২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

ব্যতিক্রমী এক ইসলামী আইন গবেষক

-

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী আইন গবেষক, মুহাদ্দিস, লেখক ও এ দেশের বিখ্যাত মাদরাসা হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের সদ্য নিযুক্ত মহাপরিচালক ও প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ:-এর ইন্তেকালের পর তিনি হাটহাজারী মাদরাসার তিন সদস্যবিশিষ্ট সর্বোচ্চ পরিচালনা পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইলমি অঙ্গনের একটি উজ্জ্বল প্রদীপ নিভে গেল।

গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে শূরার গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন বসে। বৈঠকে তাকে মহাপরিচালক নির্বাচিত করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একটু পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। সারা জীবন তিনি পঠন-পাঠন, ফতোয়া লিখন, আধুনিক যুগ জিজ্ঞাসায় সৃষ্ট নানা মাসায়িলের শরিয়াহসম্মত জবাব দিয়ে গেছেন। সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তি জীবনের দৈনন্দিন নানা প্রশ্ন, সঙ্কট, দাম্পত্য সমস্যা, দেনমোহর, নারী অধিকার, সুদনির্ভর ব্যবসা, ব্যাংক, বীমা, ইসলামী অর্থনীতি, হুন্ডি, এমএলএম ও শেয়ার ব্যবসা এবং মানবদেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় ও প্রতিস্থাপন প্রভৃতি আধুনিক বিষয় নিয়ে তিনি কলম ধরেছেন। কুরআন, হাদিস ও ফিকহে ইসলামীর আলোকে গবেষণা করে সমাধান দিতে প্রয়াসী ছিলেন। শায়খুল ইসলাম আল্লামা তকি উসমানির সাথে কিছু বিষয়ে বিশেষত ইনস্যুরেন্স ও প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে তার ফিকহি ইখতিলাফ ছিল। এই মতদ্বৈধতা ছিল মূলত অ্যাকাডেমিক ও গবেষণানির্ভর। কিন্তু তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল বরাবরের মতো মধুর ও উষ্ণ।

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই মনীষী ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন নলদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করে তিনি ফটিকছড়ি থানার বাবুনগর মাদরাসায় ভর্তি হন এবং ১৯৫৮ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। অতঃপর চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন জিরি আল জামিয়া আল আরাবিয়া আল ইসলামিয়ায় ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেছিলেন। জীবনের সব পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। তখন জিরি মাদরাসার শায়খুল হাদিস ছিলেন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ: এর শিষ্য ও দারুল উলুম দেওবন্দের কৃতী ছাত্র আল্লামা আবদুল ওয়াদুদ সন্দ্বীপী রহ:। জিরি মাদরাসা অনেক বড় ও উঁচু মাপের আলিম, মুহাদ্দিস ও বুজুর্গ তৈরি করে আসছে। পটিয়া জামিয়া ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি আজিজুল হক রহ:, পটিয়া জামিয়া ইসলামিয়ার সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আলী আহমদ বোয়ালভী রহ:, জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি নুরুল হক রহ:, জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ তৈয়ব রহ:, চট্টগ্রাম দারুল মাআরিফের শায়খুল হাদিস মাওলানা এহসানুল হক স›দ্বীপী রহ: ও হালিশহর দারুল করিম মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা ফরিদ আহমদ আনসারি জিরি মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। আল্লামা আহমদ শফী রহ: কিছু দিন জিরি মাদরাসায় পড়ালেখা করেছেন।

আল্লামা মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী রহ: হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষার জন্য করাচির আল্লামা বিননুরি টাউনস্থ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ায় আবার দাওরায়ে হাদিসে ভর্তি হন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় বেফাক বোর্ড পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। অতঃপর আল্লামা ইউসুফ বিননুরির তত্ত্বাবধানে উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা বিভাগে দুই বছর গবেষণা করে তাখাস্সুস সনদ অর্জন করেন। ইফতা বিভাগে গবেষণাকালে দুই বছরে ইসলামী আইনবিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থের প্রায় চল্লিশ হাজার পৃষ্ঠার অধিক অধ্যয়ন করেছিলেন। তার ভাষাদক্ষতা, ইলমি গভীরতা ও সৃজনশীল প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের, বিশেষত মুফতিয়ে আজম আল্লামা ওলি হাসান টুংকি রহ:-এর পরামর্শে আল্লামা ইউসুফ বিননুরি রহ: তাকে বিননুরি টাউন মাদরাসায় সহকারী মুফতি হিসেবে নিয়োগ করেন। পাশাপাশি তিনি সহিহ মুসলিম ও জামে তিরমিজির দরস দিতেন। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইসলামী আইন গবেষণা বিভাগের (দারুল ইফতা) প্রধান নির্বাচিত হন। ২৮ বছর তিনি এই বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। তার প্রদত্ত ফতোয়া উপমহাদেশের ওলামা মাশায়েখ সম্মানের সাথে গ্রহণ করতেন। এ ছাড়া করাচির বিখ্যাত শাব্বির আহমদ উসমানি রহ: জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী প্রদত্ত বিপুল ফতোয়া বিননুরি টাউন মাদরাসার ইফতা বিভাগের রেজিস্ট্রি লেজারে সংরক্ষিত আছে। কারণ তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর ইফতা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। ইফতা বিভাগে প্রতি বছর আট-নয় হাজারেরও অধিক ফতোয়া জমা হতো। সে হিসাবে আড়াই লক্ষাধিক ফতোয়া তার তত্ত¡াবধানে লেখা হয়েছে।

২০০১ সালে তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন এবং আল্লামা আহমদ শফী রহ:-এর আহ্বানে দারুল উলুম হাটহাজারীর মুফতি হিসেবে যোগ দেন। ইফতা বিভাগ ছাড়াও সুনানু আবি দাউদ, মাআনিল আছার লিত-ত্বাহাভি, সুনানু ইবনি মাজাহ প্রভৃতি হাদিসের কিতাবের পাঠদান করতেন। তিনি ছোট-বড় বিষয়ভিত্তিক ৩০টিরও অধিক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। তন্মধ্যে আহকামে তাওহিদ ও রিসালাত, জাওয়াহিরুল ফতোয়া (১-৫ খণ্ড), হাদিসের আলোকে যুগজিজ্ঞাসা-শরয়ি সমাধান (১-২ খণ্ড), ইসলামী অর্থব্যবস্থার মূলনীতি, ইসলাম ও আধুনিক চিকিৎসা, ইসলামের দৃষ্টিতে মানব অঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় ও প্রতিস্থাপন, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার তাত্ত্বিক আলোচনা, করোনাকালীন সমস্যা ও তার শরয়ি সমাধান, সন্তানের অধিকার ও প্রতিপালন, তাজকিরায়ে মুখলিস, আহকামে রামাজান, কোরবানির আহকাম ও মাসায়েল, রহমতে দু’আলমের মাকবুল দোয়া, ইসলামী সাক্ষ্য আইন ও মুসলিম নারী, মালফুজাতে বোয়ালভি, বিতর নামাজ ও রাকাআত সংখ্যা, ফিকহের আলোকে নামাজে নারী-পুরুষের ব্যবধান, বাংলাদেশে জিহাদের শরয়ি বিধান উল্লেখযোগ্য। তার লিখিত গবেষণাগ্রন্থগুলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

বিশ্বনন্দিত হাদিসবিশারদ সিরিয়ার শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ: পাকিস্তান সফরে এলে মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী তার থেকে হাদিসের ইজাজত গ্রহণ করেন আর অন্য দিকে শায়খ আবু গুদ্দাহও চাটগামী থেকে ইজাজত গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! এ থেকে যেমন শায়খ আবু গুদ্দাহ রাহিমাহুল্লাহর বিনয় ও মহানুভবতার পরিচয় মেলে, তেমনি মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী রহ:-এর অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ ও উচ্চাবস্থানের আভাস পাওয়া যায়। (মাহফুজ আহমদ, গবেষক ও ভাষ্যকার, ইকরা টিভি, লন্ডন)।

আল্লামা মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী করোনাকালীন মুসলমানদের ইবাদত-বন্দেগি নির্বিঘ্ন রাখতে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতির ওপর বিধিনিষেধ বাতিল এবং দেশের সব নাজেরা ও হেফজখানাকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখতে সরকারের প্রতি জোরালো আহহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠি দেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো জনস্বার্থেই নেয়া হয়েছে বলে মনে করি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নাজেরা ও হেফজখানা বন্ধ ও মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা নির্ধারণ করে সরকারি বিধি জারি কোনোভাবেই যৌক্তিক ও প্রত্যাশিত নয়। তিনি আরো বলেন, দেশব্যাপী চলমান লকডাউন পরিস্থিতিতেও শহর ও গ্রাম এলাকার প্রতিটি বাজার, নিত্যপণ্যের দোকান ও ব্যাংকগুলোয় দীর্ঘ সময় মানুষের জনসমাগম ও উপচে পড়া ভিড় চলছে। গার্মেন্টসহ কলকারখানা চালু রয়েছে। অথচ ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে কঠোরতা আরোপ ও সংখ্যা নির্ধারণ করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’

আধুনিক যুগে হরতাল ও ধর্মঘট প্রতিবাদের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত। এর যৌক্তিকতা ও বাড়াবাড়ি নিয়ে আল্লামা মুফতি আবদুস ছালাম চাটগামী রহ:-এর একটি ফতোয়া ব্যাপক সাড়া জাগায়। জনৈক ব্যক্তি লিখিতভাবে তার কাছে জানতে চান, ইসলামে হরতালের ডাক দেয়া এবং হরতালে অংশ নেয়া জায়েজ আছে কি না। এতে ফ্যাসাদের আশঙ্কা থাকে। এটি কি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নয়? কোনো দল বা গ্রুপ যদি হরতালের ডাক দেয় তাতে কোনো দ্বীনি অথবা রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী সহযোগিতা করতে পারবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হরতালের উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারের সাথে অসহযোগিতা। সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে নিষ্কৃতি লাভ। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কখনো হরতাল জায়েজ ও সওয়াবের কাজ। আবার কিছু পরিস্থিতিতে হরতাল নাজায়েজ। সরকার যদি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্বশীল ও দ্বীনি মেজাজের হয়, ইসলামী বিধিবিধান প্রতিষ্ঠায় যত্নবান থাকে, ইসলামী আইনকানুন চালু রাখতে অপারগ না হয়, সরকার তার জনগণের সাথে কোনো ধরনের জুলুম ও বাড়াবাড়ি করে না; এমন সরকারকে সহযোগিতা করা ও নির্দেশ মেনে চলা ওয়াজিব। এমন সরকারের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা, চাপ প্রয়োগ করা বা অসহযোগিতা প্রদর্শন পাপ ও অপরাধ। অন দিকে যে সরকার ইসলামী নয়। ইসলামের বিধিবিধান প্রয়োগে যত্নবান নয় এবং এর সক্ষমতাও নেই। উপরন্তু জাতি ও জনগণের প্রতি জুলুম করে। এমন সরকারকে সহযোগিতা করা ঠিক নয়, বরং নাজায়েজ ও হারাম। কারণ এ ধরনের সরকারকে সহযোগিতা করা মানে, জুলুম ও পাপকে সহযোগিতা করা। এ-জাতীয় সরকারকে অসহযোগিতা করা কেবল জায়েজ নয়, জরুরিও বটে। হরতালের মাধ্যমে যেহেতু অসহযোগিতা প্রকাশ পায় এবং জুলুমের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করা যায় তাই হরতাল অনেক সময় প্রয়োজন হয়ে পড়ে। জালিম সরকারের বিরুদ্ধে হরতাল করা বিদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে না। ইসলামী রাষ্ট্র বা ন্যায়পরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে অন্যায্যপন্থায় সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালালে তা সন্দেহাতীতভাবে বিদ্রোহ। ন্যায্য দাবি নিয়ে হরতাল করলে বিদ্রোহ হবে না। স্মর্তব্য যে, কোনো মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার যদি ইসলামী না হয় এবং জনগণের ওপর নিবর্তন চালায় এমন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ যেমন জায়েজ নেই, তেমনি সহযোগিতাও বৈধ নয়। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, হরতালের সময় দুষ্কৃতকারীরা সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি-বেসরকারি সম্পদ বিনষ্ট করে ফেলে। এগুলো গর্হিত কাজ ও নাজায়েজ। ইসলামী শরিয়তে এ-জাতীয় কর্মকাণ্ড অনুমোদিত নয়। এরা সন্ত্রাসী এবং সাজা পাওয়ার উপযুক্ত (জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া, ১খণ্ড, পৃ. ৫৬৯-৫৭৫)।

আল্লামা বিননুরি টাউন মাদরাসায় ইফতা বিভাগের প্রধান থাকাকালে তার সাথে করাচিতে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাবৃত্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের বিভিন্ন গ্রন্থাগার, ইলমি কেন্দ্র ও বিশ^বিদ্যালয়ে সফরে ছিলাম পিএইচডি অভিসন্দর্ভের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। হাটহাজারী মাদরাসায় আসার পরও বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ ও পছন্দ করতেন। ২০১০ সালে ইসলামী কুতুবখানা, বিননুরি টাউন, করাচি থেকে মুদ্রিত এবং পরবর্তীতে ঢাকার বাংলাবাজারস্থ মাকতাবাতুল ইত্তেহাদ থেকে পুনর্মুদ্রিত, তার লিখিত দ্বিতীয় খণ্ডের গ্রন্থ ‘আপকে সওয়ালাত আওর উন কা হল’ এক ছাত্রের মাধ্যমে তিনি আমার বাসায় হাদিয়া পাঠান। উর্দু ভাষায় লিখিত এবং বাংলায় অনূদিত তার একটি গ্রন্থের আমি সম্পাদনাও করেছি। এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব আল্লামা মুফতি আবদুস সালাম চাটগামী। তিনি এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যে, নিজের অর্থে দ্বীনি বই ছাপিয়ে প্রিয়জনদের হাদিয়া দেয়ার নজির স্থাপন করেছিলেন। বিনয়, সৌজন্যবোধ ও আতিথেয়তা তার চরিত্রের ক’টি বৈশিষ্ট্য। অধ্যয়ন, পাঠদান ও গবেষণায় সর্বদা মগ্ন থাকতেন। একবারে অনাড়ম্বর ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই মনীষী ছিলেন সম্পূর্ণ প্রচারবিমুখ ও সুন্নাতের পাবন্দ। তিনি ছিলেন ইসলামী আইনের মৌলিক গবেষক ও অনুসন্ধিৎসু ফকিহ। তার শূন্য আসন পূরণ হতে বহু দিন সময় লাগবে। আল্লাহ তার বহুমুখী খিদমত কবুল করুন এবং জান্নাতে দারাজাত বুলন্দ করে দিন, আমিন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক
drkhalid09@gmail.com



আরো সংবাদ