২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`

চেয়ারটা এখনো খালিই আছে

আহমদ আখতার - ছবি : সংগৃহীত

অফিসে এসে কাজে বসার পর প্রথমেই নজর পড়ে সামনের চেয়ারটায়। এটি এখনো খালি আছে। এখানে বসতেন সৈয়দ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। যাকে আমরা কবি আহমদ আখতার হিসেবে চিনি। আশির দশকের এই কবি চল্লিশের দশকের সাড়া জাগানো কবি ফররুখ আহমদের ছেলে। আখতার ভাইয়ের চেহারা আর ঈগল চোখ দেখলে কাউকে চেনানোর প্রয়োজন হতো না। এই জাগতিক নিরাসক্ত মানুষটি কবি ফররুখ আহমদের প্রিয় পুত্র যাকে তিনি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্ঞানার্জনে পাঠানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন। ঢাকা আলিয়া মাদরাসা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেন আহমদ আখতার। তত দিনে কবি ফররুখ তার প্রিয় প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেছেন।

সম্ভবত ১৯৮৪ সালেই প্রথম দেখি আহমদ আখতারকে। তখন তিনি দৈনিক সংগ্রামের মফস্বল বিভাগের সহ-সম্পাদক। আমি শিশু-কিশোরদের একটি পত্রিকা ‘কিশোর কণ্ঠ’র প্রকাশনার সাথে যুক্ত ছিলাম আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহর সাথে। আমাদের সাথে কাজ করতেন কবি ও কথাশিল্পী ডা. বুলবুল সরওয়ার। বুলবুল তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। কিশোর কণ্ঠের শিশুতোষ ছড়া-কবিতার জন্য কবি আহমদ মতিউর রহমানের কাছে যেতাম। আহমদ আখতার তার পাশের টেবিলে বসে কাজ করতেন। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পরীক্ষা দিয়ে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসি। প্রথম দিকে বড় ভাই মাহফুজ খলিলীর সাথে তার ধানমন্ডির মধুবাজারের বাসায় উঠি। তখন তিনি কবি আবদুল কাদিরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আর এ সময়টাতে কবি ও ছান্দসিক আবদুল কাদির জীবনের শেষ পর্যায়ের অবসর কাটাচ্ছিলেন। তার জীবনের নানা বর্ণাঢ্য গল্প শোনার সুযোগ ঘটে এ সময়।

পরে বড় ভাইয়ের বাসা থেকে কলাবাগান ও কাঁঠালবাগানে মেস ধরনের আবাসে উঠি। এখানে থাকাকালেই ১৯৮৫ সালে সংগ্রামের সে সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মুহাম্মদ কামারুজ্জামান আমাকে ডেকে এনে বসিয়ে দেন পত্রিকাটির ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কে। এরপর আমি হয়ে যাই আহমদ আখতারের সহকর্মীদের একজন। একজন মিতভাষী মানুষের ভেতর যে মজলিসি চরিত্র আর দুর্দান্ত রসবোধ সুপ্ত থাকে তার উদাহরণ সম্ভবত ছিলেন আহমদ আখতার। আহমদ মতিউর রহমান ও আহমদ আখতার দু’জন যখন একসাথে টেবিলে থাকতেন তখন নানা রম্য কথাবার্তা আর খুনসুটি লেগেই থাকত। এই হালকা পরিবেশের মধ্যমণি ছিলেন মাহমুদুল হক দুলাল ভাই। ইরানি প্রিন্সের চেহারার এই মানুষটির ভেতরে যে কঠিন রোগ বাসা বেঁধে আছে তা কখনো বোঝা যেত না তার ভুবন ভুলানো হাসি আর রসমিশ্রিত কথায়।

সহ-সম্পাদকদের এই সরস আলোচনায় টেবিলে কাজের চাপের মধ্যেও ইন্ধন দিতেন শিফট ইনচার্জ শেখ এনামুল হক। পত্রিকার চিফ রিপোর্টার সালাউদ্দিন বাবরও মাঝে মধ্যে যোগ দিতেন এতে। কাজপাগল সিনিয়র রিপোর্টার আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুও মাঝে মাঝে যোগ দিতেন। এ সময় শিফট ইনচার্জ ও সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত সিনিয়র সহকর্মীদের মধ্যে সাদাত হোসেইন, বাকের হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, মুজতাহিদ ফারুকী আর ওয়ালিউল হক ছিলেন উল্লেখযোগ্য। সাজ্জাদুল ইসলাম, সাদ বিন রাবি, নেয়ামত উল্লাহ, নুরুন্নবী দুলাল, আহসান হাবিব বুলবুলও এ সময় সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন। পাশে বসে আঁকিবুঁকি করতেন ইব্রাহিম মণ্ডল। হামিদুল ইসলামও আসতেন, কিশোর কণ্ঠের কাজের জন্য অফিসের চেয়েও হাতিরপুলের বাসাতেই তার সাথে যোগাযোগ বেশি হতো।

বছরখানেক সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করার পর আমাকে রিপোর্টার হিসেবে বদলি করা হয়। তবে সম্পাদনা টেবিলের সেই আড্ডায় অংশীদারই থেকে যাই। এই আড্ডায় আহমদ আখতারের কাছে কখনো তার খ্যাতিমান বাবা বা পরিবারের গল্প শুনিনি।

নানা টানাপড়েন ও উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে সংগ্রামে এক যুগের বেশি সময় পার করার পর বৈরী পরিস্থিতিতে বেতন একেবারেই অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আমি কর্মস্থল পাল্টানোর চিন্তা করি। চিফ রিপোর্টার বাবর ভাই রিপোর্টিং বিভাগের জুনিয়র সহকর্মীদের শুধু পেশাগত গাইডই করতেন না, ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধায় পাশে দাঁড়াতেন। আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু ভাইয়ের নতুন ঢাকা ডাইজেস্টে কাজ করার সুবাদে তার পরামর্শও সব সময় পেতাম। মঞ্জু ভাই ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র কিন্তু কাভার করতেন সংসদ ও অর্থনৈতিক ইভেন্ট। মঞ্জু ভাইয়ের ব্যস্ততা বেড়ে গেলে বাবর ভাই আমাকে অর্থনৈতিক বিট কাভার করার দায়িত্ব দেন। এরপর মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক, সংসদ বা অন্য বিটের অ্যাসাইনমেন্ট করতে হলেও আমার মূল দায়িত্ব দাঁড়ায় অর্থনৈতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত বিষয়। এসব বিষয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করার সুবাদে সংবাদপত্র জগতে রিপোর্টার হিসেবে কিঞ্চিৎ পরিচয়ও তৈরি হয়। আর এ সময় একই সাথে দৈনিক ইনকিলাব, যায়যায়দিন ও দিনকালে যোগদানের প্রস্তাব আসে। শেষ পর্যন্ত আমি দৈনিক দিনকালে বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে যোগ দেই। এর মধ্যে আহমদ আখতার সংগ্রাম ছেড়ে যোগ দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায়।

আমাদের মধ্যকার আগের নিত্য যোগাযোগে কিছুটা ছেদ পড়ে। তবে প্রেস ক্লাবে গেলে আখতার ভাইয়ের সাথে দেখা হতো। তাকে বেশির ভাগ সময় পাওয়া যেত প্রেস ক্লাব লাইব্রেরিতে গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব বই হতো ইতিহাস সংস্কৃতি ও সাহিত্যবিষয়ক। বাসায়ও আহমদ আখতারের একটি সম্মৃদ্ধ লাইব্রেরি ছিল। প্রায় তার হাতে এক বা একাধিক বই দেখা যেত যেগুলো পল্টনের পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কেনা বিরল ধরনের বই।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এর প্রভাব পড়ে সরকারি সংবাদ সংস্থা- বাসসে। বাসস থেকে আগের সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া অনেককে বিদায় নিতে হয়। সেই তালিকায় আহমদ আখতারও পড়ে যান।

এ নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে একদিন বলেছিলাম, বাসসে কোনো সমস্যা হলে বলবেন, আমাদের এখানে ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখব। আমি এর আগেই দৈনিক দিনকাল থেকে ইনকিলাবে যোগদানের পর সেখানে সাড়ে চার বছর কাজ করে দৈনিক নয়া দিগন্তে চিফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিই। পত্রিকার প্রথম বার্তা সম্পাদক আযম মীর শহীদুল আহসানকে গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান দিগন্ত টেলিভিশনের পরিচালকের (বার্তা) দায়িত্ব দেয়া হলে কর্তৃপক্ষ আমাকে অর্পণ করে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব।

আহমদ আখতার বাসস থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করলে আমি নয়া দিগন্তে তার যোগ দেয়ার ব্যাপারে তখনকার ইসি চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাহেবের সাথে কথা বলি। বাবর ভাইও সম্মতি জানান। এভাবে আহমদ আখতারের নিয়োগ চূড়ান্ত হলে আবার সহকর্মী হিসেবে পাই তাকে। বিরোধী মতের পত্রিকা হিসেবে একপর্যায়ে তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে নয়া দিগন্ত। বেতন অনিয়মিত হতে হতে ১৭-১৮ মাস পর্যন্ত বকেয়া জমে যায়।

অর্থনৈতিকভাবে নির্বিকার আহমদ আখতার চাকরির বাইরে অন্য কোনো আয়ের কথা ভাবতেন না। ফলে সংসার নির্বাহে এর প্রভাব পড়ে। মেয়ের অসুস্থতা এবং ছেলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ জোগান দিতে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়। এর মধ্যে পত্রিকাকে আর্থিকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী করতে সীমিতভাবে স্বেচ্ছা অবসরের একটি স্কিমের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। আহমদ আখতার এটি জানার পর আমাকে কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে বলেন, যেন তাকে এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বকেয়া বেতন আর গ্র্যাচুইটির টাকা একসাথে পাওয়াটা তখন তার জন্য অনেক বড় কিছু হয়ে যায়।

পরে আখতার ভাই বলেছিলেন, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কোনো সুযোগ থাকলে সেটি যেন দেখা হয়। সে ধরনের সুযোগের আগেই চলে আসে করোনার ছোবল। করোনাভাইরাসে সব কিছুই একধরনের অচল হয়ে যায়। পত্রিকার বিজ্ঞাপন আয় নেমে আসে এক পঞ্চমাংশে। পত্রিকার অবয়ব আর লোকবল এক চতুর্থাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত আসে কর্তৃপক্ষ থেকে। চরম এক ক্রান্তিকালে আমরা সংবাদপত্রের তরীটিকে কোনোভাবে ভাসিয়ে রাখার প্রাণান্তকর এক সংগ্রামে যুক্ত হই।

এর মধ্যে আমাদের সাবেক সিনিয়র সহকর্মী ওয়ালিউল হক জানান, আহমদ আখতার অসুস্থ হয়ে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে তাৎক্ষণিকভাবে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিই। নয়া দিগন্তের অনলাইন ও প্রিন্ট সংস্করণে খবরটি বের হওয়ার পর আখতার ভাইয়ের সুহৃদ বন্ধুরা তার দুরবস্থার বিষয় জানতে পারেন। আখতার ভাইয়ের ছেলে দরুদের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে থাকি। তখন তার কিডনির অবস্থার এতটাই অবনতি ঘটে যে, ডাক্তার বলেন, প্রতি সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করতে হবে। অথচ এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা ঘনিষ্ঠ কাউকেও তিনি আগে জানাননি। আহমদ আখতারের অসুস্থতার বিষয়টি নিয়ে অনেকের সাথে কথা হয়। ফররুখ পরিবারের শুভার্থী অনেকেই চিকিৎসার ব্যাপারে সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন।

গণস্বাস্থ্যে কিডনি চিকিৎসায় কিছুটা উন্নতি হয় আখতার ভাইয়ের। একদিন ফোনে কথাও হয়। এরপর আরেকটু সুস্থ হলে ছেলে দরুদকে নিয়ে আখতার ভাই নয়া দিগন্তে আসেন। তখনো ডায়ালাইসিসের ক্যানোলা তার শরীরে। তিনি বলেছিলেন, নয়া দিগন্তে আবার যোগ দিতে চান। আমার সামনেই আখতার ভাইয়ের বসার চেয়ার ছিল। সে চেয়ার তখনো খালিই রেখেছি। যদি সুযোগ হয় আখতার ভাইকে আবার ফেরানো যায় কি না। তাকে দেখে তখনো কাজে যোগ দেয়ার মতো সুস্থ মনে হয়নি। তবে এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন তা-ও ভাবতে পারিনি।

ফররুখ পরিবারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ শাহ আবদুল হালিম, গবেষণা ফাউন্ডেশনের আবদুল হান্নান, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের সাথে ফররুখের প্রকাশনা ও গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে তার পরিবারকে কী ধরনের সহায়তা করা যায় তা নিয়ে বিস্তৃত কথাবার্তা হয়। আখতার ভাইকে দায়িত্ব দিয়ে কবি ফররুখের সব প্রকাশিত-অপ্রকাশিত রচনাবলি একসাথে প্রকাশ করা এবং পরবর্তী পর্যায়ে নজরুল একাডেমির মতো করে কোনো একটি একাডেমি করা যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়। এর সাথে ফররুখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ শুভাকাক্সক্ষী সাবেক সচিব ফৌজুল কবির খান, ড. আবদুল মজিদ, ড. মিয়া মুহাম্মদ আইয়ুব, এ এম এম নাসির উদ্দিন, ড. খন্দকার রাশেদুল হক, অধ্যাপক মতিউর রহমানও যুক্ত হন। শাহ আবদুল হালিম দীর্ঘ প্রায় ৬ দশক ধরে কবি পরিবারের সাথে নানাভাবে যুক্ত। তিনি সব ভাবনার লিঙ্ক হিসেবে থাকেন। আর এসব পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন কবি ফররুখের জীবিতদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ও তার সাহিত্যের উত্তরাধিকার হিসেবে পরিচিত আহমদ আখতার।

এসব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ এগিয়ে নেয়ার মধ্যেই খবর পাই আখতার ভাই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেখান থেকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় কিডনির পাশাপাশি স্নায়ু রোগের চিকিৎসার জন্য। স্ট্রোকের পর তিনি পুরোপুরি বাকহীন না হলেও চলৎশক্তি থাকেনি। এর পর প্রথম দেখায় তিনি আমাকে চিনতে পারেননি। পরে অবস্থার আরো উন্নতি হলে আবার হাসপাতালে গিয়েও দেখা করতে পারিনি ডায়ালাইসিসে থাকায়। এর মধ্যে দরুদ জানায়, আখতার ভাইয়ের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আমরা আশায় বুক বেঁধে আবার পুরনো পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করি। এর মধ্যে খবর আসে, হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে আখতার ভাইকে রামপুরায় নিকটবর্তী হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সেখানে নেয়ার পর ডাক্তার তার হৃদকম্পন আর খুঁজে পাননি।

আমরা কবি ফররুখ আহমদের কবিতা স্কুলে-কলেজে পড়েছি। ঢাকায় আসার পর গল্প শুনেছি। সহকর্মী ও বন্ধু হিসেবে পেয়েছি আহমদ আখতারকে। ৫৪ বছর বয়সে নিঃস্ব অবস্থায় পরম করুণাময়ের কাছে ফিরে যান ‘সাত সাগরের মাঝি’ আর ‘হাতেম তায়ী’র লেখক। তার বিশাল সংসারের হাল ধরার মতো পরিণত বয়সে তখনো পৌঁছাননি তার সন্তানরা। একধরনের কষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠলেও আহমদ আখতারের জীবনবোধের মধ্যে আমরা পিতার স্বপ্নচারিতাই দেখতে পেতাম। এই স্বপ্নে জাগতিকতার কিছু ছিল না। নিজ পুত্রের অকাল মৃত্যুর দুঃখবোধ চেপে রেখে তিনি এক দিন পরেই কর্মক্ষেত্রে হাজির হয়েছিলেন। নয়া দিগন্তের বেশ ক বছরের চাকরিতে আখতার ভাইয়ের কোনো ছুটির দরখাস্ত পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। তার ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টের কথা খুব কম মানুষই জানতেন।

হে পরওয়ারদিগার, আমাদের শূন্য চেয়ারটি পূর্ণ করার জন্য আহমদ আখতারকে আর কোনো দিন ফিরে পাবো না। তিনি যেখানে আছেন সেখানে আপনার অনুকম্পাপ্রাপ্ত প্রিয়দের সারিতে তাকে স্থান দিন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে নামাজে জানাজা শেষে আখতার ভাইয়ের উজ্জ্বল চেহারায় মনে হয়েছে পিতার মতোই আপনার অনুকম্পাপ্রাপ্তদের কাতারে তাকে কবুল করেছেন। হে প্রভু, আহমদ আখতারের পরিবারের জন্য আপনার বিশেষ কৃপায় মঙ্গলময় ভবিষ্যৎ মঞ্জুর করুন। আমরা সবাই আপনার। আপনার কাছেই ফিরে যেতে হবে হে করুণা নিধান দয়ার আধার মহান মালিক আমাদের।

[email protected]



আরো সংবাদ