২৮ অক্টোবর ২০২১
`

‘বুঝি না মানুষ কেন বিয়ে করে’


মালালা ইউসুফজাই বিশ্বে পরিচিত একটি নাম, নোবেল বিজয়ী স্টার হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন। তিনি শুধু পাকিস্তানের ‘আইকন’ নন, নারী শিক্ষা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, নারী মুক্তি বিষয়েও বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তিনি বই লিখেছেন, বিবিসিতে ব্লগ লিখেন। শিক্ষার অধিকারের জন্য পরিশ্রম করায় মালালা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হন সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে, ওই সময় তার বয়স ছিল ১৭ বছর। ২০১৪ সালের অক্টোবরে মালালা ও ভারতীয় শিশু অধিকারকর্মী কৈলাশ সত্যার্থী সাথে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ২০১৩ সালে মালালা এবং তার বাবা মেয়েদের শিক্ষার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা আনতে এবং মেয়েদের পরিবর্তনের দাবি ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ‘মালালা ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করেন। অক্সফোর্ডে অনেক সোসাইটি আছে, সেখানে লেখাপড়ার সময় মাঝে মধ্যে মালালা ক্রিকেট ক্লাবেও যেতেন এবং কলেজের হয়েও ক্রিকেট খেলেছেন। মালালা হার্ভার্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সম্মানসূচক পুরস্কারও পেয়েছেন, যা গ্লিটসম্যন অ্যাওয়ার্ড নামেও পরিচিত।

মালালা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যাকার সুন্নি মুসলমান। ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর, পরীক্ষা দেয়ার পর সোয়াত জেলার একটি বাসে করে ফিরছিলেন। মালালা ও অন্য দুই মেয়েকে তেহরিক-ই তালেবান বন্দুকধারীরা বিদেশী ভাবধারা গ্রহণ ও সক্রিয়তার অভিযোগে হত্যার চেষ্টায় গুলি করে। এই ঘটনা নিয়ে পরে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে ‘গুল মাকাই’। ফিল্মের ট্রেলার ছাড়ার সাথে সাথে দর্শক সংখ্যা ওঠে ১৩ মিলিয়নে। তথ্যনির্ভর ছবিটি শুরু হয় মালালার জন্মস্থান সোয়াত ভেলির অনন্য সুন্দর দৃশ্যাবলি দিয়ে। এই ছবির বিষয়ে পশতুন গ্রামের লোকেরা কিছু না বল্লেও তালেবানরা পছন্দ করেনি। তালেবানরা কি সব ধবংস করছে, কী করা উচিত ও উচিত নয় তাও তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে। গুল মাকাই মালালার একটি ছদ্মনাম; ২০০২ সাল থেকে বিবিসিতে বøগ লেখার সময় থেকে মালালা ব্যবহার করে আসছেন।

গুল মাকাই চলচ্চিত্রটি ২০১৯ সালে ২৭ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন ভারতীয় পরিচালক আমজাদ খান, শুটিং হয়েছে কাশ্মিরে। মেয়েদের শিক্ষা ও সম্মান দেখানো চলচ্চিত্রটির উপজীব্য। দিব্যা দত্ত, মুখেশ ঋশী, রীম খান, অভিমন্যু সিং, আজাজ খান প্রমুখ ছবিতে অভিনয় করেন। একসময় অবরুদ্ধ কাশ্মির নিয়ে মালালা উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তার অনেক টুইট রয়েছে। ‘৪০০০ মানুষ যাদের বেশির ভাগ শিশু ও মহিলাকে, জেলে পুরে রাখা হয়েছে বিনা বিচারে। ছাত্ররা স্কুলে যেতে পারছে না। মেয়েরা ভয়ে বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না’ এভাবে তিনি ভারতীয় সেনা প্রশাসনের সমালোচনা করেন ও কাশ্মিরিদের মুক্তির বিষয়েও টুইট করেন। ফলে যেসব ভারতীয় মালালার গুণগান করত তারা অসম্মানজনক কথাবার্তা শুরু করে। প্রশংসাকারীদের একজন বারখা দত্ত, তিনি মালালার ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। শ্রী শ্রী রবি শংকর বলেছেন, ‘মালালা নোবেল পাওয়ার উপযুক্ত নয়।’ টুইঙ্কেল খান্না, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মালালার প্রশংসা করে প্রিন্ট মিডিয়ায় লিখেছেন।

ভোগ ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক সংস্করণে দেয়া সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাই, যিনি একজন অক্সফোর্ড স্নাতক ও নারীদের শিক্ষার পাকিস্তানি কর্মী, বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে কখনো বিয়ে করবো কি না।’ ‘আমি এখনো বুঝতে পারছি না কেন মানুষকে বিয়ে করতে হবে’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনি যদি আপনার জীবনে একজন ব্যক্তি থাকতে চান, তাহলে কেন বিয়ের কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে, কেন এটি একটি কেবল অংশীদারিত্ব হতে পারে না?’

গত ৪ জুন থেকে এরকম সংবাদ প্রতিবেদন সামাজিক মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে যে, মালালা ইউসুফজাই স্পষ্টভাবে ‘বিয়ে প্রতিষ্ঠান’কে অর্থাৎ বিয়ের প্রথাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন যে বিয়ে করার চেয়ে ‘অংশীদারিত্ব’ ভালো। মালালাকে যারা পছন্দ করেন তারা এখন এই বিবৃতিতে গভীরভাবে বিরক্ত। এমন কথা বলে মালালা ফেঁসে গেছেন। তিনি সমালোচনা করেছেন কেন এক নারী-পুরুষের যুগল, মেরেজ পেপারে সই করবেন? পার্টনারশিপ হিসেবে বসবাস করলেই তো চলে!
আমরা জানি বিয়ে এবং অংশীদারিত্ব বা সম্পর্ক একটি পুরনো ইস্যু। বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক সর্বশক্তিমান নিষিদ্ধ করেছেন। যারা নাস্তিক ও মৌলবাদী সেকুলার তাদের কাছে এটি কোনো ভয়ের বিষয় নয়। যারা পরকাল ও সর্বশক্তিমানকে বিশ্বাসই করে না তারা কেন এসব নিষেধাজ্ঞাকে গুরুত্ব দেবেন? অনেকে মনে করেন, বিয়েপূর্ব অভ্যাস বিবাহিত জীবনে প্রবেশের একটি উপায়। মানবতাবাদীদের অনেকে মনে করেন, একজন ব্যক্তি কোনো নারীর শরীরের সাথে যা করতে চান ততক্ষণ করার অধিকারী, যতক্ষণ না সে কারো ক্ষতি না করছে।

পুরুষ-নারীদের শোষণের জন্য দোষী হতে পারে এই ধারণাটিও বিনোদন দেয়ার বিষয়ে হতাশাজনক। এটা প্রত্যাখ্যান করাকে কেউ কেউ উপহাস করার চেষ্টা করেন তবে সে পারফরম্যান্স সামান্যতমও বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ফোরামে মহিলারা আরো বেশি শোষিত হওয়া অস্বীকার করে। কোনো কোনো মহিলা উল্টো কথা বলেন, শোষিত হওয়া দূরে থাক নিজেরাই অনেক পুরুষকে যৌন শোষণ করে।

মালালা হয়তো বিষয়টি লক্ষ করেননি, নারী-পুরুষ শারীরিকভাবে অনেক আলাদা, তাদের আবেগ এবং মানসিকতার পার্থক্যও অনেক বেশি। মহিলাদের মাতৃসত্তার প্রবৃত্তির এমন তীব্রতা যে, মা না হয়ে সম্পূর্ণ বিবেকবান থাকতে পারে না। বিভিন্ন কারণে পিতৃত্ব পুরুষের কেরিয়ারে একই প্রভাব ফেলে না, যা একজন মহিলার ওপর থাকে। পরিবারে পিতৃত্ব যে পার্থক্য নিয়ে আসে তা সন্তান জন্মদানের মাধ্যমেই শুরু হয়, যা নারীদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। প্রকৃতি মহিলাদের গর্ভধারণের বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছে, অন্য দিকে পুরুষ অনেক দিন পর্যন্ত বাবা হতে পারে। এগুলো জীবনের সত্য যা সবাইকে মুখোমুখি হতে হয়। পরিবার, সংসার, সমাজ ও জাতির জন্য নারীর মূল ভ‚মিকা মালালার অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। পারিবারিক বন্ধনের ফসল সুমিষ্ট, অংশীদারিত্বের ফসল রসকষহীন মরু-বৃক্ষলতার কণ্টকের মতো।
দীর্ঘ দিন ধরে, ‘সভ্যতার’ আন্দোলন এমন ছিল যে, অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো ক্রমাগত বিয়ের বয়সকে ঊর্ধ্বমুখী করে চলেছে, বিয়ের চেয়ে সম্পর্কের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দীর্ঘকাল, সভ্যতা আন্দোলন যেমন হয়েছে অর্থনৈতিক প্রভাব ক্রমাগত আরো এবং আরো চেনাশোনার মধ্যে একটি আদর্শ হিসেবে বিয়েপূর্ব সম্পর্কের স্বীকৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি বেশির ভাগ ঐতিহ্যবাহী সমাজেও গিঁটবাঁধার গড় বয়স আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর সাথে মুক্ত প্রেম ‘সুবিধা’ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এই অভ্যাস উভয় পক্ষের ক্ষতির কারণ নয়, বিশেষ করে মহিলারা তাদের পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হারানোর আছে।
এই ঘটনায়, মালালাকে মৃত্যুহুমকি দেয়া হয়েছে। হুমকিদাতা তালেবান কমান্ডার মালালাকে টুইটারে লিখেছেন, ‘আপনি সোয়াতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসুন। আপনি ও আপনার বাবার সাথে আমাদের একটি অসমাপ্ত পর্ব রয়ে গেছে। আমরা যা শুরু করেছিলাম তা সমাপ্ত করতে চাই।’ মালালা লিখেন, এই ব্যক্তি তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের মুখপাত্র যিনি আমাকে আক্রমণের দায় স্বীকার করেছিলেন। মালালাকে হত্যার হুমকি দেয়ার জন্য মুফতি সরদার আলী হাক্কানীকেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। পেশোয়ারের এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন ‘মালালা যখন পাকিস্তানে আসবে আমিই প্রথম তার ওপর হামলা চালাব।’ মালালাকে গুলি করার পর যখন তিনি বেঁচে যান তখন পাকিস্তানি তালেবানরা বলেছিল ‘পরের বার কোনো ভুল হবে না।’

বিয়ে নিয়ে মালালার মতামত ও বিতর্ক মূলধারার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। একজন মুসলিম হওয়ায় পরও কিভাবে তিনি বিয়ের ব্যাপারে এমন অপ্রাসঙ্গিক এবং প্রান্তিক মন্তব্য দিতে পেরেছেন? নিকাহকে, মুসলমানদের জন্য ঈমানের অর্ধেক সমাপ্তি মনে করা হয়। মাহরামের সাথে বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসকরা অগ্রহণযোগ্য পাপ এবং সেটি স্পষ্টতই জিনা, যা কবিরা গুণাহর তালিকায় বেশ উপরের দিকে। বিয়ে ছাড়া একসাথে বসবাসকারী মুসলমানদের কেউ সমর্থন করতে পারে না। কারণ এটি ইসলামে তীব্র নিন্দনীয়। এই অপকর্ম একজন মুসলমানকে বেঈমান বানিয়ে ফেলে। বিয়ে একটি সুন্নাহও। কুরআনে সব জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে। পশুদের মধ্যেও এই জোড় দেখা যায়। শুকর ছাড়া অন্য প্রাণী বহুগামী হয় না। কিছু আলেম এ জন্য শূকরের মাংস খাওয়াকে হারাম বলেছেন। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, যারা এই প্রাণীর মাংস নিয়মিত ভক্ষণ করে তারা নির্লজ্জ হয়। যারা ঈমানের তোয়াক্কা করে না তারা বিভিন্ন নামে বিয়ে ও সহাবস্থানের সমালোচনা পর্যালোচনা করলেও কোনো আলেম শ্রেণীর লোক তা পারেন না, তাই তারা সোচ্চার হন।

মালালা স্পষ্টভাবে ‘বিয়ের প্রতিষ্ঠান’ প্রত্যাখ্যান করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন যে, বিয়ের চেয়ে অংশীদারিত্ব ভালো। মালালা বিয়ে ও পারিবারিক কাঠামো প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে মানুষকে পাপ ও অনাচারের দিকে টেনেছেন, যা পশুদের মধ্যেও কম পরিলক্ষিত হয়। অংশীদারিত্ব একটি ব্যভিচার, মোহর ও ভাতা প্রবতর্নের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করার জন্য বিয়ের প্রচলন করা হয়েছে। ‘অংশীদার যৌন-জীবন’ কোনো ধর্মে অনুমোদিত ছিল না।

এটি প্রথমবার নয়, অনেকবার তিনি ইসলামের প্রতি কোন সম্মান প্রদর্শন করেননি, অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি মালালা’ গ্রন্থে অনেক উপাদান পাওয়া যায়, যা কুরানের আদেশ, ইসলামী শিক্ষা, পাকিস্তানের মতাদর্শ, সেনাবাহিনী ও জাতির পিতার পরিপন্থী। মালালার বইটির সহলেখিকা ছিলেন বিতর্কিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্রিস্টিনা ল্যাম্ব। পাকিস্তান সরকার তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘ব্যক্তিত্বহীন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ক্রিস্টিনা ল্যাম্ব পাকিস্তানকে অপমান করার জন্য ওসামা বিন লাদেনের নামে বিমানের টিকিট বুক করার চেষ্টা করেছিলেন। বইটি পশ্চিমা বাহিনীর নির্দেশে লেখা হয়েছিল, যারা মালালাকে তাদের চরম উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করছে।

মালালা তার বিতর্কিত বইতে ইসলামকে ‘জঙ্গি ধর্ম’ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ‘জঙ্গি’ নাম দিয়েছেন। মালালা দু’টি নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সমান হওয়ার কুরআনের আয়াতের সমালোচনা করেছেন; ধর্ষণ মামলায় চারজন সাক্ষীর কথারও সমালোচনা করেছেন। মালালা তার বইতে আরো লিখেছেন যে, ‘কুরআন বলেছে নারীরা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল’ সুরা আন নিসায় পুরুষকে নারীর অভিভাবক ঘোষণা করা হয়েছে। এই আয়াতকে মালালা ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আল্লাহর আইন ও নমুস-ই রিসালাত সা:-এর আইনের প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন। মালালার বইতে সালমান রুশদির নিন্দনীয় বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ ও তার বাবার বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের কথা সমর্থন করেছেন। তসলিমা নাসরিনের সাথে বিভিন্ন গ্রুপ ফটো এবং একজন ভারতীয়ের সাথে নোবেল প্রাপ্তির নকশার কাজ পশ্চিমের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার এজেন্ডা প্রমাণে যথেষ্ট।

সোয়াতভিত্তিক মহিলা সংসদ সদস্য ও সোয়াত রাজপরিবারের সদস্যা মুসারাত আহমেদ জেব বলেন, ‘২০১২ সালে মালালার ওপর হামলা শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো মঞ্চস্থ করেছিল; আমাকেও যোগ দিতে বলা হয়েছিল, আমি তা অস্বীকার করেছিলাম।’ তিনি আরো চমৎকার অবাক করা তথ্য দেন যে, মালালা যখন গুল মাকাই নামে ব্লগ লিখেন তখন সে পড়তে ও লিখতে পারত না। মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন টিভি প্রোগ্রামে স্বীকার করেছিলেন যে, ব্লগটি বিবিসি সংবাদদাতা আবদুল হাই কাকর লিখছিলেন ও ‘আমি মালালা’ বইটি জিয়াউদ্দিন নিজে ও ক্রিস্টিনা ল্যাম্ব লিখেছেন। বেকার জিয়াউদ্দিন শুরু থেকেই বিদেশী এনজিওর সাথে কাজ করে ইসলাম ও পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করার নীলনকশা করেছিলেন। তালেবানরা বিদেশী ধর্মহীন এনজিও কর্মকাণ্ডের তথ্যাদি পেয়ে জিয়াউদ্দিন পরিবারকে টার্গেট করে। মালালা ও জিয়াউদ্দিন নিয়মিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রিচার্ড হলব্রুকের সাথেও সাক্ষাৎ করতেন ও সিআইএ স্টেশন কমান্ডার ও অন্য কর্মকর্তারা তখন উপস্থিত থাকতেন। সিআইএ এজেন্ট অ্যাডাম বি এলিকের সাথে সম্পর্কও অবাক করার মতো।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সম্পর্কে বইতে লেখা আছে, ‘অনেক সময় সেনাবাহিনী এবং জঙ্গিদের দেখতে একই রকম।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার সেনাবাহিনীর জন্য লজ্জিত।’ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সেনাবাহিনী কাজ করে সে সম্পর্কে বইতে লেখা আছে ‘সেনাবাহিনীর স্ট্রেঞ্জ বিজনেস’ । তিনি আরো বলেন, আইএসআই গোয়েন্দারা ওসামা বিন লাদেনকে পলায়নে সহায়তা করেছিল।

মালালা স্বীকার করেন যে, তিনি ও তার বাবা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ১.১ মিলিয়ন রুপি পেয়েছিলেন। এভাবে মালালা পরিবার, পাকিস্তান সেনাবাহিনী, বিদেশী দূতাবাস, বিবিসি ও সিআইএ থেকে বহু অর্থ কামাই করে দস্তুরমতো টাকার নেশায় পড়ে যায়। পশ্চিমাদের বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক মতাদর্শের হট কেকগুলো বিক্রির জন্য ফন্দি-ফিকির করতে থাকে, যা অদ্যাবধি বিদ্যমান। যারা নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতার কথা বলছেন তারা কেন বিদেশী গোয়েন্দার সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রাখবে, তা সাধারণ লোকও হিসাব করে বের করতে পারে।

বিয়ে বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা প্রচার করে মালালা তরুণদের মন কলুষিত করছেন এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রতিলিপি প্রচার করে ইসলামের বিপরীত ক্রিয়াকর্মকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। বিয়ে ও নিকাহ একটি হালাল উপায়ে স্রষ্টার রহমত পাওয়ার পন্থা। কোনো মুসলমানকে তাই বিধানটি জীবনে অনুকরণ ও প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।

চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছে তালেবান। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিস মালালা। সামাজিক মাধ্যমে নারীর সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ জানান। মালালা টুইটারে বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি পুরোপুরি ধাক্কা খেয়েছি। আমি আফগানিস্তানের নারী, সংখ্যালঘু এবং মানবাধিকারের সমর্থকদের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার



আরো সংবাদ


সাইফউদ্দিনের বিশ্বকাপ শেষ, দলে ফিরলেন রুবেল (২৪১৭৬)প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (১৭৪০৭)কাঁচপুরের বিশাল কারখানা বন্ধের পেছনে কারণ কী? (১৪৪৮৪)কেন ওভারটোন সেতুতে আত্মহত্যা করে কুকুররা (১৩৬২১)স্ত্রীকে বিক্রি করে স্মার্টফোন কিনল নাবালক স্বামী! (১২৫৩৮)পাকিস্তান জেতায় লাভ ভারতীয়দের! (১১৩৩৩)ওয়াকার ইউনিসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার (৭৯৫৪)নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ে ভারত আরো চাপে! (৭৬৭৪)ভারতে ফের ডুবোজাহাজের তথ্যপাচার, ৩ নৌ-কর্মকর্তা গ্রেফতার (৬৭৩৯)নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন : ডিকসন (৬৬৬৪)