০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

গ্রুপ স্বার্থ রক্ষার ব্যবসায়ী নির্বাচন এখন সঙ্কটে

-

অযোগ্য ও চাটুকার পরিবেষ্টিত সরকার এখন ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে, যদিও ব্যাপারটা চোখে দেখা যাচ্ছে না। মুষ্টিমেয় দুর্নীতিগ্রস্ত লোক বাদে আমাদের জনগণের বেশির ভাগই দুঃখ-দরিদ্র ও অবিচারের শিকার হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছে। সবাই ধারণা করছে, সামনের দিনগুলো আরো কঠিন, আরো তিক্ত এবং সঙ্ঘাতপূর্ণ হবে। অথচ সরকার গ্রুপ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের কথা ভাবতে পারছে না। আমাদের রাজনীতি হবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি- সুবিধাশ্রেণীর নয়।

বিশেষ গ্রুপের দ্বারা এবং বিশেষ গ্রুপের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই সরকারের অধীনে সাধারণ জনগণ দুঃখ-দুর্দশার শিকার হয়ে চলছে। জনগণ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে না কিংবা তাদের অভিন্ন সুন্দর জীবনের কথা ভাবতে পারছে না।

বাংলাদেশের যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা সবই তাদের কৃতিত্ব। তাদের দ্বারা যে কী কী অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা অবশ্যই বর্তমানে মিথ্যার নিচে চাপা থাকবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনবিহীন বাংলাদেশ জনগণের আন্দোলনের ফসল হতে পারে না। আমরা নির্মম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে থাকলাম। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জেলে বন্দী রইলেন। ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গেল, আমাদের জনগণের সংগ্রামের নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্যই আর থাকল না। আমরা নিজের দেশে বন্দুকযুদ্ধের বিপ্লবী রাজনীতির দিকে চললাম।

ক্ষমতাসীন দলের লোকদের সাথে সাধারণ মানুষের বিরাট ব্যবধান ও বৈষম্য বিরাজ করছে। পাকিস্তানি আক্রমণের মুখে যারা তাদের নেতাদের নিয়ে দেশ ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছিলেন তারাই এখন বাংলাদেশে একমাত্র খাঁটি বাংলাদেশী। যারা দেশে থেকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে জীবন দিয়েছেন তাদের অবদান অস্বীকার করার মন-মানসিকতা সুস্থ চিন্তা হতে পারে না। অথচ তাই হচ্ছে।

জনগণের যে বিরাট অংশটি অবিশ্বাস ও বঞ্চনার শিকার তারা ক্ষোভে ফুঁসছে কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই ভীতিপ্রদ যে ভয়-ভীতির মধ্যে অসহায়ভাবে নীরব থাকা ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাদের পক্ষে না আছে গণতান্ত্রিক রাজনীতি, না আছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এই ভয়-ভীতির বাঁধন-কষন যখন ভাঙবে তখনই নেমে আসবে দেশব্যাপী মহাসঙ্কট। শুরু হবে নৈরাজ্য। পরিবর্তনের জন্য পুনরায় রক্ত দিতে হবে জনগণকে। বেচাকেনার রাজনীতিকরা নিজেদের প্রাণ রক্ষার জন্য শ্রীলঙ্কার দিকে তাকাতে হবে। শ্রীলঙ্কা সরকারের সাথে জড়িত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও এমপি সবাইকে সে দেশের জাগ্রত জনগণ খুঁজে বেড়াচ্ছে। সরকারকে পালাতে হয়েছে বিভিন্নভাবে।

আমাদের শিক্ষিতজনদের মধ্যে উদাসীনতা দেখে মনে হবে সমাজের উপরিভাগের সবকিছু নীরব ও শান্ত। সবাই মিলে শান্তিতে থাকার জন্য কিংবা জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য যুক্তিপূর্ণ কোনো পথ খুঁজে দেখার ব্যাপারে সম্মিলিত মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন গ্রুপ বিশেষের কথা হচ্ছে, যেভাবেই হোক তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, সরকার তাদের এবং ক্ষমতায় থাকার একচেটিয়া অধিকার তাদেরই রয়েছে। তারাই দেশে স্বাধীনতা এনেছেন। তারা এটাও দাবি করেন যে, তারা ‘স্বাধীনতা’ এনেছেন তাই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব পালনে তারাই উপযুক্ত। গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের সব সঙ্কটের মূল।

অস্বীকার করি না, বঙ্গবন্ধু আজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছেন। তিনি প্রায়ই বলতেন আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। তিনি চেয়েছেন জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হলো। বঙ্গবন্ধু বিপ্লবী রাজনীতিক হয়ে গেলেন। আমরা সব অধিকার হারালাম। আমাদের শিক্ষিত লোকেরাও প্রতিবাদ করলেন না।

ভারতে অবস্থানকালে নেতাদের অনেকেই সাহস হারিয়ে ফেলেন। ক্ষমতায় থাকার নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হলো। গুপ্ত হত্যার বাহিনী পর্যন্ত হলো। নির্বাচনে জনসমর্থন লাভের বিষয়টা প্রহসনে পরিণত হয়। সরকারকে আর জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এভাবে এমন এক পদ্ধতি টিকে যায়, যাকে নির্ভর করতে হয় দমন-পীড়ন আর ভয়-আতঙ্কের ওপর এবং যেখানে জনগণের ভোটের ওপর নয়। তাদেরকে আতঙ্কের মধ্যে রেখে গ্রুপ বিশেষের স্বার্থরক্ষার অভ্যন্তরীণ বিপদ থেকে রক্ষা পাবার পথ দেখানোর মতো লোক সরকারের আশপাশে নেই। গায়ে একটা গণতন্ত্রের আবরণ দেয়ার জন্য নির্বাচনী ধাপ্পাবাজির আশ্রয় নিতে হয়।

দেশ এখন দীর্ঘ দিনের আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির শেষ পর্যায়ে। সরকারের সাথে সম্পৃক্ত লোকদের কারসাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে, অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কিন্তু সরকার কোনো প্রণোদনা দিতে পারছে না। দেশব্যাপী জমি দখলসহ সব অপকর্মের সাথে সরকারি রাজনীতিক ব্যবসায়ী লোকদেরই তৎপরতা বেশি। শুধু যে মন্ত্রী-মিনিস্টাররাই ক্ষমতার দাপট দেখান তা নয়, তাদের আত্মীয়-স্বজনরাও কম নয়। জনৈক মন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় একজন সরকারি কর্মচারীকেও সাসপেন্ড হতে হয় দায়িত্ব পালনে তার সততার জন্য। অন্যায় ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সরকারের তেমন কোনো উদ্বেগ নেই, কারণ তাদের বসবাস এমন এক স্বর্গলোকে যেখানে তারা আইনের ঊর্ধ্বে, জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। কেউ যে তাদের সঠিক করণীয় কী তা তুলে ধরবেন এমন লোকও তাদের আশপাশে নেই।

সরকার জনগণের কাছ থেকে সর্বস্ব নিচ্ছে তারপরও রাজস্ব বোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে আরো আদায় বাড়াতে। ব্যাপারটা এরকম যে, যাদের কিছুই নেই তাদেরই সবকিছু দিতে হবে। জনগণ যে আর্থিক কষ্টে আছে সে সম্পর্কে সরকার উদাসীন। জনবিচ্ছিন্ন না হলে সরকার জনগণের দুর্ভোগ ও হয়রানি সম্পর্কে অনেকটা অবহিত থাকত।

মানুষের দুর্দশা ও আর্থিক অনটনের মধ্যেও লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না। একজন আওয়ামী লীগ নেতার মুখে এখন এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ করে অনেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এখন তিনি তাদের খুঁজে বের করবেন।

অবৈধ পন্থায় জনগণের অর্থ আদায় করে তাদের মধ্যে যে কতজনে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তার কোনো খবরই যে জনগণ রাখে না তা নয়। এই অবৈধ অর্থ দেশের কোনো উপকারে আসছে না। বিভিন্ন দেশে তারা এই অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন এই আশায় যে, ভবিষ্যতে বিপদে-আপদে দেশের বাইরে তারা বিলাসী জীবনযাপন করতে পারবেন। এই স্বপ্ন অনেকের জন্য দুঃস্বপ্ন হতে পারে এবং সবকিছু হারিয়ে বিদেশী কারাগারে জীবন কাটাতেও হতে পারে। কিন্তু টাকার লোভ এত বেশি যে নিজেদের নিরাপত্তা যে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত এটাও ভাবার সময় পাচ্ছেন না। সম্প্রতি ভারতে পি কে হালদারের গ্রেফতারের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি এবং তার লোকজন মিলে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। নিজের নাম পরিবর্তন করে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন লুকিয়ে ছিলেন। কানাডায় তার বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। ব্যাংক লুটপাটই তো ছিল সরকার সমর্থকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

বর্তমানে চারিদিকে অস্থিরতা দেখে সরকারেরও কিছুটা দুশ্চিন্তা তো হবারই কথা। অর্থনৈতিক অব্যবস্থার কারণে শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া ঘোষিত হয়েছে। গণবিক্ষোভের ফলে প্রেসিডেন্ট ছাড়া হঠাৎ করে সরকারের বাকি সবাইকে বিদায় নিতে হয়েছে। পরিবারতন্ত্রও আর্থিক অব্যবস্থাপনার জন্য অনেকটা দায়ী। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাসা-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। জীবন নিয়ে বাঁচাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের সাথে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির তুলনা করে দেখার সময় এখনই এসেছে কিনা তা বলা যায় না। তবে দুর্নীতির ক্ষিপ্রতা এবং সরকারি অব্যবস্থাপনা থেকে রক্ষা না পেলে আমরাও যে সঙ্কটে পড়ব তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজেদের জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য কোনো পথ দেখাবেন এমন নির্ভরযোগ্য লোকজনও সরকারের আশপাশে দেখা যাচ্ছে না। সবই নির্ভর করছে আমলা সাহেবদের বুদ্ধিমত্তার ওপর। আর বিরোধীদলগুলো আঁতাতের নির্বাচনের ফলে লাভবান হচ্ছে।

এক দিকে নিজেদের টাকা সরকারের সহযোগিতায় বিদেশে চলে যাচ্ছে। অপর দিকে আশা করা হচ্ছে বিদেশী বিনোয়োগ দেশে আসবে। বিদেশী বিনিয়োগ আনার জন্য সরকার বিদেশী সংবাদপত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। সরকারি পক্ষের লোক নয় এমন লোকদের পক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই তারা কাদের ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগকারী হবেন? যারা ‘নতুন’ তাদের জন্য সরকারের সহযোগিতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, তাদেরকে তারা নিজেদের লোক হিসেবে ভাবতে পারছে না। তাদের দলীয় লোক কিংবা আজ্ঞাবহ না হলে নানা যুক্তি দেখিয়ে বিনিয়োগের জন্য ঋণের আবেদন প্রত্যাখ্যাত করছেন। জমির দলিল যতই যথাযথভবে নিবন্ধিত করা হোক না কেন এবং এ বিষয়ে কোনো আপত্তি না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক তা সন্তোষজনক বলে গ্রহণ করছে না। কিন্তু যদি তিনি তাদের কেউ হন এবং একটা সঠিক জায়গা থেকে টেলিফোন কল আসে, তখন ঋণ পেতে আর বেগ পেতে হয় না। তখন আর কোনো সিকিউরিটির দরকার হয় না। ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা কোনো ডকুমেন্টও লাগে না। এভাবে সরকারদলীয় লোকদের দ্বারা ব্যাংকসমূহে অভাবনীয় লুটপাট হয়েছে। এখন হাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন দেখে উন্নয়নের রাজনীতি সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। মেগা প্রজেক্টসমূহ গ্রহণের সময় কোনটি প্রয়োজনীয় তা ভাবতে হয়নি। বৈদেশিক ঋণ আর নিজেদের কমিশন ভাগাভাগিই গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের মেগা প্রজেক্টগুলোই সরকারের জন্য মৃত্যুফাঁদ হয়ে দেখা দেবে।

আমাদের অর্থ অবৈধভাবে সংগ্রহ করে অনেক ভাগ্যবান ব্যক্তি বিদেশে বিপুল অর্থের ব্যবসা করছেন। অভিযোগ শোনা যায়, সিঙ্গাপুরের অন্যতম ধনাঢ্য ব্যক্তি একজন বাংলাদেশী। ব্যাংকের বদান্যতায় তার এই উত্থান সম্ভব হয়েছে।

আমরা অবশ্যই অবাধ নির্বাচন চাই, তবে তা আমরা পেতে পারি কেবল বিদেশের প্রত্যক্ষ সহায়তায়। বাংলাদেশে গণতন্ত্র গড়ে তোলার ব্যাপারে আমেরিকার বাইডেন সরকারও মত প্রকাশ করেছেন। কংগ্রেস কিছু বড় কর্মকর্তার ওপর স্যাংশন দিয়েছে। তাই মনে হচ্ছে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। কোনোরূপ সমাধান ছাড়া সরকার যদি নিজেই পড়ে যান সেটা হবে সরকারের বিচার-বুদ্ধিহীনতা। এটা নিশ্চয়ই প্রমাণ করবে আমাদের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার এতই দৈন্যতা যে সরকার পরিচালনার একটি দায়িত্বশীল বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই বর্তমান সরকারকে বিদায় নিতে হয়েছে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ী রাজনীতিকরা এখনো প্রস্তুতি নিচ্ছেন পার্লামেন্টের সিট ভাগাভাগি ও কেনাবেচার নির্বাচনের আশায়। যদিও নির্বাচন এখনো দেড় বছর দূরে।

জাতিকে গোষ্ঠী রাজনীতির ব্যবসার বন্ধন থেকে মুক্ত করতে না পারলে শুধু অবাধ নির্বাচনই দেশকে গণতান্ত্রিক সুশাসন দেবে না।

শেষ কথা হলো, গোষ্ঠীভিত্তিক দুর্নীতির যৌথ রাজনীতির অবসান না হলে দুর্নীতিমুক্ত জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো আশাই নেই। এজন্য নিঃস্বার্থ রাজনীতিকদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সামনের কাতারে এসে দাঁড়াতে পারে। জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে বিত্তশালী হওয়ার অশুভ আকাক্সক্ষার অবসান হতে হবে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কমিউনিস্ট শাসনের নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করার পর, মুক্তবিশ^কে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে হবে যাতে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। ইউক্রেনের নাগরিকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং লাখ লাখ মানুষকে জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করতে দেখার পর ডিক্টেটরশিপের ব্যাপারে স্বপ্নভঙ্গ হবার কথা। ডিক্টেটরি শাসন কতটা ধ্বংসাত্মক এবং অমানবিক হতে পারে তা দেখার পর গোটা বিশ্ব আজ বিস্মিত এবং লজ্জিত। নিরাপদে আইনের শাসনে বাঁচতে হলে গ্রুপ স্বার্থ রক্ষার নির্বাচনী ব্যবসা বন্ধ হতেই হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে সবার জন্য ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আগেই ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিপরায়ণদের বিদায়ের ব্যবস্থা হলে সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো। এক গ্রুপ ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদের পরিবর্তে অপর এক গ্রুপ ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদকে ক্ষমতায় আনার ‘অবাধ’ নির্বাচন চাই না।

লেখক : সিনিয়র আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


আরো সংবাদ


premium cement