২০ এপ্রিল ২০২১
`

নেপালে নতুন অস্থিরতা

নেপালে নতুন অস্থিরতা - ছবি : সংগৃহীত

নেপালের সুপ্রিম কোর্টের বাতিলকৃত সংসদ পুনর্বহালের আদেশ দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশের পর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ না করে অনাস্থা প্রস্তাব মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুসারে দুই সপ্তাহের মধ্যে ২০ ডিসেম্বরের পূবর্বর্তী সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী অলির জন্য অনেক বড় একটি আঘাত, যিনি তার ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অভ্যন্তরীণ বিরোধের নিষ্পত্তি করতে না পেরে আইন সভা ভেঙে দিতে সুপারিশ করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের মঙ্গলবারের রায়ের পর কার্যত দেশটি রাজনৈতিক অস্থিতির এক নতুন পর্বে প্রবেশ করল। যার সাথে শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিই নয় একই সাথে এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য লড়াইরত দুই বড় দেশ চীন এবং ভারতও সম্পৃক্ত হয়ে পড়বে। রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ভদ্রকালী পোখরেল বলেছেন, ‘আদালত সংসদ বিলুপ্তিকে অসাংবিধানিক বলেছেন।’ তিনি আরো বলেন যে, আইন সভা দুই সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বহাল করতে হবে। এর অর্থ হলো আকস্মিক কোনো সমঝোতা না হলে সংসদ পুনর্বহালের পর প্রধানমন্ত্রী অলি সম্ভবত অনাস্থার প্রস্তাবের মুখোমুখি হবেন। অলির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা রাজন ভট্টারাই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আদালতের আদেশকে সম্মান করবেন। ‘জরুরি অবস্থা বা অন্য কিছু চাপিয়ে দেওয়ার মতো অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ তিনি নেবেন না।’

সংসদ পুনর্বহালের ফলে পাঁচ বছরের নির্ধারিত মেয়াদের অবশিষ্ট তিন বছর টিকে থাকতে পারে সংসদ। দুই বছর আগে ক্ষমতায় আসার পর কে পি অলি চীনের সাথে আরো দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করেন। আর চীন ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব পড়ে নেপালের রাজনীতিতে।

অলি এই অঞ্চলে বাণিজ্য ও ট্রানজিট সংযোগের উন্নয়নের জন্য চীনা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করেন, যা মূলত দেশটিতে ভারতীয় একচেটিয়া প্রভাবের অবসান ঘটায়। কেপি অলি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পার্টি এবং সংসদে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারান। দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে তার মতবিরোধ ক্ষমতাসীন দলকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে। তার দলের যুগ্মপ্রধান সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহী নেতা পুষ্প কমল দহলের নেতৃত্বে শীর্ষ নেতাদের অনেকেই চ্যালেঞ্জ করে অলিকে দল এবং সরকারের নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য অব্যাহত চাপ দেয়। এর ফলে অলি শেষ পর্যন্ত সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির একজন প্রবীণ নেতা রঘুজি পান্ত অলিকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি অন্য একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সমর্থন করতে রাজি হন তবে আমাদের দল অটুট থাকতে পারে। যদি তা না হয় তবে একটি নতুন ক্ষমতার সমীকরণ অনিবার্য।’

প্রধানমন্ত্রী অলির সামনে এখন খুব অল্প বিকল্প রয়েছে। তার পছন্দ অনুসারে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অবস্থায় তিনি নেই। তাকে হয় নৈতিক কারণে পদত্যাগ করতে হবে নতুবা অনাস্থার প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হবে। তবে অলির সহযোগীরা এখনো বলছেন যে, প্রধানমন্ত্রী সংসদের মুখোমুখি হবেন। অলির ঘনিষ্ঠ নেতা সত্য নারায়ণ মণ্ডলের মতে, বুধবার অলির নেতৃত্বাধীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে এগিয়ে যাওয়ার এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে, সংসদের সভা কখন ডাকা হবে এবং এটি কিভাবে এগিয়ে যাবে সে সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

সংসদের স্পিকার অগ্নি সাপকোটা বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ২০ ডিসেম্বরের আগের সংসদ ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। সংসদ সচিবালয় ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে চায় সংসদের সভা সেভাবেই এগিয়ে যাবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কিভাবে অলি পদক্ষেপ নেন এবং কিভাবে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি সংসদের সামনে উপস্থিত হয় সেটি ভবিষ্যতের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। অলি এবং প্রচণ্ড-নেপাল গ্রুপের মধ্যে কার্যত কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়ে গেলেও আইনিভাবে দলটি এখনো এক রয়েছে। অলিকে অন্য পক্ষ হয়তো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেনে নেবেন না তবে সমঝোতার ভিত্তিতে বিকল্প কাউকে প্রধানমন্ত্রী করার ব্যাপারে দুই পক্ষ একমত হতে পারলে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার কেন্দ্রে এবং রাজ্যগুলোতে বহাল থাকতে পারে।

এর বিকল্প চিত্র হতে পারে নেপালি কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে অলি অথবা প্রচণ্ড গ্রুপের সরকার গঠন করা। ক্ষমতাসীনদের দুই গ্রুপের প্রায় কাছাকাছি এমপির সমর্থন থাকায় নেপালি কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে যেকোনো পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে পি অলির বহাল থাকার ইচ্ছা ছাড়াও গৃহবিবাদে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির অন্য দুই প্রধান নেতা পুষ্প কমল দহল এবং মাধব কুমার নেপালেরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। কোনো সমীকরণে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলে দেউবাও সেটি হাত ছাড়া করতে চান না।

রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবি ভাণ্ডারি নেপালের সংবিধানের ৭৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনপুষ্ট ব্যক্তিকে সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ তাঁর সভাপতিত্বে গঠিত হবে।

যেহেতু নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি আইনত বিভক্ত হয়নি, তাই ১৭৩ সংসদ সদস্য নিয়ে, দলটি এখনো সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রয়েছে। প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল যুবরাজ সাংগ্রোলা বলেছেন, কেপি অলি যদি আস্থা ভোটে জয়ী হন তবে তিনি সরকারের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবেন, নইলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

দহল-নেপাল গ্রুপটি নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্যদের ১৭৩ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্য দিকে, অলির পক্ষে ৮২ জন সংসদ সদস্য থাকায় আস্থা অর্জনের জন্য আরো ৫৫ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। আর এটি তখনই সম্ভব যখন ৬৩টি আসন থাকা নেপালি কংগ্রেস তাকে সমর্থন দেয়।

কংগ্রেস নেতাদের তথ্যমতে, দলীয় সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা এরই মধ্যে অলি ও দহাল-নেপাল উভয় পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন। অলির পদক্ষেপকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করার পর কংগ্রেস অলিকে সমর্থন করলে দলটি একটি নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারে। ফলে কংগ্রেসের অনেকে দহলকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে থাকতে পারেন।

প্রচণ্ড-নেপাল গ্রুপের এক নেতার বক্তব্য অনুসারে অলির প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ভাণ্ডারি কর্তৃক সংসদ ভেঙে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই ২০ ডিসেম্বর সংসদ সচিবালয়ে যে অনাস্থা প্রস্তাবটি দহল-নেপাল গ্রুপ জমা করেছিল তা পুনর্জীবিত হতে পারে। সেই অনাস্থা প্রস্তাবে দহল-নেপাল গ্রুপ দহলকে প্রধানমন্ত্রী করার কথা বলেছিল। অলির বিরুদ্ধে দহল-নেপাল গ্রুপের অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হতে হলে নেপালি কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হবে। আর দলটি এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের জয় হতে পারে। এটি হলে রাষ্ট্রপতি ভাণ্ডারিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দহলকেই নিয়োগ দিতে হবে।

প্রশ্ন হলো কংগ্রেস দহলকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য দহল-নেপালের অনাস্থা প্রস্তাবকে কি সমর্থন করবে? এখনো পর্যন্ত এর কোনো নিশ্চিত উত্তর নেই। তবে দহল-নেপাল গ্রুপটি যেকোনো মূল্যে অলিকে ক্ষমতাচ্যুত করার দিকে ঝুঁকতে থাকলে, কংগ্রেস প্রধান দেউবাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আরো একটি অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে।

সংবিধানের ১০০ (৭) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করা সংসদ সদস্যকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এভাবে নিযুক্ত একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগের তারিখের ৩০ দিনের মধ্যে আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে।

সাংবিধানিক আইনে বিশেষজ্ঞ, প্রবীণ আইনজীবী চন্দ্র কান্ত জ্ঞাওয়ালি বলেছেন, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির বিভাজন দূর হলে সমঝোতার ভিত্তিতেও দহল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য সংসদীয় পার্টির নেতা হতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত, যেহেতু নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি আইনিভাবে একটি দল রয়ে গেছে আর অলি সংসদীয় দলের নেতা, ফলে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

সর্বশেষ গত দুই মাস ধরে নিরপেক্ষ থাকা নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির সহ-সভাপতি বামদেব গৌতম, প্রকাশ্যে অলির পদত্যাগের দাবি করেছেন। তার মতে, অলির প্রতি দলটির সর্বাধিক ৮২ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে। তিনি এখন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিকে বিভক্ত করে নিজের দল গঠনের মতো অবস্থানেও নেই।

পলিটিক্যাল পার্টিজ অ্যাক্ট -২০১৩ অনুযায়ী, যে কোনো দলকে বিভক্ত করতে এবং নতুন দল নিবন্ধন করতে তাকে ৪০ শতাংশ সংসদ সদস্য (সংসদীয় দলের সদস্য) এবং ৪০ শতাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের স্বাক্ষর জমা দিতে হবে। গত বছরের এপ্রিলে, অলি ‘এবং’ বিধানটিকে ‘বা’ হিসাবে পরিবর্তনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, যার অর্থ হলো যে কেউ বিভক্ত হয়ে ৪০ শতাংশ সংসদ সদস্য (সংসদীয় দলের সদস্য) ‘বা’ ৪০ শতাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিয়ে একটি নতুন দল নিবন্ধন করতে পারেন। অলি অবশ্য ব্যাপক সমালোচনার পরে সে অধ্যাদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

সুতরাং অলির জন্য বিভক্ত হয়ে একটি নতুন পার্টি নিবন্ধন করার দরজাও বন্ধ রয়েছে। কাঠমান্ডু স্কুল অব ল-এর নির্বাহী পরিচালক সাংগ্রোলার মতে, অলির গ্রুপটিকে দহল ও নেপালের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে থাকতে হবে।

সাংগ্রোলার মতে, ‘যদি গ্রুপটি সংসদীয় দল ও কেন্দ্রীয় কমিটির ৪০ শতাংশ সদস্য ছাড়া বিভক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সে গ্রুপের লোকেরা রাজনৈতিক দল আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী সংসদীয় আসন হারাতে পারেন।’

নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তি ছাড়াও বাইরের দেশের প্রভাবও নেপালের যেকোনো পরিবর্তনে সক্রিয় থাকতে পারে। চীন কোনোভাবেই নেপালের ওপর তার প্রভাব হারাতে চাইবে না। ফলে বেইজিং কমিউনিস্ট পার্টিকে এক রেখে নতুন সরকার গঠনের পক্ষে থাকবে। সে ক্ষেত্রে অলির পরিবর্তে প্রচণ্ড অথবা মাধব নেপাল যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে তাদের আপত্তি থাকবে না। এমনকি পাঁচ বছর মেয়াদের অর্ধেক অলি বাকি অর্ধেক প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী থাকবেন বলে যে সমঝোতার কথা বলা হয় সেটিও সামনে আনা হতে পারে। ফলে নতুন পরিস্থিতিতে শেষ দুই বা আড়াই বছরের জন্য প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী থাকার বিষয়টি মেনে নিলে অলির আরো ৬ মাস বা কিছু বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী থাকা প্রচণ্ড মেনে নিতে পারেন।

অন্য দিকে ভারত চাইবে না এককভাবে কমিউনিস্ট পার্টির কোনো সরকার নেপালের ক্ষমতায় অব্যাহত থাকুক। সে ক্ষেত্রে অলিকে বাদ দিয়ে প্রচণ্ড ও দেউবার মধ্যকার একটি জোট সরকার নেপালের ক্ষমতায় বসুক সেটিই কামনা করতে পারে দিল্লি। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব ল-এর প্রাক্তন ডিন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ বিপিন অধিকারী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অলির প্রস্থান ভারতের জন্য সন্তুষ্টির বিষয় হতে পারে। একটি দুর্বল জোট সরকার ওলির চেয়ে তাদের জন্য প্রভাব বিস্তারে আরো সহায়ক হতে পারে।’

এসব সমীকরণে নেপালে বেইজিং আর দিল্লির গোপন তৎপরতা বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামী দু-সপ্তাহের মধ্যে এ ব্যাপারে একটি বোঝাপড়ায় পক্ষগুলোকে আসতে হবে। আর এর ওপর নির্ভর করছে নেপালের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অনেক কিছুই।

mrkmmb@gmail.com



আরো সংবাদ