২৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

আবরার ফাহাদ যে কারণে স্মরণীয়

পলাশীতে ঢাকসুর সমাজসেবা সম্পাদকের উদ্যোগে নির্মিত আবরার ফাহাদের স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে ফেলা হয়। - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের ছাত্র নির্যাতন নতুন ঘটনা নয়। তাদের নির্মম নির্যাতনে বহু ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডটি সেসব খুনের ঘটনার চেয়ে আলাদা। এর প্রধান দিকটি হচ্ছে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে তিনি বাধা হয়েছেন, সে জন্য প্রতিপক্ষ তাকে হত্যা করেছে এমনটি ঘটেনি। তাকে হত্যার দুদিন আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান। সফরের দেনা পাওনা নিয়ে দিল্লিতে আলোচনা চলছিল। প্রতিবেশী দেশের একচেটিয়া পাওনার লিস্ট নিয়ে দেশপ্রেম তাড়িত হয়ে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তার পরই তাকে রাতভর পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের আরেকটি দিক ছিল নজিরবিহীন নির্মমতা প্রদর্শন। বুয়েটে মেধাবী তরুণ যুবক ছাত্রদের মধ্যে এমন ঘৃণা কোথা থেকে এলো? এটি ভাবনার বড় একটা কারণ হলেও এ নিয়ে খুব একটি আলোচনা আমরা কোথাও দেখতে পাইনি।

বাংলাদেশের সাথে বন্ধু প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সঙ্গত রাখতে আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার প্রধান তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর প্রথম ভারত সফর করছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ এ সময় ঠিক মুখিয়েছিল ভারতের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাপারে সাড়া পাওয়া যাবে এই ভেবে। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ পাওনা জমে স্তূপ হয়েছিল। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পর ৫৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক ছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল যাতায়াত, সংযুক্তি, সংস্কৃতি বিনিময়, সমুদ্র উপকূলে পর্যবেক্ষণ সিস্টেম সরবরাহ আর মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ভারত কতটুকু সুবিধা কিভাবে পাবে, এসব। এগুলো মূলত ভারতের অগ্রাধিকার ইস্যু। দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ হিসেবে এগুলো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। উভয় দেশের মধ্যে প্রবাহমান আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিয়ে সমঝোতা কয়েক দশকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর মধ্যে তিস্তার ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। তিস্তায় পানির ন্যায্য হিস্যা দিয়ে একটি চুক্তি করার প্রত্যাশা দিয়ে চলছিল ভারত । সফরে জানা গেল, ঠিক এ সময় তিস্তা নদীর পানি নিয়ে কোনো আলোচনা টেবিলে জায়গা পেল না। উল্টো অভিন্ন ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জন্য পানি তুলে নেয়ার চুক্তি করল ভারত। এ চুক্তি অনুযায়ী তারা নিয়মিত এক দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তুলে নেবে। আরো দেখা গেল, বাংলাদেশ থেকে তারা এলপিজি গ্যাস আমদানির চুক্তি করেছে।

প্রতিবেশী এ দুটো দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়; বিশেষ করে ভারতের মতো একটি বড় দেশ যা আমাদের তিন দিক দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। এ দেশটির সাথে আমাদের সম্প্রীতির সর্ম্পক বিকল্প কিছু থাকতে পারে না। এটি আবার সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বড় দেশটির মনোভাবের ওপর। দেশটির ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা বরাবরই মুখে মধু বর্ষণ করেন। কার্যে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। এ ধরনের সম্পর্কে যদি ভারসাম্য আনতে হয়, ছোট দেশকে সচেতনতা প্রদর্শন ও দাবি জোরালো করে সামনে রাখতে হয়। বিগত বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভারতের একচেটিয়া আধিপত্যের পেছনে আমাদের নির্লিপ্ততাও দায়ী। প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত হয়ে থাকে। ভারত যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া বাংলাদেশে তাদের স্বার্থ আদায় করতে পারে তা হলে তারা আমাদের অধিকার রক্ষা করবে কেন? মুফতে পাওয়া গেলে কেউ সেটি কিনে খায় না। ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্তির জন্য আমাদের সরকার জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে না বা করতে পারে না। দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ভারত প্রশ্নে একেবারে নীরব ভূমিকা পালন করে থাকেন। অন্য দিকে মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে রয়েছে জড়তা। দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ খবরও প্রকাশ করতে উৎসাহ বোধ করে না আমাদের মিডিয়া। সীমান্তে যখন গুলি করে বাংলাদেশী হত্যা করা হয় সেই খবর এ দেশের মিডিয়ায় পাওয়া যায় না। বড়জোর পত্রিকার ভেতরের পাতায় কোনো এক কোণায় এর জায়গায় হয়।

অন্য দিকে বলিউডের ছবির খবর প্রতিদিন আমাদের মিডিয়ায় বড় জায়গা দখল করে নেয়। পত্রিকার মাস্টহেডে তাদের নায়ক-নায়িকাদের ছবি থাকে। বিনোদনের পাতা প্রায় পুরোটা দখলে থাকে ভারতীয় অভিনেত্রীদের দখলে। এমনকি ভারতীয় যেসব নেতা ও আমলা মিষ্টি মিষ্টি প্রতিশ্রুতি দেন, তাদের খবরও ফলাও করে আমরা প্রচার করি। দেখা গেল একই দিন সীমান্তে হত্যা ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বিপরীতমুখী দুটো খবর রয়েছে। দেখা যাবে রাষ্ট্রদূতের খবরটি প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে। সীমান্ত হত্যার খবরটি ভেতরের পাতায় অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে আছে। ফেলানী হত্যার বিচার নিয়ে ভারতের মানবাধিকার সংগঠনগুলো যতটা এগিয়ে এসেছে এ দেশের মানবাধিকার সংগঠন আর মিডিয়াকে সেভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় করে অধিকার বঞ্চিত করে দাবিয়ে রেখে ভারত যদি চলতে পারে তা হলে তারা আমাদের স্বার্থ রক্ষায় সাড়া দেবে কেন? যেখানে দেশটির ভেতরে নিজেদের মধ্যে বহু ধরনের বৈষম্য রয়েছে। এক রাজ্য অন্য রাজ্যকে ঠকাতে চায়।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি ও ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সিএএ নিয়ে হইচই হচ্ছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের আগেই এনআরসির মাধ্যমে আসামের ১৯ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারায়। এসব লোকের গন্তব্য কোথায় হবে সেটি নিয়ে বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্য দিকে তাদের জাতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে মুসলিম ছাড়া সে দেশে যাওয়া হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেয়ার আইন করা হয়। দুটো আইনে সরাসরি খড়গের শিকার মুসলিমরা। আসামের নাগরিকত্ব হারানো মানুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার হুমকির মধ্যে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে যদিও একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে সিএএ নিয়েও বাংলাদেশের বক্তব্য থাকা স্বাভাবিক। দেখা গেল, সফরে এসব ব্যাপারে বাংলাদেশের কোনো কথা বলার সুযোগ হলো না।

আবরার ফাহাদের মতো তরুণদের প্রাসঙ্গিকতা এখানে। একটি হাদিসের কথা বলা হয়- ‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।’ সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেয়া সওয়াবের কাজ। আবরার ফাহাদের দেয়া পোস্টে সেই দেশপ্রেমের অবস্থানটি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যে আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর ফেসবুকে পোস্টটি দেন। বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের সহজ সুবিধাপ্রাপ্তি, গ্যাসপ্রাপ্তি, নদীর পানিপ্রাপ্তির বিপরীতে বাংলাদেশের শূন্যপ্রাপ্তির মেজাজটাই তার ওই পোস্টে ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছেন, ’৪৭-এ দেশ ভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। ভারত তখন এ অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ লাঘবে, উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আজ ভারতকে সেই মংলা বন্দর ব্যবহারে হাত পাততে হচ্ছে। এরপর তিনি কোনো বিনিময় ছাড়া ভারতকে ফেনী নদী থেকে পানি দেয়ার বিষয়টি তির্যক ভাষায় উল্লেখ করেন। চেতনা জাগার জন্য জাতির অগ্রভাগে এ ধরনের দেশপ্রেমিকের প্রয়োজন রয়েছে। গ্যাস দেয়ার ব্যাপারে তিনি ওই পোস্টে লিখেন, কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা ও পাথর রফতানি বন্ধ করেছিল অথচ আমরা তাদের গ্যাস দেবো। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে, সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বলবে।

যেকোনো দেশের নাগরিকরা নিজেদের দেশের স্বার্থে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণামূলক পোস্ট দিতে পারেন। পাবলিক ডোমেইনে এ ধরনের পোস্ট একেবারে নির্ভুল না হলেও তিরস্কার বা শাস্তির পাওয়ার কোনো কারণ থাকে না। সে দিক থেকে আবরার ফাহাদ সঠিক কাজটি করেছেন। দেশের স্বার্থরক্ষাকারী এজেন্সিগুলো একে একে সবাই উদাসীন হয়ে যাচ্ছে। এই সময় জাতির প্রত্যাশা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনসহ নানা আন্দোলন সংগ্রামে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা আবার জাতিকে জাগিয়ে তুলুক। নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সচেতনতা প্রদর্শন তো প্রগতিশীলতা। আমরা যদি নিজেদের অধিকারের আওয়াজ জোরালো করতে পারি তাতে তো আমাদের লাভ। সেই হিসেবে দুর্দিনে এমন সাহসিকতাপূর্ণ কাজ করার জন্য ক্যাম্পাসে আবরারের বরিত হওয়ার কথা ছিল। দুর্ভাগ্য, তার বদলে তাকে নিজের বন্ধুদের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে। আমাদের দেশে ‘রতœগর্ভা’ পুরস্কার দেয়া হয় মাকে। আবরারের জন্মদাতা বাবা-মা পুরস্কার পেতে পারেন; জাতির কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পেতে পারেন। আমরা তাদের জন্য এখনো কোনো সম্মান প্রদর্শন করতে পারিনি।

২৭ নভেম্বর আবরারের বিচারের রায়ের তারিখ ছিল। তার পরিবার এ রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিচারক রায় পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা করেছেন। আমরা এ বিচার নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমরা আবরারকে একজন সচেতন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে দেখি। তাই তার স্মরণ জেগে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। এ দেশের স্বার্থেই এমন প্রয়োজন। কারণ এই সময় এমন সচেতন যুবকের অভাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পলাশীতে আবরারের স্মৃতিরক্ষার্থে একটি স্তম্ভ নির্মাণ করেছিল। কারা যেন সেটি ভেঙে ফেলে। তারা যখন সেটি আবার নির্মাণ করে আবারো সেটি ভেঙে ফেলা হয়। সারা দেশে বিগত কয়েক বছরে অসংখ্য স্মারকচিহ্ন নির্মিত হয়েছে। এসব স্মৃতিস্তম্ভের অনেকগুলো নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। অনেকগুলো বিতর্কিত হয়েছে।

আবরার এ দেশে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তিত্ব নন। তার মেধার ব্যাপারে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। তিনি একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। দেশের পক্ষে ওই পোস্টটি না দিলে তাকে তখন প্রাণ হারাতে হতো না। তা হলে তার আত্মবলিদান কেন মর্যাদার হতে পারে না? পলাশীতে যারা স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙেছেন তাদের খুঁজে বের করা হোক। তাদের মোটিভ কী, সেটি জানা হোক। বর্তমান সরকার স্মৃতি রক্ষার্থে অনেক বেশি তৎপর। আমরা আশা করব, সরকার নিজে থেকে আবরারের স্মৃতি রক্ষার্থে আগ্রহী হবে। তার নামে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে। বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অনেক স্মৃতিস্তম্ভের পাশে আবরারের একটি স্মৃতিস্তম্ভও থাকতে পারে।

আবরার ফাহাদকে ‘জামায়াত-শিবির’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো ‘জামায়াত-শিবির’ হলে মারতে হবে কেন? এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ইস্যু বানিয়ে রাখা হয়েছে। যে কাউকে এই তকমা দেয়া হলে তার জন্য কোনো আইনি সুরক্ষা যেন থাকছে না; তাকে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত করা অধিকার হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এ ধরনের ডাহা অন্যায় করার সুযোগ আর কতকাল রাখা হবে? এ অভিযোগ তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অসংখ্য অন্যায়-অত্যাচার করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহু মানুষকে লাঞ্ছিত অপমানিত ও অধিকারহারা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এটি আসলে একটি রাজনৈতিক ঘুঁটি। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে দমন করা হচ্ছে। এভাবে কোণঠাসা করে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা কোনো সভ্য জাতির জন্য মানায় না। আবরারের হত্যাকেও বৈধ করে ফেলা কিংবা অপরাধকে হালকা করার জন্য তার ‘জামায়ত-শিবির’ পরিচয় লেপন করার জঘন্য চেষ্টা হয়েছে।

আবরারকে নারকীয় কায়দায় পেটানো হয়েছিল। রাতভর নানা নির্দয় উপায়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। তার সারা শরীরে সেই ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘাতকরা এমন একটি কৌশল অবলম্বন করেছিল, যাতে সে সর্বোচ্চ মাত্রার শারীরিক কষ্ট পায়। বেঁচে থাকলেও মানসিকভাবে যেন একেবারে শেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অপমান, লাঞ্ছনা ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুনের অন্য কোনো ঘটনায় এমনটি দেখা যায়নি। এটি সচেতন মানুষের জন্য একটি চিন্তার বিষয়। কেন এমন ঘটনা ঘটানো হলো? যারা এ কাজটি করেছে তারা কি মানসিকভাবে সুস্থ? না তাদের অন্য কোনো লক্ষ্য ছিল?

jjshim146@yahoo.com


আরো সংবাদ


premium cement