০১ মার্চ ২০২১
`

খেতাব বিতর্ক

জিয়ার খেতাব বিতর্ক এখন তুঙ্গে - প্রতীকী ছবি

জিয়ার খেতাব বিতর্ক এখন তুঙ্গে। সরকার বা দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ এ বিতর্কের জন্ম দেয়নি। বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন শাজাহান খান। একসময় জাসদ করতেন, তারপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। যত দূর স্মরণে পড়ে, জিয়ার ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ‘বিপ্লব’-এর সময় শাজাহান খান সিপাহি-জনতার পক্ষেই ভূমিকা পালন করেছেন।

বিতর্ক যেভাবেই তোলা হোক, এটি শেষ নয়। এর একটি জের আছে। প্রথম কথা কোনো খেতাবই বাতিল করার ট্র্যাডিশন নেই। সু চির নোবেল প্রাইজ কেড়ে নেয়ার দাবি উঠল; বাস্তবে যাকে একবার খেতাব দেয়া হয়ে যায়-সেটি আর বাতিল করার নিয়ম নেই। এ প্রসঙ্গে আবুল মনসুর আহমদের কথা স্মরণে পড়ল। সম্ভবত সপ্তাহখানেক আগে আরো একবার প্রসঙ্গটা টেনেছিলাম। আবুল মনসুর আহমদ আমাদের দু’জনকে অনেক স্মৃতিকথা শোনালেন। একপর্যায়ে ‘কায়েদে আযম’ ও ‘বঙ্গবন্ধুর’ প্রসঙ্গ উঠল। তিনি বলেছিলেন, তিনি কায়েদে আযম বলেন বলায় কেউ কেউ তাকে মন্তব্য করেছিলেন, আপনি স্বাধিকার আন্দোলন থেকে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন পুরো সময়টা স্বাধীনতার সপক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন, আপনি কেন ‘কায়েদে আযম’ বলেন? জবাবে বলেছিলেন, ‘আমি কায়েদে আযম বলব। পাকিস্তান আন্দোলনে আমরাও শরিক ছিলাম। দু’হাজার মাইলের ব্যবধানে কোনো রাষ্ট্র বাস্তবে টিকে থাকার কথা নয়। শেষ পর্যন্ত ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আমরা স্বাধীন হলাম। বঙ্গবন্ধুকে আমরা স্বাধীনতার প্রতীক ভাবি। যেমন ভাবি পাকিস্তান আন্দোলনের ক্ষেত্রে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে।’

এখানে এসেও তিনি থামলেন না। বললেন, দেখবি, একদিন বঙ্গবন্ধু বলার লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। তখনো আমি বঙ্গবন্ধু বলব। ইতিহাসের বাস্তবতা হচ্ছে, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতেই দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণায় পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানের জন্ম হলো। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকই লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন। সেখানে ‘স্টেটস’ কথাটা ছিল। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে এটা ছিল, একাধিক মুসলিম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল। লাহোরের যে মাঠে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল আজও সেটি ‘পাকিস্তান মাঠ’ হিসেবে টিকে আছে। সফরে গিয়ে সেটি দেখে এসেছি। বাংলা, উর্দু ও ইংরেজিতে সে কথা এখনো খোদাই করা আছে। নিজে পড়ে এসেছি। তবে স্টেটস শব্দটির স্থলে স্টেট শব্দটি আছে কি নেই, সেটি ভুলে গেছি। তবে পরে শুনেছি ‘এস’ শব্দটি কোনো নেতা বাদ দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা খেতাব নিয়েও দু’টি কথা মনে পড়ল। পাঞ্জাবের এক জমিদার মৌলভী আবুল কাশেম ফজলুল হকের বক্তব্য শুনে বললেন, বাঙ্গাল মুল্লুক সে এক শের ভি আয়া; তখন থেকেই তিনি বাংলার বাঘ বা শেরেবাংলা হিসেবে পরিচিতি পেলেন। এখন ‘শেরেবাংলা’ বললে তার পুরো নাম বলার প্রয়োজন পড়ে না।

ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে এটা জানি, দেশ বিভাগের সময় দাঙ্গা হয়েছিল। সেই দাঙ্গায় অনেক মুসলিম ও হিন্দু মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে বঙ্গ বিভাগের জন্য ভারতই দায়ী। একইভাবে সিন্ধু ও পাঞ্জাবে সীমান্তবিরোধ ছিল। পূর্ব বাংলার সম্পদ দিয়েই কলকাতার বাবুশ্রেণী জমিদার হয়েছিল।

একসময় আমাদের পাটশিল্প ছিল বিরাট গৌরবের বিষয়। বিশেষ করে বঙ্গ বিভক্তি ও পাঞ্জাব বিভক্তি ইতিহাসকে অনেক রক্তাক্ত করেছে। পাঞ্জাব ছিল শিখ প্রধান এলাকা, এখনো পাকিস্তানের পাঞ্জাবে শিখদের প্রধান তীর্থ কেন্দ্র বা গুরুদুয়ারা রয়েছে। ‘ওয়াগাহ’ সীমান্ত দিয়ে এখনো শিখরা তীর্থ ভ্রমণে যায়। মজার ব্যাপার যে, সেই গুরুদুয়ারার পাশেই ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদ। মুঘলদের স্মৃতিবিজড়িত বাদশাহী মসজিদের আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই মসজিদের চার দিকেই প্রতিধ্বনি বা ইকো হয়। ইমাম খোতাবা দিলে চার দিকের কোথাও থাকা লোকরাও সেটি শুনতে পায়। নিজেও পরীক্ষা করে দেখেছি, তাজমহলের মতো কারিগরি দক্ষতার গুণে বাদশাহী মসজিদেও ইকো সিস্টেম রয়েছে। তাজমহলের মতো বাদশাহী মসজিদও একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে আছে। যা হোক, প্রসঙ্গ ছিল খেতাব বিতর্ক নিয়ে।

এখনো শেরেবাংলা খেতাব আমরা বর্জন করিনি। বঙ্গবন্ধু তখন বঙ্গবন্ধু হননি। তিনি ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের যুবনেতা, আসাম রেফারেন্ডামে ‘শেখ সাহেব’ নিজে পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিন্নাহ নিজে উর্দুভাষী ছিলেন না। হিন্দি ভাষা আরবি বর্ণমালায় লেখা হতো। মুঘলরা ফার্সি ভাষায় অভ্যস্ত ছিলেন। ফারসি ভাষাকে তারা রাষ্ট্রীয় ভাষায় উন্নীত করেছিলেন। পরে অনেকে ‘হিন্দু ফারসি’ ভাষা শিখেছিলেন। আমাদের দলিল দস্তাবেজে এখনো ফারসির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। আমরা দৈনন্দিন ২২ শ’ ফারসি শব্দ ব্যবহার করি যা আমাদের আত্মস্থ হয়ে গেছে। উর্দু ভাষা থেকে আলাদা করার জন্যই হিন্দি শব্দ দেবনাগরি হরফে লিখা হয়। এখনো দেখবেন, বর্ণমালার পার্থক্য থাকলেও উচ্চারণগতভাবে উর্দু হিন্দি প্রায় অভিন্ন।

আমরা খেতাব নিয়ে শুরু করেছিলাম, শেষ পর্যন্ত ইতিহাস প্রসঙ্গে এলাম। কারণ একটাই ‘দেশবন্ধু’ ‘মহাত্মা’ ‘শেরেবাংলা’ ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ যেমন ‘বঙ্গবন্ধু’, ‘কায়েদে আযম’, তেমনি জিয়ার খেতাবও একটি। এরশাদ নিজেকে ‘পল্লীবন্ধু’ বলতে পছন্দ করতেন; কিন্তু জাতি এটি গ্রহণ করেনি। জাতি তাকে বিশ্ব বেহায়া, স্বৈরাচারী খেতাব দিতেই বেশি নন্দিত ভেবেছেন। অবশ্যই তিনি দেশের জন্য কিছু ভালো কাজও করেছেন। তার পরও মৃত্যুকালে তিনি কোনো সুনাম নিয়ে যেতে পারেননি।

খেতাব বিতর্ক তাই অনর্থক। এটি একধরনের কুতর্ক; রাজনীতিতে সুড়সুড়ি দেয়ার মতো বিষয়, এতে কোনো লাভ হবে না। বরং রাজনীতিকে নতুন করে মেরুবদ্ধ করবে। জিয়াভক্তরা আরো ঐক্যবদ্ধ হবেন।

এ ঘটনার অন্য একটি দিকও আছে, জিয়ার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে একসময় বঙ্গবন্ধুর সব স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার একটা মওকা তৈরি হবে- যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

ইতিহাস যার যে স্থান হওয়ার কথা, সেই স্থান নির্ধারণ করে দেয়, সেটি বদলানো যায় না। কারণ ইতিহাস স্থায়ী এবং প্রবহমান। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অধ্যক্ষ আবুল কাশেম। অথচ ‘ভাষা মতিন’কেই আমরা বেশি চিনি। আবুল কাশেম স্যারকে ও অধ্যাপক নূরুল হক স্যারকে নিয়ে রমনা গ্রিনে অনেকবার একুশের অনুষ্ঠান করেছি। সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক প্রমুখ ভাষাশহীদ। কার সাধ্য তাদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেয়? এটি ভাষার মাস। গতকালই ছিল ভাষা-শহীদ দিবস, অর্থাৎ ৮ ফাল্গুন, ২১ ফেব্রুয়ারি। এটি যেন উৎসবের দিন। বাংলা ভাষা, ভাঙালি, বাংলাদেশী একই অর্থ বহন করে। ‘বাঙালি জাতি’ বললেই উভয় বাংলার কথা স্মরণে আসবেই। কারণ বাংলা পশ্চিম বাংলারও ভাষা। আমার একটি বই কবি আল মাহমুদ ও হুমায়ূন আহমেদকে উৎসর্গ করেছিলাম। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের লোকজ ভাষায় গদ্যচর্চা করে দেশের তরুণ পাঠকদের এতটা আগ্রহ সৃষ্টি করেছিলেন- কলকাতার বই থেকে আমাদের পাঠকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। আমি নিজেও হুমায়ূন আহমেদের একজন ভক্ত পাঠক। তার চরিত্র সৃষ্টির নৈপুণ্য অসাধারণ।

এ ছাড়া আল মাহমুদ প্রসঙ্গ উঠল। কারণ আল মাহমুদ প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন, ‘ঢাকা বাংলা ভাষার রাজধানী’। কেন বলেছিলেন- সেটি বুঝবার জন্য যে কেউ কলকাতা সফর করে আসতে পারেন। টের পাবেন সেখানে বাংলা নেই; বাবুরা বনেদি সাজবার জন্য হিন্দি বলেন। অথচ অবিভক্ত বাংলায় কলকাতা ছিল বাংলা সাহিত্যের সূতিকাগার। আমরা নিজেরাও বিমল মিত্র, নীহার রঞ্জন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ নামজাদা লেখকদের বই গোগ্রাসে গিলেছি। আজ বাংলার স্থান কলকাতায় নেই বললেই চলে। হিন্দি বললে তারা যেন জাতে ওঠে যায়। হিন্দির প্রভাব আমাদের দেশেও অনুপ্রবেশ করেছে। কারণ জি, স্টার জলসা টিভি চ্যানেলের বদৌলতে দেশের ঘরে ঘরে ডিশ সংস্কৃতির বিকাশের কারণে কলকাতার হিন্দি সিরিয়াল, বাংলা সিরিয়াল বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে। তাই কলকাতাকে আর বাংলা ভাষার জন্য কোনো কৃতিত্ব দেয়া যায় না।

তাই যথার্থ বলেছেন আল মাহমুদ, ‘ঢাকা বাংলা ভাষার রাজধানী’। অন্য দিকে হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সাধারণ ভাষায়, এই বাংলার গণমানুষের ভাষায় জীবনবোধ ও নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর বহু বই লিখেছেন। তার অনেক বই সিনেমা হয়েছে, নাটক হয়েছে, যার আবেদন ফুরাবার নয়। হুমায়ূন নেই; দুরারোগ্য ক্যান্সারে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বাংলা ভাষা যত দিন থাকবে তত দিন আল মাহমুদের কবিতা ও গদ্য থাকবে। তত দিন হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য থাকবে। হাসন রাজা, লালন শাহ, শাহ আবদুল করিমকে হুমায়ূন তুলে ধরেছেন। তাই বাংলা ভাষার এই মুকুটহীন সম্রাটকে আমার নিজের বইয়ের উৎসর্গের তালিকায় রেখেছি।

একসময় আল মাহমুদকে মুক্তিযোদ্ধা কবি হিসেবে যারা মাথায় তুলে নাচতেন, তারাই তার বিশ্বাস পরিবর্তন অর্থাৎ ‘বাঙালি মুসলমান’ হওয়ার পর তাকে ‘অপাঙক্তেয়’ ভাবতে শুরু করলেন। অপর দিকে কুলীন বাংলা গদ্য চর্চার সাহিত্যিকরা হুমায়ূনকে সাহিত্যিক বলেই স্বীকার করতেন না। অথচ মৃত্যুর পর তার আর কোনো নিন্দুক খুঁজে পেলাম না। অবশ্য আল মাহমুদকে নিয়ে অনেকেই বলেন এই মুক্তিযোদ্ধা কবি শেষ জীবনে ‘মৌলবাদী’ হয়ে গেছেন। অবশ্য হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে তেমন কোনো মাতামাতি ছিল না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এরও কোনো প্রমাণ এখনো নেই।

আল মাহমুদের সাথে আমার অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। তিনি একসময় আজিমপুর এলাকায় থাকতেন। ‘মিশন’ নামে একটা স্মারকের জন্য তার কাছ থেকে একটা কবিতা আদায় করেছিলাম। কবিতার নাম ছিল ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’। পরে আরো কিছু কবিতা নিয়ে একই নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। তার নোলক ও সোনালী কাবিন পড়েনি, এমন পাঠক খুঁজে পাওয়া যাবে না। ‘কবির আত্মবিশ্বাস’ গদ্যগ্রন্থটির প্রায় নব্বই ভাগ লেখা, আমার দফতরে বসে লিখেছেন। তাই বইটা প্রকাশ হওয়ার পর প্রথম বইটা আমাকে হাত তুলে দিতে নিজে আমার সম্পাদকীয় দফতরে হাজির হয়েছিলেন। একসময় কমলাপুর থাকতেন।

বাসাবোর ঝিলপাড় থাকতেন, শেষ বয়সে এসে এরশাদ নিজের কবি মনের তাড়না থেকে তাকে গুলশানে একখণ্ড জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন, সেটি শেষ পর্যন্ত নিজে বাড়ি করার সামর্থ্য ছিল না বিধায় ‘কেয়ারি’কে ডেভেলপার হিসেবে দিয়েছিলেন। শেষ জীবন পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

আমার চোখের রেটিনা অপারেশন করার সময় প্রীতিভাজন ডাক্তার বলেছিলেন- আপনি সময় মতো এসেছেন, নয়তো আপনাকেও আল মাহমুদের মতো অন্ধ হয়ে যেতে হতো। আল মাহমুদের দু’টি চোখেই রেটিনা সমস্যা ছিল। টাকার অভাবে প্রথমে চিকিৎসা করাতে পারেননি। আত্মবিশ্বাসী কবি অভিমান করে কারো সাহায্যও নেননি। সেই ডাক্তার বলেছিলেন, কোনোভাবেই যদি আমাদের কাছে পৌঁছতে পারতেন, তাহলে আমরা আল মাহমুদের মতো লোককে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে তার অন্ধত্ব ঠেকাতে পারতাম। দুঃখ করেছিলেন সেই চোখের ডাক্তার। যিনি কিনা ‘আই ভিশন’ নামের একটি হাসপাতাল পরিচালনা করেন। আমার কলামের পাঠক ছিলেন। ডাক্তার সাহেব ভারতের শঙ্কর নেত্রালয়ের ফেলো, ভালো ডাক্তার। রেটিনার ওপর তার বিশেষ লেখাপড়া ও দক্ষতা রয়েছে।

আমরা শুরু করেছিলাম জিয়ার খেতাব বিতর্ক নিয়ে। শেষ পর্যন্ত অনেক স্মৃতিচারণ করলাম, শেষ করার আগে আবার খেতাব বিতর্ক নিয়ে শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করব, আপনার রাজনীতি কতটা স্বচ্ছ, সেই সার্টিফিকেট দেয়ার এখতিয়ার আমার নেই। তবে আলজাজিরার তথ্য নিজে বিশ্বাস করি। কারণ আলজাজিরার পৃষ্ঠপোষক কাতার হলেও এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা কাতারের পক্ষেও বলে না, বিপক্ষেও বলে না। তবে বিশ্বের সেরা মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের তারা আলজাজিরায় টেনে এনেছে। কেউ বলেন কিনেছে। আসল কথাÑ সিএনএন, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, রয়টার, এএফপি প্রভৃতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পক্ষপাত প্রমাণিত। অনেক চ্যানেল বলেও দেয়, তাদের এই পর্যালোচনায় অমুক সরকারের নীতির প্রতিফলন রয়েছে। কিন্তু আলজাজিরার তেমন কোনো দায়বদ্ধতার প্রমাণ নেই।

তাই সর্বশেষ শেখ হাসিনার কাছেই বিনীত আবেদন করব, আপনি খেতাব বিতর্ক বন্ধ করুন। একই সাথে অনুরোধ করব, আপনার নিন্দুক কিংবা সমালোচকরা আপনাকে নিয়ে যেসব মন্তব্য করে সেসব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আপনি নিজেকে একজন প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসকের অবস্থানে নিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকুন। অনিবার্য মৃত্যুর পর যেন পুরো জাতি বলতে পারে আপনি ‘দোষে-গুণে মানুষ ছিলেন। কিন্তু শেষ জীবনে তিনি সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছিলেন।’ মৃত্যু যেখানে ঠেকানো যায় না, সেখানে আপনিও অমর হবেন না। তবে কেন নিজেকে অমরত্বের আসনে তুলে ধরবেন না? সেই সুযোগ তো এখনো আপনার হাতে এবং ইচ্ছাধীন। শুধু সততা ও নিষ্ঠার প্রমাণ তুলে ধরুন।

[email protected]



আরো সংবাদ