০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

সায়গন থেকে কাবুল

সায়গন থেকে কাবুল - ছবি : সংগৃহীত

১৯৭৫ সালের এপ্রিলে সায়গনের পতন হয়েছিল, আজ থেকে ৪৬ বছর আগের ঘটনা। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা পরাজিত হয়েছি। আশঙ্কার চাইতেও দ্রুত সায়গনের পতন হচ্ছে।’ ২৯ এপ্রিল ১৯৭৫ ভিয়েতনামে পরাজিত মার্কিন বাহিনীর সদস্যদের হেলিকপ্টারে করে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালান প্রেসিডেন্ট ফোর্ড। বিমান অবতরণের কোনো সুযোগ ছিল না। অবতরণ করলেই গেরিলারা তাতে আগুন ধরিয়ে দেবে ও হত্যা করবে। কংগ্রেস ও পেন্টাগন প্রেসিডেন্টকে চাপ দিতে থাকে দ্রুত সেনা প্রত্যাহার ও দক্ষিণ ভিয়েতনামের দোসরদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার। ১৫০০ জন দক্ষিণ ভিয়েতনামি যারা দোভাষীর কাজ করত, অলিগলি দেখাত, তারাও দেশ ত্যাগের জন্য আমেরিকান সেনাদের সহায়তার জন্য জড়ো হয়েছে। ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।’ কর্তারা জিরাল্ড ফোর্ডকে বারবার সাবধান করছিলেন।

আজ ঠিক একই কথাবার্তা ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাবুলকে ঘিরে। তালেবানরা ২০ বছর পর কাবুলে প্রবেশ করল। সবচেয়ে আশ্চর্য, একটি বুলেটও খরচ হয়নি কোনো পক্ষে! প্রশিক্ষিত সেনা জনবল ও উন্নত অস্ত্র প্রয়োজনের সময় কোনো কাজেই লাগল না। এখন সামরিক কর্তারা বলছেন, সায়গন ও কাবুল এক নয়! সমালোচকরা বলছেন, এটি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ও সায়গনের মতোই ঘটনা। কাবুল ছেড়ে পালাচ্ছে সরকারি লোকজন। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি পালিয়েছেন আরো সহযোগীসহ। সরকারি সেনারা কোনো যুদ্ধ করেনি। বাইডেন বললেন, ‘আফগানরা যুদ্ধ করছে না, আমেরিকানরা ওখানে মরবে কেন?’ খুব ভালো কথা, কিন্তু এতগুলো বছর কী হয়েছে? যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ঘুরপাক খাচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার, নিজেরাই জ্বালিয়ে দিয়েছে অফিসের কাগজপত্র ও সরঞ্জাম, এসব যেন তালেবানদের হাতে না পড়ে এবং তথ্য বেহাত না হয়। ঠিক একই কাজ হয়েছিল সায়গনে। দূতাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। নিজেদের বাঁচানোর চেয়ে নথিপত্র ধ্বংস করা জরুরি ছিল। এবার কাবুলেও এমন কাজ করতে হয়েছে, কেননা ৩১ আগস্টের আগেই তালেবানরা কাবুল দখল করে নিলো এত দ্রুত যা সামরিক কর্তারা চিন্তা করতে পারেনি। তারা ভাবেনি সরকারি বাহিনী তালেবানদের বিরুদ্ধে লড়বে না। তা ছাড়া চতুর তালেবানরা বলেছিল তারা কাবুলে হাত বাড়াবে না।

ফোর্ড বলেছিলেন, সি-১৩০ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করতে। সাথে দুটি সামরিক বিমানও ঘুরছিল। কমান্ডারদের ধারণা কোনো বিমান বা হেলিকপ্টার অবতরণ করা যাবে না। কেননা বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুই প্লাটুন দক্ষিণ ভিয়েতনামি অপেক্ষা করছিল। একই সাথে হাজারখানেক সাধারণ উদ্বাস্তুও সেখানে ছিল। কিসিঞ্জার তখন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সেক্রেটারি অব স্টেটের কাজ করছিলেন। দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত গ্রাহাম মার্টিন সংবাদ পাঠান যে দূতাবাসের লোকজন বিমানবন্দরে যাবে সে পথও ব্লক করে রেখেছে, সমুদ্রবন্দরের রাস্তাও বন্ধ করেছে। হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করাই একমাত্র পথ। ওভাবেই উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তী ১৯ ঘণ্টায় ৮০টি হেলিকপ্টার, প্রতিটিতে ৫০ জন করে আমেরিকান ও ভিয়েতনামি দোসর দক্ষিণ চীন সাগরে অপেক্ষমাণ যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে অবতরণ করে। প্রতি ১০ মিনিটে একটি হেলিকপ্টার দূতাবাসে ওঠানামা করেছিল। অনেক ভিয়েতনামি দেয়াল টপকে অ্যাম্বাসিতে ঢুকে পড়ে, জরুরি ভিসার জন্য। এই উদ্ধার কাজের কিছু ছবি তোলেন ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের ফটোগ্রাফার হুভার্ট ভ্যান। এসব ছবি ‘ফল অব সায়গন’ নামে এখনো ফটোগ্রাফি জগতে সাড়া জাগাচ্ছে। ৩০ এপ্রিল শেষ হেলিকপ্টারটি উড়ে যায়। মোট ৭০০০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। ভিয়েতনামি ৫৫০০ জন বাকি ১৫০০ জন আমেরিকান। ৪৫০ জন উদ্বাস্তুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দক্ষিণ ভিয়েতনামিরা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। হোয়াইট হাউজ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, ‘এই উদ্ধার কাজের সাথে আমেরিকার একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হলো। ... আমাদের আরো অনেক কাজ বাকি আছে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার।’ এবারও প্রায় একই কথা বলেছেন জো বাইডেন। ‘অনেক কাজ করার রয়েছে।’

স্টেট ডিপার্টমেন্টের হিসাব মতে, আমেরিকান দূতাবাসে ভিয়েতনামি কর্মচারী-কর্মকর্তার সংখ্যা ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা মিলে মোট ৯০ হাজার জন। এর মধ্যে এপ্রিলের শেষ দিন পর্যন্ত ২২,২৯৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুই বছর পর, ১৯৭৭ সালে ন্যাশনাল রিভিউ প্রতিবেদন ছাপায় যে, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও ধারাবাহিকভাবে ৩০ হাজার দক্ষিণ ভিয়েতনামিকে হত্যা করা হয়। একটি তালিকা থেকে তাদের বাছাই করা হয়, যেটি আমেরিকার দূতাবাসে অক্ষত পাওয়া গিয়েছিল, সেটি অনুসরণ করে এই হত্যাযজ্ঞ চলে। সায়গন ও কাবুলের মধ্যে কিছু কিছু পার্থক্যও রয়েছে।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ছিল ৫৮ হাজার, ভিয়েতনামে ছিল পাঁচ লাখ, পাঁচ গুণ বেশি। সায়গনে মরেছে ৫৮ হাজার, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেনা আফগানিস্তানে মারা গেছে ২ হাজার ৩০০ জন, আহত ২০ হাজার জন। আফগান যুদ্ধে দুই দশকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উপর খরচ হয়েছে। যুদ্ধের বোঝা ন্যাটো দেশগুলো শেয়ার করেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ধারেকাছেও ছিল না। আফগান পুনর্গঠন কাজের ফলে গ্রামাঞ্চলে মধ্য আয়ের লোকজন উপকৃত হয়েছে, মহিলাদের অনেকে সামাজিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। তালেবানরা এসবের অনেক কিছু গ্রহণ করেনি এমন কি ধ্বংস করে দিয়েছে। তথাপি জনগণ তালেবানদের সমর্থন দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহার চেয়েছিলেন তবে কিছু সেনা সেখানে রেখে দেয়া ও সরকারি বাহিনীর সহায়তায় কাজ করার পক্ষপাতী ছিলেন। মুখ্য উদ্দেশ্য, তালেবানরা যেন ক্ষমতা নিতে না পারে। বাইডেন তা চাননি এবং পুরো সেনা প্রত্যাহার করে সরকারি বাহিনীর হাতে সব ক্ষমতা দিয়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা তালেবানদের ঠেকিয়ে রাখবে মনে করে যেন এক প্রকার বাজি ধরেন। কিন্তু সরকারি বাহিনী তালেবান প্রতিরোধে কোনো কাজ করেনি। কমান্ডাররা নির্ধারিত তারিখের আগে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেন। এটি তাড়াহুড়ো হয়েছে। আফগান জনগণের ৪০ শতাংশ পশতুন সারা দেশে ছড়িয়ে আছে, আরো আছে তাজিক, হাজারা, উজবেক, তুর্কমেন। এরাও গোষ্ঠীগতভাবে বেশ শক্তিশালী। কখনো কোনো সরকার পুরো আফগানিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি। আফগান প্রশাসকদের এটি ভালোভাবে বুঝতে হবে।

ভিয়েতনামে ৩০ এপ্রিলকে সাধারণ ছুটির দিন গণ্য করা হয়, বিজয় দিবস বা একত্রীকরণ দিবস বলা হয়। উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম এক হওয়া। এখন অনেক কর্মসূচি নেয়া হয় এ দিন উদযাপন করতে। ভিয়েতনামিদের কাছে ১ মের চেয়েও এই দিন বড়। এই দিনকে তারা ‘কাল এপ্রিল’ও ডাকে। সায়গনকে এখন বলা হয় হো চি মিন শহর। আমার সুযোগ হয়েছিল হো চি মিনের সমাধিস্থল দেখতে। সরকারি প্রশিক্ষণ ও সফর। সমাধিস্থল একটি বিরাট চত্বরে। অনেক দূরেই জুতা খুলে আসতে হয়। আমরা লাইন ধরে এগিয়ে যাচ্ছি। মাথায় ক্যাপ ছিল। একজন সেনা ইশারায় খুলে ফেলতে বলল। চোখের চশমাও খুলে রাখার ইঙ্গিত দিলেন। আমাদের এক মহিলা অফিসার কী যেন বলছিলেন। মুখে হাত দিয়ে চুপ থাকতে বললেন। আমরা সবাই চুপ। কোনো বাক্য বিনিময় নেই। হো চি মিনের মরদেহ সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাচের পাত্রে। মনে হয় জীবন্ত। জামা পরিহিত অবস্থায় শুয়ে আছেন। মাথা সামান্য উঁচু করে রাখা। চার দিকে চারজন সেনাসদস্য অস্ত্র হাতে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে। এভাবে ৮ ঘণ্টা পর অন্য দল আসবে। ওখানে কোনো ছবি তোলা নিষেধ। জানতে পেরেছি ভিয়েতনামিরা নিজেদের পিতামাতার চেয়েও হো চি মিনকে বেশি ভালোবাসে।

টিভি সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে প্রশ্ন করা হয়, কাবুল বিপন্ন হবে কি না এবং কাবুল সরকার তালেবানের হাতে পরাস্ত হবে কি না? তিনি জানান, সেটি সম্ভব নয়। সরকারি বাহিনীর সংখ্যা তিন লাখ আর তালেবান যোদ্ধা হচ্ছে ৭০ হাজার। আবার দুই লাখ সরকারি সেনাকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। সরকারি বাহিনীর সদস্যরা উচ্চ প্রশিক্ষিত ও আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত এবং শক্তিশালী বিমানবাহিনী সহায়তার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। তালেবানদের পক্ষে এসব কিছু জয় করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে নিজেদের লোকজনদের নিরাপত্তার জন্য আরো পাঁচ হাজার সেনা জরুরি পাঠানো হবে। তিনি ১৫ আগস্ট এ কথা বলেছেন। কিন্তু বিমানবাহিনীকে দেয়া ৩ টি ব্ল্যাক হক কেন সময় মতো উড়েনি? তার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

এই যুদ্ধে গাড়িতে তেল খরচের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধে খরচ হয়েছে ৮৩ বিলিয়ন ডলার। কী বিপুল পরিমাণ অর্থ চিন্তা করতেও কষ্ট হয়। আফগান অ্যাপারেটাসদের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন খরচ হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের সময় কোনো বিমান ওড়েনি, কোনো গুলি ফোটেনি, কোনো যুদ্ধ হয়নি। অনেকে বলছেন, সম্মানী ও বকশিশের সোর্স বন্ধ হয়েছে, তালেবানরা এগিয়ে আসছে, কে প্রাণ নিয়ে টানাটানি করবে? ইসলামের ইতিহাস প্রমাণ করে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধ পয়সা দিয়ে হয় না ইমানের শক্তিই তাদের যুদ্ধ শেখায়, বিজয় এনে দেয়। সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট বুশ ও যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছেন তাদের দায়ভার বের করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। নতুবা অন্য কোথাও এরকম আরো যুদ্ধ শুরু হবে। কে নেবে এই দায়িত্ব?

আফগানিস্তানে সবসময় বাইরের শক্তি ও রাজারা শাসন করেছেন। তারাও পুরো দেশ কব্জা করতে পারেননি। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছর যুদ্ধ করেছে, এখন ঢুকছে চীন ও রাশিয়া, সাথে আছে পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরান। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এরা বন্ধু না হলেও শত্রু নয়, তালেবানরা সঠিকভাবে সম্পর্ক রক্ষা করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তালেবান নেতা মোল্লা আবদুল গণিকে চীন দাওয়াত দিয়ে বেইজিং নিয়েছে এখনো বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি।

সাবেক ন্যাটো কমান্ডার জন অ্যালেন বলেন, কাবুল রাশিয়ার বলয়ের মধ্য-এশিয়ার সাথে সংযোগ করে এবং চীন নির্মিত ভারত মহাসাগরের গোয়াধর ও চবাহার বন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্য সম্প্রাসারণ করতে সক্ষম হবে। সায়গন বিজয়ের পর সেখানে কমিউনিস্টরা তাৎক্ষণিক কোনো হত্যাযজ্ঞ চালায়নি, কর্তৃত্ব করার পথেও যায়নি। কম্বোডিয়া ও লাওসের কাহিনী কিছুটা ভিন্নতর। ভিয়েতনামে চীনের সাথে ছোট পরিসরে সীমান্ত সঙ্ঘাত হলেও পরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সাথে বন্ধুত্ব করতে সক্ষম হয়েছে।

অনেকে ভয় করেছেন তালেবানরা এসেই মাথা কাটা শুরু করবে, সেটি হয়নি। সরকারি বাহিনীর সাথে কোনো যুদ্ধও হয়নি। অনেকে মনে করেন, তাদের সাথে আইএস আলকায়েদা বাহিনী লুকিয়ে আছে। এরা যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থে আঘাত করবে। কাবুল জয়ের একদিন পরই বিভিন্ন মহিলা স্কুলে বালিকারা দল বেঁধে স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। এসব ছবি বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলে লাইভ দেখানো হয়েছে। অথচ পশ্চিমা মিডিয়া মহিলাদের নিয়ে এখনো উলটো সংবাদই পরিবেশন করছে।

তালেবানের কাবুল বিজয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে আলকায়েদা। আলকায়েদা এখন আফগানিস্তানকে ‘সেফ হেভেন’ বানাতে পারে। তাদের এখন তোরা বোরার মতো পার্বত্য এলাকায় লুকিয়ে থাকার দরকার নেই।

আলকায়েদার হাতে এখন সরকারি সেনাদের অনেক অস্ত্র। সরকারি ট্রেজারির অনেক টাকাকড়ি। এই মুহূর্তে কাবুলে সিআইএর ফিল্ড লেভেলে কোনো অপারেটর কাজ করছে না। দেশীয় বেতনভুকরাও বেকার। আলকায়েদাদের সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার তথ্য পাঠানো ও ব্যবস্থা নেয়ার এখন কেউ নেই। তালেবানরা তাদের সহযোগী যোদ্ধা। অতএব ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা এখন শত শত মাইল দূরে উপসাগরীয় ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। ‘আমাদের সেনাদের ক্ষমতা ও সামর্থ্য রয়েছে কিছু খুঁজে বের করতে, দায়ীদের চিহ্নিত করতে এবং টেররিস্টদের ধ্বংস করতে।’ এসব আর কোনোই কাজ আসছে না। বিদায় সব সময় কষ্টের হয়।

এখন সাঙ্গ হলো মেলা, ভাসাতে হবে ভেলা। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খরড়হবষ ইধৎনবৎ বলেছেন, ‘অবমাননাকর পরাজয়’। একসময়ের বন্ধু এখন অসহায় দর্শক। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এই সুযোগে চীন ও রাশিয়া ঢুকে পড়েছে আফগানিস্তানে। সব দূতাবাসের লোকজন দেশে পাড়ি দিলেও রাশিয়া, চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দূতাবাসের লোকজন রয়েই গেছে। ভারতীয়রা তাড়াহুড়ো করে দেশে ফিরছে। টুইটারে মি. ফিলিপ ১৪ তারিখে লিখেছেন, ‘পাকিস্তান আফগানিস্তান আক্রমণ করেছে।’ এরা সব সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তান নিয়ে লিখছে। এমন কি অনেক দিন ধরে প্রতি ঘণ্টায় টুইট করা হচ্ছে। কিন্তু কাবুল বিজয়ের পর আর কোনো পোস্ট নেই এই ক’দিন পর্যন্ত। অর্থাৎ ফেইক নিউজ আর ছড়াচ্ছে না ডলার বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার কারণে!

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখলে নেয়ার পরই তালেবানের মুখপাত্র টুইটারে জানান যে, আফগানিস্তানকে তারা ‘ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তান’ ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তাদের সরকারব্যবস্থায় শুধু তালেবান নয়, বরং আফগানিস্তানের সব ধরনের মানুষ থাকবেন।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, ‘তালেবানরা যদি আক্রমণ অব্যাহত রাখে সব কিছু সামরিক শক্তি দিয়ে সমাধা করতে চায় তবে তারা সামনের দিনগুলোতে প্রতিরোধের শিকার হবে।’ ‘রাজনৈতিকভাবে তাদের সব কিছুর সমাধান দিতে হবে।’ ‘নতুবা আফগান জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তালেবানদের বিজয় আফগানদের দেয়া একটি সুযোগ। এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে উন্নয়ন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু করতে হবে। তাদের কোনো ভুল পদক্ষেপের জন্য যেন আবার কোনো ‘জাগরণ’ বিক্ষোভ শুরু না হয়।’

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ও গ্রন্থকার



আরো সংবাদ


ইসরাইলকে ইরানে গোয়েন্দা অভিযান চালাতে নিষেধ করল যুক্তরাষ্ট্র (১৪২০৫)‘ওমিক্রন’ থেকে বাঁচাতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন চিকিৎসক (১০৭০২)ইরান ইস্যুতে আমেরিকা একঘরে হয়ে পড়েছে : ব্লিঙ্কেনের স্বীকারোক্তি (৯৯৯১)বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে যাবে না (৮০৩৩)রুশ অস্ত্র কিনলে নিষেধাজ্ঞা, ভারতকে বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের (৭৯২৯)পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেরেও খুশি পাপন (৭২২৬)এরদোগানকে হত্যার চেষ্টা! (৭০৫৬)যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি : প্রতিবেশীর ঘরে অস্ত্র ঢোকালে যুদ্ধ বাধবে (৬৩৮৯)‘বুথে নয়, নৌকার ভোট হবে টেবিলের উপরে, পুলিশ প্রশাসনকে সেভাবেই দেখবো’ (৫৮৩৫)জ্বর নেই, স্বাদ-গন্ধও ঠিক আছে! ওমিক্রন চেনার সহজ উপায় (৫৮৩১)