১১ আগস্ট ২০২২
`

খাদ্যনিরাপত্তা বিধানে উদ্ভাবনক্ষম প্রজনন


(গতকালের পর)
৮. প্রজননে নতুন প্রভাবশালী আণবিক সাধনী
অদূর ভবিষ্যতে নতুন নতুন আণবিক সাধনী ও কলাকৌশল প্রয়োগে এবং নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বনে উদ্ভিদ প্রজননবিদরা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে এবং দক্ষতার সাথে প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলো বাছাই করতে সক্ষম হবেন। অতীতে মূল্যবান বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত ও বাছাইয়ের একমাত্র উপায় ছিল বছরের পর বছর ধরে শস্যক্ষেত্রে প্রজনন। ভবিষ্যতে এর বৃহদাংশ হবে দালানের ভেতরের বৃক্ষণাগার বা রসায়নাগারে। এতে প্রজনন হবে দক্ষ, যথাযথ ও সঠিক। লক্ষ্য হবে অভীষ্ট অর্থাৎ বিশেষ প্রলক্ষণ চিহ্নিত করা কেন্দ্রিক। ক্রিসপার-ক্যাস৯-এর মতো নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে জীবের জিন সম্পাদনার কর্মপ্রক্রিয়া বর্তমানে সহজ হয়ে উঠেছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রলক্ষণ চিত্রিত করা যায়। প্রয়োজনবোধে সেগুলো অতি সহজে বাদ দেয়া যায় বা মুছে ফেলা যায়। অথবা ভালো প্রলক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করে ফসলের উন্নতি করা যায়। নতুন এ প্রযুক্তি বিকিরণ বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ফসলের জিনের জন্মগত প্রলক্ষণ অদল-বদল করে না। বরং বিদ্যমান ক্ষতিকারক জিন চিহ্নিত করে সেগুলো ডিএনএ থেকে অবলোপন বা মুছে ফেলে বা কেটে ফেলে দেয়। তাতে জীবের জন্মগত প্রলক্ষণ বদলে যায়। এ পদ্ধতিতে জীবের ডিএনএ-তে নতুন বৈশিষ্ট্যে সংযোজন না করে নতুন জাতের উদ্ভিদ উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়। তবে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো- নতুন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদগুলোর উদ্ভাবনপদ্ধতি যাই হোক, এসব উদ্ভিদ দেখতে একই। এক গাছ আরেক গাছ থেকে আলাদা নয়। বাহ্যিক দিক থেকে কোনো পার্থক্য বোঝা যাবে না। অর্থাৎ উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া আলাদা হলেও দৈহিকতন্ত্র ও শরীরবৃত্তের দিক থেকে হবে একই।

বিভিন্ন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি অবলম্বনে উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের বৈশিষ্ট্য যাই হোক, এ বৈশিষ্ট্য ভোক্তা ও চাষি, উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত হতে হবে। তা না হলে নতুন উদ্ভাবিত জাত কারো কাজে আসবে না। সে জন্য প্রজননবিদরা এক জাতের ফসলে অন্য জাতের বৈশিষ্ট্য সংমিশ্রিত করে সংযোজন করেন। উদাহরণস্বরূপ- নতুন কোনো উদ্ভাবিত জাতের মাঝে যদি রোগবালাই বা কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধের বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি বিদ্যমান থাকে ও স্বাদে-গন্ধে খুব ভালো, কিন্তু ফলন আশানুরূপ না হয়, তাহলে সেই জাত ভোক্তার পছন্দনীয় হলেও চাষিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। অতএব উচ্চ ফলনের সাথে, নতুন ফসল স্বাদে-গন্ধে ভোক্তাদের চাহিদানুযায়ী হতে হবে। তাহলে সেই জাত উভয়ের কাছে সমাদৃত হবে।

নতুন উদ্ভাবিত একটি পেঁয়াজের জাত যদি উচ্চ ফলনশীল হয় কিন্তু অধিকাংশ কন্দ যদি বিভক্ত হয় বা সেই পেঁয়াজ যদি অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় বেশিদিন সংরক্ষণ করা না যায় তাহলে ওই জাত বাংলাদেশে কৃষকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। অন্যদিকে আবার ওই জাত ঝাঁজে কম হলে বাংলাদেশে ভোক্তাদের কাছে সমাদৃত হবে না। অতএব প্রয়োজনমাফিক বৈশিষ্ট্যগুলো সংমিশ্রণ বা একীভূত করে সেটা ভোক্তা ও চাষি উভয়পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে কৃষিতে যেসব সমস্যার উদ্ভব হচ্ছে, সেগুলো মোকাবেলা করে ভবিষ্যতে খাদ্যসঙ্কটের সমস্যা সমাধানে এবং চাষি ও ভোক্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ফসলের উদ্ভাবনে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। মানুষ তো বটেই, পশুখাদ্যের জোগান দেয়াও এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৯. উদ্ভিদের দৈহিক গঠনতন্ত্র
বেশির ভাগ উদ্ভিদের দৈহিক গঠনতন্ত্রে দু’টি মূল হরমোনাল পদ্ধতি বিদ্যমান; এর একটি হলো ফ্লোরিজেন। এই হরমোন ফুল ফোটা এবং ফুলের আকার, বিকাশ ও লিঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। আরেকটি হলো গিব্বেরেলিন। এই হরমোন গাছের দৈহিক গঠন যেমন- লতা-পাতা-কাণ্ড ও উচ্চতাকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে জিন সম্পাদনার মতো প্রাণপ্রযুক্তি ভিন্ন ভিন্নভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদে প্রয়োগ করে উদ্ভিদের মূল দৈহিক গঠনতন্ত্র পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারে। অতএব উদ্ভিদের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবন, উদঘাটন বা চিহ্নিতকরণ এখন আর অদৃষ্ট বা ভাগ্য নির্ভর নয়।

প্রাণ-প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সাধনী ব্যবহারে দীর্ঘ গুল্মলতা জাতীয় উদ্ভিদকে খর্ব বা অবিকৃত করে উন্নীত করার একটি উদাহরণ আলোচনায় আসতে পারে। চীনা বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গুল্মজাতীয় তুলাগাছ (যেগুলো দক্ষিণ চীনের জলবায়ুর জন্য বেশ উপযোগী), প্রাণ-প্রযুক্তির নতুন সাধনী ব্যবহার করে অনেকটা খর্ব (বামন) অথচ অবিকৃত রেখে আঁটসাঁট করেছেন। এ তুলাগাছ দ্রুত বর্ধনশীল। এগুলোতে তাড়াতাড়ি ফুল আসে এবং পরিপক্ব হয়। এ খর্বকার তুলার জাত উত্তর চীনে বেশ উপযোগী। কারণ ওই এলাকা শীতপ্রধান। দিন ছোট ও গরমকাল কম। একই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ধানগাছও খর্ব করা যায়। তাতে ঝড়-তুফানে ধানগাছ নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। একই প্রক্রিয়ায় এ প্রযুক্তি অন্যান্য উদ্ভিদে (ফসলে) প্রয়োগ করে একই সুফল আসতে পারে।

বিভিন্ন উদ্ভিদের দৈহিকতন্ত্রে ফাইলোজেনিক (জাতিগত) পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেখা যায় যে জাত ভিন্ন হলেও একই প্রযুক্তি একইভাবে প্রয়োগ করে উদ্ভিদের দৈহিকতন্ত্রে একই পরিবর্তন আনা যায়। অর্থাৎ পাতা তৈরি থেকে শুরু করে গাছের বিকাশ, ফুল ফোটা, ফল ধরা ও পরিপক্ব হওয়ার সময়কালে, এসব কিছুর পরিবর্তন করা যায়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্ভিদের জাতি বা প্রজাতি যাই হোক, এগুলোর দৈহিক তন্ত্রের মূল কার্যক্রমের প্রক্রিয়া একইভাবে পরিচালিত এবং উদ্ভিদের স্বাভাবিক ক্রিয়াকর্ম, ধর্ম ও চরিত্রের প্রলক্ষণ একই। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে বিজ্ঞানী ও প্রজননবিদরা আজকাল উদ্ভিদের মাঝে ফ্লোরিজেনের পরিব্যাপ্তি বা পরিবর্তন করে ফুল ফোটা, ফুলের বিকাশ এবং ফুলের লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করে দিতে পারেন।

এসব প্রযুক্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে উদ্ভিদের দৈহিকতন্ত্রের মূল ব্যবস্থাতে, যেমন গিব্বেরেলিন, ফ্লোরিজেন বা উভয় প্রক্রিয়াকে পরিব্যাপ্তির মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেয়া হলে উদ্ভিদের মাঝে এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্য দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব বৈশিষ্ট্য উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে পারে। যেমন- গোটায় গোটায় ফুল-ফল ধরা, ফলের রঙ বদলে দেয়া, ফলের আকার ছোট বা বড় করা, স্বাদে-গন্ধে উন্নত করা, ফুল-ফল ধরা ও পরিপক্বতাতে সময় কমানো ইত্যাদি। প্রজননবিদরা এসব উন্নত চরিত্রের নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো প্রথমে চিহ্নিত এবং পরে অন্য প্রজাতির সাথে বারবার শঙ্করায়ন করে এবং নতুন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জাতের উদ্ভিদ উদ্ভাবন করতেন সক্ষম। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণে উদ্ভাবিত নতুন জাত একদিকে যেমন ভোক্তার কাছে হবে সমাদৃত, আবার চাষিদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পায়। এভাবে নতুন জাতের উদ্ভাবনে আট থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়।

১০. কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষণা ও উন্নয়ন
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কৃষি উন্নয়নের গতিমাত্রা পর্যালোচনা করলে সহজেই অনুমেয়, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর একমাত্র উপায়। সেই সাথে কৃষিপণ্যে উৎপাদনে আধুনিক পদ্ধতি ও জ্ঞানার্জনে চাষিদের সহায়তা, উন্নত উপাদান ও উপকরণের সহজলভ্যতা এবং কৃষির প্রসার ও সম্প্রসারণে তৎপরতা বৃদ্ধি করা। বিভিন্ন বিদেশী সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করলে, বিনিয়োজিত মূলধন থেকে, অন্য যেকোনো বিকল্প বিনিয়োগের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি আয় করা যায়। তবে কৃষি গবেষণা খাতে বিনিয়োজিত মূলধন থেকে লাভ পেতে দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করতে হয়। জিডিপির অংশ হিসেবে, কৃষি খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় উন্নত দেশগুলোতে ছয়গুণ বেশি এবং বিজ্ঞানীদের সংখ্যা ৫০ গুণ বেশি। অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা খাতে বিনিয়োগ আরো কম।

২০০০ সালে বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা খাতে সরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের ০.৪৩ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ০.৩৮ শতাংশ। ২০০০ সালে লাখো কৃষকপ্রতি কৃষি গবেষক ছিলেন পাঁচজন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। সহজেই বোঝা যায়, বিনিয়োগের পরিমাণ ও গবেষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম। উদাহরণস্বরূপ ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চীন ও ব্রাজিল নিজ নিজ দেশে কৃষি গবেষণাতে বিনিয়োগ দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সাথে বেসরকারি খাত কর্তৃক কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে আইন-কানুন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করেছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে ব্রাজিলে কৃষি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে ১৭৬ শতাংশ এবং চীনে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে ১৩৬ শতাংশ। ভারতও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, কিন্তু চীন বা ব্রাজিলের চেয়ে অনেক কম। তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে অনেক পিছিয়ে আছে। ফলে মোট কৃষি উৎপাদন বাড়লেও উৎপানশীলতা অধিক হারে বাড়েনি। সাধারণ নিয়মে দেশ যত অনুন্নত জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ততই বেশি। অতঃপর অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে শিল্প ও সেবা খাতে অবদান বাড়ে এবং কৃষি খাতের অবদান কমতে থাকে। ২০০৮ সালে অনুন্নত দেশগুলোতে কৃষি খাতের গড় অবদান ছিল মোট জিডিপির ২৯ শতাংশ, মধ্য আয়ের দেশে গড়ে ১০ শতাংশ এবং উন্নত দেশগুলোতে মাত্র ১ শতাংশ। এক কথায় দেশ যত উন্নত হবে ততই মোট কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তবে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমতে থাকবে। কৃষি খাতের অবদান যতই কমুক বাড়তি জনসংখ্যার জন্য খাদ্যের জোগান দিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। তা ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিশেষ করে সমাজে অন্তর্ভুক্তিকরণ উন্নয়নের মাধ্যমে দরিদ্রতা কমিয়ে গরিব মানুষের আয়-উপার্জন বাড়াতে হলে এবং জীবনমান উন্নয়ন করতে হলে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এসবের সারাংশ হলো- কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হলে গবেষণা ও উন্নয়নে মনোযোগ ও বিনিয়োগ অপরিহার্য। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। তবে বেসরকারি বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধ করতে হলে বর্তমানে বিদ্যমান নীতিগত ত্রুটি ও প্রতিবন্ধকতাগুলো অনতিবিলম্বে সংশোধন করতে হবে। তা না হলে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা, কোনোটাই বাড়বে না। ফলে কোটি কোটি জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে যাবে। এমনকি এ সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলোর বিপরীতমুখী ও সাংঘর্ষিক অবস্থান এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা একত্রে এনে পর্যালোচনা করা হলে, নিঃসন্দেহে অনুমেয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে দরিদ্রতার হার হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে ক্রমাগত বৃদ্ধির আশঙ্কা বেড়ে যাবে।

১১. কৃষি খাতে বিনিয়োগ
চাষিরা যেন তাদের চাহিদামতো উচ্চ ফলনশীল এবং উন্নতমান ও জাতের বীজ সহজে পান তা নিশ্চিত করা অতি আবশ্যক। সে জন্য সাধারণ কর্মবিধি অনুযায়ী দেশে ব্যবহৃত বীজের মোট বাজারমূল্যের ১৫ শতাংশ গবেষণা খাতে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে কৃষি খাতে বিনিয়োগের হার অনেক বেশি। এ মাত্রার বিনিয়োগ বেসরকারি খাতের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সরকারের সহায়তা অপরিহার্য। অন্যান্য দেশে তাই করা হয়। দুর্ভাগ্যক্রমে, বর্তমানে বাংলাদেশের বীজ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়নসহায়ক নীতি-কৌশল কার্যত অনুপস্থিত। উৎপাদনশীলতা, ফলন বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জরুরি ভিত্তিতে বীজ খাতের উন্নয়নে অনেক বেশি মাত্রায় বিনিয়োগ আবশ্যক। সে জন্য বেসরকারি খাত সহায়ক নীতি-কৌশল গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় অনিবার্যভাবে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি উপাদান ও উপকরণের মান বাড়বে না। তাতে অপার সম্ভাবনার সুযোগ হাতছাড়া হবে। এতে খাদ্যসঙ্কট বাড়বে। খাদ্য সরবরাহে দেশ বিদেশনির্ভর হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা নিশ্চিত, সরকারের বর্তমান নীতি-কৌশল বেসরকারি খাতে গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের জন্য অকার্যকর ও অপ্রচলিত। তাই চাষিদের কাছে মানসম্পন্ন বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহজলভ্য করতে এ মুহূর্তে প্রয়োজন- বীজ খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা এবং কৃষি খাতের সব অংশীজনদের মাঝে একটা বোঝাপড়া ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। অন্যথায়, কৃষকরা টেকসইভাবে খাদ্য উৎপাদনে পছন্দসই উপকরণ, উপাদান ও সমাধান খুঁজে পাবেন না।

১২. নতুন জাত উদ্ভাবনে সময় এবং ব্যয়
বিশ্বব্যাপী বীজ কোম্পানি, কৃষিবিজ্ঞানী ও উদ্ভিদ প্রজননবিদরা নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বীজ খাত এক অনন্য খাত। খাদ্যসঙ্কট মেটানো ও খাদ্যাভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিনিয়ত ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তাই বীজ খাতের আবশ্যকীয়তা ও গুরুত্ব প্রমাণ করে। প্রতিটি নতুন জাতের উদ্ভাবনে সময় লাগে আট থেকে ১১ বছর। বিভিন্ন ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনে বছরের পর বছর একই সাথে গবেষণার ফলে একটি ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনে আলাদা করে ব্যয় নির্ধারণ করা কঠিন। তবে কেউ হিসাব দেখিয়ে বলেছেন, মার্কিন বীজ কোম্পানিগুলো উচ্চ ফলনশীল (যেমন- ভুট্টা ও সয়াবিন) ফসলের প্রতিটি নতুন জাতের উদ্ভাবনে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে। নতুন জাতের উদ্ভাবন ব্যয়বহুল বিধায়, বীজ কোম্পানিগুলো ওইসব ফসলের নতুন জাত উদ্ভাবনে বেশি বিনিয়োগ করে, যেগুলোর চাষাবাদ বেশি করা হয়। বাজারজাতকরণে তেমন সমস্যা হয় না। তাতে বিনিয়োগ তাড়াতাড়ি উঠে আসে। বর্তমানে নতুন আণবিক সাধনী প্রয়োগ করে নতুন জাত উদ্ভাবনে সময় এবং ব্যয় কমলেও এসব প্রযুক্তি মানব ও আর্থিক মূলধনের দিক থেকে বেশ ব্যয়বহুল।

১৩. ধান বনাম অন্যান্য খাদ্যপণ্য
বাংলাদেশ সরকারের কৃষিনীতি সবসময় ধানের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। অতীতে (১৯৬০-৭০-এর দশকে) এ নীতি হয়তো যথার্থ ছিল। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে মধ্যবিত্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও শিল্পায়ন এবং শিক্ষিতের হার বেড়ে যাওয়ার সাথে তাল মিলিয়ে জনগণের খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের। অতঃপর শুধু ধান নয়, বরং খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহের লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের যেমন নতুন জাত উদ্ভাবন সম্ভব, তেমনি পশুসম্পদের উন্নয়নও সম্ভব। তবে উদ্ভিদ হোক বা পশু, নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রয়োজন ধারাবাহিকভাবে বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিনিয়োগ।

কৃষি খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বাড়লে, ধারাবাহিকভাবে কৃষি খাতে কর্মরত জনসংখ্যার আয়, উপার্জন ও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। দারিদ্র্য দ্রুত হ্র্রাস পাবে ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি সরবরাহে উন্নতি হবে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, কৃষি উৎপাদনে বিরল প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লেখার উদ্দেশ্য কেবল ফসলের জাত উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো তাই পশুসম্পদের উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা নিয়ে এ নিবন্ধে লেখার প্রয়োজন নেই।

১৪. জলবায়ুর পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মূল সমস্যা- হঠাৎ করে অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত ও বন্যা, মাঝে মাঝেই উচ্চ অথবা নি¤œমাত্রার তাপ ও খরা, হঠাৎ করে অতিমাত্রায় তুষারপাত, হিমবাহ গলে যাওয়া, নদীভাঙন, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি। এ ছাড়া দিন দিন আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া, মাটির উর্বরতার অবনতি, ভূ-গর্ভস্থ জলাধারে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, জলস্তরের পানিতে রাসায়নিক দূষণ ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি প্রভৃতি। কালক্ষেপণ না করে এসব সমস্যার বাস্তবভিত্তিক মোকাবেলা জরুরি।

জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে ফসলের ফলন কমে যাবে ৩-১০ শতাংশ। এ বার্তা সব দেশের জন্য ও সর্বত্র প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত সমস্যা হলো নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও নদীভাঙনের ফলে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া ও ভূমির উর্বরতা হ্রাস। আর্কটিক অঞ্চলের হিমবাহ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। তাতে উপকূলের কিয়দাংশ লবণাক্ত পানিতে নিমজ্জিত হওয়া ও উত্তরে মূল ভূমির দিকে লবণাক্ততার আগ্রাসন বৃদ্ধি পাবে। এসবের নেতিবাচক প্রভাবে বাংলাদেশে কৃষি খাতে যেমন উৎপাদনশীলতা কমে যাবে, তেমনি খাদ্যশস্য উৎপাদনেও টান পড়বে। অন্য যেকোনো দেশের থেকে বাংলাদেশের জন্য এ সমস্যাগুলো অনেক বেশি সত্য এবং প্রযোজ্য। এসব সমস্যা মোকাবেলায় কালক্ষেপণ না করে এখনই নীতি-কৌশল নির্ধারণ করে কর্মপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে।

১৫. ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তা
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা মজবুত করা নীতিগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জন্য উন্নত বৈশিষ্ট্যের নতুন উদ্ভিদের জাত উদ্ভাবন অত্যাবশ্যক। এসব ফসলের জাত হতে হবে; কীট-পতঙ্গ ও রোগ-বালাই প্রতিরোধে সক্ষম। অথবা এসবের প্রতিকারে উপকরণের ব্যবহার করতে হবে কম; জৈব-অজৈব পীড়নের সহ্যশক্তি থাকতে হবে বেশি; জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও ফলন বৃদ্ধি পাবে; একই সাথে কম জমি, পানি, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে বেশি ফলন পাবে। যেমন ফলন বেশি ছাড়াও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পেঁয়াজের আরো কয়েকটি বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় (সাধারণভাবে) দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ, ঝাঁজের তীব্রতা, অখণ্ড ও নিñিদ্র কন্দ এবং কন্দে পানির পরিমাণে স্বল্পতা। আধুনিক প্রজনন সাধনী ও কলাকৌশল, উপরোক্ত সব বৈশিষ্ট্যকে একত্রে সংযোজন করে নতুন পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবনে সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। যেমন রোপণ থেকে ফসল সংগ্রহের সময়সীমা কমানো, ঝাঁজের মাত্রা কমানো বা বাড়ানো, আঁটসাঁট ও অখণ্ড কন্দ, এসবই এখন প্রজননবিদদের হাতের মুঠোয়। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য কেবল পেঁয়াজের বেলায় নয়, বরং অনেক খাদ্যপণ্যের বেলায় প্রযোজ্য। পেঁপের কথাও টেনে আনা যেতে পারে। বাংলাদেশে ভোক্তারা পেঁপের ভেতরে লাল মাংসল ও অধিক মিষ্টি পছন্দ করেন। এই দুই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী পেঁপের কোনো জাত বাংলাদেশে নেই। প্রজননের আণবিক সাধনী ও কলাকৌশলগুলো ব্যবহার করে এ দু’টি বৈশিষ্ট্য একত্রে উন্নত করা এখন সহজ হয়েছে।

১৬. ভূমি সংস্কার ও কৃষি উৎপাদনশীলতা
অনেকের মতে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথে মূল প্রতিবন্ধকতা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াও ক্রমবর্ধমান ভূমিহীনের সংখ্যা, জমির মালিকানার ধরন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষাবাদ ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রান্তিক চাষিদের জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি। অনেকে মনে করেন, সামাজিক কাঠামো ও আমাদের ধর্মের বিধান অনুযায়ী জমিজমার ভাগ ইত্যাদি সংস্কার করে ভূমি ও শ্রম, কৃষি উৎপাদনের দু’টি মূল উপাদান যদি জোতদার ও বাণিজ্যিক কৃষির দিকে ঠেলে দেয়া যায় তাহলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। আমাদের বিশ্বাস, ভূমি সংস্কার করে বাণিজ্যিক চাষাবাদের দিকে জোর দিলেও বাংলাদেশে আপাতত উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যাবে না। সুতরাং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সহজ পথ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত প্রলক্ষণ বৈশিষ্ট্য ফসলের নতুন জাতের উদ্ভাবন। যেসব ফসল দেশের প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদনশীলতা ও আয়-উপার্জন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ফসলের প্রজনন ও বীজ খাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ সরকারি সহায়তা। কারণ উন্নত জাতের ফসল উদ্ভাবন করে ফলন বাড়াতে হলে প্রথমে প্রয়োজন উন্নতমানের বীজ। যে বীজে ফলন হবে বেশি, আর ফসল হবে স্বাদে-গন্ধে-ঝাঁজে ভোক্তার পছন্দনীয়। এটি কেবল সম্ভব বহুমুখী ও বহুমাত্রিক কৃষি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে।

১৭. গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য
এটা বিশেষভাবে সত্য, গ্রামাঞ্চলে কৃষি বহির্ভূত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও সেটাকে স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য। উপরন্তু বাংলাদেশে কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এক মৌলিক সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান নিঃসন্দেহে জাতির জন্য এক জরুরি বিষয়। খাদ্যসঙ্কট মোকাবেলা ছাড়াও দেশের ৪৫-৫০ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ এখনো কৃষি খাতে সরাসরি কর্মরত। আরো ১৫-২০ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ সরাসরি কৃষি খাতে জড়িত না থাকলেও ওইসব কৃষিবহির্ভূত খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি খাত-নির্ভর। কৃষি খাতের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সাথে তাদের ভাগ্য সরাসরি জড়িত। কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে এসব কর্মজীবী মানুষের আয়-উপার্জন বাড়বে ও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। সেই সাথে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠবে।

অতীতে বাংলাদেশে কৃষি খাতের বর্ধিত উৎপাদনশীলতা কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি দিয়েছে। এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের হার স্থবির হয়ে গেছে। অতএব উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কৃষি খাতে উৎপাদনশীলতা ও মোট উৎপাদন বাড়লেও দারিদ্র্য হ্রাসের হার তেমন কমছে না। যদিও সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে- সার্বিক দারিদ্র্যের হার ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। আর অতি দারিদ্র্যের হার নেমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে। দরিদ্রতা নির্ণয়ের কৌশল নিয়ে এখানো তর্ক-বিতর্ক চলছে। তবে এসব বিতর্কের মধ্যে আরেকটি মর্মভেদী বার্তা হলো- দারিদ্র্য কমলেও পুষ্টিহীনতার হার তেমন কমছে না। (চলবে)

লেখক : এমএসসি, কৃষি অর্থনীতিবিদ
প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশন এবং সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই


আরো সংবাদ


premium cement