২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

এশিয়ায় বড় জোট নেই


কোরীয় যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান কমিউনিস্ট হুমকি মোকাবিলার জন্য এশিয়ার অন্য শক্তিগুলোর সাথে একটি ন্যাটো-টাইপ জোট, ‘প্যাসিফিক প্যাক্ট’ প্রস্তাব করেছিল। এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ তার এশীয় মিত্ররা জাপানকে ‘প্যাসিফিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে তার নিকটতম মিত্র বিবেচনা করে এবং এটি প্রধান অ-ন্যাটো মিত্র তবে এর সাথে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি জাপানে রয়েছে, ইয়োকোসুকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর প্রায়ই নোঙর করা থাকে।

পেন্টাগন ও বাইডেন প্রশাসনের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের রূপরেখা এখন আরো স্পষ্টভাবে সামনে উঠে আসছে। প্রশাসনের পরিসংখ্যান থেকে জনসাধারণের মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের সামরিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আরো ফরমায়েশি এবং অ্যাডহক আঞ্চলিক জোট - যেমন কোয়াড, অকাস- এসব তৈরি করে তাদের উপস্থিতি পাকাপোক্ত করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন-চীন প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও রয়েছে। কিন্তু ‘নিয়মভিত্তিক শৃঙ্খলা’র ড্রাম বাজানো বা চীনা সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর অ্যালার্ম বাজানো দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় উত্তর-ঔপনিবেশিক অভিজাতদের মধ্যে ওয়াশিংটনের ধারণার চেয়ে কম অনুরণন দেখা গেছে। বর্তমানে আঞ্চলিক দেশগুলো আঞ্চলিক শৃঙ্খলায় কারো একচেটিয়া দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে চায় না, সেটা ওয়াশিংটন বা বেইজিং যেই হোক না কেন।

কিছু দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ ‘নিয়মভিত্তিক আদেশ’ আলোচনাকে ভাগ করে নেয়া নীতিগুলো রক্ষার একটি প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক আবরণ হিসেবে দেখে তবে বেশির ভাগই এটিকে ফাঁপা এবং কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে এটিকে চীনের বিরুদ্ধে একটি শিকারি পাখি হিসেবে মূল্যায়ন করে। চীনের আচরণ সব ক্ষেত্রেই এ অঞ্চলের জন্য সুখকর এটা বলা না গেলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই আঞ্চলিক শৃঙ্খলার অবনতির জন্য তার নিজের দায়িত্ব বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্পের সময়কাল থেকে ময়দানে রূঢ়তা দেখা যায়, যা এখনো শেষ হয়নি। অনেক আঞ্চলিক অভিজাত মনে করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের নামে কিভাবে যুদ্ধ সৃষ্টি, অস্ত্র বিক্রি, অনুগত করার কৌশল অবলম্বন করে অনেক অসন্তোষ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়ে চলছে।

ওয়াশিংটনেরও এটি ধরে নেয়া উচিত নয় যে, আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলো এক হয়ে চীনের আধিপত্য প্রতিরোধ করবে এবং ইউরোপীয় ধাঁচের ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করবে। এশিয়ায়, ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তে শ্রেণিবিন্যাস, ঐতিহাসিকভাবে আঞ্চলিক শৃঙ্খলার কাঠামোকে আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এ মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকজন নেতা চীনকে প্রাথমিক হুমকি হিসেবে দেখছেন-সামরিকভাবে বা অন্য কোনোভাবে। ‘চীনের চ্যালেঞ্জ’-এর ব্যাপারে কোনো আঞ্চলিক সম্মতি নেই কিংবা কোনো একটি শক্তিই মতাদর্শগত বা নৈতিকভাবে অপরটির চেয়ে উচ্চতর নয়।

এ অঞ্চলে কার্যকর মেরুকরণ হওয়ার পর, চীনকে সব আঞ্চলিক নীতির ক্ষেত্র থেকে বাদ দেয়া সম্ভব হবে না এবং ইউরোপীয় ধাঁচের শক্তিব্যবস্থা উত্থানের সম্ভাবনাও এখানে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়বে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া পূর্ব ইউরোপ ও অনেক ইউরোপীয় দেশকে অর্থনৈতিকভাবে বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। ফলে নিজ জনগণকে আর্থিক দুর্দশা থেকে রক্ষা করাই এখন ইউরোপীয়দের মুখ্য কাজ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য গড়তে বা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করা তাদের জন্য বিলাসিতার পর্যায়ে পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাছাড়া ইউরোপীয়রা নগদ খরচ করতে কম অভ্যস্ত।

এ অঞ্চলে একটি সত্যিকারের ভারসাম্যপূর্ণ জোট গড়ে তুলতে হলে চীনকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য কি আরো বেশি হুমকি হয়ে উঠতে হবে? চীন কেন সেটি করতে যাবে? ওয়াশিংটনের মতো চীন লাঠি ও গাজর নীতিতে চলে না। চীন আঞ্চলিক দেশগুলোকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেয়, যাতে উভয়েই লাভবান হয়। এতে চীন খুব অল্প সময়ে এই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। চীন কোনো দেশের ভেতরে রাজনৈতিক দলকে প্রতিপালন বা উসকানি দেয় না। যে সরকার আসে সেই সরকারের সাথে উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় সহয়তা করার কাজ নিয়ে এগিয়ে যায়। সেজন্য অনেক দেশ আস্তে আস্তে বিআরআইয়ের ছাতায় সমবেত হচ্ছে। তবে সরকারের সাথে কাজ করতে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক সময় সরকারবিরোধীদের বড় ধরনের সমস্যা উঠে আসে। উদাহরণ পাকিস্তান। পাকিস্তানের গোয়াধর প্রকল্প এবং ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চীনা কর্মচারীদের হত্যার প্রসঙ্গ স্মরণীয়। এ অঞ্চলে চীনকে রাগান্বিত করার কৌশলও গ্রহণ করা হয়েছে। তাইওয়ানকে পুঁজি করে ট্রাম্পের পর থেকে এই খেলায় যেন অগ্নিবাণ নিক্ষেপ করা হয়েছে। কিন্তু চীনকে রাগান্বিত করার খরচ খুব কম নয়। সদ্য আফগানিস্তান যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়ে পশ্চিমাদের চটজলদি আরো একটি খরচের বোঝা বহন ও সেনা সদস্যদের পাঠানো দুরূহ হয়ে পড়বে। দূরে দূরে থেকে যুদ্ধ করার কৌশল এবং অন্যান্য উপায় উপকরণ দিয়ে আঘাত করা অনেক সহজ হবে পশ্চিমাদের জন্য, আপাতত সেটিই চালু রয়েছে।

কিন্তু একটি কার্যকর বিকল্প ছাড়াই চীনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা কৌশলগত অসদাচরণ ও বোকামি হবে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীন না হয় তবে কে নতুন কোন জোটের নেতৃত্ব দেবে? ভারত, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার মতো মধ্যম শক্তিগুলো এতদঞ্চলে কি কোনো নতুন আয়োজনের নেতৃত্বে আসতে পারে? এসব শক্তি ইতোমধ্যে মার্কিন-চীন কৌশলগত প্রতিযোগিতায় পক্ষ নিয়ে ফেলেছে। ভারত চীনবিরোধী যেকোনো মোর্চায় কার্যকরভাবে অংশ নেবে। ভারতের পড়শিরা সার্ক অভিজ্ঞতায় দেখেছে যে, ভারত জোট পরিচালনায় অদক্ষ। তারা অর্থনীতির পরিবর্তে রাজনৈতিক দৃষ্টি দিয়ে পড়শিদের বেশি দেখে। ফলে উদীয়মান সার্ক মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রায় সব পড়শিই চীনের ‘এক চীন’ নীতিতে নতুন করে সমর্থন দিয়েছে। তাই চীনের বিরুদ্ধে এতদঞ্চলে ভারতের নেতৃত্বে কেউ এগিয়ে আসবে না। এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুর্ভাগ্যবশত, পরনির্ভরতার মাধ্যমে অস্ট্রেলীয়রা সার্বভৌমত্বের অনেকটাই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে হারিয়ে ফেলেছে। ফলে ভারত বা অস্ট্রেলিয়া এতদঅঞ্চলে জোট পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হচ্ছে না। জাপান একই সাথে চীন ও রাশিয়াকে কৌশলগত শত্রু বানিয়েছে। তাই তারাও নেতৃত্ব দেয়ার পথে এগোতে পারবে না।

আসিয়ান একটি আদর্শিক বহুপক্ষীয় ক‚টনৈতিক শৃঙ্খলা গঠন করতে পারে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের সামরিক-নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখে এবং চীন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাকে শক্তিশালী করে। কোয়াড ও অকাসের মতো মিনি পার্শ্বীয় গ্রুপিং এই পরিবেশকে আরো ভঙ্গুর করে তুলবে। আঞ্চলিক শৃঙ্খলা প্রথমত আঞ্চলিক অভিজাতরা কিভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ বৈধতা সংজ্ঞায়িত এবং রক্ষা করে তার ওপর নির্ভর করে। আঞ্চলিক শৃঙ্খলার স্থানীয় চালকদের খুঁজে বের করার সময় এসেছে। নতুন নীতিগত উদ্যোগের চাকা পুনরুজ্জীবিত করার পরিবর্তে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের মতো আঞ্চলিক শক্তি এবং আসিয়ানের অধীনে বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তার অসফল কৌশলগত কর্মশালাটি প্রাচ্যে স্থানান্তরে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পেছনে জো বাইডেনের যুক্তিতে এটিই ইঙ্গিত করা হয়েছিল। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে অনেক সেনা নিয়ে শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে: যেমন, জাপানে পঞ্চাশ হাজার, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩০ হাজার এবং গুয়ামে পাঁচ হাজার সেনা মজুদ রয়েছে। ফিলিপাইনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র দক্ষিণ চীন সাগরে চীনকে প্রতিহত করতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সমুদ্র, যা দক্ষিণ চীনের তীর স্পর্শ করে এই নাম অর্জন করেছে, চীন এই সমুদ্রকে সম্পূর্ণরূপে নিজের দাবি করে। দক্ষিণ চীন সাগর প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, নির্জন দ্বীপগুলো নিয়ে গঠিত দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে। এটি ইন্দোচাইনিজ উপদ্বীপ, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ব্রুনাই, সুমাত্রা বা ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপগুলো দিয়ে বেষ্টিত এবং পূর্ব চীন সাগরের সাথে সমুদ্র পানির সংযোগ রয়েছে যেমন- তাইওয়ান, লুজন প্রণালী হয়ে ফিলিপাইন সাগর, পালাওয়ানের কাছাকাছি প্রণালীর মধ্য দিয়ে সুলু সাগর, সিঙ্গাপুরের প্রণালী দিয়ে মালাক্কা প্রণালী, ক্রোমাটা ও বাংকা প্রণালী হয়ে জাভা সাগর। দু’টি উপসাগর, থাইল্যান্ড উপসাগর এবং টনকিন উপসাগরও দক্ষিণ চীন সাগরের অংশ। বিশ্বব্যাপী শিপিংয়ের এক-তৃতীয়াংশ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়েই হয় টাকার অঙ্কে ৩.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এই সমুদ্র আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রায় সব অংশকেই ছুঁয়ে গেছে। চীন ইতোমধ্যে তাদের নির্মিত কৃত্রিম দ্বীপগুলোতে অনেক সামরিক স্থাপনা তৈরি করেছে। কৌশলগত দিক দিয়ে এ অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রভাব বিস্তারের জন্য উভয়েই যেকোনো নীতি গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

চীন এগিয়ে গিয়ে মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোতে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করছে। তাদের উৎপাদিত পণ্য এবং চীনা শিল্প পণ্যবাণিজ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি। অস্ট্রেলিয়া চীনের সাথে তার বাণিজ্য বৃদ্ধি করে এবং বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩১ শতাংশ পণ্য ও পরিষেবা তার বৃহত্তম দ্বিমুখী বাণিজ্য অংশীদার হিসাবে আবিভর্‚ত হয়। চীন অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়া এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং কিছুটা হলেও তার প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠার ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেখানে ভাটা পড়েছে।

অনুমান করা হয় যে, এতদঞ্চলের সমুদ্রে ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং ১৯০ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে। সমুদ্রের এই দু’টি গুপ্তধন চীন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবে অন্য দাবিদাররাও কিছু সম্পদ দাবি করছে। ফিলিপাইন, নিকটবর্তী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে একটি। অন্য দিকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো অন্য দেশ লো সময়ে সময়ে চীনের কাছে তাদের অভিযোগ জানাতে থাকে। সামগ্রিক পরিস্থিতি হলো যে, আসিয়ান এ অঞ্চলে একটি নীরব দর্শক। এখন অকাস আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি শক্তি ব্লক তৈরি করছে যা কেবলমাত্র চীনকে লক্ষ্য করে।

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০০টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কিছুই প্রশংসার যোগ্য তবে বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে যা উদ্বিগ্ন করে। দেশটি প্রায় সব সময়ই যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। অনেকে বলেন, যুদ্ধই আমেরিকার অর্থনীতির চালিকাশক্তি। যুদ্ধ হলে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করতে পারে ওয়াশিংটন। ১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার পর থেকে ৯৩ শতাংশ সময় আমেরিকা যুদ্ধে লিপ্ত থেকেছে। আমেরিকা সারা বিশ্বে সরকার উৎখাতের জড়িত থাকে এবং হলুদ বিপ্লবের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র সবসময় নিজের স্বার্থে বিশ্বব্যাপী ঘুরে ফিরছে। অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ চীন সাগরে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে ত্রিপক্ষীয় জোটের মাধ্যমে এই অঞ্চলে আমেরিকার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। অকাস এমন একটি পদক্ষেপ যেখানে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, চীনকে বিশ্বের কোথাও আধিপত্য বিস্তার করতে দেয়া হবে না। আসিয়ান চীনের দরজায় কড়া নাড়লেও জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় শুধু সম্প্রসারিত হয়নি তাই নয়, দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে অসংখ্য সামুদ্রিক বিরোধ রয়েছে। এসব বৈরী পরিস্থিতিতে ন্যাটোর মতো কোনো বড় জোট এশিয়ায় গড়ে ওঠেনি।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার

 

 


আরো সংবাদ


premium cement