০৯ আগস্ট ২০২২
`

পরিপাটি জীবনের আড়ালে

পরিপাটি জীবনের আড়ালে - ছবি: সংগৃহীত

ভোরবেলায় বেজে ওঠে ডোরবেল। দরজা খুলতেই এক মহিলা ঘরে ঢোকেন। মাথায় স্কার্ফ। ওভারকোট খুলতে খুলতে, ‘আমার আব্বায় কই আম্মায় কই’ বলে ডাকাডাকি শুরু করেন। কাঁধের ব্যাগটি ডাইনিং টেবিলের ওপর খুলতে খুলতে, ‘কত দিন আব্বা-আম্মাকে দেখি না’ বলেই, এক বাক্স চকলেট, এক প্যাকেট চিপস, কয়েকটি বিলাতি গাব টেবিলের ওপর রাখতে না রাখতেই মহিলার ‘আব্বা-আম্মা’ (শিশু অনিক ও আনিকা) চকলেট বাক্স নিয়ে উধাও। আমাকে ও সালমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘খবর পেয়েছি দেশ থেকে বড় আব্বা বড় আম্মা আসছেন। তাদের দেখতে কত ইচ্ছা। আল্লাহ আপনাদের ভালোভাবে আনছেন কি না। রাস্তায় কোনো কষ্ট হয়নি তো? শরীর ভালো রইছে তো? বাড়িতে আমার ছোট বোনেরা কেমন আছে? এখানে আসার পর বোনদের সাথে কথা অইছেনি? আমার ছোট বোন দুইডারে নিয়ে আসলেন না কেন? ফের আসতে বোন দুইডারে সাথে নিয়ে আইবেন। আপনারা আইছেন শুনে বহুত খুশি লাগছে, এখন আর তাড়াতাড়ি যাইতে দিমু না।’

কথা বলছিল সিলেটি ভাষায়। সিলেটি অনর্গল অনুযোগ, অভিযোগ ও খোঁজখবর। সব কথা না বুঝলেও শুনতে ভালো লাগছিল। আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি দেখে ভাবছি, সে যেন এ পরিবারেরই বড় মেয়ে, স্মৃতিবিভ্রাটে চিনতে পারছি না। তার স্মৃতি ঠিক আছে’ তাই উত্তরের অপেক্ষা না করেই অনেক দিনের সঞ্চিত প্রশ্ন একটির পর একটি করেই চলছেন।

ডাইনিংয়ে আমাদের সাথে খেতে বসে একই ভাষায়- দুই বছর আগে দেশে গিয়েছিলাম কোরবানি দিতে। লাগেজভর্তি কোরবানির গোশত। হিথ্রো বিমানবন্দরে নামার পর বেটারা লাগেজ খুলে দেখতে চায়। আমার কলিজা শুকিয়ে গেল। মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। লাগেজ খুলে দেখে গোশত আর গোশত। আর বেটাগো থামানো গেল না, নির্মমভাবে চার দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দিলো। আমি অনেক বছর পর বাপ-মায়ের নামে কোরবানি দিতেই বাড়ি গিয়েছিলাম। আমার কান্না আসছিল। আহারে কত শখের কোরবানির গোশত। এ দেশে কোরবানি নেই। সাহেবকে বলতেই আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। বলে, তোমার মনের মতো গরু কোরবানি দিও। (ওভারকোট গায়ে চড়িয়ে মাথায় স্কার্ফ বাঁধতে বাঁধতে) এখন আসি, বড় আব্বা বড় আম্মা দেশে যাওয়ার আগে আল্লাহ যেন আবার আপনাদের সাথে দেখা করায়।

‘জোহরাবু’। এ নামেই সবার চেনেন। যাদের বাসায় ছোট ছেলেমেয়ে আছে তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত। কারো বাসায় খালি হাতে যায় না। কাঁধ ব্যাগে বিভিন্ন ধরনের খাবারসহ থাকে উপহারসামগ্রীও। চলে যাওয়ার পরপরই হেনার কাছে জানতে চাই।

মহিলা কী করেন?
ধর্মকর্ম করেন। ব্যাগভর্তি খাবার নিয়ে আব্বা-আম্মাদের (শিশু) দেখতে বের হন। আব্বা-আম্মা দর্শনে যেদিন বের হন, সেদিন সকাল করেই দোকানে যান। খেলনা ও খাবার দিয়ে ব্যাগভর্তি করেন। কখনো কখনো নিজে খাবার তৈরি করে বের হয়ে পড়েন।

কে আছেন মহিলার?
স্বামী ছাড়া কেউ নেই। স্বামীর ট্রাভেল ব্যবসায়। এখন হজ মৌসুম। তাই কাজ বেশি। কাজ শেষ করে ফিরেন অনেক রাতে। এ অবস্থায় আব্বা-আম্মা দর্শন ছাড়া জোহরাবুর সময় কাটবে কিভাবে!

শিশুদের জন্য এত কিছু কেনাকাটা করেন, টাকা-পয়সা?
তার স্বামী জহিরুল হক খান খুব ভালো মানুষ। উপার্জনও করেন ভালো। স্বামীর কাছে যখন যা চান, কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখেন না। একটু আগেই তো শুনলেন, তার কোরবানির গোশত খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছিল। সাথে সাথে মঞ্জুর।

মহিলার বিয়ের বয়স কত?
প্রায় ৩০ বছর।

আমি যতদূর জানি, এখানে দাম্পত্য সম্পর্ক খুবই ঠুনকো। সামান্য কারণে বিচ্ছেদ ঘটে। প্রেমপ্রীতি-ভালোবাসা ও সন্তানের মায়া-মমতা কোনো কিছুই দাম্পত্য সম্পর্ক মজবুত করতে পারে না।
আর ৩০ বছর নিঃসন্তান অবস্থায় দাম্পত্য সম্পর্ক টিকল কিভাবে?
সন্তান আছে। ওর গর্ভজাত নয়, স্বামীর ঔরসজাত। দুই ছেলে অনেক আগেই বিয়ে করে পৃথকভাবে বসবাস করে। প্রৌঢ়া একসময় খুব সুন্দরী ছিলেন। অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। আল্লাহর নাম ছাড়া কথাই বলেন না। মনে হলো ভালো পরিবারের।

দুই সন্তানের বাপকে বিয়ে করার কারণ?
কারণ জানতে হলে যেতে হবে পাঁচ দশক আগে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকার আছমত আলী হাজীর একমাত্র মেয়ে ফাতিমা। হরিণীর মতো দুরন্ত, চঞ্চল। বাড়ির পাশে পাহাড়, চা-বাগান, খাল, ফসলের জমি ও সবুজ বন। শৈশবে পাহাড়ের ঢালে চা-বাগান থেকে কুলি-কামিনদের চা-পাতা সংগ্রহের দৃশ্য দারুণ পছন্দ ছিল তার। বাবার সাথে ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য দুই চোখ ভরে দেখত। বাড়ির কাছে রেল স্টেশন। গাড়ির হুইসেল শুনলেই ছুটে আসে। তাকিয়ে থাকে যতক্ষণ দেখা যায়।
শৈশবেই একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে বাবা-মা। হাজী সাহেবের বড় বোন ব্রিটিশ সিটিজেন। বোনের দুই ছেলে। ছোট ছেলে জাফর ফাতিমার চার বছরের বড়। জাফরকে নিয়েই ফাতিমার বাবা-মা স্বপ্নের জাল বুনতে থাকেন। ভাইবোনের মধ্যে চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়। হাজী সাহেব পত্রে এসব কথা লিখতে সাহস পাচ্ছিলেন না। বোন দেশে এলে মনের কথাটি বোনকে জানাবেন। তাই বোনকে দেশে আসার জন্য অনুরোধ শুরু করেন। ছোট ভাইয়ের অনুরোধে ছেলে জাফরকে নিয়ে দুই মাসের জন্য বোন বেড়াতে আসেন।

জাফরের সাথে ফাতিমার প্রথম দেখা। জাফরেরও মামা বাড়িতে প্রথম আসা। তার পরও যেন জনম জনমের পরিচয়। জাফরকে পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে যায় ফাতিমা। সারাদিন পাহাড়ের ঢালে, চা-বাগানের পাশে, সবুজ মাঠে, গাছের তলায় ও খালের পাড়ে ঘুরে, দৌড়াদৌড়ি করে কাটিয়ে দেয়। নাওয়া-খাওয়ার সময় পায় না। বাবা খাবার হাতে নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। শুধু মেয়ে নয়, বাবাও নাওয়া-খাওয়া ভুলে গেছেন। ওদের কাছাকাছি থাকা ছাড়া অন্য কোনো কাজই হাতে উঠে না বাবার।
জাফর লন্ডনে দেখা সব বলে ফাতিমার কাছে। জাফরের হাঁটুতে হেলান দিয়ে রূপকথার মতো শোনে ফাতিমা। এই দুই প্রজাপতি যুগল যখন একসাথে দৌড়াদৌড়ি করত তখন পলকহীন তাকিয়ে থেকে দেখত তার বাবা-মা। এমনটিই তো চেয়েছিলেন তারা।

এক দিন রাতে বড় বোনের কাছে আছমত আলী তার মনের ইচ্ছাটি জানান। বোন হ্যাঁ-না কিছুই বলেননি, শুধু বললেন- এখন ওরা নাবালক। তা ছাড়া ছেলের মালিক তো আমি একা নই। লেখাপড়া শেষ করুক। তারপর দেখা যাবে। জুটি যদি আল্লাহ লিখে থাকেন কেউ ফেরাতে পারবে না, না লিখলে কেউ জুটি বাঁধতেও পারবে না। আমার ভাইজি আমার ঘরে গেলে কোনো অমত আমার নেই। তবুও যার ছেলে তার মত আগে নিতে হবে। এ বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করার সময় এখনো হয়নি।

দুই মাসের জন্য এসেছিলেন আছমত আলীর বড় বোন। দেখতে না দেখতেই দুই মাস শেষ। জাফরের বিদায়ের দিন যত নিকটবর্তী হচ্ছে ফাতিমার অস্থিরতা তত বাড়ছে। জাফর চলে যাওয়ার আগের রাত ফাতিমার একটুও ঘুম হয়নি। আগের মতো প্রাণখোলা গল্পও হয়নি।

বাবার সাথে জাফরকে বিদায় দিতে বিমানবন্দর এসেছিল ফাতিমা। জাফরকে বিদায় দিয়েই যেন শৈশব ছেড়ে যৌবনে পা রাখে ফাতিমা! শৈশবের অগোছাল চঞ্চলতার স্থলে কৈশোরের মৌবনে হাওয়া দোলা দিতে শুরু করে। আগের মতো চা-বাগানের চারপাশে দৌড়ায় না। কুলি-কামিনদের মাথা থেকে চা-পাতার টুকরি ফেলে দিয়ে পালায় না। সারাদিন বাইরেও ঘোরাঘুরি করে না। লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম- এই তিন কাজ ছাড়া বাকি সময় চুপচাপ থাকে। ফাতিমা সর্বক্ষণ কী যেন ভাবে।

এক দিন অঙ্ক বই খুলে এক জায়গায় দেখতে পায়, সুন্দর করে চার ভাঁজ করা একটি কাগজ। কাগজের ভাঁজ খুলে লেখা দেখে হৃৎকম্পন বেড়ে যায় ফাতিমার। জাফরের হাতের লেখা পত্র। ফাতিমাকে লেখা। ভালোবাসার কথা লেখা আছে এতে। তা দেখে কেমন যেন লাগছে ফাতিমার। পৃথিবীর সব সুখ আজ ফাতিমার দরজায়। এটি স্বপ্ন না সত্য, মাথার চুল টেনে পরীক্ষা করে। পত্রে জাফর ফাতিমাকে অপেক্ষা করতে বলেছে।

‘অপেক্ষা করব, কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমার জন্য অপেক্ষা করব, জাফর ভাই। আমার জন্ম তো তোমার জন্য, শুধুই তোমার জন্য, শুনলে জাফর ইকবাল সাহেব?’ বলেই দুই হাতে বুকের মধ্যে ভাঁজ করা কাগজটা চেপে ধরে ফাতিমা-তুজ-জোহরা। শুরু হয় ডাকপিয়নের পথ চেয়ে থাকা। অবসর কাটে চিঠি লিখে ও পড়ে। কোনো কোনো চিঠি শতবার পড়া হয়ে গেছে। রঙিন কাপড়ে খুব যত্নে রক্ষা করে প্রতিটি চিঠি।

বড় হয়ে গেছে, বাবার মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে লজ্জা পায় ফাতিমা। জাফর চিঠিপত্র পাঠায় কি না মেয়ের কাছে জানতে চাইলে লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। ফাতিমা দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় মহামারী আকারে কলেরা শুরু হয় ওই এলাকায়। তখন ফকির, কবিরাজ, ওঝাবৈদ্য ছাড়া এ রোগের কোনো চিকিৎসা ছিল না। এক রাতে মৃত্যু হয় আছমত আলী হাজীর। একমাত্র ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে দেশে আসার জন্য বোন যখন বিমানে, তখন ফাতিমার মায়েরও জানাজা হচ্ছিল। বোন বাড়ি পৌঁছে ভাই-ভাবীর কবর ছাড়া আর কিছুই পাননি। কবরের পাশে পেয়েছেন বাকরুদ্ধ ফাতিমাকে। অনেকটা জোর করেই কবরের পাশ থেকে ঘরে আনেন ফাতেমাকে।

রাতে ঘুমের ঘোরে ‘মা মা’ বলে চিৎকার করে উঠলে ফুপু বুকে চেপে ধরেন, সান্ত্বনা দেন। ‘এখন থেকে আমিই তোর মা’ বলে সর্বক্ষণ কাছে কাছে রাখেন। তিন দিনের দিন একত্রে ভাই-ভাবী খরচ করেন। রাজমিস্ত্রি ডেকে দু’টি কবরই পাকা করার ব্যবস্থা করেন। পরদিন বাড়ি ছেড়ে চলে আসার সময়, ‘ফুপু, মা-বাবাকে কার কাছে রেখে যাবো, কে আমার পড়ার টেবিলে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেবেন।’ বলেই হাউমাউ কান্নাসহ মা-বাবার কবরের পাশে মূর্ছা যায় ফাতিমা। নাকে মুখে পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরানো হয়।

ফুপু ফাতিমার হাত ধরে টানছেন কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছিল না। টানতে টানতে বলেন, ‘উঠ মা, ট্রেনের সময় যে হয়ে এলো।’

ট্রেনে সে দিনই চলে আসেন ঢাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে প্লেনে উঠে একেবারে লন্ডন।

লন্ডন আসার কিছু দিন পরই বিয়ে। নতুন স্বপ্ন দেখে ফাতিমা। রাতে শুয়ে শুয়ে সুখের বীজ বোনে জাফর ও ফাতিমা। তারা এক দিন অনেক বড় হবে। ছেলেমেয়ে হবে। ছেলেমেয়েদের এ দেশে রেখে শেষ জীবনটা দেশের মাটিতে কাটাবে। শৈশবের স্মৃতিগুলো খুঁজে খুঁজে বের করবে। মা-বাবার ভিটিতে মসজিদ দেবে, কবর পাকা করে মাজার বানিয়ে প্রতি বছর গরিবদের খাওয়াবে। পরিচিত মানুষের পাশে কাটাতে চায় জীবনের শেষ দিনগুলো। এ দেশে শৈশব খুঁজে পাবে না। কী মধুময় শৈশবের সে স্মৃতি। শেষজীবন শৈশব স্মৃতির কাছে কাটাতে চায়।

দাম্পত্য জীবনের চার বছর পার হতে না হতেই অফিস থেকে বাসায় টেলিফোনের মাধ্যমে জাফরের মৃত্যু সংবাদে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল ফাতিমা। স্বামীর মত্যুর বছরখানেক পরে মৃত্যু হয় শাশুড়ির। এখন কোথায় যাবে, কার কাছে থাকবে ফাতিমা? সর্বক্ষণ অন্যমনস্ক থাকে। দেশেও তো কেউ নেই। স্বামীর জামাকাপড় হাতে নিয়ে বিড় বিড় করে কথা বলে আর কাঁদে।

জহিরুল হক খান সুনামগঞ্জের লোক। লেখাপড়ার জন্য লন্ডন আসেন। প্রেম হয় বিলাতি মেমের সাথে। প্রেম থেকে বিয়ে। সাত বছরের দাম্পত্য জীবনে দু’টি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। দুই শিশু সন্তান ফেলে মেম সাহেব জহিরুল হক খানের সংসার ছাড়েন। অনেক বুঝিয়েও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় সন্তান তখনো দুগ্ধপোষ্য। যেকোনোভাবেই খবর পেয়ে ফাতিমার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। ফাতিমা দেশে ফিরে আসবেন, কিছুতেই বিয়ে করবেন না; বাকি জীবনেও বিয়ে করবেন না।

একটা সময় মেয়েদের নিরাপদ আশ্রয় দরকার। আত্মীয়স্বজনদের প্রচেষ্টায় শেষমেশ বিয়েটা হয়। বিয়ে হয় আজ থেকে ৩০ বছর আগে। ছেলেমেয়ে হয়নি আর দেশেও ফেরেননি। ফাতিমার মনের অবস্থা জানেন জহিরুল হক; তাই তার কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখেন না।

জোহরা কথা রেখেছিলেন। আমরা চলে আসার আগের দিন আসেন। আমাকে একটি শার্ট, একটি টাই এবং সালমাকে একটি শাড়ি গিফট করেন। দেশে থাকা আমার দুই মেয়ের জন্য ১-০ পাউন্ড করে ২০ পাউন্ডের দু’টি নোট দিতে দিতে বলেন, ‘আমি আমার ছোট বোনদের কিছুই দিতে পারলাম না। এই টাকাটা দেশে গিয়ে আমার দুই বোনকে দিয়ে আমার জন্য দোয়া করতে বলবেন।’ বলেই ওভারকোট গায়ে তুলে স্কার্ফ পরে বাইরের দিকে পা বাড়ান। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ায় শুধু তাকিয়ে রই। কণ্ঠ থেকে কথা বের হওয়ার আগেই পলকহীন নয়ন ঝাপসা হয় অশ্রুতে। (সালমার সংসার ১৬৮ পৃষ্ঠা থেকে ১৭৪, সংক্ষিপ্ত) ভাবছি, পাশ্চাত্যের সুন্দর পরিপাটি জীবনের আড়ালে কত জোহরার অশ্রু ফল্গুধারার মতো বয়ে চলছে, সে খবর ক’জন রাখেন।

লেখক : আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক
E-mail : adv.zainulabedin@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement
জনবিচ্ছিন্নদের ৭ দলীয় জোট রাজনীতিতে গুরুত্বহীন : তথ্যমন্ত্রী চলন্ত বাসে ধর্ষণ : ৪ জনের স্বীকারোক্তি, ৬ জনের রিমান্ড সাপুরের কাছ থেকে গোখরা সাপের ৫০ বাচ্চা উদ্ধার কেনিয়ায় ভিন্ন মেজাজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আমিরাতের জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের কাজ শেষের পথে ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণের ওপর পড়বে : টিআইবি গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : সেলিম বগুড়ায় কলেজশিক্ষার্থীকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা উধাও রেলের ভাড়া বাড়ানোর এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি : মন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় আম্পায়ার রুডি কোয়ের্তজেনের মৃত্যু শাজাহানপুরে কচুক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার

সকল