২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ‘অনিরাপদ’ যাত্রা!


শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজপথ। অতিসাম্প্রতিককালে বারবার রাজপথে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু আন্দোলনকে বেগবান করেছে। তারা সকাল-সন্ধ্যা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যেমন- গুলিস্তান, সাইন্সল্যাবটরি, শান্তিনগর, ফার্মগেট ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে। এ সময়ে ব্যস্ত সড়কে সৃষ্টি হয় অসম্ভব যানজট। এমনিতেই যানজট আক্রান্ত এই শহর। তার ওপর শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে অভাবনীয় দুর্দশায় পড়ে সাধারণ মানুষ। এ দিকে অবশেষে শান্তিপূর্ণ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অনিরাপদ উপাদানের সংযোগ ঘটেছে। রাজধানীর রামপুরায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর পর আন্দোলন আরো তীব্রতর হয়ে উঠেছে। ওই দিন বিক্ষুব্ধ জনতা আট থেকে ১০টি বাস পুড়িয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ত হয় সাধারণ মানুষ।

ওই ঘটনায় হাফ ভাড়া নির্ধারণসহ ৯ দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার নতুন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে পরিবেশকে আরো উত্তেজনাকর করে তুলেছে। পুলিশ এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য হিমশিম খাচ্ছে। পুলিশের হস্তক্ষেপে দিনের শেষের দিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দাবি মেনে নেয়ার আলটিমেটাম দেয়। তা না হলে গতকাল বুধবার থেকে আবারো আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন পয়েন্টে বাস পোড়ানোর পর এখন বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ মামলা করছে। মামলায় মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার-পাঁচ শ’ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগেও পুলিশের টার্গেট ঘাতকরা না হয়ে, হয়েছে শিক্ষার্থীরা। অথচ ঘাতকদের আচরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। লাথি মেরে পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রীদের ফেলে দিয়েছে। ছাত্রীকে লাথি মেরেছে। তারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে। যেসব পয়েন্টে ও পরিবারে শিক্ষার্থীরা নিহত হয়েছে সেখানে বিরাজ করছে শোকের পরিবেশ।

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের বাস ভাড়া ২৬-২৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে ১৮ নভেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করে রাজধানীর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই গত সপ্তাহে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হয়। তারপর সোমবার রাতে অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একরামুন্নেসা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া মাইনুদ্দিনের নির্মম মৃত্যু হয়। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তাদের আন্দোলন অহিংস থেকে হিংসাত্মক আকার ধারণ করছে। সরকার প্রথমত বিআরটিসি বাসের হাফ ভাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের তুষ্ট করতে চেয়েছে। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত মালিক সমিতি বিভিন্ন ধরনের শর্তে ছাত্রদের হাফ ভাড়া নিতে রাজি হয়েছে। এসব শর্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা আরো জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীতে তারা হাফ ভাড়া চায় না। তাদের দাবি, গোটা দেশেই হাফ ভাড়া চালু করতে হবে। আর মালিক সমিতির সভাপতিও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন- হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই ঢাকার বাইরের জন্য কার্যকর হবে না। মালিক সমিতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসারও অনুরোধ করে।

ছাত্রদের দাবির ব্যাপারে মালিক-শ্রমিক ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ গেল কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। গত সোমবারে ১২০টি পরিবহন কোম্পানি, পাঁচটি শ্রমিক সংগঠন বৈঠকে বসেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। অবশেষে আংশিক দাবি মেনে নেয়া হলেও আন্দোলনে কোনো ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ আন্দোলন তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রথমত, রাজপথ উত্তাল হওয়ার কারণ ছিল বাসের ভাড়া বৃদ্ধি। পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি নির্মম মৃত্যু নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা একে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ বলে অভিহিত করছেন। স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৮ সালে একই দাবিতে ছাত্ররা প্রবল আন্দোলন সংগঠিত করে। আরো আগে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সূচনা করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি আন্দোলনের কর্মসূচি ও কর্মকৌশল এগিয়ে নেন। এতে ক্ষিপ্ত হন ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট পরিবহন শ্রমিকরা। শহীদ মিনারে এদের আয়োজিত সমাবেশে তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের উপস্থিতিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবিতে জুতার মালা পরিয়ে দেয়। মন্ত্রী নিজেও নানা আকার-প্রকারে শ্রমিকদের পক্ষে অবস্থান নেন। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের যখন ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে তখন সরকার কঠোরতা ও কূটকৌশল দিয়ে আন্দোলন মোকাবেলা করার চেষ্টা করে। একদিকে তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সাথে নীতিগত ঐক্য ঘোষণা করে, অপর দিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা-হামলা দিয়ে আন্দোলনকে পর্যুদস্ত করার চেষ্টা করে।

২০১৮ সালে প্রবল ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রদত্ত ১৮টি নির্দেশনা। দু-একটি বাদে সেসব নির্দেশনার বেশির ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি এখন পর্যন্ত। ২০১৯ সালে সেই নৌপরিবহন মন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা ১১১টি সুপারিশ পেশ করে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয় শক্তিশালী টাস্কফোর্স। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এই শক্তিশালী কমিটির কোনো শক্ত অবস্থান জানা যায়নি। তিনটি সভা ছাড়া কিছুই করেনি এই টাস্কফোর্স। তবে ঠেলায় পড়ে ২০১৮ সালে পাস হয়েছে পরিবহন আইন-২০১৮। তবে এর বিধিমালা এখনো তৈরি হয়নি। পরিবহন স্বার্থসংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিকদের চাপে ইতোমধ্যে আইনটি কঠোরতা থেকে কোমলতায় রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল লক্ষ করছে যে, ক্ষমতাসীন সরকার এ ধরনের জনপ্রিয় আন্দোলনের জনপ্রিয় আইন তৈরি করলেও তা কখনো আলোর মুখ দেখে না। এভাবে রাজনৈতিক চাতুর্যের মাধ্যমে আন্দোলন মোকাবেলার কৌশল নেয় তারা। চলমান আন্দোলনের ক্ষেত্রে সেই একই কৌশল অবলম্বনের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একটি গভীরতর অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দেখা যায়, পরিবহন সেক্টরটি মূলত শাসকদল সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তির দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি একই সাথে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হচ্ছেন শাসকদলের তথাকথিত অনুগত বিরোধী দলের একজন প্রভাবশালী নেতা। অন্য দিকে, দেশের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে একাধিপত্য কায়েম করেছেন সাবেক সেই মন্ত্রী।

পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তিন-চারজন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকনেতা বড় চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছেন। ধর্মঘট ও কর্মবিরতির মাধ্যমে তারা এরই মধ্যে সড়ক আইন সংশোধনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, তাদের কারণেই বেড়েছে সাম্প্রতিককালে যানবাহন ভাড়া। অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারা একইভাবে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। সেই সাথে তারাই আবার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পথে প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক অনিরাপদ হওয়ার জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের দায়ী করেছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই পরিবহন খাতে একটি চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠীর উত্থান হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা আদায়ের নামে কথায় কথায় ধর্মঘটে যায় তারা। বর্তমান গোষ্ঠীটি এত বেশি শক্তিশালী যে, সরকারও তাদের ভয় পায়। এ কারণে আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দেয়া নির্দেশনাও তারা মানছেন না। সড়ক আইন কার্যকর হচ্ছে না। এদের দাপটে সড়ক নিরাপদ হচ্ছে না।

এরা এতটাই উগ্র যে, তাদের সংগঠনের মানুষগুলোকেও উগ্র বানাচ্ছেন। তারা সরকারকে জিম্মি করে ফেলেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সেখানেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যখন প্রতি মুহূর্তে তারা জিতে যান, তখন তাদের সাহস আরো বেড়ে যায়। এটি তাদের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পায়। পরিবহন মালিকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে শ্রমিকরাও উগ্র হয়ে উঠেছে। সড়ক দিন দিন আরো অনিরাপদ হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয় না। সরকার যে পরিবহন খাতের কুশীলবদের এর উদাহরণ পাওয়া গেছে অতিসাম্প্রতিককালে ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে। সেখানে মালিক সমিতি বাস বন্ধ করার হুমকি দেয়। আর সড়ক সচিব সরকারি সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে না দেয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন।

২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট। এগুলোর মধ্যে ছিল- চলন্ত বাসের দরজা বন্ধ রাখা; যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো-নামানো বন্ধ করা; বাসের দৃশ্যমান স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ লাইসেন্স; সেলফোন নাম্বার প্রদর্শন; মোটরসাইকেল আরোহীদের বাধ্যতামূলক হেলমেট পরিধান; বাসে চালক ও যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহার; ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাসের উভয় পাশে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করা; ফুটওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাসগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করা; ফুপাথ হকারমুক্ত রাখা; অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদ; ঢাকার সড়কে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল-ব্যবস্থা চালু এবং অবৈধ ও আনফিট পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিভিন্ন নির্দেশনা। এসব নির্দেশনা কার্যকর না করে এখন মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে দুর্ঘটনার মামলায় চালকদের জামিনসহ বিভিন্ন ধারায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি ও জরিমানা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দৃশ্যত সড়ক ও জনপথে এখন চলছে রীতিমতো অরাজকতা। সেই আইনগুলো যদি বাস্তবায়িত হতো তাহলে তিন বছর পর এই দ্বিতীয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শিক্ষার্থীদের করতে হতো না। নটর ডেম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র নাঈম হাসানের মৃত্যুর পরপরই আবারো রাজপথে নেমে এসেছে শিক্ষার্থীরা। ক্রমেই আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ছাত্রদের প্রদত্ত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ২০১৮ সালের সেই নিরাপদ সড়ক আইনের বাস্তবায়ন; সড়ক দুর্ঘটনার মৃত্যুগুলো আইনের আওতায় আনা; সব সড়কে কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং চালকদের যথার্থ লাইসেন্স থাকা ইত্যাদি। এসব দাবির প্রতি সমাজের সর্বস্তরের সমর্থন বেড়েছে। টানা ১৩ দিনের আন্দোলনের পর যেভাবে শর্তসাপেক্ষে মালিক সমিতি ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া কমানোর দাবি মেনে নিয়েছে, তাতে কোনো আন্তরিকতা নেই। বরং শর্তগুলো জুড়ে দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে তামাশা করেছে।

সরকার বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেয়। প্রয়োজনে রাষ্ট্র ভর্তুকি দিতে পারে। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, এভাবে আর চলতে পারে না। সারা দেশের মানুষও মনে করে- এভাবে আর চলতে পারে না। রাষ্ট্রকে এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে হবে। আর শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে হবে। এটাই সঙ্গত, এটাই ন্যায়।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com


আরো সংবাদ


premium cement