৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

সন্ত্রাসের মূল হোতা কারা

-

বিগত সহস্রাব্দের প্রথম কয়েক শতাব্দী ইংরেজ অধ্যুষিত ইংল্যান্ড ইউরোপের অত্যন্ত দারিদ্র্যপীড়িত দেশ ছিল। সে সময় এ দেশটিতে অভ্যন্তরীণভাবে যে খাদ্য উৎপাদন হতো তা দিয়ে দেশটির এক মাসের খাদ্যচাহিদা মিটানো সম্ভব হতো না। সে সময় থেকে দারিদ্র্যের চরম কশাঘাতে দেশটির জনমানুষ ভাগ্যান্বেষণে দেশত্যাগ করতে শুরু করে। তখন দেশটির মোট জনসংখ্যার বৃহদংশ দেশ ত্যাগ করে। ভাগ্যান্বেষণে দেশের বাইরে গিয়ে চতুর ও ক‚টবুদ্ধিসম্পন্ন ব্রিটিশরা সফলতা পায় এবং বিগত সহস্রাব্দের ষোড়শ শতকের পর দেখা যায়, পৃথিবীব্যাপী তাদের সাম্রাজ্য এতটাই বিস্তৃত যে সে সাম্রাজ্যে সূর্য ডোবে না।

ব্রিটিশরা প্রথমত ভাগ্যান্বেষণে অতঃপর বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করে। তারা বাণিজ্যের নামে বিভিন্ন দেশে কুঠি স্থাপন করলেও বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব ও কলহকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সফল হয়। এভাবে তারা বিপুল বিত্তশালী হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে তাদের নিজ দেশে পুঞ্জীভ‚ত করতে থাকে। ব্রিটিশ জাদুঘর পরিদর্শন করলে দেখা যায় পৃথিবীর সব অঞ্চলের মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য সম্পদে তাদের জাদুঘর সমৃদ্ধ।

আমার চাকরি জীবনের মাঝপর্যায়ে ইংল্যান্ড সফরের সুযোগ হয়েছিল। সফরকালীন আমাকে ও আমার সহকর্মীকে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনস্থ বিভিন্ন কার্যালয় ও স্থাপনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন গাইড (পথপ্রদর্শক) দেয়া হয়। ওই গাইড হিথ্রো বিমানবন্দরে আমাদের অভ্যর্থনা জানান। অভ্যর্থনা পরবর্তী গাড়ি করে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন কথার ফাঁকে অনেকটা সরল প্রকৃতির গাইড নিজেদের জাতির আত্মপরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, We are the greatest thief of the world. ‘অর্থাৎ আমরা পৃথিবীর মহাচোর।’ তার উক্তির যথার্থতা অনুভব করলাম সে দেশের জাদুঘর দেখে। আমাদের উপমহাদেশের মহামূল্যবান সম্পদ বলতে প্রথমে যে দু’টি নাম উঠে আসে সেই ময়ূর সিংহাসন ও কোহিনূর নামক হীরকখণ্ড রয়েছে ব্রিটিশ জাদুঘরে। শুধু তা-ই নয়, পৃথিবীর এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানকার মহামূল্যবান সম্পদের স্থান সে জাদুঘরে হয়নি। এমনকি মানবজাতির শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল কুরআনের হাতে লেখা প্রথম কপিটিও সে জাদুঘরে সংরক্ষিত। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মহামূল্যবান ধাতব, কষ্টি ও মার্বেল পাথরের অসংখ্য মূর্তির ঠাঁই হয়েছে এই জাদুঘরে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের এমন কিছু দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী রয়েছে, যার মূল্য অর্থ দ্বারা নিরূপণ করা দুরূহ।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পরবর্তী ৩-৫ দশক সময় কালের মধ্যে ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর বেশির ভাগ দেশ স্বাধীন হয়। ব্রিটিশরা পৃথিবীতে ইংরেজি ভাষাভাষী চারটি রাষ্ট্রের পত্তন করে। এগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তা ছাড়া বেশ কিছু ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে যেগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রয়েছে এবং যেগুলোর অধিবাসীরাও ব্রিটিশ, যেমন ফকল্যান্ড। যেকোনো ব্রিটিশ নাগরিক ভিসা ছাড়াই এ চারটি রাষ্ট্রে যেতে পারে। একইভাবে এ চারটি রাষ্ট্র থেকে কেউ যুক্তরাজ্যে আসতে চাইলে তারও ভিসা লাগে না। যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রয়েছে এমন দ্বীপগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য।

ব্রিটিশরা এ চারটি রাষ্ট্রে উপনিবেশ স্থাপনের সময় স্থানীয় আদিবাসীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। কিন্তু ব্রিটিশরা সামরিক শক্তি প্রয়োগে সে প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়। সে সময় ব্রিটিশরা যে নৃশংসতা, নির্মমতা ও নির্দয়তার মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের হত্যা করেছিল এমন নজির বিশ্বে বিরল। কথিত আছে, তারা আদিবাসী বাবা-মার সামনে তাদের শিশুদের দু’পা ধরে টেনে শরীরকে দ্বিখণ্ডিত করে কুকুর দিয়ে খাইয়ে উল্লাস প্রকাশ করত।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশরা বিজয়ী হলে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। এ পতনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে যে পরিবর্তনের সূচনা হয় তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় পরবর্তী পূর্ণতা পায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে না পড়লে ব্রিটিশদের এ যুদ্ধে পরাজয় ঠেকানো যেতো না। তা ছাড়া ধারণা করা হয়, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধে না জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তাও ব্রিটিশদের পরাজয় রোধ করতে পারত না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও আধিপত্যের বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে যুক্তরাজ্যের পাউন্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিনিময়যোগ্য মুদ্রার স্থান দখল করে নেয়।

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী রাষ্ট্রগুলো তেল ও গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সম্পদের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এ তেল ও গ্যাস সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে ওঠে এবং এরই অংশ হিসেবে তাদের সৃজিত সীমারেখা দ্বারা সৃষ্ট রাষ্ট্রে তারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের ক্ষমতায় বসায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরাইল রাষ্ট্রটির সৃষ্টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ইহুদিরা মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থসহায়তা প্রদান করে। ইহুদি রাষ্ট্রটি সৃষ্টিকালীন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইহুদিদের ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে জড়ো করে রাষ্ট্রটির পত্তন করা হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে কুয়েত ইরাকের অংশ ছিল। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যুদ্ধের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কুয়েতের সৃষ্টি করে। পরে ৯০ দশকের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনে ইরাক কুয়েত আক্রমণ করে দেশটি দখল করে নেয়। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতের পক্ষাবলম্বন করে ইরাকের ওপর চড়াও হয়ে ইরাককে পরাভূত করে সেখান থেকে বিতাড়িত করে। এ যুদ্ধে ইরাক ও কুয়েত এ দু’টি রাষ্ট্রের বিপুল সম্পদহানি ঘটে। আর মধ্যখান হতে ফায়দা লোটে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন। তারা উভয়ে স্ব স্ব দেশের প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন এবং তেলসম্পদ জাতীয়করণ করে এ থেকে পাওয়া অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যয় করেন। এ দু’টি রাষ্ট্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক হতে শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চক্ষুশূল ও মর্মবেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা যেকোনো মূল্যে সাদ্দাম হোসেন ও গাদ্দাফিকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়নের ফন্দি আঁটে। একপর্যায়ে এ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক অভিযোগের ভিত্তিতে ইরাকে আক্রমণ করে। তারা সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত ও প্রহসনের বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে; কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরাকে এখনও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। সাদ্দামের হাতে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র বিষয়টি যে মিথ্যা এবং নেহায়েত অপপ্রচার ছিল তা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে বিলম্ব ঘটেনি।

লিবিয়ার জনপ্রিয় শাসক গাদ্দাফিকে অমানুষিক ও নির্মমভাবে হত্যা বর্বরতার নিকৃষ্ট নজির হিসেবে দেখা হয়। গাদ্দাফির শাসনামলে লিবিয়ার প্রতিটি নাগরিকের ঘরে যে সুখ ও শান্তি ছিল গাদ্দাফির বিদায়-পরবর্তী জাতিগত কোন্দল ও হানাহানিতে লিপ্ত দেশটি হতে তা উধাও হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংলগ্ন মধ্য এশিয়ার প্রান্তিক দেশ আফগানিস্তানে সোভিয়েত রাশিয়ার দখলদারিত্বের অবসানের জন্য যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র মুজাহিদীন, তালেবান ও আলকায়েদা বাহিনী সৃজনপূর্বক এ বাহিনীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসম্ভার দিয়ে সমৃদ্ধ করে তোলে। এ বাহিনীগুলোর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেলে সেখানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট হয়। পরবর্তী সময়ে এ বাহিনীগুলোর কাছে যুক্তরাজ্যও যুক্তরাষ্ট্রের অসৎ উদ্দেশ্য খোলাসা হলে তারা এ দু’টি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত তাঁবেদার সরকার ও এর সমর্থনপুষ্ট বিদেশী বাহিনীর প্রতি রুখে দাঁড়ায়। একদা শান্ত ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে খ্যাত আফগানিস্তানে সোভিয়েত ও মার্কিন আগ্রাসন পূর্ববর্তী নাগরিকদের মধ্যে যে সুখশান্তি ছিল আজ তা সম্পূর্ণরূপে বিপন্ন। যে মুজাহিদীন, তালেবান ও আলকায়েদা একদা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অতি কাছের ও একান্ত বিশ্বস্ত ছিল আজ কেন তারা তাদের প্রতি বৈরী এর উত্তর বিশ্ববাসী এ দু’টি শক্তিধর রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করে।

আজ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রহীনতার কারণে বিস্ফোরণমুখ। মিসর থেকে গণ-আন্দোলনের মুখে হোসনি মোবারকের বিদায় পরবর্তী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে মোহাম্মদ মুরসির ইসলামী ব্রাদারহুড পার্টি বিজয়ী হলে তিনি দেশটির রাষ্টপ্রধান পদে আসীন হন। কিন্তু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তার ক্ষমতায় আরোহণ দীর্ঘায়িত হয়নি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি ষড়যন্ত্রে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে আটক-পরবর্তী প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাসহ পৃথিবীর কোনো দেশে গণতন্ত্র নাকি স্বৈরতন্ত্র নাকি রাজতন্ত্র থাকবে এটি নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়েছে আজ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ও সাদা চামড়াধারী তাদের মিত্ররা। আর তাই এদের স্বার্থের কাছে এসব দেশের জনআকাক্সক্ষা নির্বাক হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা দীর্ঘ দিন যাবৎ সিরিয়ার শাসক বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সে দেশের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করে তুলেছে। এ বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর বাইরে তারা আইএস নামক আরেকটি অত্যাধুনিক অস্ত্রসংবলিত শক্তিধর বাহিনী গড়ে সম্মিলিতভাবে সিরিয়া ইরাক ও তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত করেছে। যদিও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্ররা প্রকাশ্যে বলে আসছে যে, তারা আইএসকে উৎখাতে তৎপর; কিন্তু গত এক বছর যাবৎ এ কথা বলে তারা আইএসএর বিরুদ্ধে যতটুকু সফলতা পাওয়ার কথা বলছে রাশিয়া কর্তৃক এ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর দেখা গেল এক সপ্তাহে অর্জিত সফলতা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ যৌথ বাহিনীর তথাকথিত সফলতাকে ম্লন করে দিয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে আইএস মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী সিআইএ এবং ইসরাইলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের সৃষ্ট। আর এ বাহিনী সৃষ্টির পেছনের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্র ও ইসরাইলের স্বার্থ সংরক্ষণ।

যেকোনো দেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যখন কোনো বাহিনী অস্ত্রধারণ করে তখন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সে বাহিনীটিকে সন্ত্রাসী বাহিনী বলা হয়। আজ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছে সন্ত্রাসীর সংজ্ঞা ভিন্ন। তারা তাদের স্বার্থের প্রতি অনুগত সন্ত্রাসীদের বলছে ভালো সন্ত্রাসী অপর দিকে তাদের স্বার্থের জন্য হানিকর সন্ত্রাসীদের বলছে খারাপ সন্ত্রাসী। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের শক্তি ও স্বার্থের কাছে আজ সন্ত্রাসীর সন্ত্রাসের মূল হোতা কারাসংজ্ঞাও অসহায়।

মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে সাদ্দাম ও গাদ্দাফির বিদায়ের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সমগ্র অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সামগ্রিক অস্থিতিশীলতার কারণে এ অঞ্চলগুলোর লাখ লাখ অধিবাসী আজ নিজ দেশে ভিটামাটি ও গৃহহারা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যদিও উচিত এ লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে সমস্যার সমাধান করা; কিন্তু সে ব্যাপারে তারা তৎপর নয়।

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক যুক্তরাজ্যের সহায়তায় ইরাকের দখল থেকে কুয়েতকে মুক্ত করার পর যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট বুশ কুয়েত সফরে গেলে তাকে যে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়া তা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ভাগ্যেও জোটে না। যুক্তরাষ্ট্র তার ভাষ্য অনুযায়ী জনস্বার্থ পরিপন্থী কাজ করার জন্য পানামার রাষ্ট্রপ্রধান নরিয়েগাকে নিজ দেশে নিয়ে এসে তার বিচারের ব্যবস্থা করেছিল। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এ চারটি রাষ্ট্রের অধিবাসীরা যুক্তরাজ্যের নাগরিক ব্রিটিশদের উত্তরসূরি। যুক্তরাজ্যের যেকোনো পদক্ষেপ ন্যায় বা অন্যায় হোক তারা সবসময় এ চারটি রাষ্ট্রসহ ইউরোপের সাদা চামড়াধারীরা তাদের পাশে পেয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ব্রিটিশ ও তাদের উত্তরসূরিদের অন্যায়গুলো অপ্রতিরোধ্যভাবে চলতে থাকার কারণে তারা তাদের সামর্থ্যরে হানি ঘটলেও অতীতের শক্তিমত্তার বড়াই করে তাদের মোড়লগিরি অব্যাহত রাখতে চায়। কিন্তু বিশ্বব্যবস্থাসহ অর্থনীতি ও রাজনীতির যে পরিবর্তন ঘটেছে এবং শক্তি ও ক্ষমতার ব্যবধান যে সঙ্কুুচিত হয়ে তাদের প্রতিক‚লে অবস্থান নিতে চলেছে এটুকু উপলব্ধি করার বোধশক্তি সম্ভবত তারা হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু তাদের এ মোড়লগিরি হয়তো বেশিদিন থাকবে না যখন দেখা যাবে বড় বুশ, ছোট বুশ ও বেস্নয়ারের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের জন্য বিশ্ববাসী একাট্টা।

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com



আরো সংবাদ


সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে হামাস বেগম জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা চান ‘ভাষা মতিনের’ স্ত্রী ওমিক্রন : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ৭ প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকা শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে : কাদের ওমিক্রন : সতর্কতায় বেনাপোল চেকপোস্ট ও বন্দর ওমিক্রন উদ্বেগের কারণ, আতঙ্কের নয় : বাইডেন হাফ ভাড়া কার্যকরে থাকছে যেসব শর্ত রাঙ্গামাটিতে প্রতিপক্ষের গুলিতে জেএসএস’র নেতা আবিষ্কার চাকমা নিহত কাল থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর বাসচাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত : হেলপার আটক দক্ষিণ আফ্রিকায় দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াতে পারে

সকল