব্দ ছিল না। মানুষের মর্মবেদনা ও বোবাকান্নার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পশু-পাখিরাও নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। ফলে আমার চাটুকারদের তোষণমূলক কথাবার্তা ছাড়া আমি আর কিছুই শুনতে পেতাম না। এ অবস্থায় আমার আচরণ, চিন্তাচেতনা ও চরিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে এবং সেই পরিবর্তনগুলো আজ এই মুহূর্তের আগে আমার মনে একটিবারের জন্যও সাড়া দেয়নি। অর্থাৎ পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ডের সম্রাট হিসেবে আমার শেষ দিনটি পর্যন্ত আমি ছিলাম কার্যত বধির। আর বক্তব্য ছিল শিশুতোষ কিংবা যাত্রিক। আমার বিবেক মরে গিয়েছিল এবং চোখের ওপর এমন রঙিন পর্দা পড়েছিল যে, নিজের স্বার্থের বাইরে কোনো কিছুই আমার নজরে আসত না।

আজ আমার আরো মনে পড়ছে যে, আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমার চাটুকারদের কথাবার্তায় ধারণা হয়েছিল যে, আমিই প্রজাদের খাওয়াই পরাই, লালন পালন করি। স্রষ্টা বলতে কিছু নেই। যদি থাকত তবে আমার কর্মে নিশ্চয়ই অলৌকিক বাধা আসত। কিন্তু কোনো রকম বাধাবিঘ্ন ছাড়াই আমি যেভাবে ইচ্ছেমতো সব কাজ করে যাচ্ছি তাতে আমার মনে এই কথার আছর হয় যে, আমিই সব- আমার ইচ্ছাই সব এবং আমার হুকুম সব। ফলে আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস ফ্যাসিবাদ এবং ব্যক্তিগত ফেরাউনবাদ পুরো পূর্ব ফ্যাসিল্যান্ডকে তছনছ করে দিয়েছিল এবং মানুষের মনে আমার বিরুদ্ধে কিরূপ ঘৃণা ক্ষোভ বিক্ষোভ ব্যথাবেদনা কান্না জড়ো হয়েছিল তা কিছুটা আন্দাজ করতে পারি যখন হেলিকপ্টারে করে স্বর্ণকমল থেকে পালাচ্ছিলাম তখন। পালানোর সময় আমি লক্ষ করলাম যে, বিস্তীর্ণ জনপদের কোটি কোটি নারী-পুরুষ আবালবৃদ্ধবনিতা রাস্তায় নেমে এসেছে এবং যারা টের পেয়েছে যে আমি পালাচ্ছি তারা আমার হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে নিজেদের জুতো স্যান্ডেল ছুড়ে মারছে, যা বড় জোর পাঁচ দশ ফুট উপরে যাচ্ছে অথচ আমি দশ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে তাদের ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য


আরো সংবাদ


premium cement