০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

শ্রীলঙ্কা-সঙ্কট ও চীনের বৈশ্বিক ভাবমর্যাদা

-

শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের ফলে অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত। মুদ্রাস্ফীতি এবং তেল, গ্যাস, খাদ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব রাজাপাকসে পরিবারের পদত্যাগ দাবিতে জনগণকে রাস্তায় নামিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রিসভা গণহারে পদত্যাগ ও রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসের ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। ১২ মে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রনিল বিক্রমাসিংহে; গঠন করেন নতুন সর্বদলীয় সরকার।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্দশার উৎপত্তি দীর্ঘমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ফল। সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফলে অর্থ প্রদানের ভারসাম্যহীনতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির সমস্যা দেখা দেয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে অর্থনীতি উন্মুক্ত করা হলেও শ্রীলঙ্কা এটিকে রফতানি-নেতৃত্বাধীন অর্থনীতিতে পরিণত করতে ব্যর্থ হয়।

১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে একের পর এক সরকারি কর হ্রাস ও কর ছাড়ের নীতি সরকারি রাজস্ব সংগ্রহের ধারাবাহিকতার পতন ঘটায়। ২০২১ সালে শ্রীলঙ্কার কর রাজস্ব জিডিপির মাত্র ৯.৬ শতাংশ ছিল।
রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসের সরকারের ভুল নীতিতে পরিস্থিতি আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিভিন্ন কারণের মধ্যে রয়েছে অস্থিতিশীল বৈদেশিক ঋণ। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপি অনুপাতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ৯১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১৯ শতাংশ হয়। ২০২২ সালের মার্চের শেষ পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ পরিষেবা প্রদান প্রতি বছর ছিল ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে এর বৈদেশিক রিজার্ভ ছিল মাত্র ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

১২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা তার বিদেশী ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করে। ১৮ মে দেশটি ঋণ পরিশোধের ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড মিস করে।

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কট খারাপ হওয়ার সাথে সাথে চীনা ঋণ এবং ছোট দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, যা বেইজিংয়ের বৈশ্বিক ভাবমর্যাদাকে চ্যালেঞ্জ করে।

চীন থেকে ঋণ কি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ?
আন্তর্জাতিক মিডিয়া, বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের কিছু দল বছরের পর বছর ধরে দাবি করে আসছে যে, চীন লাভজনক নিঃশর্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে ঋণের ফাঁদে ফেলে দিয়েছে। ফলে চীনকে প্রায়ই শ্রীলঙ্কার ক্রমহ্রাসমান অর্থনীতি এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের প্রাথমিক কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০০৪ সালে মাঝে মধ্যে মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী থেকে চীন কয়েক বছরের মধ্যে শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম দ্বিপক্ষীয় দাতা এবং উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়। সড়ক অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ঋণ প্রদানের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার যুদ্ধোত্তর উন্নয়নে প্রধান ঋণদাতা হিসেবে ভূমিকা এবং বন্দর, শিল্প ও রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসূচি শুরু করে চীন।

ভারত ও পশ্চিমা কৌশলগত বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা শ্রীলঙ্কায় চীনের ক্রমবর্ধমান ব্যস্ততায় শঙ্কিত। ভারত মহাসাগরে চীনের পালর্স অব স্ট্রিং কৌশল ভারতকে ঘিরে ফেলার কৌশল বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিপুল অপরিশোধিত ঋণ এবং উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের মাধ্যমে কলম্বোকে ফাঁদে ফেলে চীন শ্রীলঙ্কায় সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে চায় বলে সন্দেহ করা হয়। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা তার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হাম্বানটোটা বন্দরটি চীনের কাছে ঋণ-ইক্যুইটি অদল-বদল করে ইজারা দেয়ার সময় এ বিষয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রীলঙ্কায় চীনের ঋণফাঁদ কূটনীতির বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। যদিও শ্রীলঙ্কা গত কয়েক বছরে চীন থেকে ছাড়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঋণ নিয়েছে, তবে চীনা ঋণে কারণে তার সমস্যা তৈরি হয়নি। লন্ডনভিত্তিক চাথাম হাউজ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, বিআরআই যুগে চীন থেকে শ্রীলঙ্কার ঋণ তার প্রাক-বিআরআই সময়ের চেয়ে সামান্যই বেড়েছে।

চীনের জন্য চ্যালেঞ্জ
যাই হোক, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিষয়ে চীনের অপেক্ষাকৃত ধীরগতির প্রতিক্রিয়া এমন প্রশ্ন তুলেছে যে, বেইজিং সত্যিই উন্নয়নশীল দেশগুলোর নির্ভরযোগ্য বন্ধু কি না। জানুয়ারিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সফরের সময়, রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপাকসে ঋণ পুনর্গঠন এবং ছাড়ের ঋণ সুবিধার অনুরোধ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পরে চীন ঋণ নিষ্পত্তির জন্য নতুন ঋণ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে, যা শ্রীলঙ্কার প্রস্তাবিত ঋণ পুনর্গঠনের বিপরীত। অর্থনৈতিক সঙ্কট গভীর হওয়ার সাথে সাথে ভারত যখন শ্রীলঙ্কার জন্য ক্রেডিট লাইন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে সক্রিয় ছিল, তখন চীন ক্রেডিট লাইনের অনুরোধগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিল। শ্রীলঙ্কার সঙ্কটের বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে চীনা ঋণ গ্রহণকারী ছোট উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সতর্ক করেছে।

চীন বেশ কয়েকটি ছোট ও উন্নয়নশীল দেশের উল্লেখযোগ্য ঋণদাতা। একতরফাভাবে শ্রীলঙ্কার জন্য ঋণ স্থগিত করলে অন্যান্য ঋণদাতার সাথে একই রকম আলোচনা করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। এটি চীনের জন্য একটি কৌশলগত সঙ্কট।

এ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা আইএমএফের কাছ থেকে আর্থিক বেলআউট প্যাকেজকে এ সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার মূল উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এরইমধ্যে শ্রীলঙ্কাকে তার ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ স্থগিত করার পূর্বশর্ত দিয়েছে। জাপান ও ভারতের পাশাপাশি চীন প্রধান দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের অন্যতম। ভারত ও জাপান উভয়েই ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ে একমত হলে চীনকে একটি বিশ্রী পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।

জাপান ও ভারত বেইজিংয়ের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী। ঋণের বিষয়টি শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রভাব ও উপস্থিতি আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। ফলে চীনকে স্থানচ্যুত করার উপাদান জড়ো হবে। যদি এটি ঘটে, তবে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মাঝখানে কৌশলগত অবস্থান গড়ে তোলার জন্য চীনের কয়েক দশকের প্রচেষ্টা অল্প সময়ের মধ্যে বড় সঙ্কটে পড়বে। চীন সেটি কখনো চাইবে না।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীনকে ছোট উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি অবিচল বন্ধু হিসেবে গড়ে ওঠার ভাবমর্যাদা সতর্কতার সাথে বজায় রাখতে হবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন কলম্বোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভাবমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছিল। বেইজিং যদি এখন ঋণ পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলোর জন্য শ্রীলঙ্কার আবেদন সমর্থন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা ভিন্ন ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি করবে। চীন এমন একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চাইবে না, যেখানে ঋণগ্রহীতা দেশের জনসাধারণ পণ্য সরবরাহের কারণে দুর্দশায় পড়েন।

চীনা ঋণের ফাঁদ একটি অপপ্রচার
চীন বলে, চীনা অর্থায়নে অযৌক্তিক শর্ত নেই। অথচ পশ্চিমা ঋণদাতারা অর্থায়নের প্রস্তাবের সাথে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মতো পূর্বশর্ত দিয়ে থাকে। চীনা ঋণ শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণ নয়।

উল্লেখ করা দরকার যে, শ্রীলঙ্কা যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে তা মূলত ২০১৯ সালে ইস্টার বোমা হামলার পর পর্যটন খাতে রাজস্বের তীব্র পতন থেকে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ একক ঋণদাতা এডিবি। জাপান ও চীনের অবদান ১০ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই মার্কিন ডলারে গণনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যালেন্সশিট সঙ্কুচিত করার ইঙ্গিত দিলে মার্কিন ডলার দ্রুত তুলে নেয়া হয়, যা শ্রীলঙ্কান রুপির অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত করে এবং পরবর্তীতে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। চীনের রাষ্ট্রদূত লিজি মিং বলেছেন, রঙ মাখিয়ে ঋণকে অস্ত্র বানানোর নোংরা খেলা পরিত্যাগ করা উচিত। তিনি আরো বলেন, ‘তা সত্ত্বেও ‘ঋণের ফাঁদে’ ফেলার জন্য যদি কাউকে দায়ী করতেই হয়, তাহলে যারা ঋণদাতার র‌্যাঙ্কিংয়ে চীনের চেয়ে যারা এগিয়ে, তাদেরই প্রথমে সন্দেহ করা উচিত।

শ্রীলঙ্কা ও এশিয়ার উন্নয়ন
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সাথেই চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রতœতাত্ত্বিক প্রমাণগুলো নিশ্চিত করে যে, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আড়াই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা, আকাক্সক্ষা, মনোভাব, রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন একই রকম। এ সব সম্পর্ককে আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার শক্তিশালী উপায় হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের ত্যাগ স্বীকারের জন্য সমাজকে প্রস্তুত থাকতে হবে। একসময়ের চীনা জনগণ, যাদের অতীতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও ছিল না, তারা এখন তাদের প্রতিশ্রুতির কারণে বিশ্বনেতার ভূমিকা পালন করছে। কোরিয়াও সাহায্য গ্রহীতার স্তর থেকে সাহায্যদাতার স্তরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আগামী কয়েক দশকে এশিয়া উন্নয়নের শিখরে আরোহণ করতে পারে। এশিয়ার দেশগুলো একসাথে কাজ করলে তবেই সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। এশীয় অঞ্চলে অতীতের সম্পর্কের মাধ্যমে যেসব সম্ভাবনা বিকশিত হয়েছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নতুন নতুন উন্নয়ন পদ্ধতি চিহ্নিত করা যাবে। এশীয় হিসেবে এক পরিবারের সন্তান হিসেবে একত্রে বসবাস করার মানসিকতা অর্জন করতে হবে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ- বিআরআই, আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে সংযুক্ত করে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিআরআই প্রকল্পগুলো মূলত পরিবহন, জ্বালানি, খনি, আইটি ও যোগাযোগ খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। এটি শিল্প পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন ও নগর উন্নয়নকেও অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে অনেক দেশেই এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করছে। এসব আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্ব উন্নয়নেও নতুন প্রেরণা যোগ করছে। উদ্যোগটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়ানোর জন্য অবকাঠামোগত প্রকল্পের বাইরে চলে গেছে, ফলে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে।

বিআরআইয়ের উদ্যোগগুলো এর সমাধান করতে পারে। অন্য দিকে এশিয়ার অনেক দেশ ঘুষ, দুর্নীতি ও অদক্ষতায় ভুগছে, যা আঞ্চলিক উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। ঘুষ বা দুর্নীতি দূর না করে সঠিক উন্নয়ন আশা করা যায় না। ঘুষ ও দুর্নীতি দমনে চীন সরকার যে নীতি অনুসরণ করেছে, সেটিও অনুসরণ করা যায়। চীনেও একসময় ব্যাপক দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। চীন সেগুলো কঠিন হাতে মোকাবেলা করে। এশিয়ার অন্যান্য দেশ এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

আমরা দেখেছি এশীয় অঞ্চল অন্য অঞ্চলের চেয়ে মানবসম্পদে সমৃদ্ধ। এই মানবসম্পদকে আঞ্চলিক উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়। এটিও আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারে। এশীয় অঞ্চলটি কেবল মানবসম্পদে নয়, পরিবেশগত সম্পদেও সমৃদ্ধ। এশীয় অঞ্চলকে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব সম্পদকে যথাযথভাবে ব্যবহার করার পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রীলঙ্কার উত্তরণ
সমস্যা উত্তরণে যেমন প্রচুর ক্যাশ ফ্লো দরকার, তেমনি শ্রীলঙ্কার উন্নয়নে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করা উচিত।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় জরুরি দরকার ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য, তেল-গ্যাস। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ কেউ বলেনি তারা সহায়তা দেবে না। কিন্তু জরুরিভিত্তিতে বৈদেশিক মুদ্রা না এলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ভারত শ্রীলঙ্কাকে নগদ সহায়তা দিচ্ছে। চীনও সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আগামী কয়েক মাস কলম্বোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ


premium cement