৩০ জুলাই ২০২১
`

ছায়া সরকারের নীতিবিবৃতি ও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব

ছায়া সরকারের নীতিবিবৃতি ও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব - ফাইল ছবি

অতি সম্প্রতি মিয়ানমারের সরকারবিরোধী জোটের ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ (এনইউজি) প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে তাদের দেশের দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ-নির্যাতিত-নিপীড়িত এবং নাগরিকত্বসহ যাবতীয় মানবাধিকারবঞ্চিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। মিয়ানমারের এই ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ একটি প্রবাসী ছায়া সরকার। সামরিক সরকারের বিরোধিতাকারী ‘জাতীয় ঐক্য সরকার’ এখন চেষ্টাসাধ্যি চালিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও স্বীকৃতি আদায়ের জন্য। অনেকের অভিমত, এই ছায়া সরকার এর প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়কে সহজতর করে তোলার একটি কৌশল হিসেবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণাটি দিয়েছে।

এই ছায়া সরকার গত ৩ জুন এক নীতি-বিবৃতি প্রকাশ করে ঘোষণা দেয় “রোহিঙ্গারা আইনের বলে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। এবং তাদের নাগরিকত্ব দান মৌলিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক ফেডারেল নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নীতি-বিবৃতিতে আরো বলা হয় : ‘আমরা রোহিঙ্গাদের ও অন্যদের প্রতি আহ্বান জানাই সম্ভাব্য সব উপায়ে সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমাদের সাথে হাত মিলানো এবং ‘স্প্রিং রেভ্যুলিউশনে’ অংশ নেয়ার জন্য।”

এই বিবৃতিতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়- তারা মিয়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করবে, যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। এই আইনে মিয়ানমারে ১৩৫টি জাতিগত নৃ-গোষ্ঠীর এক জটিল শ্রেণী বিভাজনের তথা টেক্সোনমির ভিত রচনা করে। আইনে বলা হয়, এই ১৩৫ নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরাই মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ার অধিকারী। রোহিঙ্গাদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়।

এনইউজি এই নীতি-বিবৃতিতে আরো প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে, যেসব রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্যে সামরিক সন্ত্রাসের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে রয়েছে, তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তা ছাড়া রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সমাজের ওপর যে নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতা এর আগে চলেছে এনইউজি সরকার তার সুবিচার নিশ্চিত করবে : আন্তর্জাতিক আদালত ও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ আইনের আওতায়। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আরো বলে, সামরিক বাহিনীর পরিচালিত ইতিহাসের সব অপরাধের সুবিচার নিশ্চিত করব।

ইতিহাসবিদ Thant Myint-U এক টুইট বার্তায় মন্তব্য করেন : ‘ইউএনজি সরকার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করার প্রতিশ্রুতিসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছে। অগ্রাধিকার দিয়ে এখন সরকারি ভাষণ-বিবৃতি থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী সব ধরনের অমর্যাদাকর নিদর্শন পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে হবে এবং নৃতাত্ত্বিক পরিচয়সত্তার প্রবহমানতা স্বীকার করে নিতে হবে। এর পরও অস্বীকার করা কঠিন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যেখানে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অব্যাহতভাবে রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসাবে উল্লেখ করে আসছে। বুদ্ধের ধারণা হচ্ছে : সবকিছুই ঘটনাসাপেক্ষ। ঘটতেও পারে, আবার নাও ঘটতে পারে। আর সবকিছুই চির-পরিবর্তনীয়। বুদ্ধের এ ধারণা প্রয়োগ করতে হবে মিয়ানমারের নৃতাত্ত্বিকতার ক্ষেত্রেও।’

জাতিসঙ্ঘের মিয়ানমারের মানবাধিকার-বিষয়ক স্পেশাল রেপর্টিয়ার টম অ্যানড্রুস এনইউজি সরকারের এই ঘোষণাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এটিকে মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সম্ভাবনাময় সমাধান ছাড়াও দীর্ঘদিনের নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় বিভাজন ও দ্বন্দ্ব অবসানের জন্য দেশটির সরকারের অযৌক্তিক ‘জাতীয় ১৩৫ নৃতাত্ত্বিক নৃ-গোষ্ঠীর তালিকা’ বাতিল এবং এসব স্বাদেশিক জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব দান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত ছিল। যদিও আরো কিছু করণীয় ছাড়া এসব পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। জাতীয় ঐক্য সরকারের দাবি: এরা কাজ করে যাচ্ছে, মিয়ানমারে একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ফেডারেল গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য। আলোচ্য প্রতিশ্রুতি ঘোষণা এনইউজির সেই দাবিকেই সমর্থন করে।

অবশ্য এনইউজির এ ঘোষণা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণের অবকাশ থেকেই গেছে। কারণ, এই এনইউজি প্রধানত গঠিত হয়েছে সামরিক জান্তার মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সরকারের সদস্যদের নিয়ে, যারা ২০১৭ সালে মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা জাতি নিধন অভিযানের মতো দুষ্কর্মের সহযোগী ছিল। অবশ্য সাবেক এনএলডি সরকারের কর্মকর্তারা সহজে প্রভাবিত করার মতো এমন দাবি তুলতে পারে : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারী সামরিক বাহিনীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু এটি তো অস্বীকার করা যাবে না- সে সময়ের সরকারের স্টেট কাউন্সিলর অং সাং সু চি’র অফিস থেকে সামরিক বাহিনীর পক্ষ নিয়ে বলা হয়েছিল : রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের দাবি সঠিক নয়, আর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী। এরা মিয়ানমারের নাগরিক নয়। এরা সন্ত্রাসী। এমনকি ২০১৯ সালের শেষদিকে অং সাং সু চি হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে পর্যন্ত গিয়েছিলেন তার তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ ঠেকানোর জন্য।

এনইউজি গঠিত হয়েছে গত এপ্রিলে। এর পুরো নাম : ‘দ্য ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট অব দ্য রিপাবলিক অব দ্য ইউয়িন অব মিয়ানমার।’ ৫ মে এনইউজি ঘোষণা দেয় এর সামরিক বাহিনী ‘পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স’ গঠনের। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নির্বাচিত আইনসভার সদস্যদের সমন্বয়ে এই প্রবাসী ছায়া সরকার গঠিত হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত আছে সংখ্যালঘু বিদ্রোহী বিভিন্ন গোষ্ঠী। বর্তমান টেস্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কাউন্সিল ও দেশটি সামরিক জান্তা এনইউজিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এই প্রবাসী সরকার গঠনের পর এ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিউইন কো ল্যাট বলেছিলেন, তারা খুব শিগগিরই কয়েকটি দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন বিভিন্ন সরকার ও জাতিসঙ্ঘকে এনইউজি সরকারের প্রতি স্বীকৃতি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। আসিয়ানের মানবাধিকার সংক্রান্ত পার্লামেন্টারিয়ানেরা আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের প্রতিনিধিদের বদলে বরং ২৪ এপ্রিলের আসিয়ান লিডারদের বৈঠকে এনইউজি প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য।

এর পর থেকে এনইউজি মিয়ানমারে বৈধ সরকার হিসাবে অন্যান্য দেশের স্বীকৃতি আদায়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু সাবেক এনএলডি সরকারের নেতৃত্বের নোংরা অতীতের কারণে এনইউজি বিদেশী সহায়তা ও স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি হুমকির মুখে ফেলে দেয়। গত মে মাসে ‘ইউএস হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি’র শুনানির সময় ইউএস কংগ্রেসম্যান টেড লিউ বলেন, ‘তিনি এনইউজি সরকারের যে কোনো স্বীকৃতি বন্ধ করে দেবেন, যদি না এনইউজি’র শ্যাডো ক্যাবিনেটে কোনো রোহিঙ্গা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।’ এই শুনানির পর তিনি এক টুইট বার্তায় লিখেন : ‘ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারে কোনো রোহিঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে পরিবর্তন আনা না হলে আমরা এই শ্যাডো সরকারকে সহায়তা করতে পারব না।’ এই আলোকে দেখলে, এনইউজির এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা এ সরকারের গণতান্ত্রিক সত্তা নিয়ে বিদেশীদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। বিদেশীদের আনুষ্ঠানিক সহায়তা ও কূটনৈতিক স্বীকৃতির পক্ষে তা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সবকিছু মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত নিকট ভবিষ্যতে যদি এনইউজি মিয়ানমারের বৈধ অথবা বিভিন্ন দেশের ব্যাপক স্বীকৃতির ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসে, তখন এই সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জুরিসডিকশন মেনে নিতে পারে এর স্ট্যাটিউটের ১২(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে। তেমনটি ঘটলে মিয়ামারে ইতঃপূর্বে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে আইসিসির বিচারের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। কিন্তু ৩ জুনে দেয়া নীতিবিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে দায়ের করা মামলাটির বিষয়ে উল্লেখ করতে ব্যর্থ হয় এনইউজি। ফলে এ বিষয়টি নিয়ে এনইউজি প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে এনইউজি আলাদা বিবৃতি প্রকাশ করে, বলে এনইউজি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালতের সাথে সহযোগিতা করতে। এটি রোহিঙ্গাদের নির্যাতন-নিপীড়নের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরেক ধাপ অগ্রগতি। তা ছাড়া এনইউজির অবস্থান সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলে- ২০১৭ সালে কফি-আনান নেতৃত্বে প্রণীত ‘অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট’-এর চূড়ান্ত রিপোর্টে বিধৃত ৮৮টি সুপারিশ রাখাইন স্টেটের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এনইউজির প্রতিশ্রুতি রোহিঙ্গাদের জন্য কতটুকু উপকার বইয়ে আনবে, কী মাত্রায় সমাধান আনবে সার্বিক রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে- সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বেনিফিটস অব ডাউটের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, এনইউজির এই প্রতিশ্রুতি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একটি অগ্রগতি। মিয়ানমার সরকারের দাবি : রোহিঙ্গারা অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী। এ দাবি সর্বৈব মিথ্যা। আসলে ঐতিহাসিকভাবে এরা আরাকানি ভারতীয়। অষ্টম শতাব্দী থেকে এদের সেখানে বসবাসের ইতিহাসের সন্ধান মিলে। মাঝখানে ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিত্ব আইনে রোহিঙ্গাদের বার্মিজ নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে তাদের বার্মার জাতীয় নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এ ছাড়া এদের জন্য আন্দোলেনের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ও সরকারি চাকরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হরণ করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক ও মৌলিক মানবাধিকার। জাতিসঙ্ঘ ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, রোহিঙ্গা নিধনের লক্ষ্যে সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন জারি রেখেছে। ২০১৩ সালে জাতিসঙ্ঘ বলে : ‘রেহিঙ্গারা বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু নৃ-গোষ্ঠী।’ অধিকাংশ রোহিঙ্গা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। কিছুসংখ্যক হিন্দু। রোহিঙ্গারা ১৯৭৮, ১৯৯১-১৯৯২, ২০১২, ২০১৫, ২০১৬-২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধগোষ্ঠীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে মিয়ানমারের ভেতরে বিভিন্ন ক্যাম্পে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছে। এ সমস্যার আশু সমাধানে এদের মিয়ানমারের একটি স্বাদেশিক নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেয়াই হবে এ সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক ও অপরিহার্য শর্ত। যত তাড়াতাড়ি তা হবে ততই মঙ্গল।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট



আরো সংবাদ