১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

রাজনীতির শূন্য মাঠে আগাছা


কিভাবে এ জগতের উদ্ভব হলো এ নিয়ে মানুষ বহু চিন্তাভাবনা, গবেষণা করেছে। এ চিন্তার ফসল হচ্ছে বৃহৎ বিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং তত্ত্ব; অর্থাৎ একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে যে চার পাশটা আমরা দেখছি তা অস্তিত্বে এসেছে। এই তত্ত্ব বিজ্ঞানী জগতের সবাই মোটামুটি মেনে নিয়েছে। এখন বিতর্ক হচ্ছে, এ বিস্ফোরণের কর্তা কে। এ নিয়ে দ্বিধাদ্ব›দ্ব কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। মহাশক্তিমান কেউ একজন এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এমনটিই বাস্তব হয়ে ওঠে। যারা এটি মানতে চাচ্ছে না, তারা এটিও নিশ্চিত করতে পারছেন না যে, আপনা হতেই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।

জগৎ সৃষ্টিসংক্রান্ত বিগ ব্যাং আমাদের আলোচনার বিষয় নয়; বরং এর ফলে সৃষ্ট স্পেস আমাদের আলোচনার বিষয়। এ শব্দটি বাংলায় লেখা হয় ‘মহাশূন্য’। আজ আমরা উপরের দিকে তাকালে যে মহাজগৎ দেখতে পাই, সেটিই মহাশূন্য। আমরা যে বিস্তৃত ভ‚মিতে চলাফেরা করি সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। উপরের সীমাহীন আকাশ এবং নিচের দিগন্ত বিস্তৃত ভ‚মি আমাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বড়ই প্রয়োজনীয়। উপরের আকাশের ওপর কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই আলো-বাতাস গ্রহণ ও শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ক্ষেত্রে তারা কোনো বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। এমনকি পৃথিবীতে অন্য কোনো শক্তিও নেই, যারা আলো-বাতাস বন্ধ করে দেবে। সূর্য ও চন্দ্র প্রতিদিন প্রত্যেককে যে সেবা দিচ্ছে পরাশক্তি আমেরিকাও তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। তাই চরম অপছন্দ হওয়ার পরও দুর্বল পক্ষগুলো পৃথিবীতে বেঁচেবর্তে রয়েছে। ‘মহাবিস্ফোরণ’ নিজেই, অতি চালাক মানুষের চেয়েও, বুদ্ধিমান বলতে হবে। এ বিস্ফোরণে সৃষ্ট সুযোগ-সুবিধা নিয়ন্ত্রণ যদি মানুষের আয়ত্তের মধ্যে এসে যেত, শক্তিশালী পক্ষ দুর্বলকে তা থেকে বঞ্চিত করত। সে জন্য সম্ভবত সব জ্ঞানের উৎস, একজন সর্বশক্তিমানের অস্তিত্ব স্বীকার না করে পারা যায় না।

তবে ভূ-পৃষ্ঠের মাটির ওপরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে। তাই অনেক বৈষম্যও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে আধুনিক যে রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তা মানুষদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার বিপুল ক্ষমতা রাখে। এই রাষ্ট্র কখনো এমনও হতে পারে- কাউকে শত্রু বিবেচনা করলে তাকে এক ইঞ্চি জমি থেকেও বঞ্চিত করে দিতে পারে। এ জন্য বহু মানুষকে শেষ পর্যন্ত দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়। কারাগারের সামান্য জায়গায় ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষকে রাখা হচ্ছে। তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয় দেয়া হয় না। সীমিত জায়গায় শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে না পেরে তারা অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারান। একটি দেশের রাজনৈতিক সিস্টেমের মধ্যেও এমনটি ঘটতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম ‘রাজনীতি’। মানুষ অনেক ধরনের রাজনীতি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ‘গণতন্ত্র’কে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের রাষ্ট্র্র পরিচালনার জন্য গণতন্ত্র বেছে নিয়েছে। আমরা যাচাই করে দেখব, গণতন্ত্র আমাদের দেশে কিভাবে অনুশীলন করা হচ্ছে।

রাজনীতির শূন্য মাঠ
গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর বিএনপি নতুন নেতৃত্ব দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। দলটির মূল কর্মসূচি ছিল বেলা ১১টায়। নেতাকর্মীরা তার আগেই জিয়ার মাজারে সমবেত হতে থাকেন। পুলিশ সেখানে যেতে তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় তাদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শেষে ক্যাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ও গুলি চালায়। এতে তাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে অনেকে গুরুতর জখমও হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪৭ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। এটি কোনো প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল না। কারণ ওই ধরনের কর্মসূচি বিরোধীরা অনেক আগে থেকে বন্ধ রেখেছে। ওই সব কর্মসূচির আয়োজন করলে পুলিশ নিষ্ঠুর কায়দায় দমন করে থাকে। তারা সরাসরি বুলেটের ভাষায় জবাব দেয়। সে জন্য দলটি আর সরকারের কোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ রাজপথে জানায় না। প্রেস ক্লাবের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিকেও পুলিশের আক্রমণ থেকে রেহাই দেয়া হয় না। দলটির মানববন্ধন কর্মসূচিও ধরতে গেলে নেই।

নবনির্বাচিত মহানগর কমিটি স্রেফ জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মুনাজাত করতে যায়। দলের নেতাকর্মীরা অনেক দিন পর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ পাওয়ায় দলে দলে তারা ভিড় জমান। পুলিশের কাছ থেকে এ কর্মসূচির জন্য অনুমতি নেয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, করোনার কারণে কেউ সমবেত হতে পারবে না। বিএনপির লোকেরা সেটি উপেক্ষা করেছে। তাই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। মন্ত্রীর এমন দাবি যে সঠিক নয়, তা আমরা প্রতিদিনের নানা কর্মসূচি থেকে দেখতে পাই। এমনকি সরকারি দলের লোকেরা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করেন। তারা পার্টি দিয়ে জমায়েত হয়ে জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী পালন করেন অনায়াসে। বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করুক আসলে তা তারা চান না।

হামলা-পরবর্তী পুলিশের কার্যক্রম থেকে বিষয়টি আরো পরিষ্কার বোঝা যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ১৫৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালত ২৬ জনকে দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন। দ্রুততার সাথে আদালতে মামলা গড়ানোর এ নীতি যদি আমরা সব পর্যায়ে মেনে চলতে পারতাম, তা হলে দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির আজ এমন বাড়ন্ত অবস্থা হতে পারত না। ঘটনার বিশ্লেষণে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, সরকার তার বিরোধীদের কোনো স্পেস দিতে চায় না। এত দিন ধরে সে নীতি সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে। ফলে বিরোধী দলের কার্যক্রম নয় শুধু, বিরোধীদেরও অনেকটাই মুছে ফেলা গেছে।

স্পেস বেশি পাওয়ার কুফল
রাজনৈতিক অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে সরকার স্পষ্টত দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। নিজের দলের ব্যাপারে নিয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান। সরকারের বিভিন্ন দল উপদল এখন এতটাই স্বাধীনতা ভোগ করছে যে, তারা কোনো আইনকানুনের তোয়াক্কা করছে না। কখনো কখনো তারা সরাসরি সরকারের ওপর চড়াও হচ্ছে। বরিশালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনা থেকে ব্যাপারটি আমরা বুঝতে পারব। ব্যানার, বিলবোর্ড উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সেখানে বড় ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় মেয়রের পক্ষ সহ্য করছে না মন্ত্রীর পক্ষকে। ফলে একপক্ষে মেয়রের লোকেরা মামলা করেছে স্থানীয় ইউএনও ও ওসির বিরুদ্ধে। তার আগে ইউএনও ও ওসির পক্ষ থেকে মেয়রকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবচেয়ে বেশি লুণ্ঠিত হচ্ছে। গুম হয়ে যাওয়ার পরও মানুষ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে পারে না। এক থানা দায়িত্ব এড়িয়ে অন্য থানার ওপর বর্তাতে চায়। মামলা নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে উপরস্থ কর্মকর্তাদের ওপর। কিংবা তারও ওপরে রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের মর্জির ওপর। এমন ঠেলাঠেলির মধ্যে অনেক আপনজন চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, পুলিশের অবহেলায় বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

থানা পুলিশ ও ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করা তো ‘হিমালয় জয় করার চেয়ে কঠিন’। কারণ তারা কোনো ধরনের অপরাধ করতে পারে, তা বর্তমান ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে স্বীকার করে না। কেবল নিজেদের আপনজনদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রশাসনের এই পর্যায়ের লোকদের জবাবদিহি করতে হয়। তাই তারাও হিসাব করে চলেন। মেম্বার-চেয়ারম্যান, এমপি-মন্ত্রী-আমলাদের ব্যাপারটি এড়িয়ে চলেন। বরিশালের ক্ষমতাধর মেয়র ও তার শক্তিশালী সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা কল্পনাও করা যায় না। মেয়রের সহযোগীদের কেউ কেউ গ্রেফতারও হয়েছিলেন, কারাগারেও গেছেন। সেখানে আনসার, পুলিশ ও মেয়রের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্য দিকে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানের ঘটনাটি ছিল একতরফা। পুলিশ বিএনপিকে লাঠিপেটা করেছে, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে, গুলি ছুড়েছে। এর সামনে নিরস্ত্র বিএনপির নেতাকর্মীরা দাঁড়াতে পারেননি। পরে পুলিশই আবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, তারা রিমান্ডে গেছেন, কারাগারে গেছেন।

বরিশালে দেখা যাচ্ছে উভয়পক্ষ সশস্ত্র। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। কেউ ঘটনাস্থল থেকে পালাচ্ছে না। উভয়পক্ষ এখন পর্যন্ত সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রায় সমানভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। উভয়ের মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। জানার বিষয় হচ্ছে, ঠিক দু’পক্ষই যদি সরকারের হয়, তা হলে কোন পক্ষ জয়ী হবে? কারণ সরকারের বিপক্ষে গেলে যে কেউ মুহূর্তে পরাজিত হয়ে যায়। সরকারের পক্ষে এমন বিজয় অর্জন অত্যন্ত সহজ। পুলিশ-বন্দুক-আদালত-প্রশাসন সব কিছু সরকারের হাতে। কিন্তু দু’পক্ষ যদি সরকারের হয়, তা হলে কী হবে? আপাতত মনে হচ্ছে, উভয়পক্ষ জয় পেয়েছে। দু’পক্ষই সরকারের হওয়ায় এমনটি হলো। তবে এটি একটি ‘কসমেটিক সলুশান’। এর গভীরে রক্তক্ষরণ চলছে। যেকোনো সময় তার পুনঃবিস্ফোরণ হতে পারে।

শূন্যস্থান ফাঁকা থাকে না
গণতন্ত্রকে ফুটবল খেলার সাথে তুলনা করে দেখা যায়। খেলার দু’টি পক্ষ থাকে। এ জন্য একটি সমান মাঠ দরকার। মাঠের সীমানা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা থাকে। থাকে দুই পাশে দু’টি গোলপোস্ট। প্রত্যেক পক্ষে ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকে। লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের জালে বল মারা। এ জন্য খেলোয়াড়দের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি থাকে। এগুলো ঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, সে জন্য থাকে রেফারি ও লাইন্সম্যান। এখন আপনি যদি গোলপোস্ট সরিয়ে নেন; কিংবা যদি বলেন, রেফারি থাকতে পারবে না; উঠিয়ে দিতে হবে ফাউলের নিয়ম। এভাবে একে একে সব নিয়মই যদি লঙ্ঘন করা হয়, তা হলে সেটি আর ফুটবল খেলা থাকে না। শেষ পর্যন্ত মাঠটি পরিত্যক্ত হবে। এই মাঠে এখন জন্মাবে নানা আগাছা। আমাদের গণতন্ত্রের এখন এই বেহাল দশা।

গণতন্ত্র এখন একটি পরিত্যক্ত খেলার মাঠ। সেই মাঠে গজাচ্ছে এখন ঘাস, লতাপাতা; আরো নাম জানা-অজানা অসংখ্য অপ্রয়োজনীয় গাছ। যেসব গাছের আদৌ কোনো প্রয়োজনই নেই জাতির জন্য। বরিশালে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ হতো না; যদি খেলার মাঠটাকে সংরক্ষণ করা হতো। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান শর্ত হচ্ছে সরকার ও বিরোধীদের সমান উপস্থিতি। সরকারি দল যদি এককভাবে ক্ষমতার চর্চা করতে যায়, সেটি আর গণতন্ত্র থাকবে না। সেটি অন্য কোনো সিস্টেমে আপনা থেকে রূপান্তরিত হবে। কিন্তু এমন রূপান্তরকে ঘোষণা দিয়ে স্বীকার করে নেয়া যায়। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে রাজা-বাদশাহদের শাসন রয়েছে। একটি ব্যবস্থা যা গণতন্ত্র নয়, তার পরও সেটিকে যদি জোর করে ‘গণতন্ত্র’ বলে চালানো হয়, সেখানে বরিশালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। এ ব্যবস্থার বিকৃতি এখানেই থেমে থাকবে না। আশঙ্কা থেকে যায়, এটি যেকোনো সময় আরো বিপজ্জনক দিকে মোড় নিতে পারে।

নিরপেক্ষরাও থাকতে পারবেন না
আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ইসলাম সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন- সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বাংলাদেশে কাবুল বিমানবন্দরের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আসিফ নজরুল নাগরিক সমাজের লোক। তিনি কোনো দলের পক্ষে হয়ে কথা বলেন না। সুশীলসমাজের মানুষ হিসেবে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেন। একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে সরকারের নানা অন্যায়-অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। কাবুল বিমানবন্দর প্রসঙ্গে এ মন্তব্য তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দুর্দশায় সৃষ্ট গভীর হতাশা থেকে করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের একটি মন্তব্য তার করার কথা ছিল না, যদি রাজনীতির মাঠে পক্ষগুলো সব হাজির থাকত। নিয়মকানুন সব ঠিকঠাকমতো কাজ করত। এ ধরনের একটি কঠিন মন্তব্য বিরোধী দলের রাজনীতিকদেরই করার কথা ছিল। বাংলাদেশে বিরোধী দলের কার্যক্রম ‘সফলভাবে’ মুছে দেয়ায় নিরপেক্ষ লোকগুলো এখন সরকারের মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় নতুন লক্ষণ দেখা যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সেটি হচ্ছে, এবার নিরপেক্ষ লোকদেরও মুছে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি দেয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকার এদের কথায় প্রভাবিত হলে মাঝখানের এ নিরপেক্ষ লোকদের বাঁচানোর জন্য তৃতীয় কোনো পক্ষ থাকবে না।
jjshim146@yahoo.com



আরো সংবাদ