১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

কতদূর পতন হলো আমেরিকার?


আফগানিস্তানের ‘পুতুল’ সরকারের প্রধান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আচমকা কেন দেশ থেকে পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে নিজেই বিপরীতমুখী বক্তব্য দিয়েছেন। তালেবানের অগ্রগতি রোধে শেষ সময়ে তিনি বেশ তৎপরতা দেখান। কয়েকজন আঞ্চলিক যুদ্ধবাজ নেতার সাথে বৈঠকও করেন। সামরিক বাহিনীতে তিনি রদবদল আনেন। নতুন সামরিক বাহিনী ‘ইস্পাত কঠিন লড়াই চালিয়ে তালেবানকে গুঁড়িয়ে দেবে’ এমন বার্তা তিনি দিচ্ছিলেন, যার প্রভাবে সারা বিশ্বের মিডিয়া মোটামুটি গাঝাড়া দিয়ে উঠছিল। ভেবেছিল, পরাস্ত মার্কিন বাহিনীর জায়গায় সত্যিকার অর্থে গনির নেতৃত্বে এক সাহসী বাহিনী অচিরেই যুদ্ধের ময়দানে আবিভর্‚ত হবে। ডামাডোল তুঙ্গে তুলে তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন। এমনভাবে উধাও হলেন যে, কেউ তার খোঁজ জানতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত জানা গেল তিনি ‘আসল’ জায়গায় গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের অবৈধ অর্থের ভাণ্ডার হয়ে ওঠা আরব আমিরাতে তার আশ্রয় হয়েছে।

প্রথমে এক ভিডিও বার্তায় গনি দাবি করেন, কাবুলের রাস্তায় বড়সড় রক্তপাত এড়াতে তিনি প্রাসাদ ছেড়েছেন। মানুষের জীবন তার কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, তিনি তড়িঘড়ি কাবুল ছাড়তে গিয়ে চটিজোড়া পড়ে এক কাপড়ে বিমানবন্দরের দিকে ছুটেছিলেন। বিমানবন্দর সূত্রে তখন জানা যায়, প্রত্যক্ষদর্শীরা রানওয়েতে কিছু বস্তা পান। তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করার পর ওগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তার ভেতর ছিল ডলারের কড়কড়ে নোট। ধারণা করা হচ্ছে ব্যক্তিগত বিমানে টাকার বস্তাগুলোর পুরো জায়গা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি কিছু বস্তা ফেলে যান। তিনি ৬৯ মিলিয়ন ডলারের মতো নিয়ে ভেগেছেন বলে জানা যাচ্ছে। তার ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ আমরণ পানশিরে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। দেখা গেল এই লোক সেখানে নেই। বিদেশে পালিয়ে টুইটারে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তালেবানের বিজয়ের পর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাওয়া গেল সাড়ে ছয় মিলিয়ন ডলার।

পালিয়ে যাওয়ার জন্য পরে গনি জানালেন ভিন্ন একটি কারণ। তিনি জানান, সর্বশেষ সোভিয়েত শিখণ্ডি সরকারের প্রধান নাজিবুল্লাহর কথা। তালেবান যখন ১৯৯৬ সালে কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়, নাজিবুল্লাহ তখন জাতিসঙ্ঘ অফিসে আশ্রয় নেন। তালেবান তাকে সেখান থেকে ধরে নিয়ে যায়। একটি জনাকীর্ণ রাস্তায় তাকে প্রকাশ্যে হত্যা করে তারা। ‘বিদেশী সরকারের দালাল’ হিসেবে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এ বিবৃতি থেকে গনির পালানোর আসল কারণ বোঝা গেল। সেটি অন্তত কাবুলে রক্তপাত এড়ানো নয়, বরং নিজের জান হারানোর ভয়ে। যদিও এবার তালেবানের যে বৈশিষ্ট্য তাতে তিনি আস্থা রাখতে পারতেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তালেবানের পক্ষে এ স্বীকৃতি মিলছে যে, তালেবান প্রতিশ্রুতি দিলে সেটি রক্ষা করে। গনি ও সালেহদের ‘মেরুদণ্ডহীন লোভী বিশ্বাসঘাতক’ ছাড়া এখন অন্য কিছু বলা যায় কি?

দোহায় আমেরিকার সাথে চুক্তি হওয়ার পর এ পর্যন্ত তালেবান দৃশ্যত তার শর্ত রক্ষা করে চলেছে। তারা স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একবারও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালায়নি। অন্য দিকে মার্কিন বাহিনী তাদের সাথে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তারা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে এর মধ্যে বিমান হামলা চালিয়েছে। আইএসের ওপর হামলার নামে কয়েকটি জায়গায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাতে বহু আফগান আহত ও নিহত হয়েছেন। অন্য দিকে কাবুলে ঢোকার পর বিজয়ী শক্তি হিসেবে তালেবান ন্যাটো সৈন্যদের ওপর একটি হামলাও চালায়নি। তাদের সাথে কোনো ধরনের বচসায় লিপ্ত হয়নি। তালেবানই প্রথম দাবি করেছে, দোহা চুক্তির লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা। আমেরিকা নিজেদের কথা রাখেনি। হাক্কানি নেটওয়ার্কসহ তালেবানের দেয়া তালিকা অনুযায়ী, সন্ত্রাসী তকমা তুলে নেয়নি তারা। কাবুল সরকারের মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর আমেরিকা বাগড়া দিতে চাইছে। আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর। বহু মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য নেই, পানীয় নেই। করোনাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি ও অপুষ্টিতে ভুগছে তারা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করেছে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ। চুক্তির সব ধারা মানার পরও দুর্বলতাকে পুঁজি করে তালেবানের টুঁটি চেপে ধরার অপচেষ্টা করছে।

আমরা পরাশক্তি আমেরিকার নৈতিক অবস্থানের চরম দুর্বলতা প্রত্যক্ষ করছি। বিশ্বে কোনো একটি জাতি যদি নিজেদের নেতৃত্ব অটুট রাখতে চায়, তা হলে তাকে ন্যূনতম কিছু মূল্যবোধ রক্ষা করতে হয়। পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতনের মধ্যে সেগুলো দেখা গেছে। তারা যখন একটি মূল্যবোধ তৈরি করত তা হলে তারা সেটি রক্ষা করত। যখনই তারা ওই সব মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হতো তাদের পতন শুরু হতো। বিগত কয়েক দশকে মানবাধিকার, নারী অধিকার ও গণতন্ত্রের নামে আমেরিকা যা করেছে; সেগুলোতে খুব কমই স্বচ্ছতা ছিল। প্রকৃত মানবতা, নারী অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে নিজেদের শক্তির তাণ্ডব দেখিয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশ রয়েছে যাদের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নারী অধিকার আফগানিস্তানের চেয়ে ভালো নয়। যখন আমেরিকার শত শত বিমান আফগানিস্তানের আকাশে হানা দিয়েছিল, তখন বহু দেশে ওই সব মূল্যবোধ পুরোপুরি লুণ্ঠিত হচ্ছিল। আফগানিস্তান আক্রমণ বিদ্বেষের প্রমাণ ছাড়া অন্য কিছু নয়।

দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র এসব অধিকারের কোনোটির উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। বোমা মেরে সেখানে তারা লাখ লাখ মানুষ হত্যা করেছে। আর তারা এ জন্য আফগানিস্তানের ভেতর এমন একটি শ্রেণী তৈরি করেছে, যার নৈতিক মানদণ্ড হচ্ছে আশরাফ গনি ও আমরুল্লাহ সালেহদের মতো। বিদেশী শক্তি যখন আগ্রাসন চালায় এ ধরনের লোকজনদের সবসময় সব দেশে দেখা যায়। গনির নেতৃত্বে পুরো বাহিনীর চরিত্র তার মতোই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ বাহিনীর শক্তিমত্তা নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। আমেরিকান সামরিক বাহিনীর মারণাস্ত্র প্রয়োগের সব কৌশল তাদের শেখানো হয়েছিল। ওই সব উন্নত মারণাস্ত্র ও কৌশল তালেবানের ছিল না। তার পরও এ বাহিনীর বাড়তি হিসেবে ছিল ‘নৈতিক মান’। আমেরিকানরা তাদের মানবাধিকার, নারী অধিকার ও গণতন্ত্রও শিখিয়েছিল। এগুলোও তাদের ভাষায় ‘তালেবানের নেই’। দেখা গেল, তিন লাখ সদস্যের উন্নত প্রশিক্ষিত আশরাফ গনি সেনাবাহিনী তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। আফগানিস্তানের কোথাও তারা সামান্য প্রতিরোধ তৈরি করতে পারল না তালেবানের বিরুদ্ধে।

আমেরিকা দুই দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে আফগানিস্তানে। এই পরিমাণ অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কত সাধারণ নাগরিকের বুঝে আসা কঠিন। এক ট্রিলিয়ন মানে এক লাখ কোটি। বাংলাদেশের সর্বশেষ জাতীয় বাজেটের সাথে তুলনা করে এ অর্থের পরিমাণটা বুঝতে চাইছি। এ বাজেটের সর্বশেষ আকার ছিল ছয় লাখ কোটি টাকা। এক ট্রিলিয়ন ডলারকে টাকার অঙ্কে রূপান্তর করলে তা দাঁড়াবে ৮০ লাখ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ২০ বছরে আমেরিকা বাংলাদেশের চলতি বাজেটের ৩০ গুণ অর্থ খরচ করেছে আফগান যুদ্ধে। এই হিসাবের মধ্যে প্রাণ হারানো, পঙ্গু হয়ে যাওয়া সেনাসদস্যদের ভবিষ্যৎ ব্যয় নেই। প্রতি বছর আমেরিকা সেখানে বাংলাদেশের চলতি বাজেটের দেড়গুণ করে খরচ করেছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশের বাজেট ছিল বর্তমান বাজেটের এক-পঞ্চমাংশ। দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বাজেট করেছে আমেরিকা আফগানিস্তানে মানুষ মারার কাজে তার চেয়ে বেশি ব্যয় করেছে।

সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে আমেরিকা নিজেই মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পুরো বিশ্বে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, তার ব্যয় আরো অনেক বেশি। ‘কস্ট অব ওয়ার’ নামে তৈরি করা ব্রাউন ইউনিভার্সিটির হিসাবে নাইন-ইলেভেনের পর থেকে ২০২২ সালের শেষ পর্যন্ত আমেরিকার খরচ দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যান্য হিসাবে এ অঙ্কটি আরো অনেক বড়। আর এ যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে তিন কোটি ৮০ লাখ মানুষ। সব মিলিয়ে বলা যায়, মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটিয়েছে সুপার পাওয়ার আমেরিকা।

অথচ শুধু এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি বিগত ২০ বছরে আফ্রিকার দারিদ্র্য বিমোচনে বরাদ্দ করা হতো, পুরো মহাদেশটির চেহারা বদলে যেত। প্রত্যেকের জন্য বাড়ি হয়ে যেত অনেকের গাড়িও হতো। বাকি সাড়ে তিন ট্রিলিয়নের বেশি অর্থ যদি সারা বিশ্বের দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য ব্যয় করত, তা হলে পৃথিবীর কোথাও দরিদ্র মানুষ দূরবীণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যেত না। যে স্বপ্ন নিয়ে ঘুরছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আমেরিকার প্রশাসন আমাদের ইউনূসকে পছন্দ করে। তবে তার স্বপ্নটি বাস্তবায়নে কখনো কোনো আগ্রহ তারা দেখায়নি। আমেরিকা বৈশ্বিক মানবতার জন্য কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। তারা বরং তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দিয়ে মানুষের ওপর দুঃখ-দুর্দশা নামিয়ে আনছে। আফগানিস্তানে ৮০ লাখ লোক ত্রাণসহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় নগদ অর্থপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি আমেরিকার সমর্থনপুষ্টরা সেখানে ত্রাণসহায়তাও বন্ধ করে দিয়েছে। সে দেশে মানবিক সঙ্কট এড়াতে জাতিসঙ্ঘ মাত্র ৬০ কোটি ডলারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

আমেরিকার নৈতিক এই ধস শেষ পর্যন্ত তাদের সাম্রাজ্যে ধসের পরিণতি বয়ে আনবে। আমেরিকা প্রতিনিয়ত উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার নিয়ে চীনকে চাপে রাখতে চায়। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তাদের অন্যতম কর্মসূচি এটি। একইভাবে আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো অব্যাহত প্রচারণা চালায় এ নিয়ে। চীনের জন্য এটি অস্বস্তি তৈরি করে। আমেরিকাও এটি চায়। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়। বাস্তবতা হচ্ছে নিঃগৃহীত এ সম্প্রদায়ের মানবাধিকার প্রকৃত উন্নতি কখনো আমেরিকা চায়নি। ইস্যুটি তুরুপের তাস হিসেবে তারা থলেতে রাখতে চায়। আলোচনার টেবিলে দরকষাকষিতে তাদের জন্য এটি একটি হাতিয়ার। এ অঞ্চলে উইঘুরদের মতো আরো অনেক জনগোষ্ঠী রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমেরিকা চুপচাপ। কেবল মুখ রক্ষার জন্য কিছু লিপ সার্ভিস দেয়। আমরা দেখেছি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অকার্যকর অবস্থান। রোহিঙ্গা ও কাশ্মির ইস্যু দিয়ে যদি চীন বা তাদের প্রতিপক্ষ কোনো গোষ্ঠীকে ঘায়েল করা যেত তা হলে সেটি নিয়েও তারা আসর জমাত।

আমেরিকার এ আচরণ সামনে আর বেশি দিন চলবে না। তারা যে বয়ান দিয়ে কিস্তিমাত করে, সেই বয়নাই এখন তাদের বিরুদ্ধে তৈরি হচ্ছে। তালেবানরা কথিত কয়েকজন সাংবাদিককে বেত্রাঘাত করেছে। বিশ্ব মিডিয়ার জন্য এটি অনেক বড় খবর। আমাদের দেশেও মিডিয়ায় এটি বড় খবর হচ্ছে। পত্রিকার প্রথম পাতায় বড় করে এ ছবি ছেপেছে। এভাবে বেত মারার প্রকৃত বিস্তারিত কারণ জানাতে কেউ খুব একটা ইচ্ছুক নয়। তারা পিঠের ছোপ ছোপ দাগটি বেশি পছন্দসই মনে করেছে। এপি, এএফপি, রয়টার্স এটি দিয়েছে, তাই এটি একটি ‘বড় খবর’।

আফগানিস্তানের রাস্তায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এবার হিজাব পরা নারীদের দেখা গেল। একেবারে আপাদমস্তক ঢাকা। কেউ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন; আর কেউ তালেবান শাসনের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। তালেবান ব্যাপারটি সম্ভবত ধরতে পেরেছে। যেমন এর আগে ক’দিন চলেছে নারী অধিকারের পক্ষে বিক্ষোভ। তাই কাউন্টার শোভাযাত্রা সম্ভবত তারাই আয়োজন করছে। হিজাব মানে যদি আপাদমস্তক ঢেকে ফেলা বোঝায় আর সেটি যদি জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়; সেটি বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়। এমন বাড়াবাড়ির মন্দ পরিণামও রয়েছে।

তালেবানের বেত্রাঘাত, জোরপূর্বক হিজাব পরানো এগুলোকে বড় অপরাধ হিসেবে সামনে মিডিয়া এনেছে। এমন ‘উগ্রতার’ খবর দিয়ে তারা আগে শত শত জনপদ বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার খবরকে আড়াল করে দিয়েছে। বোমা মেরে মানুষ হত্যার চেয়ে তালেবানের কৃত উগ্রতা কি বেশি ভয়ঙ্কর? সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে এ খেলাটি আমেরিকা ও তার তল্পিবাহকরা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আমেরিকার যুদ্ধাপরাধের বিষয় উত্থাপিত হতে শুরু হয়েছে। তাদের জেনারেলরা লাখো মানুষকে হত্যা করেছেন, তার দায় তাদের পরিশোধ করার দিন এসে গেছে। এগুলো আর প্রচারণা চালিয়ে আড়াল করে রাখা সম্ভব হবে না। নৈতিকতার পতন তাদের এতটাই হয়েছে, কোনোভাবে নিজেদের আর রক্ষা করতে পারছে না।
jjshim146@yahoo.com



আরো সংবাদ