২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
`

জীবনের চেয়ে স্বপ্ন বড়

জীবনের চেয়ে স্বপ্ন বড় - নয়া দিগন্ত

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে স্বাধীনরাষ্ট্র হিসেবে যখন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে তখন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় পতিত হই। সে দেশে মিশিগান ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছিলাম। পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে সরকার দেশে ফিরে আসতে বলায় তা অমান্য করেছি। ফলে আমার পাসপোর্ট তথা পাকিস্তানের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। এ অবস্থায় জীবন ধারণের আর্থিক সংস্থান হারিয়ে অকূল সমুদ্রে পড়ে যাই। পিএইচডির শিক্ষকদের সাহায্য-সহযোগিতায় কোনো মতে টিকেছিলাম। ১৯৭৩ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ সরকার আমাকে পাসপোর্ট দেয়। তত দিনে পিএইচডিও শেষ হয়েছে। যদিও আরো আগ থেকেই কাজের সন্ধানে নেমে পড়ি। তখন পাপুয়া নিউগিনির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, লেহ, শিক্ষক খুঁজছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপদেশটি তখনো অস্ট্রেলিয়ার ট্রাস্ট টেরিটরি। অস্ট্রেলিয়া সরকার ওখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিত। আমি আবেদন করে নির্বাচিত হই। এই চাকরি পাওয়ার পেছনেও আমার শিক্ষকদের অসামান্য অবদান রয়েছে। আমাকে মিশিগান থেকে লেহ পর্যন্ত সপরিবারে যাওয়ার জন্য প্লেনের টিকিট দেয়া হয়। এটা ছিল আটলান্টিক রুটে ওয়ার্ল্ড ট্যুর। এ ছাড়া ‘প্যাসিফিক ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ নামে আরেকটি ট্যুর ছিল। মানে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া।

আমরা ১৯৭৪ সালের ১ বা ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে প্রথমে ইংল্যান্ডে যাই এবং কয়েক দিন ঘুরেফিরে দেখি। সেখান থেকে প্যারিস। এখানে খাওয়া নিয়ে বিপদে পড়ি। কোনো মুসলিম রেস্টুরেন্ট চিনি না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজন মুসলমান পেলাম। সে বলল, ঘোড়ার মাংস আছে, খেতে পারেন। আমি বলি, না, ঘোড়ার মাংস খাবো না। ভাগ্য ভালো, এরপর চিকেন কারির খোঁজ পেলাম। এরপর যাই ইটালি। সেখানে আমাকে প্রতারণার শিকার হতে হয়। আমার গোটা সফর ছিল প্যানঅ্যাম এয়ারলাইন্সে। এটা আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যারিয়ার। তারাই বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে থাকে। আমরা ইতালি পৌঁছার পর এক লোক এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে, ‘আর ইউ ড. মান্নান? ইয়েস। আইএম ফ্রম দ্যাট হোটেল।’ আসলে আমাকে বিভ্রান্ত করা হলো। সে আমাকে যে হোটেলে নিয়ে যায় সেটি প্যানঅ্যামের বুক করা হোটেল ছিল না। প্যানঅ্যামের লোকও সেখানে ছিল। আমি চলে যাওয়ার পর প্যানঅ্যাম আমাকে লোকেট করে। তারা আমাকে ফোনে জিজ্ঞেস করে, কেন তাদের হোটেল বাদ দিয়ে অন্য হোটেলে গিয়েছি। আমার তো হতবুদ্ধিকর অবস্থা, বলে কী!

আমরা ভ্যাটিকান সিটি দেখতে বের হয়েছিলাম। এসে দেখি, এলাহি কাণ্ড। বেশ হইচই পড়ে গেছে। কেন আমাদেরকে এখানে আনা হয়েছে তা নিয়ে ঝগড়া করছে আসল হোটেলের লোকজন এসে। এরপর আমাদেরকে আসল হোটেলে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে আমরা গ্রিসে যাই। অনেক দিন পর পছন্দ মতো খাবারের সন্ধান পেলাম। সেখানে মুসলমানদের জন্য ‘হালাল’ খাবারের দোকান রয়েছে। বিশেষ করে, টার্কিশ খাবারের প্রভাব দেখলাম। ইন্ডিয়ান কারি, আমাদের মতোই রান্না। পেট ভরে খেলাম। একাই বেরিয়েছিলাম। সবরকম খাবার মেয়ে ও ছেলের জন্য নিয়ে নিলাম। তখন আমার মেয়ের বয়স সাত বছর, আর ছেলে চার বছরের। এরপর কায়রো। সেখানে রাজপ্রাসাদের পাশেই আমাদের হোটেল। এরপর আসি সৌদি আরবের রিয়াদে।

তখন রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আমি নিয়োগপত্র পেয়েছিলাম। আমি পিএইচডি করার সময়ই ওরা অফার দিয়ে রেখেছিল যেন ডিগ্রি হাতে পাওয়া মাত্র ওখানে যোগদান করি। কিন্তু আরবি ভাষা জানা না থাকায় আমি পারিনি। ভিসির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করি। আমাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। বলি, আমি এতটাই ক্লান্ত যে, আমার পক্ষে আরবি শিখে এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে যদি কখনো সুযোগ আসে, আমি কথা রাখব।

রিয়াদ থেকে বৈরুত হয়ে দিল্লি আসি। দিল্লির অশোকা হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হই। বাথরুমে গিয়ে পিছলে পড়ে পা মচকে যায়। পা ফুলে গেছে, জুতা পায়ে দেয়া যায় না। ওয়াটার ব্যান্ডেজ করা হলো। পরদিন আমাদের ফ্লাইট। ফার্স্টএইড দেয়ার পর ব্যথা কিছুটা কমে। সেখান থেকে মাদ্রাজ, কলম্বো, ব্যাংকক, হংকং হয়ে আমার গন্তব্যের কাছাকাছি পোর্ট মোর্সবি পৌঁছি। এটা পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বাইরে সাউথ প্যাসিফিকে তখন এটাই ছিল সবচেয়ে বড় শহর। এরপর লেহ শহরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পৌঁছি। জীবনের প্রথম দীর্ঘ এই সফরে বিশ্বের অনেক দেশ দেখা হয়েছে। বহু মানুষের সাথে পরিচয় হয়। পুরো এক মাসের সফর। যখন লেহ পৌঁছি তখন ২ বা ৩ ফেব্রুয়ারি। বাইরে প্রবল বর্ষণ হচ্ছিল। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে আমার মেয়ে ও ছেলে তখন গভীর ঘুমে।

এটা ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। তখন আমি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে এমন একটি ভূখণ্ডে গিয়েছি যার সমাজ ও প্রকৃতি সম্পূর্ণ অচেনা। বাংলাদেশ বা আমেরিকার জীবনযাত্রার সাথে কোনো মিল নেই। জনৈক ব্যক্তি আমাকে রিসিভ করতে আসেন। তারা এতটাই মেথডিক্যাল যে, আমাকে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাংলাদেশী অধ্যাপক আমি। চার-পাঁচজন ভারতীয় অধ্যাপক ছিলেন। আমাকে বলা হলো, আমার থাকার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট রেডি। সেখানে ‘সার্ভাইভাল কিটস’ রয়েছে। এর মানে হলো ফ্রিজে তিন দিনের খাবার মজুত আছে এবং আমার প্রয়োজন হবে, এমন জরুরি তৈজসপত্র কেনা হয়েছে। এরপর দেখি, আমার কাছে একজন কার ডিলার আসে। গাড়ি কিনব কি না জানতে চায়। বিশ্ববিদ্যালয় ঋণ দেবে। আমার অবাক হওয়ার পালা। আমার চিন্তার মধ্যেও এটা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে যে বেতনভাতা দেবে, তার মধ্যে গাড়ির কথা লেখা নেই। আমাকে বলা হলো, শুধু কাগজপত্রে সই করে দিলেই হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কিস্তিতে দাম শোধ করে দেবে। আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনেই গাড়ি চালাতে জানি। তাই কাগজে সই করে দেই। লেহতে পৌঁছার দ্বিতীয় দিনেই গাড়ি এসে হাজির।

বিমানবন্দর থেকে বাসায় পৌঁছে দেখি, প্রয়োজনীয় সব কিছু সাজানো। একজন বিদেশী অধ্যাপকের সাথে কেমন আচরণ করতে হয় সেটি তাদের কাছে শিখলাম। বাড়িটি কাঠের তৈরি, মাচার মতো। প্রতিদিন সেখানে ভূমিকম্প হয়। রাতে প্রবল বৃষ্টি, দিনে প্রখর রোদ। আর চোখ ধাঁধানো সবুজ প্রকৃতি, যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। পরদিন অফিসে গেলাম। দেখি, আমাকে যে কোর্স পড়াতে হবে তার কিছু বই আমার জন্য রাখা। কিছু প্রশ্নও ছিল যেন আমি বুঝতে পারি পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হয়। এটা ছিল আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কোর্স। এ ধরনের কোর্স পড়ানোর অভিজ্ঞতা আমার ছিল। সেটি ছিল ‘বিজনেস স্টাডিজ’ বিভাগ, শুধু অর্থনীতি নয়। অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কোর্স নিতে পারত। ফলে আমার ক্লাসে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ছাত্ররা ছিল। তাদের ক্লাস নিতাম আলাদাভাবে।

প্রথম দিন ক্লাসে গেল আমাকে দেখে শিক্ষার্থীরা বেশ উৎফুল্ল হয়; কারণ আমি ‘হোয়াইট’ নই। মাইক্রো ইকনমিক্স পড়ানোর সময় ছাত্রদের জিজ্ঞেস করি, তারা শিক্ষা শেষে করে কী করবে। দেখি, কেউ কিছু বলছে না। আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। আমি যা পড়াচ্ছি তার উত্তর ঠিকমতো দিতে পারলেও মনে হতে লাগল, তাদেরকে কিছু বুঝাতে পারছি না। কয়েক সপ্তাহ পার হওয়ার পর আমার এ ভাবনা আরো পোক্ত হয়। সেই ভাবনা আমাকে তাদের সমাজ ও স্থানীয় অর্থনীতি বুঝতে উৎসাহিত করে। স্থানীয় অধিবাসীরা খুবই সহজ সরল। আমরা দরজা খুলে ঘুমাতাম। যত মূল্যবান জিনিসই হোক না কেন, চুরি যাওয়ার ভয় ছিল না। শুধু একটি জিনিসের প্রতি আকর্ষণ ছিল, রেডিও। আর ফ্রিজ খুলে দেখত বিয়ার আছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েও অর্থবিত্ত লাভের আকাক্সক্ষা তাদের মধ্যে জাগত না। যে ছাত্রকেই জিজ্ঞেস করতাম, সে বলত গ্রামে বা গোত্রের কাছে ফিরে যাবে। ওখানে বিত্তের চেয়ে সামাজিক মর্যাদা হাসিলকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এমনটা ইউরোপ-আমেরিকার মানুষের কল্পনাতেও আসবে না। পাপুয়া নিউগিনির সমাজ ও অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা শুরু করি। আমার এসব গবেষণামূলক লেখা ইউনেস্কো থেকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি লেখায় আমি চেয়েছি, পশ্চিমা ব্যক্তিস্বার্থবাদের প্রভাবে যেন এমন একটি ভালোবাসাপূর্ণ সমাজ বিনষ্ট না হয়। ওখানে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু কাটিয়েছি মনে হয় যা আমার ওপর কিছুটা স্থায়ী প্রভাব ফেলে। যে কারণে ৩২ বছর বিদেশে কাটিয়ে শেকড়ের টানে দেশে ফিরে আসি। সৌদি আরবের মতো দেশের নাগরিকত্ব লাভের বিরল সুযোগ পেয়েও নিইনি।

পিএনজি গিয়ে আমার গভীর উপলব্ধি ঘটে, কতটা কম জানি। অর্থনীতি বিষয় নিয়ে নাড়াচাড়া করেছি মাত্র, এটুকু বলতে পারি। কিছুটা ইংলিশ সাহিত্য পড়েছি। আরবি তো শিখতে পারিনি। আরবি শিখব বলে কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দিয়েছিলাম। আশা ছিল, আরবি সাহিত্য অধ্যয়ন করে ইসলামের আইন-কানুন জানব। আল কুরআনকে বুঝার চেষ্টা করব। কিন্তু সেটি আর হয়ে ওঠেনি। ইসলামী অর্থনীতির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও পাইনি। মুসলিম পণ্ডিতদের যেসব লেখা ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে সেগুলোর যৎসামান্য শিখেছি। ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে লিখেছি; তা-ও ইংরেজিতে যা আমার দ্বিতীয় ভাষা ছিল। জীবনের এই পড়ন্ত বেলাতেও আরবি শিখতে না পারা নিয়ে আমার আক্ষেপ আছে। আর অবাক হয়ে ভাবি, এত কম জ্ঞান নিয়ে কিভাবে জীবনভর সবাইকে ফাঁকি দিতে পারলাম। এই ভাবনা আমাকে বিষণ্ন করে তোলে। অর্থনীতির বিশাল সমুদ্রের কণামাত্রও জানি না। অথচ মানুষ আমার কথা টাকা দিয়ে কিনছে। দু’কলম যা লিখছি, তার জন্য টাকা দিয়েছে, এখনো দিচ্ছে। ইসলামী অর্থনীতির কথা বলেছি; কিন্তু কখনো ইসলামী অর্থনীতির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাইনি। আরবি পড়িনি অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকটি আমাকে নিয়ে তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের সর্বোচ্চ পদে নিয়ে বসিয়েছে। মালয়েশিয়ার এক জার্নালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ ইসলামী অর্থনীতিবিদের মধ্যে আমাকে রেখেছে। ১৯৯৭-৭৮ সালের দিকে কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেয়ার পর একসাথে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে পারিতোষিক পেতাম। ইউনিভার্সিটির বেতন, আইডিবিতে কনসালটেন্সি করার জন্য টাকা, আর পিএনজির বিশ্ববিদ্যালয়ে সাব-আর্টিক্যাল লিখে থাকায় সেখানকার বেতন। ওই সময়ে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে তা কল্পনা করা যায়?

আমেরিকা থাকাকালে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অনেকবার গিয়েছি। পরে চাকরির সুবাদে কতবার যে আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। জীবনে শখ ছিল, শিপে মহাসাগর পারি দেবো। কিন্তু সেই শখ পূরণ হয়নি। কর্মজীবনের ব্যস্ততা ছিল এর কারণ। জ্ঞানের মহাসমুদ্রের কথা মনে এলেই মানসপটে প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের ছবি ভেসে উঠছে। জ্ঞানের মহাসমুদ্র এর চেয়েও বিশাল। অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছি। অথচ এই বিষয়েরই প্রায় ৫৮টি বিভাগ ছিল তখন। প্রতিটি বিভাগই জ্ঞানের একেকটি সমুদ্র। কম্পিউটার বিজ্ঞানের কিছুই জানি না। মহাকাশ বিজ্ঞান; সে আবার কী? রসায়ন-পদার্থ পড়িনি। চিকিৎসা শাস্ত্র পড়িনি। প্রকৌশল জগতের জ্ঞান নেই। জ্ঞানের মহাসমুদ্রের বেলাভূমিতে দু-একটি নুড়ি পাথর কুড়াতে চেষ্টা করেছি; পেরেছি কি না সেটিও জানি না।

জীবন সায়াহ্নে আমার দেহ বেশ ক্লান্ত; কিন্তু মন এখনো সতেজ। আজীবন স্বপ্ন ছিল মানবতার সেবা করার এবং পশ্চিমা গতানুগতিক চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে মুসলমানদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ধারণাগুলো বিকশিত করার। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের অন্যতম প্রধান দিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিকল্প কিছু করার স্বপ্ন আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। আমার সামাজিক ঋণ শোধ করার তাড়না থেকে এই স্বপ্ন। এ দেশের যেসব খেটে খাওয়া মানুষের পয়সায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছি, তাদের কাছে আমার এই ঋণ। এই ঋণ শোধ করার মানসেই আইডিবির চাকরি থেকে অকাল অবসর নিয়ে দেশে ফিরে আসি। জীবনের চেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণে নিবেদিত হই।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড; সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা
[email protected]



আরো সংবাদ


সকল