১৮ এপ্রিল ২০২১
`

প্রতিহিংসার রাজনীতি উন্নয়ন সমৃদ্ধির পরিপন্থী

প্রতিহিংসার রাজনীতি উন্নয়ন সমৃদ্ধির পরিপন্থী - ছবি : সংগৃহীত

প্রতিহিংসা অর্থ হিংসার বদলে হিংসা। হিংসা বলতে আমরা ঈর্ষা, বিদ্বেষ, অন্তর্দাহ, পরশ্রীকাতরতা, জিঘাংসা প্রভৃতিকে বুঝি। অন্য দিকে প্রতিহিংসা হলো প্রতিশোধপ্রবণতা, বদলা, নির্দয়তা, নিষ্ঠুরতা, নির্যাতন প্রভৃতি। হিংসা-প্রতিহিংসার বিপরীত শব্দ হলো ক্ষমা। আঘাতের বদলে আঘাত মানুষের একটি স্বাভাবিক মন্দ প্রবণতা। এটির বিপরীত হলো আঘাতের বদলে ক্ষমা। ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ। একজন মানুষ তার গুণাবলির মাধ্যমে সমাজে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটায়।

একজন মানুষের মধ্যে কী কী গুণাবলির সমন্বয় ঘটলে তাকে ভালোমানুষ হিসেবে আখ্যা দেয়া যায় এর নির্ধারিত কোনো রূপরেখা না থাকলেও আমরা সচরাচর একজন মানুষের মধ্যে কিছু গুণাবলির উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করলে তাকে ভালোমানুষের মর্যাদায় স্থান দেই। এ গুণাবলির মধ্যে অন্যতম হলো সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থাকা; অপরের ক্ষতি না করা; লোভ সম্বরণ করা, কাউকে হেয় প্রতিপন্ন না করা, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখা, নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবে আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করা, দেশপ্রেমে নিজেকে উজ্জীবিত রাখা, ত্যাগের মানসিকতায় আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া, নীতিনৈতিকতার সপক্ষে অবস্থান গ্রহণ, মূল্যবোধের লালন, দেশের আইন মেনে চলা এবং ধর্মীয় বিধিবিধানের যথাযথ প্রতিপালন।

রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবসময় দেশের ও মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের বিষয়ে চিন্তা করতে হয়। একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ কখনো তার নিজ দায়িত্ব-কর্তব্যকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হতে দিতে পারেন না। একজন রাজনীতিবিদকে নিজ দেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করতে হয়। একজন রাজনীতিবিদের অবস্থান যা-ই হোক না কেনো তাকে সবসময় ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করতে হয়।

আমাদের এ দেশ ও উপমহাদেশ ঔপনিবেশিক ব্রিটিশদের শাসনাধীন থাকাবস্থায় দেখা যেত বিত্তবান পরিবারের সন্তানরা দেশপ্রেমের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ত্যাগ, জনসেবা, দেশের মঙ্গল ও উন্নয়নের মনোভাব নিয়ে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করতেন। এরূপ বিত্তবানদের সন্তানদের অনেককেই দেখা গেছে জীবনসায়াহ্নে এসে বিত্তহীন হয়ে জনসাধারণের ভালোবাসার পুঁজিকে সম্বল করে এ ধরাধাম থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় দেখা যায় বিগত তিন দশক ধরে রাজনীতির মাঠে নেতা হিসেবে এমন অনেক বিত্তহীনের আগমন ঘটেছে যারা রাজনৈতিক ক্ষমতাকে পুঁজি করে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফুলেফেঁপে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এরা অবৈধভাবে আকস্মিকপ্রাপ্ত ক্ষমতা ও অর্থের দম্ভে বেসামাল হয়ে অনৈতিকতার শীর্ষে পৌঁছে মদ, জুয়া ও নারীসম্ভোগসহ এহেন অপকর্ম নেই, যার সাথে লিপ্ত নয়। এদের বিচরণ মূল রাজনৈতিক দলসহ দলের প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে পরাক্রমশালী হিসেবে দেদীপ্যমান। এদের কারণেই আজ রাজনীতি হয়ে উঠেছে হিংসা ও প্রতিহিংসায় ভরপুর।

পৃথিবীর যেসব দেশ নিজ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি স্থিতিশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এর মূলে ছিল ওই সব দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে চারটি গুণাবলির সমন্বয়। এ চারটি গুণ হলো সততা, আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দেশপ্রেম। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশের অভিমত যেকোনো রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উল্লিখিত চারটি গুণের সমন্বয় ঘটলে তার পক্ষে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিজ দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।

গণতন্ত্রে বিশ্বাসী একটি রাষ্ট্রের জন্য ভোটাধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক জনগণকে প্রদত্ত আমানত। রাষ্ট্রের জনগণ এ ভোটাধিকার যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারের কর্তব্য।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা বিজয়ী হয়েছে। অন্য দিকে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারবহির্ভূত অন্তর্বর্তী বা নির্দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনাকারী সরকারের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল পরাভূত হয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অধীন নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না এমন প্রতিষ্ঠিত অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের দেশে একদা সাংবিধানিক কাঠামোয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছিল। সাংবিধানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন আমাদের দেশে দু’টি সংসদ নির্বাচন যথা সপ্তম ও অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ দু’টি নির্বাচন এ দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে তুলনামূলক বিচারে অন্য যেকোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ছিল।

আমাদের দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক অনুমোদন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় এ ব্যবস্থাটিকে সংবিধান হতে বিলুপ্ত করার সময় একতরফা আয়োজনে তা সম্পন্ন করা হয়।

বাংলাদেশের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর একটি অতিক্ষুদ্র অংশ বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়। জনগোষ্ঠীর অপর বৃহদংশ ইসলাম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও উভয়ে বাঙালি জাতিসত্তার অন্তর্ভুক্ত। জাতি বিষয়ে এরূপ সমরূপতা পৃথিবীর খুব কম দেশের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। ধর্মীয় বিভাজন সমরূপ জাতিকে ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃক ১৯০৫ সালে পূর্ববাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাকে বিভাজন করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম সমন্বয়ে একটি পৃথক প্রদেশ প্রতিষ্ঠা করলে তা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনগোষ্ঠী তাদের অথনৈতিক স্বার্থের প্রতিকূল বিবেচনায় এর বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে।

বরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবস্থান ছিল বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে। বঙ্গভঙ্গ দ্বারা তিনি এতই ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছিলেন যে বঙ্গভঙ্গের বছরই ক্ষোভে, দুঃখে, অপমানে, অভিমানে বাংলার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ এ গানটি রচনা করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের কঠোর আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশরা ছয় বছরের মাথায় ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদ করে। বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে পূর্ববাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল তা উপশমে ব্রিটিশরা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিলে তা হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরোধিতার মুখে পড়ে। যা-ই হোক, শত বাধার মুখেও ব্রিটিশরা তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর থাকায় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।

ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা ও আসামে অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক গণপরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগ জয় লাভ করে। ভারত বিভাজনের সময় কেবিনেট মিশন প্ল্যানের আলোকে ব্রিটিশ কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে ভারতের পশ্চিম ও পূর্বাংশের মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রদেশ সমন্বয়ে মুসলিম রাষ্ট্র এবং মধ্য ও দক্ষিণের হিন্দু জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রদেশ সমন্বয়ে হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হবে। সে সময় পাঞ্জাব ও বাংলা মুসলিম জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রদেশ ছিল বিধায় উভয়ে মুসলিম রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ সময় দেখা গেল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ দাবি করলেন পাঞ্জাব ও বাংলার বিভাজন ছাড়া তারা ভারতবর্ষের বিভাজন মেনে নিবেন না। বাংলা বিষয়ে ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বৈপরীত্য অবস্থান যে প্রতিহিংসাপ্রসূত এতে দ্বিমত পোষণের অবকাশ নেই।

দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভাজিত হলেও ধর্মীয় জাতিসত্তা পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে অক্ষুণ্ন রাখতে পারেনি। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের কাছে দেশের শাসনভার অর্পণ করা হলে ইতিহাসের গতি কী হতো তা পরখ করে বলা কঠিন হলেও এ কথাটি সত্য যে ভারতের প্রত্যক্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বল্পতম সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা অর্জন দুরূহ ছিল।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দলকে ক্ষমতা না দেয়ায় পাকিস্তানের বিভাজনে বাংলাদেশ নামক যে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল এ রাষ্ট্রটি জন্মের সূচনালগ্নেই গণতন্ত্রের পথে হোঁচট খায়। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পূর্ব বাংলার জনমানুষের একটি ক্ষুদ্র অংশ ছাড়া অপর সবাই স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। জনমানুষের সর্বাত্মক সহযোগিতার কারণেই গেরিলা যুদ্ধের রণকৌশলে পরিচালিত স্বাধীনতা যুদ্ধ বিরোধীদের কাছে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনসমর্থন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোটপ্রাপ্তির হার বিবেচনায় নিলে দেখা যায় এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ দল দু’টির জনসমর্থন পৃথকভাবে শতকরা ৩০ ভাগের ঊর্ধ্বে। এ দু’টি দল ছাড়াও অপর দু’টি দলেরও জনভিত্তি রয়েছে। এ দু’টি দল হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টি। উভয় দলের জনসমর্থন পৃথকভাবে শতকরা ৮ থেকে ১০ ভাগ। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী যথাক্রমে আওয়ামী ও বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ দু’টি দল জাতির বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে দেখা গেছে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরীক্ষিত মিত্র।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনসাধারণকে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হলে মেয়াদ অন্তে পর্যায়ক্রমে বড় দু’টি দল যে সরকার গঠনের সুযোগ লাভ করবে, এ বিষয়টি এ দেশের সচেতন জনমানুষ অনুধাবনে সক্ষম। শুধু প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন হওয়ায় আমরা যে আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছি এ বিষয়টি উভয় দলের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিবেচনায় নেয়া দেশ ও জাতির স্বার্থে অত্যাবশ্যক।

রাজনীতির মাঠে ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে একটি পাশের রাষ্ট্র অযাচিত, অন্যায় হস্তক্ষেপ ও কূটকৌশলে নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবান্বিত করে দেশটির পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতার মসনদে টিকিয়ে রাখতে কী পরিমাণে তৎপর বাংলাদেশের জনমানুষ বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তা প্রত্যক্ষ করেছে। এতে সে দেশটির প্রতি এ দেশের জনমানুষের ক্ষোভ, আক্রোশ, বিদ্বেষ, ঘৃণা প্রভৃতি প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাস এত প্রকট যে এর বহিঃপ্রকাশে প্রতিহিংসা চিরস্থায়ী রূপ পরিগ্রহ করেছে। এরূপ প্রতিহিংসা যে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অন্তরায় এ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।


লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
E-mail: iktederahmed@yahoo.com



আরো সংবাদ