২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

ইসরাইলের ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতন

ইসরাইলের ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতন - ছবি : নয়া দিগন্ত

১৯৪৮ সালে ইসরাইল নামের বর্ণবাদী রাষ্ট্রটি গঠিত হওয়ার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ফিলিস্তিনিদের ওপর নানা ধরনের অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে আসছে। আল-শাবাকা সিনিয়র পলিসি ফেলো জারা হাওয়ারি বলেছেন, ইসরাইলি বন্দিশালায় নির্যাতন চালানো নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই নির্যাতন চালানোর বিষয়টিকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ আইনে বৈধতা দেয়া হয়েছে। মানবতার দাবি হচ্ছে : আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এ ধরনের সন্ত্রাসী নির্যাতন বন্ধের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসরাইলকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহির গণ্ডিতে আবদ্ধ করতে হবে। কিন্তু এ দাবি পূরণে আন্তর্জাতিক মহলের যাদের এগিয়ে আসার কথা তারা সাড়া দেয়নি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে এ ব্যাপারে এরা ইসরাইলকে আরো প্ররোচিত করেছে।

সামির আরবিদ-এর ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিয়মিত নির্যাতনের প্রমাণ বহন করে। ইসরাইলি সেনসদস্যরা ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সামির আরবিদকে তার রামাল্লাহর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেরুসালেমের আল-মসকবিই ডিটেনশন সেন্টারে নেয়ার আগে সেনাসদস্যরা তাকে বেদম প্রহার করে। তার আইনজীবীর ভাষ্যমতে, চরম ভয়ঙ্কর নির্যাতনে সামির আরবিদ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর দুই দিন পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে চরম অসুস্থ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ থাকতে হয়। একটি বিচারিক কমিটি ইসরাইলি শিন বেটকে (সিকিউরিটি সার্ভিস) অনুমোদন দেয় তার কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য ‘এক্সেপশানাল মেথড’ তথা ব্যতিক্রমী কোনো পদ্ধতি প্রয়োগের। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংস্থাকে আদালতেও যেতে হয়নি। বিষয়টির নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’। কারণ, এই নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে ইসরাইলি কর্র্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন নিয়েই।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ইসরাইলের নানা বাহিনীর নানামাত্রিক নির্যাতনের কাহিনী খোদ ইসরাইলসহ নানা দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে অহরহ। তবু থামছে না এই নির্যাতন। বরং সময়ের সাথে বাড়ছে নির্যাতনের প্রকোপ। সামির আরবিদের ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকে ২০১৯ সালের আগস্টে, দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ফিলিস্তিনি যুবকদের লক্ষ্যে পরিণত করতে শুরু করে। তখন বিরঝিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ জন ছাত্রকে গ্রেফতার করে। আরবিদকে ডিটেনশনে পাঠানোর আগের সময়টায় এই গ্রেফতার আরো বেড়ে যায়। গ্রেফতার হওয়া বেশির ভাগ ছাত্রকে আইনজীবীদের সহায়তা নিতে দেয়া হয়নি। দেখা করতে দেয়া হয়নি পরিবারের সদস্যদের সাথে। আশঙ্কা করা হয়, এরাও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আসলে ইসরাইলিদের এই প্রক্রিয়া অবলম্বনের অন্য অর্থ ফিলিস্তিনিদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা।
জিহাদ জামিল জীবনের ২৪টি মূল্যবান বছর ইসরাইলি কারাগারে কাটিয়ে ছাড়া পান ২০১১ সালে। তার এই কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তার ভাষায় : ‘কারাগারে জেলাররা আমার চেতনাকে বিনাশ ও মর্যাদাহানির চেষ্টা চালাত। এ জন্য এরা শুধু ভয়-সন্ত্রাসের পথই অবলম্বন করেনি, সেই সাথে নিত নানা কৌশল। আমাকে অপমান ও নীতিবিচ্যুতি ঘটনার চেষ্টা করা হয়েছে। এরা কখনো কখনো দুর্গন্ধময় থলে বসিয়ে রাখত আমার মাথায়। তখন আমার বমি হতো। থলে সরিয়ে ফেললে আমার মুখ ফুলে যেতো, মাথা ব্যথা শুরু হতো। মাসের পর মাস চলত জিজ্ঞাসাবাদ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমাকে ঘণ্টার পার ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হতো অসমান পা-ওয়ালা চেয়ারে। কখনোই এ চেয়ারে আরামে বসতে পারতাম না। এর ফলে আমার বুকে-পিঠে স্থায়ী ব্যথার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো বন্দীকে আমার কক্ষে এনে পরিচয় করিয়ে দিত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ বাহিনীর খাঁটি সদস্য হিসেবে। পরে জানতে পারি, এরা আসলে ইসরাইলের দালাল। এদের ব্যবহার করা হতো কৌশলে আমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করতে। আসলে ফিলিস্তিনি বন্দীরা বীর। কোনো ভাষা ব্যবহার করেই তাদের অনধিগম্য দৃৃঢ়তা ও আত্মত্যাগের বর্ণনা তুলে ধরা যায় না।’

এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসরাইলে নতুন নয়। ইসরাইলের সূচনার সময় থেকে তা অব্যাহতভাবে চলছে। ইসরাইলি সিকিউরিটি এজেন্সি (আইএসএ) তখন থেকেই নানা কৌশলে এসব নির্যাতন-নিপীড়ন ফিলিস্তিনিদের ওপর জারি রেখেছে। অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বন্দীদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়ে থাকে। তবু ইসরাইল ছাড়া অন্য কোনো দেশেই অভ্যন্তরীণ আইনে এ ধরনের বন্দি-নির্যাতনের বৈধতা দেয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তাই আইএসএ যেকোনো ফিলিস্তিনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে যথেচ্ছা নির্যাতন চালাতে পারে। ইসরাইলি আদালত বলেছে, তথ্য পাওয়ার জন্য ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর প্রয়োজনে নির্যাতন চালানো যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিচারবহির্ভূত নির্যাতন নিষিদ্ধ এবং তা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিভিন্ন্ন দেশে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই আন্তর্জাতিক মোড়ল হিসেবে পরিচিত দেশগুলো একযোগে হইচই শুরু করে দেয়। কিন্তু ফিলিস্তিনে তা ঘটলে এরা চুপ থাকার স্থায়ী নীতি অবলম্বনের দৃঢ়সঙ্কল্প নিয়ে বসে আছে। কোনো কোনো দেশকে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে এমনও বলতে শোনা যায়, ইসরাইল যা করছে তা দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য করছে। এ অধিকার ইসরাইলের রয়েছে। ছোটখাটো কোনো দেশ জাতিসঙ্ঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ সম্পর্কিত অভিযোগ করলে, পরাশক্তিগুলো প্রয়োজনে ইসরাইলকে রক্ষায় ভেটো প্রয়োগ করতেও দ্বিধা করে না। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনি বন্দীরা ইসরাইলের কারাগারে নির্যাতনের সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে।

ইসরাইলি কারাগারের ফিলিস্তিনি বন্দীদের অবস্থা এমনিতেই চরম বিপর্যয়কর। এর ওপর ইসরাইলি পাবলিক সিকিউরিটি মিনিস্টার গিলাড এরডানের ঘোষিত পরিকল্পনা পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। ফিলস্তিনি বন্দীদের অধিকার-সম্পর্কিত মানবাধিকর গোষ্ঠী আড্ডামির (Addameer)-এর দেয়া তথ্যমতে, ইসরাইলি কারাগারে ৫,৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছে। এর মধ্যে ২৩০ জন শিশু ও ৫৪ জন নারী। এদের মধ্যে ৪৮১ জনকে আটক রাখা হয়েছে বিচারবহির্ভূতভাবে। ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন’ নামের বেআইনি চর্চার মাধ্যমে এদের আটকে রাখা হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ইসরাইলের জননিরাপত্তামন্ত্রী গিলাড এরডান তার পরিকল্পনার বেশ কিছু বিষয় প্রকাশ করেন। তবে গিলাড প্রকাশ করেননি তার পরিকল্পনার অনিষ্টকর বিষয়গুলো। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি কারাবন্দীরা ‘কুকিং রাইট’ পাবে না। তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেননি, অনেক বন্দীকে বিশেষ করে তাদের বন্দিত্বের প্রথম পর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি না খাইয়ে রাখা হয়। গিলাড এরডান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই পরিকল্পনামতে, নেসেট সদস্যরা ফিলিস্তিনি বন্দীদের সাথে দেখা করতে পারবেন না।’ কিন্তু তিনি সাংবাকিদের জানাননি, এরই মধ্যে শত শত ইসরাইলি বন্দীকে আইনজীবীদের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি, পাশাপাশি দেখা করতে দেয়া হয়নি পরিবারের সদস্যদের সাথেও। এটি হচ্ছে তাদের নিয়মিত অনুশীলন।

এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই, ইসরাইলি মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে সহজেই অনুমেয় ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতন পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে। আর এটি হচ্ছে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরাইলে ফিলিস্তিনি বন্দী নির্যাতন পরিস্থিতি বর্তমানে এই পর্যায়েই রয়েছে। বন্দীদের সাথে মানবিক আচরণের যে প্রমিত মান আন্তর্জাতিক আইনে নির্দেশিত রয়েছে, এর বিন্দুবিসর্গ ইসরাইল প্রদর্শন করতে নারাজ। ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ইসরাইলিরা যে ধরনের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়ন চালায়, তা বর্ণনাতীত। এই পরিস্থিতি চলছে দশকের পর দশক ধরে। ফিলিস্তিন যেন দখলদার ইসরাইলের মৌরসী পাট্টা।

টর্চার বা নির্যাতনের বিষয়টি বরাবরই নীতি-নৈতিকতাবিষয়ক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অনেকের অভিমত, নির্যাতনের চর্চা একটি রুগ্ন ও দুর্নীতিবাজ সমাজের পরিচায়ক। নির্যাতক হতে হলে সবার আগে বিসর্জন দিতে হয় মানবিক বৈশিষ্ট্য। আর একবার নির্যাতক হয়ে উঠলে তার অবনতির মাত্রা সীমাহীন পর্যায়ে চলে যায়। ফিলিস্তিনে এই নির্যাতনকে যৌক্তিক করে তুলতে তাদের সাধারণ অজুহাত হচ্ছে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইসরাইলিরা বলে এই প্রক্রিয়ায় এরা জীবনদায়ী তথ্য বের করে আনে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে। এই দাবি বারবার নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অনেক শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, এমনকি সিআইএ কর্মকর্তাদের অভিমত, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা তথ্যের বেশির ভাগই সাধারণত ভিত্তিহীন। নির্যাতনের মাত্রা কমাতে কিংবা নির্যাতন থামাতে বন্দীরা অনেক অভিযোগ স্বীকার করতে পারে; অথচ বাস্তবে সে অভিযোগ সত্যনির্ভর ছিল না।

আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ যেকোনো সরকার টর্চারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। এ জন্য এসব সরকার ব্যবহার করে প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক চুক্তি। ‘ইউনিভার্সেল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস’-এর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা আছে: ‘No one shall be subjected to torture or to cruel, inhuman, or degrading treatment or punishment’-এর দাবি সুস্পষ্ট : কাউকে কোনো অবস্থাতেই নির্যাতন করা যাবে না; নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মানহানিকর আচরণ করা যাবে না, এমনকি মান হানিকর শাস্তিও দেয়া যাবে না।

আন্তর্জাতিক মানবিকতা-সংশ্লিষ্ট আইন নানা ধরনের দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এসব আইনও নির্যাতন বা টর্চারের বিরুদ্ধে। উদাহরণত, তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন মতে ‘violence to life and person, in particular murder of all kinds, mutilation, cruel treatment, and torture’ নিষিদ্ধ। স্পষ্টত এই কনভেনশন মতে, প্রতিটি জীবন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহিংসতা নিষিদ্ধ; বিশেষ করে সব ধরনের খুন নিষিদ্ধ; অঙ্গহানি, নিষ্ঠুর আচরণ ও নির্যাতন করা নিষিদ্ধ। পাশাপাশি এই কনভেনশনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: ‘outrages upon personal dignity, in particular humiliating and degrading treatment।’ এ কথার সরল দাবি : কোনো ব্যক্তির ওপর মর্যাদাহানিকর চরম নিষ্ঠুরতা চালানো যাবে না, বিশেষত করা যাবে না এমন আচরণ, যা কাউকে হেয় করে। অপরদিকে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনে বলা আছে: ‘No physical or moral coercion shall be exercised against protected persons, in particular to obtain information from them or from third parties।’ এর সার কথা হচ্ছে, কারো কাছ থেকে, কিংবা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য বের করার নামে কারো ওপর শারীরিক ও নৈতিক দমন চালানো যাবে না।

আরো অনেক আন্তর্জাতিক আইন, সনদ, ঘোষণা ও কনভেনশনে টর্চারবিরোধী এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিফলন রয়েছে। সেসবের উল্লেখ করা হবে একই কথার বারবার উল্লেখের শামিল। এসব আন্তর্জাতিক আইন, সনদ, ঘোষণা ও কনভেনশনের কথা ইসরাইলের জানা নেই, তা নয়। এর পরও ইসরাইল এর অভ্যন্তরীণ কোনো আইনে টর্চারবিরোধী কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করেনি। আন্তর্জাতিক আইনে টর্চারের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বিবেচনা করা হয় jus cogens অথবা ius cogens হিসেবে। জাস কজেনস হচ্ছে একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ ‘কমপেলিং ল’ বা বাধ্যতামূলক আইন। কোনো রাষ্ট্র এই আইন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। অন্য কোনো চুক্তিতেও এর বিপরীত কিছু গৃহীত হতে পারে না। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক মূল্যবোধভিত্তিক। আজকের দিনে বেশির ভাগ রাষ্ট্রই জাস কজেনস নীতি মেনে নিয়েছে। এর ভিত্তি রচিত হয়েছিল রোমান আমলে। কোজেনস রুলস অনুমোদিত ১৯৬৯ ও ১৯৮৬ সালের ‘ল অব ট্রিটিজ সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশনে। উভয় কনভেনশন অনুযায়ী যে কোনো চুক্তিতে জাস কজেনস রুলস ভঙ্গ করা হলে ওই চুক্তি অবৈধ। এর পরও বিভিন্ন দেশে টর্চার চলছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে সংজ্ঞায়িত করেছে একটি বৈশ্বিক সঙ্কট হিসেবে। সংগঠনটি বলেছে, তারা জানতে পেরেছে, জাতিসঙ্ঘের সদস্য অধিকাংশ দেশে এ ধরনের টর্চার চলছে।

ওয়ান-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ভয়ঙ্কর ধরনের টর্চার-চর্চা শুরু করে বিশেষ করে আরব ও মুসলমান বন্দীদের ওপর। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত গুয়ান্তানামো বে ডিটেনশন সেন্টার হয়ে ওঠে অব্যাহত সন্ত্রাসের এক কেন্দ্র। টর্চারের মহা উদাহরণের কথা বিশ্বের মানুষ জানে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের আবু গারিব সামরিক কারাগারের ঘটনা থেকে। ফিলিস্তিনিদের সন্ত্রাসী অভিহিত করে ইসরাইলের আরব বন্দীরের ওপর টর্চারও চরমে পর্যায়ের। অথচ ইসরাইল ১৯৯১ সালে ‘কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার’ অনুসমর্থন করেছে। তবে তা অভ্যন্তরীণ আইনে অন্তর্ভুক্ত করেনি। বরং এ সম্পর্কিত এমন কিছু বিধান দেশীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দেশটিতে বন্দীদের ওপর টর্চারের প্রকোপ আরো বাড়িয়ে তুলছে।

বিশ্বের বিবেকবান মানুষের প্রশ্ন : ইসরাইল আর কতদূর যাবে? সবই ঘটছে বিশ্বসমাজের চোখের সামনে, তবু কেন ইসরাইল তা অবাধে চালাতে পারছে? কেন ইসরাইল আজ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিন দখল করে রেখে এই নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছে? এসব প্রশ্নের জবাব ইসরাইল ও তার সমর্থকদেরকে দিতে হবে। সে জবাব দেয়ার এটাই মোক্ষম সময়।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল