১১ আগস্ট ২০২২
`

বেকনের ভিত্তিহীন কথা যেভাবে সত্য হতে পারে

-

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, “If the Mountain won't go to Mohammed, then Mohammed must come to the Mountain.” ইংরেজরা এর অর্থ বোঝে এভাবে : কোনো কিছু যদি বাস্তবিকই অসম্ভব হয় তাহলে সেটা সহজভাবে নাও এবং সেই বিবেচনায় নিজের করণীয় ঠিক করো। পর্বতকে ডাকলেও সে কখনো তোমার কাছে আসবে না, বাস্তবে সেটা অসম্ভব। তাই তোমাকেই পর্বতের কাছে যেতে হবে। যদি তোমার গরজ থাকে।

এই কথাটি আজ থেকে চার শ’ বছর আগে যে ভদ্রলোক প্রথম বলেছিলেন তাকে বিশ্ববাসী চেনে বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা-ভাবনা ও কৌতূহল জাগিয়ে তোলার গুরু হিসেবে। ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) নামের এই ভদ্রলোক ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী, রাজনীতিক, দার্শনিক ও লেখক। ছিলেন রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে। দার্শনিক, চিন্তাবিদ হিসেবেও ছিলেন বিশ্বসেরাদের একজন। বিশ্বজগৎ বা প্রকৃতিকে বোঝার জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণাপদ্ধতির তিনিই প্রতিষ্ঠাতা। বলেছিলেন, প্রকৃতির সত্য উদ্ঘাটনের পদ্ধতি হতে হবে, প্রথমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, বিচক্ষণতার সঙ্গে সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং সংগঠিত উপায়ে গবেষণা চালানো। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান গবেষণায় মূলত এই পদ্ধতিই অনুসৃত হয়ে আসছে। আর বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ ইত্যাদি রাজনৈতিক তত্ত্বেরও জন্ম সম্ভবত বেকনের ওই নির্দেশনার প্রেরণা থেকেই। আবার এইসব তত্ত্ব থেকেই ক্রমে লোকসমাজে এমন ধারণার সঞ্চার হয়েছে বা প্রচারণার মাধ্যমে সঞ্চার করা হয়েছে যে, যা খোলাচোখে দেখা যায় না, তার অস্তিত্ব মেনে নেয়ারও কোনো প্রশ্ন ওঠে না। এই কথাটি খোদার অস্তিত্বে অনাস্থা জানানোর অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে আমাদের দেশসহ অনেক দেশেই। নাস্তিক্যবাদের পক্ষে যত যুক্তি দেয়া হয়, এটি তার মধ্যে নিকৃষ্টতম, এমনকি অবৈজ্ঞানিকও। কারণ অদৃশ্য বলেই তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না, এটা বিজ্ঞান কখনোই বলে না।

বেকনের নাম প্রথম জানা হয়েছে মোটামুটি যুবা বয়সেই অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বই ‘বেকনের মৌমাছিরা’ পড়ে। সে বইয়ের আলোচ্য বিষয় আজ আর মনে নেই। এই মুহূর্তে বইটি হাতের কাছে পাওয়াও গেল না। তবে তাতে সমস্যা নেই। কারণ আমরা আজ বেকনের জীবন বা কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে বসিনি। বেকনকে টেনে আনার অন্য কারণ আছে। সে প্রসঙ্গেই যাবো।

শুরুতে যে ইংরেজি বাগধারার উল্লেখ করেছি ফ্রান্সিস বেকন সেটি লিখেছিলেন তার শেষ জীবনে রচিত প্রবন্ধগুচ্ছে, ১৬২৫ সালে। আমাদের আগ্রহ থেকে বেকনের বিখ্যাত উক্তিটির পেছনে কোনো বাস্তব ঘটনার যোগ আছে কিনা জানার চেষ্টা করেছি। অনুসন্ধানে যতটা জেনেছি, তাতে ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ সা. কখনো কোনো পর্বতকে তাঁর কাছে আসার জন্য ডেকেছিলেন এমন কোনো ঘটনার উল্লেখ কোথাও নেই। আর মোহাম্মদ সা: বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যার জীবনের প্রায় প্রতিটি উল্লেখযোগ্য কর্ম, ঘটনা ও বক্তব্যের বিবরণ অনুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। তিনি ধর্মীয় নেতা ছিলেন। অলৌকিক ক্ষমতা বা মোজেজা তাঁর ছিল। তাঁর নির্দেশে আকাশের চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল, এমন বিশ্বাসযোগ্য বিবরণ পাওয়া যায়। তিনি বিদ্যুতের বাহনে (বোরাক) চড়ে শূন্যলোকে ভ্রমণ করেছিলেন এটিও আমরা গভীরভাবেই বিশ্বাস করি। কারণ সেই ঘটনারও অনুপুঙ্খ বিবরণ লিপিবদ্ধ করে গেছেন তাঁর শিষ্য অনুসারীরা। আমরা রাসূলের সা: সেইসব সম্মানিত সাহাবিকে বিচার-বুদ্ধি-বিবেচনা ও সততার দিক থেকে সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য বলে বিশ্বাস করি।

কিন্তু ইংরেজ জাতির অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবী বেকন কেন ইসলামের নবীর সে রকম কোনো সত্য ঘটনার আশ্রয় না নিয়ে একটি ভিত্তিহীন বিষয়ের অবতারণা করলেন সেটা ভেবে অবাক হতে হয়। এর মধ্যে রাসূলকে সা: হেয় করার বা বাস্তববুদ্ধি বিবর্জিত হিসাবে তুলে ধরার কোনো দুরভিসন্ধি বেকনের ছিল কিনা আমাদের জানা নেই। তার রচনার সারাৎসার না জেনে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বা উপসংহার টানা অযৌক্তিক। সে পথে যাচ্ছি না। এমনো হতে পারে, যুগের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বাক্যটির অব্যর্থতা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছেন। যেমন, আজকের দিনে আমরা যদি ওই ধরনের কোনো অসম্ভব বিষয়ের কথা বলতে চাই তাহলে হয়তো বলব, খোদ জো বাইডেন চেষ্টা করলেও চীনের উত্থান ঠেকাতে পারবেন না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টকেই বর্তমান বিশ্বের ‘সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি’ মনে করা হয়।

তবে আমরা বলতে পারি, যে ব্যক্তি তার গভীরতর দার্শনিক চিন্তা ও বিশ্ববীক্ষণের প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে এমন একটি ভিত্তিহীন বিষয়কে আশ্রয় করেন তাকে প্রাকৃতিক বিষয়ে গবেষণাপদ্ধতির প্রবর্তক, বিশেষ করে বিজ্ঞানভিত্তিক জীবনাচারের দীক্ষাগুরু হিসেবে মানতে আমাদের মনে ঘোরতর আপত্তি জাগে। আর এটিও সত্য যে, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতা হিসেবে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন এবং দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পদ অলঙ্কৃত করলেও বেকন দুর্নীতির দায়ে (ঘুষগ্রহণ) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। সেই সঙ্গে তাকে সেই সময়ে ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানাও করা হয় যদিও পরে তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা হয়েছিল।

গত চার শ’ বছরে বেকন বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে না গেলেও বর্তমান বিশ্বে তার প্রাসঙ্গিকতা সামান্যই। কিন্তু ১৫০০ বছর পরও মুহাম্মদ সা: অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েননি। বিশ্বের সব ধর্ম ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলতে থাকলেও মোহাম্মদের সা: ধর্ম এখনো বিকাশমান। শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা প্রাচ্যের দেশগুলোতে নয়, খোদ পাশ্চাত্যেও এখন ইসলামই দিন দিন আরো জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান ধর্মগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইসলাম। ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে মুসলমানের সংখ্যা যেখানে ছিল ১৮০ কোটি, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে তা বেড়ে ২০৬০ সালে ৩০০ কোটিতে উন্নীত হবে।

পিউ রিসার্চ বিশ্বের ধর্মগুলোকে সাতটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত করে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রধান ধর্ম হলো খ্রিষ্টান, ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু এবং ইহুদি ধর্ম। বিশ্বে এখনো সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ খ্রিষ্টধর্মের অনুসারী। তাদের সংখ্যা প্রায় ৩১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে মুসলমানরা, ২৫ শতাংশ। ইহুদির সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র দশমিক ২ শতাংশ, যা ধর্তব্যের মধ্যেও পড়ে না। বিশ্বব্যাপী তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলো হিন্দুধর্র্ম। সারা দুনিয়ায় প্রায় ১২০ কোটি হিন্দু রয়েছে। যদিও ধর্মটি প্রধানত মাত্র তিনটি দেশে সীমাবদ্ধ। দেশ তিনটি হলো ভারত, নেপাল ও মরিশাস। ভারতে ৭৯ শতাংশ, নেপালে ৮০ শতাংশ এবং আফ্রিকার দ্বীপ মরিশাসে ৪৮ শতাংশ মানুষ হিন্দু।

বিগত শতকে বিশ্বের মানুষ নানা কারণে ধর্ম থেকে বিচ্যুত হলেও এখনো বিশ্বের জনসংখ্যার ৮৪ শতাংশই কোনো না কোনো একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত। তবে এই সম্পৃক্ততা অনেকটাই শিথিল এবং ক্রমশ ক্ষীয়মাণ। রাষ্ট্র ও গির্জার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করতে গত কয়েক শ’ বছরের প্রচারণার কারণে খ্রিষ্টানদের ধর্মাচরণ অনেক আগেই রোববারের প্রার্থনায় হাজিরা এবং কনফেশনের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়েছিল। এখন সেটুকুও অবশিষ্ট থাকছে না। সম্প্রতি কানাডার পরিসংখ্যান সংস্থার সমীক্ষা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২০১৯ সালের সর্বশেষ সমীক্ষা বলছে, দেশটিতে ধার্মিকতা সর্বকালের নিচে নেমে এসেছে। দেখা গেছে, ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের মাত্র ৬৮ শতাংশ কানাডীয় ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে খ্রিষ্টধর্মে। ২০১১ সালে যেখানে খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ছিল ৬৭.৩ শতাংশ সেটি ২০১৯ সালে ৬৩.২ শতাংশে নেমে আসে। দেশটির বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় ক্যাথলিক খ্রিষ্টবাদ। এই মুহূর্তে কানাডীয়দের মাত্র ৩২ শতাংশ এই ধর্মমতের অনুসারী। অথচ ১৯৯৬ সালেও এই ধর্মমতে বিশ্বাসীর সংখ্যা ছিল ৪৬.৯ শতাংশ।

এর চেয়েও বেশি অনিশ্চিত অবস্থা দেখা যাচ্ছে ইউনাইটেড অ্যান্ড অ্যাংলিকান চার্চের পতনে। ২০২১ সালে যিশুখ্রিষ্টের জন্মতিথি বা ক্রিসমাসের মৌসুমে প্রথম রোববার পড়ে ২৮ নভেম্বর। সেদিন টরন্টোর ট্যাডল ক্রিক ওয়াইল্ড চার্চে ধর্মসভায় উপস্থিতি ছিল টেনেটুনে ৫০ জনের মতো।

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় ইউনাইটেড। ১৯৮৫ সালে এই সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিল ১৪.৬ শতাংশ কানাডীয়। সেই সংখ্যা ২০১৯ সালে মাত্র ৩.৮ শতাংশে নেমে আসে। প্রতি সপ্তাহে ইউনাইটেড সম্প্রদায়ের গড়ে একটি করে গির্জা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এই প্রবণতা দ্রুততর হবে।

অ্যাংলিকান ধর্মমতও একই রকম তমসাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। ‘স্ট্যাটক্যান’-এর উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, ১৯৮৬ সালে সব শ্রেণীর কানাডীয়দের মধ্যে ১০.৪ শতাংশ ছিলেন অ্যাংলিকান। সে সংখ্যা হ্রাস পেয়ে ২০১৯ সালে ৩.৮ শতাংশে নেমেছে। কানাডীয়রা ধর্মকর্মে কতটা সময় দেন সে বিষয়ে স্ট্যাটক্যান-এর সমীক্ষায় দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ মানুষ বলেন, তারা একেবারেই সময় দেন না। মাত্র ২৩ শতাংশ বলেন, তারা মাসে অন্তত একবার গির্জার ধর্মসভায় অংশ নেন। অবশ্য, কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় আছে। যেমন ইভাঞ্জেলিক্যাল গ্রুপগুলো। এর মধ্যে জেহোভানস উইটনেসেজ ধর্মসম্প্রদায়ের ৮৬ শতাংশ মানুষ এখনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বেশ সক্রিয়। এটি হলো এক খোদায় বিশ্বাসী খ্রিষ্ট মতবাদ যা ক্যাথলিক বা প্রোটেস্টান্টদের মতো ত্রিত্ববাদে (ঈশ্বর, ঈশ্বরপুত্র যিশু এবং পবিত্র আত্মায়) বিশ্বাস করে না।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা বলছে, এই অধোগতি সব ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। মুসলিম, শিখ, বৌদ্ধ ও হিন্দুর সংখ্যা বাড়ছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অখ্রিষ্টীয় ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত কানাডীয়র সংখ্যা ২০৩৬ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে। এই বৃদ্ধি অবশ্য ধর্মান্তরের মাধ্যমে খুব বেশি হচ্ছে না। প্রধানত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অভিবাসীদের কারণে এদের সংখ্যা বাড়ছে।

এদিকে পৃথিবী থেকে ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যাবে এমন কোনো সম্ভাবনা বা আশঙ্কা আদৌ আছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষের সংখ্যা কমছে না। পিউ রিসার্চের ২০২১ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি ১০ জন স্কুলশিক্ষকের মধ্যে তিনজন বলেন, স্কুল শিক্ষকদেরকে ছাত্রদের নিয়ে খ্রিষ্টীয় প্রার্থনা সভার আয়োজন করার অনুমতি দেয়া উচিত। অথচ দেশের সুপ্রিম কোর্ট অনেক আগেই বিষয়টি ‘অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করেছে। সমীক্ষায় আরো মজার বিষয় উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্র ও গির্জার মধ্যে সুসংহত সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি অন্য সবার চেয়ে বেশি সমর্থন করেন খ্রিষ্টানরা। আর সমীক্ষার প্রণেতারা এই প্রবণতাকে ‘মোটেও বিস্ময়কর নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইসলামের বিরুদ্ধে গত কয়েক শ’ বছর ধরে যে বৈরিতা চলে এসেছে তা সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র নামে তীব্রতর করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইসলাম থমকে যায়নি বা স্তব্ধ হয়ে যায়নি। বরং সব প্রতিকূলতা প্রতিহত করে শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী মুসলমানরা একটি দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছে। অনেক দেশেই ইসলামপন্থীরা রাষ্ট্রক্ষমতার বা রাজনীতির প্রধানতম অংশীদার। এসব ঘটনা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় শৈথিল্য দূর করতে সহায়ক হচ্ছে তাই নয়, ইসলামের প্রতি বিশ্ববাসীর আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে মুসলিমবিশ্ব যদি যথাযোগ্য নেতৃত্ব পেয়ে যায় তাহলে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের আবারও বিশ্বনিয়ন্তার আসনে ফিরে আসার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে, এমন আশাবাদ পোষণ করাই যায়। বিশেষ করে ইসলামের আদর্শিক শুদ্ধতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বলা যায় না, ইসলাম যদি পর্বত হয় তাহলে বিশ্বের মানুষকে নিজের গরজেই এর কাছে আসতে হতে পারে। আর এভাবেই ফ্রান্সিস বেকনের ভিত্তিহীন বাকধারাটি ভিন্নভাবে সত্য হয়ে দেখা দিতে পারে।

mujta42@gmail.com


আরো সংবাদ


premium cement