০৬ মার্চ ২০২১
`

আমরা আর কত আহাম্মক হবো

-

দেখা যাচ্ছে শেষ ভরসা হিসেবে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টই আইনের শাসনের হাল ধরে রাখতে কিছুটা হলেও সাহস দেখাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এক মামলায় বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের এক ডিভিশন বেঞ্চ বলেই দিলো, জনগণ ধরে নিয়েছে দেশে পুলিশের শাসন চলছে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ন্যায়ভিত্তিক সভ্য সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিচারপতিদের অবদানই থাকে সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে উচ্চমানের চিন্তাশীল ব্যক্তিদেরকে এ জন্য বিচারকের পদে নিয়োগ দানের রেওয়াজ রয়েছে।

আইনের শাসন না থাকলে তো পুলিশের শাসনই চলবে। সুন্দর দেশ গড়া গভীর বিচার-বুদ্ধির ব্যাপার, চাটুকারদের চাটুকারিতার বিষয় নয়, পুলিশি দাপটও এ কাজে সহায়ক নয়। যারা দেশ গড়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝেন তারা দলীয় রাজনীতিকে বিচারব্যবস্থা থেকে দূরে রাখেন।

এক কথায় বলতে গেলে, আমাদের ইতিহাস রাজনৈতিক ব্যর্থতার ইতিহাস। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গের ইতিহাস। সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করা হয়েছে রক্ত আর জীবন দেয়ার কাজে। সাধারণ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তান পেয়েছিলাম। বাংলাদেশও পেয়েছি নেতাদের অবর্তমানে গণহত্যার শিকার হয়ে। কিন্তু জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সংগ্রাম শেষ হচ্ছে না।
কিন্তু বারে বারে কেন আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে ব্যর্থ হচ্ছি? মুক্তি সংগ্রাম করেও কেন মুক্তি পাচ্ছি না, তার একটা বিজ্ঞানসম্মত বিচার-বিশ্লেষণ তো থাকতে হবে। আমরা যে সার্বিক অর্থে একটি শিক্ষিত জাতি তা তো অস্বীকার করা যাবে না। আমাদের দেশে যোগ্য লোকের অভাব আছে তাও নয়। শিক্ষিত যোগ্য লোকদের কাছে টানার নেতৃত্বের যতটা অভাব ছিল চাটুকারদের আনুগত্যকে বড় করে দেখার নেতাদের ততটা অভাব ছিল না।

তবে একটি স্বাধীন দেশের শিক্ষিত লোকদের মধ্যে দেশ ও জাতির মঙ্গল বিষয়ে যতটা সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হয় আমাদের দেশে তার ঘাটতি রয়েছে অনেক বেশি, ঘাটতি নেই বললে সঠিক বলা হবে না। যে কারণে সাধারণ জনগণের রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা একশ্রেণীর শিক্ষিত লোকদের কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে ৬-দফাভিত্তিক গণতান্ত্রিক মুক্তির সংগ্রাম। নিয়মতান্ত্রিক স্বায়ত্তশাসনের মুক্তি সংগ্রাম আমাদের নেতাদের অনুপস্থিতি এবং নিজস্ব প্রস্তুতির অভাবে ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

লাখ প্রাণের বিনিময়ে গৌরব করার মতো নতুন কী পেলাম সেটা তো বলতে হবে। একটি মানচিত্র আর একটি পতাকা। ও তো পাকিস্তানেরও ছিল। মুক্তি সংগ্রামের কত দূর, মুক্তির কি হলো তাই বলুন। অবাঙালি শাসনের বদলে বাঙালি শাসন! ব্যক্তির জন্যই কি এত রক্ত আর প্রাণদান?

আমরা স্বাধীন দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের মুক্তি নিশ্চিত করেই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। স্বাধীনতা অর্জনের ব্যর্থতা প্রতিটি নাগরিকের ব্যর্থতা ও লজ্জার ব্যাপার। গোলামদের কোনো অধিকার থাকে না। তার জন্য আইনের শাসনের নিশ্চয়তাও থাকে না। এ সত্য শিক্ষিত সচেতন লোকদের কঠিন দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের যত ব্যর্থতা ও দুর্ভোগের বেদনা তার জন্য প্রধানত দায়ী আমাদের শিক্ষিত সমাজের সুবিধাবাদী চরিত্র।

সব সরকারের সময়ই সুবিধা ভোগ করতে গিয়ে একশ্রেণীর লোকের দ্বারাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থ প্রত্যক্ষভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত হয়ে আসছে। অত্যাচার-নির্যাতনে জর্জরিত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন। অথচ সাধারণ মানুষই ‘এক সাগর’ রক্ত দিয়েছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে, মানুষের মুক্তির সংগ্রামে। দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন শিক্ষিত লোকেরা যাদের অবস্থান দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে তারা মুক্তি সংগ্রামে সামান্যতম ভূমিকা রাখলেও আমাদেরকে এত চরম মূল্য দিতে হতো না। আমাদের মুক্তি সংগ্রাম আমাদের নিজস্ব পথে চলতে পারতো।

আমাদের দেশে শিক্ষিত হওয়ার সাধারণ অর্থ হচ্ছে নিজের স্বার্থ রক্ষায় কে কত দক্ষ এবং বেশি লাভবান হওয়ার প্রতিযোগিতায় সার্থক। তাদের মধ্যে ভালো থাকার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তো নিশ্চয় থাকবে। কিন্তু শুধু নিজে ভালো থাকার চিন্তা সুশিক্ষা হতে পারে না। বিত্তশালী হয়ে আরাম-আয়েশে আছে এমন অনেক লোক অশিক্ষিতদের মাঝেও পাওয়া যাবে। কিন্তু শিক্ষিত লোকদের চিন্তার জগতে ব্যক্তি স্বার্থকেই বড় করে দেখা হবে তা একেবারেই কাম্য হতে পারে না। তাতে শিক্ষা ও সচেতনার কোনো মূল্য থাকে না। কিন্তু সাধারণভাবে তাদের ভাবনা, দেশের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যা কিছু করণীয় তা করবে রাজনীতিবিদরা। শিক্ষিত লোকদের অনেকের মুখে এমন খোঁড়া যুক্তিও শুনতে হয় : আমরা রাজনীতি করি না।’ একটি স্বাধীন দেশের ভালো-মন্দের রাজনীতি সবার জন্য। এ রাজনীতি স্বাধীন দেশের নাগরিকের দায়িত্ব পালনের রাজনীতি - civic duty.

আমাদের দেশের শিক্ষিত লোকেরা যারা জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য পাবলিক সার্ভেন্টস হিসেবে বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত আছেন তাদের মধ্যে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের তাগিদ তাই তেমন দেখা যায় না। এটা যে সম্পূর্ণভাবেই তাদের অনিচ্ছার ব্যাপার তা কিন্তু নয়। তারা মনে করেন যে তারা এক বিশেষ শ্রেণীর লোক এবং সরকারের কর্মচারী হিসেবে তাদের দায়িত্ব সরকারের আদেশ-নির্দেশ পালন করা। তারা সরকারের অনুগত লোক। তার জন্য জনগণের ওপর অন্যায়-অবিচার এমনকি নির্মম নির্যাতন চালাতে হলেও তা চালানো তাদের দায়িত্ব।

দেশে আইনের সুবিচার থাকা না থাকা, জনগণের সম্পদ লুটপাটে বাধা দেয়া বা না দেয়া জনগণকে হত্যা-গুম হতে রক্ষা করা না করা রাজনৈতিক নেতাদের ব্যাপার। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দেখার দায়িত্বও রাজনৈতিক নেতাদের। তাই এসব ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামানো সুবিধাভোগী শিক্ষিত লোকদের করণীয় বিষয়ের মধ্যে পড়ে না।

কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে লেখালেখি করে কিছুটা প্রতিবাদ জানান সত্য, কিন্তু যাদের দ্বারা এসব চিন্তাভাবনা কার্যকর হতে পারে তাদের কাছে এসব লেখার কোনো গুরুত্ব নেই। রাষ্ট্রনামক যন্ত্রটি চললেই হলো। রাষ্ট্র যে মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি তা কোনো ভাবনার বিষয় নয়।

স্বীকার করি সবার জন্য রাস্তার আন্দোলন নয়। রাস্তার আন্দোলন যদি রাজনীতি হয় তাহলে স্বীকার করতেই হবে যে, সবার দ্বারা রাস্তার আন্দোলন হয় না। রাস্তার আন্দোলন জনগণের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনে সে সম্পর্কেও আমাদের যথেষ্ট হতাশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাস্তার আন্দোলন সঙ্ঘাত-সংঘর্ষের আন্দোলন। এ ধরনের রাজনৈতিক আন্দোলনে সঠিক নেতৃত্ব পাওয়াও কঠিন। মানুষের জ্ঞান ও যুক্তির ভাষা রাস্তার আন্দোলনে খুব কমই স্থান পায়।

জনগণের ভোটে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত দাবি নিয়ে ছাত্র নেতাদের রাস্তার আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা না পেলাম ৬-দফাভিত্তিক গণতান্ত্রিক শাসন, না থাকল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব। যখন তার নেতৃত্বের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল তখন অন্যদের বুদ্ধি মতো গ্রেফতার হয়ে তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে থাকতে হলো। আমরা আমাদের অনেক নেতাকেই হারালাম। তারাও বঙ্গবন্ধুর মতো নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন।

আমারও বলতে কষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস বিভিন্ন ধরনের নির্মম ষড়যন্ত্র ও ধোঁকাবাজির ইতিহাস।

৬-দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের চুক্তি সম্পাদন হতো বঙ্গবন্ধুর পর্বতসম সাফল্য। তাকে কিছু ছাত্র ও যুবনেতা বোঝালেন স্বাধীনতার জন্য গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে। সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার ও জোয়ানসহ দেশের জনগণ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত। তাই স্বায়ত্তশাসন নেয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধুও তা সরল বিশ্বাসে সত্য বলে গ্রহণ করলেন। নিজে বন্দী হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে গেলেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে আমাদের মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব চলে গেল ভারতের হাতে। দেশে জনগণের বিদ্রোহের কোনো আলামতই দেখা গেল না। যারা বঙ্গবন্ধুকে ভুল বুঝিয়েছেন তারাই সবার আগে দেশ ছেড়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে নানা ভুল-ভ্রান্তি এড়ানো যেতো যদি শিক্ষিত লোকেরা দর্শকের ভূমিকায় না থাকতেন। রেফারেন্ডামের মধ্য দিয়ে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের স্বাধীনতার প্রশ্নটির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ইয়াহিয়া খানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী। বঙ্গবন্ধু বন্দী না থাকলে তিনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। বঙ্গবন্ধুর ৬-দফাভিত্তিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি অন্যেরা মেনে নিয়েছিলেন। জনাব ভুট্টোও ঢাকায় ছিলেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য। বঙ্গবন্ধু নিজে তার বাসায় চাচীর উপস্থিতিতে আমাকে বলেছিলেন, তিনি সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন। তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বঙ্গবন্ধু জেলে বন্দী থাকায় পশ্চিম পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রকারীরা ৬-দফার সমঝোতার কথা আর মুখে আনেননি।

নেতৃত্বের বিভ্রান্তির জন্য আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বামপন্থী বৈপ্লবিক রাজনীতি প্রাধান্য পেল। সশস্ত্র সংগ্রাম এমনকি যুদ্ধের হুমকি দেয়া হলো। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে বিপ্লবী নেতাদের সঙ্গে অন্য নেতারাও রাতারাতি জনগণকে অসহায় অবস্থায় রেখে ভারতে চলে গেলেন। আমাদের নেতারা (বঙ্গবন্ধু জেলে) ধূর্ততা তথা ছলচাতুরির শিকার হয়ে অসহায়ভাবে ভারতের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকলেন।

বৈপ্লবিক রাজনীতির ভয়াবহ প্রভাব আমাদের স্বায়ত্তশাসনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভারতীয় যুদ্ধের বিষয় করায় আমাদের মুক্তি সংগ্রাম আর থাকল না। গণতন্ত্র তো দূরের কথা, আমাদের ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। স্বীকার করি বা না করি সরকার গঠনে যদি পুলিশের ভূমিকা থাকে তাহলে দেশে তো পুলিশি শাসনই প্রশ্রয় পাবে। পুলিশ প্রশাসনে যে অরাজকতা চলছে তার মূলে রয়েছে পুলিশদের রাজনীতিকীকরণ।

আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক দেশেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য চরম ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়েছেন। কংগ্রেস ভবনে সিনেটরদের ওপর আক্রমণ চালাতে তিনি উগ্রপন্থী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করেছিলেন। যাতে নির্বাচন ছাড়াই তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারেন। ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজে লিপ্ত হন। তবু সেখানে শিক্ষিত লোকদের সৎ সাহসের জন্য গণতন্ত্র টিকে গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র ধ্বংস করতে পারেননি। নির্বাচন অগ্রাহ্য করে ক্ষমতা দখলের উদ্যোগের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।

মান-সম্মান এবং অধিকার নিয়ে বাঁচার প্রশ্নটি সমগ্র জাতির ব্যাপার। তাই যেসব শিক্ষিত লোকেরা মনে করেন দেশে সুশাসন আছে কি নেই তা দেখার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের, অন্যদের নয়। তাদের বুঝতে হবে তাদের শিক্ষায় গলদ আছে। তাদের চিন্তা-ভাবনায় দেশপ্রেমের অভাব রয়েছে।

দেশের শিক্ষিত লোকেরা দেশের ভালো-মন্দের ব্যাপারে মুষ্টিমেয় রাজনীতিবিদদের কাছে বন্দী থাকবেন তা শিক্ষিত-সচেতন লোকদের সৎ চিন্তা হতে পারে না। তারা দলীয় রাজনীতি করেন না তা বুঝি, কিন্তু শিক্ষিত হয়ে রাজনীতিসচেতন নন, শাসনব্যবস্থার রূপ-চরিত্র সম্পর্কে সচেতন থাকবেন না- এটা শিক্ষিত লোকদের কথা হতে পারে না। দুঃশাসনে সহযোগিতা দেয়াও তো রাজনীতি।

গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে সবার সমষ্টিগত দায়িত্ব পালনের উপর।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দু-একজন নেতা-নেত্রীকে, নেতৃত্বে যারা আছেন তাদেরকে দোষারোপ করে কোনো লাভ হবে না। আমাদের দুর্ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। দুঃশাসন বেড়েই চলবে। আমাদের নিরাপত্তাহীনতা কমবে না। সুবিচারের পথ সঙ্কুচিত হতেই থাকবে। জনস্বার্থ অবহেলিত ও উপেক্ষিত হবেই। দুর্নীতি ও অন্যায়কারীদের শক্তি ও সাহস বাড়তেই থাকবে।

কিন্তু যদি দেশে শান্তিপূর্ণ পথে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে শিক্ষিত লোকদের বিবেক ও বুদ্ধিমতা অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে। চারদিকে জনগণের ক্ষোভ ও বিক্ষোভ বেড়েই চলছে। মিথ্যার রাজত্ব ভঙ্গুর হচ্ছে। সরকার আছে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কতটা আছে তা নিজেরাই আমাদের চেয়ে বেশি জানেন। লণ্ডভণ্ড অবস্থায় কোনো সরকার চলতে পারে না।

দেশের অব্যবস্থা দেখে অন্যেরা আমাদেরকে আহাম্মক মনে করে। দেশ চালানোর যোগ্যতা আমাদের নেই মনে করে। আমাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে আমরা বার বার আহাম্মকের পরিচয় দিচ্ছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আর কত আহাম্মক হবো।

নিজেদের স্বাধিকার রক্ষা করতে না পারার গ্লানি শিক্ষিত লোকদেরই উপলব্ধি করতে হবে। তা না হলে অনেকেরই পদানত হয়ে আমাদেরকে থাকতে হবে।

আমরা তো অযোগ্য নই। শিক্ষিত লোকদের সঠিক ভূমিকা না থাকায় আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাফল্য দেখাতে পারছি না।

লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার



আরো সংবাদ