১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

সম্প্রীতি নেই, আছে সাম্প্রদায়িকতা

সম্প্রীতি নেই, আছে সাম্প্রদায়িকতা - ফাইল ছবি

বিগত বেশ কয়েক দশকে বাংলাদেশে অন্যতম একটি আলোচনা ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নিয়ে। এর দ্বারা ধর্মান্ধ আচরণে উদ্বুদ্ধ হওয়াকে বোঝানো হয়। আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় রাজনীতিকরা এমন তাড়না থেকে পরিচালিত বলে দেশের কথিত প্রগতিশীলরা প্রায়ই অভিযোগ তোলে।

যাদের বিরুদ্ধে এ নামকরণটি সেঁটে দেয়া হয়েছে, এ দেশে তাদের শেষ পর্যন্ত আর রেহাই মেলেনি। বিশেষ করে বিগত এক যুগে তাদের একেবারে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে যাদের বিরুদ্ধে এ লেভেল সেঁটে দেয়া হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে এমন ঘৃণ্য কাজ করেনি বা তাদের এগুলো করার মতো সামর্থ্য কখনো ছিল না। কিন্তু এ ধরনের একটি নামকরণের সুযোগ বাংলাদেশে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। একে ব্যবহার করে বিদেশী শক্তির গুডবুকে থাকা গেছে, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে শাসন করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতে প্রধান দু’টি ধর্মীয় সম্প্রদায় হচ্ছে হিন্দু ও মুসলমান। আমরা খেয়াল করলে শনাক্ত করতে পারব- এ অঞ্চলে সাম্প্রদায়িকতাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যতটা চাতুর্যের সাথে ব্যবহার করা গেছে; বাকি বিশ্বের কোথাও এমনটি ঘটেনি। বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক আচরণ করে ভারতে যখন মুসলমানসহ সংখ্যালঘুদের অধিকার লুণ্ঠন করা হচ্ছে, সেটিকে সাম্প্রদায়িকতা বলা হচ্ছে না। অথবা ওই সব উগ্র কর্মকাণ্ড আদৌ ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে আওয়াজ তোলা যাচ্ছে না। ভারতে যারা এসব ঘৃণ্য অপকর্ম করছে তারা নিজেদের দেশের মুসলমানদের ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে অভিযুক্ত করছে। এমনকি তারা বাংলাদেশীদেরকেও ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে অভিযোগ আরোপ করে তটস্থ করে রাখে। এ অঞ্চলের বিগত এক যুগের রাজনীতির এটিই ছিল প্রধান বৈশিষ্ট্য। ধর্মীয় কারণে মানুষকে হত্যা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে, ভিটেমাটি থেকে উৎখাত করা হচ্ছে। তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

এর বিপরীতে কেবল ‘হিন্দু’ এই পরিচয়ের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাত খুন মাফ করে দেয়া হচ্ছে। মুসলমান জনপদ উচ্ছেদ করে তাদের বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। মসজিদ উচ্ছেদ করে সেখানে মন্দির গড়ে তোলা হচ্ছে। জায়গার নাম পরিবর্তন করার হিড়িক পড়েছে। নামের মধ্যেও অনেকের ‘ধর্মীয় পবিত্রতা’ রক্ষা করার ‘মহান যুদ্ধ’ দেখছেন। ক্ষমতায় থেকে সরাসরি এসব অপকর্ম করেও বিজেপিকে কোনো সাম্প্রদায়িক তকমা পেতে হচ্ছে না। নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে ক্ষমতা গ্রহণের সময় তার বিরুদ্ধে গুজরাটে ২০০২ সালে দাঙ্গা বাঁধিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ ছিল। মোদি যখন বাংলাদেশে সফরে আসেন- এ দেশের ‘প্রগতিশীলরা’ তাকে সপ্রশংস মানপত্র পাঠ করে শুনিয়েছে। এ দেশের বুদ্ধিজীবী শিরোমণিরা তাকে জয়মাল্য দিতে কোনো দ্বিধা করেননি। প্রগতিশীল গোষ্ঠীর এমন অবস্থান গ্রহণ বাংলাদেশে বহু মানুষকে বিভিন্ন সময় অনিরাপদ করে দিয়েছে।

বাবরি মসজিদকে ১৯৯২ সালে বর্তমানে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির উগ্র শাখা সংগঠনগুলো ভেঙে দিয়েছিল। এ ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত মামলা সে দেশের উচ্চ আদালতে গড়ায়। তবে আমরা দেখলাম, একটি দেশের বিচার বিভাগ কিভাবে শাসকগোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। তাদের রায়ে সেখানে এখন রামমন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে, অর্থাৎ আরএসএসের সিদ্ধান্ত এখন সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরএসএস বহু আগেই এ স্বপ্ন দেখেছে। তারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে ঐতিহাসিক মসজিদ ধ্বংস করেছে। বাকি কাজটি উচ্চ আদালত করে দিয়েছেন। বাবরি মসজিদ এখন ‘রামমন্দির’। একই কায়দায় মসজিদসহ বহু ধর্মীয় উপাসনালয়ের এখন সেদেশে একই পরিণতি বরণ করার অপেক্ষায় রয়েছে। এমনকি তাজমহলসহ বড় স্মৃতিসৌধগুলোও এ তালিকায় রয়েছে। আফগানিস্তানে একটি গোষ্ঠী গৌতমবুদ্ধের মূর্তি ভাঙার পর বিশ্বব্যাপী তোলপাড় হয়ে গেল। সেটি উগ্র গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত তালেবানরা করেছিল। যা-ই হোক, ভারতের শাসকগোষ্ঠী দেশটির আদালত, এমনকি জঙ্গি আরএসএস ও বিজেপি কেউ বুঝি সাম্প্রদায়িক নয়।

মোদির ক্ষমতার মেয়াদের মধ্যে রাজধানী নয়াদিল্লিতে আমরা রায়ট বা দাঙ্গা দেখলাম। সেখানে গণতান্ত্রিক ও সভ্য ভারতের এলিটদের সামনে মুসলমানদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে। বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হত্যা করে নর্দমায় ফেলে দেয়া হয়েছে। আরএসএসসহ বিজেপির জঙ্গিবাদী শাখাগুলোর যেসব উগ্র নেতা এর সাথে জড়িত কিংবা উসকানি দিয়েছে, ক্ষমতাসীন দলে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। যারা এর প্রতিবাদে টুঁ শব্দ করেছে, তারা হুমকি-ধমকি ও শাস্তির শিকার হয়েছে। রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় এমন বহু নজির সৃষ্টি করেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। গত বছর দিল্লি প্রদেশের অ্যাসেম্বলির নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় ‘গুলি মারো...’ স্লোগানদাতা জুনিয়র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরকে ক্যাবিনেটের রদবদলে পদোন্নতি দিয়ে ক্যাবিনেট পদমর্যাদার মন্ত্রী বানিয়ে দেয়া হয়েছে। বিজেপির সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা সামনে থেকে বাস্তবায়ন করায় হিমন্ত আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ তাদের এসব কর্মকাণ্ড ছিল শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ব্যাপারটি নীতিহীন সুযোগসন্ধানীদের জানা হয়ে গেছে। এখন নগরীর কেন্দ্রস্থলগুলোতে সুযোগসন্ধানীরা নিষ্ঠুর সাম্প্রদায়িক হানাহানি করে উপরে ওঠার জন্য মোদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিককালে এমন উগ্র কর্মকাণ্ডের একটি ছিল ভারতের দণ্ডবিধির ২০০টি ধারা সংবিধান থেকে বাতিল করা নিয়ে আন্দোলন। এসব ধারার কারণে সংখ্যালঘুরা আদালতের আশ্রয় পেয়ে থাকে। এর প্রয়োগের কারণে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর চরম চাপাচাপির মধ্যে তারা কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ আন্দোলনে দিল্লি বিজেপির সাবেক মুখপাত্র অশ্বিনী উপাধ্যায়ও ছিলেন। যারা এমন মানবাধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে, তাদের সবার লক্ষ্য একটাই- বড় পদ বাগিয়ে নেয়া। অশ্বিনীসহ কিছু ব্যক্তি এবার গ্রেফতার হয়েছেন। তবে এ ধরনের গ্রেফতার যে ‘আইওয়াশ’ তা সবার জানা। এসব ক্ষেত্রে আদালত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অপরাধীদের উত্থানপর্ব দেখা যায়। অশ্বিনীসহ এ ‘পালের সদস্য’রা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পেতে যাচ্ছেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত।

দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র গত বছর রাজধানীর জাফরাবাদে ডিসিপির উপস্থিতিতে দাঙ্গা লাগানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। এর সব প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অন্য দিকে হাইকোর্টের বিচারপতি মুরলিধরনের বিরুদ্ধে ঘটল এর সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। তিনি বিজেপির ওই উগ্র রায়ট থামানোর যথেষ্ট চেষ্টা না করার জন্য দিল্লির পুলিশকে ভর্ৎসনা করেন। সাথে সাথে বিজেপির সরকারের কোপানলে পড়ে গেলেন তিনি। রাতারাতি তাকে চণ্ডিগড়ে বদলি করে দেয়া হয়। ওই সময় উত্তেজনা সৃষ্টি ও উসকানি দেয়ার সব সীমা অতিক্রমকারী রাগিনী তিওয়ারির বিরুদ্ধেও কোনো মামলা করা হয়নি। রাজপথে-মহাসড়কে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়ানোর জন্য তারা তৎপর। স্লোগান না দিলে মুসলমানদের গণপিটুনি দেয়া হচ্ছে। যারা এর মাধ্যমে স্টার বা তারকা হয়ে সামনে আসতে পারছে, তারা হয়ে যাচ্ছে বিজেপির ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নেতা। এগুলো সারা ভারতের বর্তমান নিত্যদিনের বাস্তবতা। এর পরও তারা সৌভাগ্যবান যে, কেউ তাদের জুতসই সাম্প্রদায়িকতার তকমা দিতে পারেন না। অন্য দিকে আমাদের দেশে এ তকমা যাদের বিরুদ্ধে সাঁটা হয়েছে, তারা প্রায় ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে। অথচ বিজেপি ও তাদের আশ্রয়ে থাকা উগ্র সংগঠনগুলোর মতো কোনো জঙ্গি কর্মকাণ্ড তারা করেনি।

ভারত কোনো ধর্মরাষ্ট্র নয়, বরং ধর্মনিরপেক্ষ হওয়ার দাবিদার। তাদের সংবিধানের প্রকৃতি ‘অসাম্প্রদায়িক’। ধর্মীয় নীতি ভারত রাষ্ট্র্র পরিচালনার আদর্শ হতে পারার কথা নয়। তার পরও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ উদার নীতির চর্চা কখনো দেশটিতে হতে দেখা যায়নি। বিগত ২০১৪ সালে দেশটি বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক দলের হাতে পড়ে যায়। দেশটির সংবিধান এক দিকে, সরকার চলছে এর বিপরীত দিকে। এরই মধ্যে দেশটির গণতন্ত্রের মান দ্রুত নিচের দিকে নেমে গেছে। ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের পররাষ্ট্রবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনের এ ছয় বছরে দেশটির গণতন্ত্রের মান ২৬ ধাপ নিচে নেমেছে। দেশটি ২৭তম অবস্থান থেকে গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে এখন বিশ্বে ৫৩তম অবস্থানে নেমে এসেছে। এর আগে ‘ভ্যারাইটিস অব ডেমোক্র্যাসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত এখন ‘নির্বাচিত স্বৈরাচার’ চলছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় চাপে থাকে সংখ্যালঘু একটি সম্প্রদায় নিয়ে। মোদির ভারত শাসনের সময় সেই চাপ আরো বেড়েছে। এসব চাপের কারণ সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সবার কল্যাণ করা নয়; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি এলিট হিন্দুদের সুযোগ-সুবিধা ও আবদার রক্ষার জন্য। সাধারণ হিন্দুদের নির্যাতিত হওয়ার ধারা আন্তরিকভাবে তারা রোধ করতে চায় না। সেটিকে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য ব্যবহার করতে চায়।

ভারতের শাসকগোষ্ঠী এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারকে বাগে আনতে চায়। আর বাংলাদেশের সরকারও এটিকে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায় তার বিরোধীদের দমানোর জন্য।

শুধু হিন্দু নয়, অন্যান্য সংখ্যালঘুও এ দেশে নির্যাতিত হয়েছে। তাদের উপাসনালয় ভাঙা হয়। বৌদ্ধদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতে দেখা গেছে। ‘আদিবাসী’রা তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়ে থাকে। এসব অপকর্মের পেছনে সবসময় পাওয়া যাবে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী পেশিবাজ গোষ্ঠীকে। তারা জায়গা সম্পত্তির লোভে এমনটি করেছে। এ ধরনের সুযোগসন্ধানী ধান্ধাবাজ লোক প্রতিটি দেশে রয়েছে। ভারতে যেভাবে সরাসরি রাষ্ট্রীয় মদদে এগুলো ঘটে, বাংলাদেশে সেটি সরাসরি কখনো ঘটে না। বরং সরকার সবসময় এ নিয়ে একধরনের বিষম অস্বস্তিতে থাকে। বাংলাদেশে আলেম-ওলামা বা ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা এমন কাজ করেছেন এর কোনো নজির এ দেশে নেই। বরং উল্টো নজির পাওয়া যাবে- তারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেন। তাদের বাসাবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন- এমন খবরও বিভিন্ন সময় পাওয়া যায়।

তার পরও এ দেশে সাম্প্রদায়িকতা ইস্যুটি অনেক সময়ে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে- একটি বিশেষ গোষ্ঠী এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলেছে। একটি উদাহরণ দিলে এ ব্যাপার কিছুটা বোঝা যাবে। নরেন্দ্র মোদির সর্বশেষ বাংলাদেশ সফরে এ দেশের আলেম-ওলামা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে চেয়েছেন। তাদের কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। ওই সময় এক ডজনের বেশি মানুষ প্রাণও হারিয়েছে। ‘হুজুর’দের ওই সব প্রতিবাদ বিক্ষোভকে ‘সাম্প্রদায়িক’ আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সময় মসজিদ ও মাদরাসায় আক্রমণ চালানো হয়। পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দল এ কাজ করেছে। অথচ এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শনের সঙ্গত কারণ ছিল। অন্য দিকে মোদি নিজে এ দেশে এসেই ধর্মীয় উপাসনালয়ে গেছেন। একাধিক উপাসনালয়ে তিনি উপাসনা করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কখনো ভারত সফরে গিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদে যাওয়ার রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি পালন করার চিন্তাও করতে পারেন না। সফরে এমন অ্যাজেন্ডা থাকলে ভারত সরকার কখনো সেটি ইতিবাচকভাবে নেয়ার উদারতা দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না।

এ দেশে নিম্নবর্ণ ও সাধারণ হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন ও বর্ণবাদী আচরণ বন্ধ করা যায়নি। অন্য দিকে রাষ্ট্র হিসেবে অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে গিয়ে অভিজাত ব্যক্তিদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেয়ার যেন উৎসব চলছে। অভিযোগ, সরকারের প্রশাসনে সম্প্রদায় বিশেষকে গণহারে পদোন্নতি দেয়ার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে। পুলিশে তাদের নিয়োগে আধিক্য প্রায় দৃষ্টিকটু। একজন পুলিশ অফিসার হিন্দু হলেই কি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাবেন? এটি অনেকটা যেন বাঁধাধরা নিয়ম হয়ে গেছে। সে কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ থানার প্রধানরা হিন্দু। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাহী পদগুলো তাদের দেয়া হয় বেশি। সংখ্যাটা এত বেশি যে, জনসংখ্যার অনুপাত নিয়ে চিন্তা করতে ইচ্ছা করবে। এটি কোনো স্বাভাবিক প্রশাসন পরিচালনার নিয়ম নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে পদ-পদবি ১০ শতাংশ পাওয়ার কথা যাদের, সেটি যখন ২০ এমনকি ৩০ শতাংশ হয়, তা অন্যান্য জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে করতে হয়। হিসাব নিয়ে দেখুন, ভারতের ২০ শতাংশ সংখ্যালঘুর জন্য সরকারি প্রশাসনে কত শতাংশ পদ বরাদ্দ রয়েছে। বিখ্যাত সাচার কমিশনের এক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ভারতে মুসলমান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি দেশের সরকারি প্রশাসনে একেবারেই নগণ্য। সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীতে তা-ও নেই। বাহিনীগুলোর অফিসার পদে সাধারণত আর মুসলমান ভারতীয় নাগরিকদের দেখা যায় না।

‘সাম্প্রদায়িকতা’ একটি গালি হিসেবে বাংলাদেশে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর ফল যদি দেশের জন্য ভালো হতো তা হলে সেটিকে স্বাগত জানানো যায়। অন্য দিকে ভারতে প্রকৃত সাম্প্রদায়িকতার প্রয়োগ ঘটে চলেছে। সেটি নিয়ে আমাদের প্রগতিশীল মহল খবরও রাখতে চায় না। এমনকি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে ভারতের ন্যক্কারজনক ঘটনাগুলোর খবর খুব কমই আপনি পাবেন। এ দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে ভারতে থাকা তাদের প্রতিনিধিরা সাধারণত তা পাঠায় না। খবরের গেট কিপিংয়ের কাজটি তারা এক দফা ভারতে বসে করে। আরেক দফা আমাদের প্রগতিশীল সাংবাদিকরা সেটি এ দেশে বসে করে। সে দেশের সবচেয়ে বড় খবর আমাদের জন্য বলিউডের নায়ক-নায়িকাদের ব্যক্তিগত জীবন।
jjshim146@yahoo.com



আরো সংবাদ