০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

ইভিএমে ভোট কেন নয়


একটি দেশের মানুষ কী পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে তা দেশটির আইন দিয়ে নির্ধারিত। বিশ্ব সংস্থা জাতিসঙ্ঘের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর ৯০ শতাংশের অধিক দেশে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এ পদ্ধতিতে পোলিং অফিসার একজন ভোটারের নাম-ঠিকানা যাচাইপূর্বক তাকে ব্যালট পেপার দেন তার পর তিনি গোপন কক্ষে (বুথ) গিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মেরে তা পোলিং অফিসারের সম্মুখে রক্ষিত ভোটবাক্সের মধ্যে ফেলেন। পৃথিবীর অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে যান্ত্রিক ভোট প্রদান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। এ পদ্ধতিতে যে যন্ত্রের মাধ্যমে ভোট প্রদান করা হয় সেটিকে বলা হয় ইভিএম (ইলেট্রনিক ভোটিং মেশিন)। অনেক উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট প্রদান চালু পরবর্তী এটি কারচুপি প্রতিরোধক নয় এমন অভিযোগে আবার তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

জার্মানির ফেডারেল কোর্ট ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোট প্রদানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে সে দেশে এ যান্ত্রিক পদ্ধতির ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে। ইউরোপীয় রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ডে ইভিএম পদ্ধতির ছিল কিন্তু কারচুপি প্রতিরোধক না হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে দেশটি আজ হতে দুই দশকেরও অধিক সময় পূর্বে এ ব্যবস্থাটি হতে সরে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩তম প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশের চেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোর পপুলার ভোট বেশি পেয়েছিলেন। সে নির্বাচনে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ উঠলে তা দেশটির ফেডারেল কোর্টে গড়ায়। সে সময় ফেডারেল কোর্টে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য থাকায় শেষ অবধি বুশ রক্ষা পায়। য্ক্তুরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ বিষয়ে ড. অ্যালেক্স হালডারম্যান নামক এক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। তার গবেষণায় উঠে আসে য্ক্তুরাষ্ট্রে ইভিএম কারচুপি প্রতিরোধক নয়। এরপর থেকে সে অঙ্গরাজ্যে ইভিএম প্রথা রহিত করা হয়। অতঃপর আরো ২২টি অঙ্গরাজ্যে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং দেশটির জনমতের বর্তমান অবস্থানের আলোকে ধারণা করা হয় ধীরে ধীরে সব অঙ্গরাজ্যেই ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ নিষিদ্ধ হবে।

আমাদের পাশের দেশ ভারত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। দেশটিতে ফেডারেল পদ্ধতির শাসন কাঠামো বিদ্যমান। দেশটির কেন্দ্রীয় সংসদকে বলা হয় লোকসভা। সে দেশের লোকসভা নির্বাচন মাসব্যাপী চলে। ভারতের লোকসভা ও বিধান সভা (প্রাদেশিক পরিষদ) উভয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। ভারতের রাজধানী দিল্লি ও এর পাশের অঞ্চল সমন্বয়ে একটি প্রাদেশিক পরিষদের মর্যাদাসম্পন্ন পরিষদ রয়েছে। এ পরিষদটিতে বর্তমানে আম আদমি নামক একটি দল ক্ষমতাসীন রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লি পার্লামেন্টের সভায় একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সদস্য ইভিএম এ কিভাবে ভোট কারচুপি হয় তার বিশদ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদান করলে তা সম্পূর্ণ ভারতব্যাপী বিপুল বিতর্কের জন্ম দেয়। এ বিতর্কটি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে দেশটির আগামী লোকসভা ও প্রাদেশিক বিধান সভা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বহাল রাখা যাবে কি না তা নিয়ে অশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

আমাদের বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ পদ্ধতি নিয়ে যে আইনটিতে বিশদ বিবরণ রয়েছে সেটিকে বলা হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২। এ আইনটিতে সংশোধনী পূর্ববর্তী উল্লেখ ছিল একজন ভোটার ব্যালট পেপারে গোপনীয়তার সাথে সিল মেরে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আইনটিতে সংশোধন-পরবর্তী প্রবর্তিত বিধানে বলা হয় একজন ভোটার ব্যালট পেপার অথবা ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণে কী পদ্ধতি অনুসৃত হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার এককভাবে নির্বাচন কমিশনের। আগের নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বিষয়েও আলোচনা করে। আলোচনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দলটির জোটভুক্ত অপর কতিপয় দল ইভিএমের স্বপক্ষে মতামত ব্যক্ত করলেও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দেয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে মতামত দেয়ার কারণে মতবিনিময় শেষ হওয়া পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের পক্ষ হতে বলা হয় ইভিএমে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জনমতকে প্রাধান্য দেবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে কমিশনের একটি সভা আহবানের মধ্য দিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনীরপ্রস্তাব অনুমোদনকরত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের আইনি বিধান প্রণয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। জনৈক নির্বাচন কমিশনার কমিশনের ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী না হওয়ায় এবং জন-আকাক্সক্ষার পরিপন্থী হওয়ায় এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।

যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনে সংশোধনীর ক্ষেত্রে জনমত যাচাই অত্যন্ত জরুরি। জনমত যাচাই ব্যতিরেকে পৃথিবীর উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলোয় কখনো নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধনা করা হয় না। আমাদের দেশের জনমত ইভিএমের স্বপক্ষে নাকি বিপক্ষে তা পূর্ববর্তী নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিনিময়কালীন নিরূপণ সম্ভব হয়েছে। তা ছাড়া বর্তমানে এ বিষয়ে যে কোনো পন্থায় জনমত যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হলে জনমতের পাল্লা যে ইভিএমের বিপক্ষে হবে সে প্রশ্নে কোনো সংশয় নেই।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের আগেই কমিশনের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে একাদশ জাতীয় সংসদের এক শ’ নির্বাচনী আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার ইভিএম ক্রয়ে প্রকল্পের অর্থায়নে তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকার চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রতিটি ইভিএম ক্রয়ে খরচ দেখানো হয় দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা। অথচ আগে ক্রয়কৃত ৩৮০টি ইভিএম প্রতিটি ক্রয়ে নির্বাচন কমিশনের ১০ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন ইভিএম ক্রয়ের জন্য যে তিন হাজার ৮০০ কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছে জনগণ প্রদত্ত করের অর্থ হতে এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে। জনগণ প্রদত্ত করের অর্থের যেকোনো ব্যয়ের স্বচ্ছতা থাকা অপরিহার্য। পূর্বের ও পরবর্তী ইভিএম ক্রয়ে ব্যয়ের যে ফারাক এটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও এখনো উন্নয়নশীল দেশের পর্যায় পৌঁছাতে অনেক পথ বাকি। বাংলাদেশে এ যাবৎকাল পর্যন্ত যে পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে তা ক্ষমতাসীন দলবহির্ভূত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচনকালীন বিরোধী দলগুলো কখনো এটি মেনে নেয়নি। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অধীন অনুষ্ঠিত হলে ব্যালট অথবা ইভিএম যে পদ্ধতিতেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হোক না কেন বিজয় কার ঘরে উঠবে তা এ দেশের সচেতন জনমানুষ আগাম অনুধাবনে সক্ষম। এ কথাটি অনস্বীকার্য যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান ইভিএমের স্বপক্ষে হলেও পরবর্তী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলবহির্ভূত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হলে তারা সে অবস্থান হতে সরে দাঁড়াবেন।

দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেশ ও জনগণের কল্যাণ ও মঙ্গল সাধন। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) নামক বৈশ্বিক গবেষণামূলক সংস্থার প্রকাশিত তথ্য মতে, বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বসবাস অযোগ্য শহর। বসবাস অযোগ্য প্রথম শহরের তালিকায় রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। দামেস্ক যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর না হলে ঢাকার স্থান যে প্রথম হতো তা নির্দ্বিধায় বলা যায়। যেসব কারণে ঢাকা দ্বিতীয় বসবাসের অযোগ্য শহর এর অন্যতম হলো শহরটির যানজট। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় দেখা গেছে যাটজটের কারণে প্রতি বছর ঢাকায় ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা বিনষ্ট হচ্ছে যার আর্থিক মূল্যমান ৩০ হাজার কোটি টাকা।

যে পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে আগের নির্বাচন কমিশন ১০০টি আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নিয়ে ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এর চার ভাগের এক ভাগেরও কম অর্থ ব্যয়ে ঢাকা শহরে ২০টি ইউলুপ নির্মাণ করা হলে নগর পরিকল্পনাবিদদের ধারণা শহরটির যানজটের বহুলাংশে লাঘব ঘটত। স্বভাবতই প্রশ্ন দেখা দেয় আমাদের কাছে ইভিএমে ভোটগ্রহণ জরুরি নাকি ঢাকা শহরের যানজট নিরসন তার চেয়ে জরুরি?

পৃথিবীর প্রতিটি দেশ নিজ দেশের জন-আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দেশের ভালো-মন্দ নিরূপণ করে থাকে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হলে ব্যালটে হাতে গণনার পদ্ধতির চেয়ে চার থেকে ছয় ঘণ্টা আগে ভোটের ফলাফল জানা যায়। ভোটগ্রহণের পদ্ধতি যা-ই হোক না কেন দেশবাসী নিশ্চিত হতে চায় ভোট প্রদানে ও গণনায় যেন কোনো ধরনের কারচুপি না হয়। ভোটগ্রহণের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট এবং নেপথ্যে থেকে তাদের যারা নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা না থাকলে ভোটগ্রহণ পদ্ধতি ব্যালট নাকি ইভিএমে প্রশ্নটি অবান্তর।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ইভিএমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে ৩০০টি আসনের প্রতিটির সব ভোটকেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ক্ষমতাসীন দলের এ বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ হতে বলা হয় বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে যে পরিমাণ ইভিএম মজুদ রয়েছে তা দিয়ে অনধিক ১৫০টি আসনের ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে। সব আসনে একই দিন ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হলে বর্তমানে যে সংখ্যক ইভিএম কমিশনে মজুদ রয়েছে এর সমসংখ্যক জরুরি ভিত্তিতে ক্রয় অত্যাবশ্যক। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর জোটভুক্ত দলগুলোর ইভিএমের স্বপক্ষে অবস্থান হলেও অতীতের মতো বিএনপিসহ এর সমমনা দলগুলোর অবস্থান ইভিএমের বিপক্ষে। তা ছাড়া জনমতও ইমিএমের স্বপক্ষে নয়। যুক্তরাজ্য ও ভারতে ইভিএমে ভোট প্রদানের পর একজন ভোটারকে ভিভিপিএটি (ভোটার ভেরিয়েবল পেপার অডিট ট্রেলার) নামক একটি স্লিপ দেয়া হয়, যা ইভিএম থেকে ভোট দেয়ার পর আপনা আপনি বেরিয়ে আসে। ভিভিপিএটি দেখে একজন ভোটার নিশ্চিত হন তার প্রদত্ত ভোট তার পছন্দের প্রতীকে পড়েছে কি না। বর্তমানে আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনের হেফাজতে যেসব ইভিএম রয়েছে এগুলোতে ভিভিপিএটির ব্যবস্থা নেই। ইভিএম বিষয়ে আমাদের দেশের জনমানুষসহ বিশিষ্টজনদের যে নেতিবাচক ধারণা তা সম্প্রতি ডা: জাফরুল্লাহর দেয়া বক্তব্য থেকে জানা যায়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের দেশে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইভিএমে যে প্রতীকেই ভোট দেয়া হোক না কেন ভানুমতির খেলায় দশটি ভোটের সাতটি চলে যাবে ক্ষমতাসীনদের প্রতীক নৌকায়।

ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে হলে ভোটগ্রহণের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট এদের ব্যাপক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচন আজ হতে যে সময়ের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হবে সে সময়ের মধ্যে ইভিএমে ভোটগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষিত করে তোলা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। সুতরাং জনমত যাচাই ব্যতিরেকে কেন ও কী উদ্দেশ্যে জনগণ দেয়া করের অযৌক্তিক অর্থ ব্যয়ে ইভিএমের মাধ্যমে একটি মহলের ভোটগ্রহণের উদ্যোগ এ প্রশ্নটির সুরাহা প্রয়োজন।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com


আরো সংবাদ


premium cement