২৭ জানুয়ারি ২০২১
`

আর দেখা হবে না, হুমায়ুন ভাই?

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী - ফাইল ছবি

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরীর সাথে প্রথম দেখা সম্ভবত ১৯৮০ সালের দিকে। আমি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ি। হুমায়ুন ভাই পড়তেন লোকপ্রশাসন দ্বিতীয় বর্ষে। রাজনীতি বিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন একসময় একই বিভাগ ছিল। অনার্স রাজনীতি বিজ্ঞানে শেষ করার পর লোকপ্রশাসনে ছিল মাস্টার্স। আমি ছিলাম দু’টি অভিন্ন বিভাগ থাকার শেষ ব্যাচের রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র। আর হুমায়ুন ভাই লোকপ্রশাসন অনার্সের প্রথম ব্যাচের। শান্তশিষ্ট নিপাট ভদ্র ও প্রিন্স চেহারার হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী সম্ভবত শাহ আমানত হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। সাহিত্য চর্চার ঝোঁক তখন থেকেই। সে সময়েই ‘কিশোর বাংলা’ নামের বিখ্যাত শিশু পত্রিকায় তার ছড়া ছাপা হতো। তখনকার জমজমাট ছাত্র রাজনীতির পরিবেশেও রাজনৈতিক কোলাহলে তাকে দেখা যেত না। তবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি ছিল তার বিশেষ অনুরাগ। অন্তর্মুখী চরিত্রের এই প্রতিভাবান ব্যক্তির সাথে তখনো আমার সেভাবে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেনি।

২.
চট্টগ্রামের উপকূলীয় থানা বাঁশখালির বৈলছড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হুমায়ুন। চতুর্থ সন্তান হিসেবে অতি আদরের হওয়ার কারণে বাবা চোখের বাইরে যেতে দিতে চাইতেন না তাকে। অন্য ভাইদের তুলনায় এই কম স্বাধীনতা কিশোর হুমায়ুনের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি করত। এটি বুঝতে পেরে বাবা বলেছিলেন- তুমি যখন পিতা হবে তখন বুঝবে, কেন তোমাকে সবসময় কাছে কাছে রাখি। একদিন স্মৃতিচারণ করে হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী বলেছিলেন এ কথা। তখন দুই কিশোর ছেলে-মেয়ের বাবা তিনি। হুমায়ুন ভাইয়ের অনুভূতি সেদিন আমি কল্পনা করি। আজ ভাবী দুই কিশোর ছেলেমেয়ে হুমায়ুন সাদেক চৌধুরীর মতো সংবেদনশীল স্নেহময় বাবাকে হারিয়ে সময় কিভাবে পার করছেন? কয়েক দিন আগে ফেসবুকে হুমায়ুন ভাইয়ের লেখা দু’টি লাইন আমার এখনো চোখে ভাসে। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার মা আমাদের সবাইকে কাঁদিয়ে আল্লাহর কাছে চলে গেছেন বেশ ক’বছর হলো। তারপরও পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের বঞ্চিত রাখেননি, তিনি আরেকটা মা দিয়েছেন আমাদের। সে হলো আমাদের মেয়ে ঐশী। আজ ছিল তার জন্মদিন। আমি এক হতভাগ্য বাবা, মায়ের জন্মদিনে তাকে ছোট একটা উপহারও কিনে দিতে পারিনি। শুধু মনে মনে আল্লøাহর কাছে চেয়েছি, আমার ছেলেমেয়েরা মানুষের মতো মানুষ হোক, যে আল্লাহর কাছে প্রিয় এবং তাঁর বান্দাদের কাছেও প্রিয়। ফেসবুক বন্ধুরা, আমি কি আমাদের মেয়েটার জন্য আপনাদের দোয়া চাইতে পারি?’

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেছেন। ছোট বোনের মতো তিনিও হতে পারতেন সচিব বা অতিরিক্ত সচিব। কিন্তু সৃজনশীল মুক্তমন তাকে সাংবাদিকতায় আকৃষ্ট করে। চট্টগ্রামের এক সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক নয়া বাংলার সহসম্পাদক হিসেবে পূর্ণকালীন সাংবাদিকতা শুরু করেন। একদিন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট শিল্পপতি এম এ জিন্নাহর সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি চট্টগ্রাম থেকে বিমানের টিকিট দিয়ে দৈনিক দিনকালে যোগদানের জন্য তাকে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। জিন্নাহ সাহেব তখন দিনকালের মালিক। এরপর হুমায়ুন ভাই অনেক গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত ছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ইউএনবি, মানবজমিন, মাতৃভূমি, যায়যায়দিন, আমার দেশ ও নয়া দিগন্ত।

হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী যাদের সাথে যেখানে কাজ করেছেন সেখানে তার ভূমিকা ছিল সাংবাদিকতার শিক্ষকের মতো। তিনি নিজে ছিলেন অনেক উঁচু মানের সম্পাদক। সাংবাদিকতা ও সম্পাদনা কী তা তিনি অনেক গভীরভাবে বুঝতেন ও বুঝাতে পারতেন। বড় মাপের মানুষের মধ্যে শিখানোর যে উদারতা থাকে তা ছিল হুমায়ুন সাদেকের সহজাত বৈশিষ্ট্য। তার নিরহঙ্কার সারল্যভরা হিংসামুক্ত স্বভাবের কারণে ঢাকার সহ-সম্পাদকদের কাছে তার উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল। ফলে তিনি সাব এডিটর্স কাউন্সিলে দুইবার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিপুল ভোটের ব্যবধানে। তার মেয়াদকালে প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পায়।

৩.
হুমায়ুন সাদেক চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য তৈরি হয় পাক্ষিক পালাবদলে একসাথে কাজ করার সুবাদে। পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক ছিলেন কবি আল মাহমুদ। উপদেষ্টা ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের তখনকার চেয়ারম্যান কমোডর (অব:) আতাউর রহমান। সম্পাদক ছিলেন আব্দুস সালাম। আমি, হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী, এখন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এস এম মিলন ইসলাম, সুইডেন প্রবাসী কবি শাকিল রিয়াজ, ডাক্তার আবু হেনা আবিদ জাফর, ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ ইকরামসহ অনেকে এর সাথে যুক্ত ছিলাম। আল মাহমুদকে কেন্দ্র্র করে পত্রিকাটিতে কবি লেখকদের নিয়মিত আড্ডা বসত। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক এসব সভায় পালাবদল সদস্যরা ছাড়াও প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান, প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ, কবি ফজল শাহাবুদ্দিন, কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ, আবুল খায়ের মুসলেহ উদ্দিন, জুবাইদা গুলশান আরা, ফখরুজ্জামান চৌধুরী, শাহাবুদ্দিন নাগরী নিয়মিত আসতেন। নীরব কর্মী হিসেবে এসব আয়োজনের অন্তরালে ভূমিকা রাখতেন হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী।

অনুল্লেখযোগ্য অনেক ব্যক্তিও সময় সময় বিখ্যাত ব্যক্তিদের স্নেহ পেয়ে থাকেন। আমি ছিলাম তেমন এক সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। কিন্তু উপরের বিখ্যাত ব্যক্তিদের অনেককে হুমায়ুন সাদেকের সাথে সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে কথা বললে তার জানার গভীরতায় মুগ্ধ হতে দেখা যেত। কিন্তু হুমায়ুন ভাইকে কখনো অহঙ্কারকে প্রশ্রয় দিতে দেখা যেত না।

পালাবদলের সাথে যুক্ত থাকার তিন-চার বছর সম্ভবত আমাদের সবার জন্য সোনালি সময় হয়ে থাকবে। হুমায়ুন ভাই পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন। শাকিল রিয়াজ পালাবদল থেকে দৈনিক জনকণ্ঠে সহকারী সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। মিলন ইসলাম এখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একজন খ্যাতনামা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ড। আবু হেনা আবিদ জাফর একজন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। মুহাম্মদ ইকরাম পোশাক খাতের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

পালাবদলের এই সময়ে আল মাহমুদের কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও ‘ডাহুকি’, ‘কাবিলের বোন’, ‘যে পারো ভুলিয়ে দাও’ নামে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস প্রকাশ হয়েছে। ‘মরু মুষিকের উপত্যকা’ নামে একটি ফিকশনও এ সময় প্রকাশ হয়। কবি নিজেও বলতেন, পালাবদল কালটা কিছু গ্রাম্য মহাজনতুল্য নাছোড়বান্দা তরুণ যুবকের পাল্লায় পড়ে আমার লেখালেখি জীবনের সবচেয়ে উৎপাদনশীল সময়ে পরিণত হয়েছিল। এই ধারাটি পরে নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক জাকির আবু জাফর জারি রেখেছিলেন। পরবর্তী অনেকগুলো বই প্রকাশের কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে তার প্রাপ্য। আল মাহমুদের মৃত্যুর পর পালাবদল সময়ের স্মৃতিচারণ করে হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন...

“পত্রিকা বেরুনোর পর কয়েক দিন কবি কিছু না লিখলেও অসুবিধা নেই। কিন্তু শেষ দিকে সব আড্ডা বন্ধ। তাকে প্রায়-বন্দী রেখে লেখা আদায় করে নিতে হবে। এক-দু’জন পাহারায় থাকবে, যাতে তিনি ‘পালিয়ে’ যেতে না পারেন। কে থাকবে পাহারায়? মাসুম ভাই নিজে একটা দৈনিকের সিনিয়র রিপোর্টার। সময়ে-অসময়ে তার নানা অ্যাসাইনমেন্ট থাকে। কাজেই এ কাজ তার নয়। আবু হেনা আবিদ জাফর তখন ডাক্তার হই-হবো অবস্থায়। তারও সময় নেই। মিলন ইসলাম (এখন প্রবাসে) সবে বিয়ে করেছেন। নতুন বউকে একলা বাসায় ফেলে রেখে অফিসে বসে থাকা তার কি মানায়? বাকি রইলাম আমি আর আমার সাথে জসীম, অর্থাৎ জসীম মাহমুদ। ফেনীর ছেলে জসীম দারুণ করিৎকর্মা। বাঘের দুধ দুইয়ে আনতে বললেও ছুটে যাবে। দুধ আনতে না পারলে লেজের কিছু পশম হলেও ছিঁড়ে আনবে। মাসুম ভাই বেরুনোর সময় কবিকে বলে যান, মাহমুদ ভাই, আজ কিন্তু কিস্তিটা শেষ করেই যাবেন। এই হুমায়ুন ভাই আর জসীম রইল। আপনার কিছু দরকার হলে বলবেন। মাসুম ভাই তার স্বভাবসিদ্ধ নিচু গলায় বলেন কথাগুলো, কিন্তু তাতে থাকে আদেশ ও আব্দারের মিশ্র ব্যঞ্জনা। কবির পক্ষে তা উপেক্ষা করা প্রায়ই সম্ভব হয়নি। তিনি নিজের টেবিলে বসে একমনে সৃষ্টি করে চলেন ‘ডাহুকি’। আমি ও জসীম পাশের রুমে বসে অপেক্ষা করি। লেখা শেষে কবি চলে যেতে চান। তার ক্লান্ত চেহারা দেখে আমাদের খুব মায়া লাগে। আমরা তাকে আরেক কাপ চা খেয়ে যেতে বলি। কোনো কোনো দিন কবি রাজি হন। জসীম দৌড়ে যায় কবির জন্য চা আনতে।”

৪.
পালাবদলের সম্পাদক আব্দুস সালাম অসুস্থ হয়ে পড়লে পত্রিকাটি আর প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে পারেনি। হুমায়ুন ভাই বিভিন্ন দৈনিকে কাজ করার পর দৈনিক আমার দেশ-এ। কিছুটা বৈপ্লবিক নীতি পত্রিকাটিকে চাপের মধ্যে নিয়ে আসে। আমি নয়া দিগন্তে একসাথে কাজ করার জন্য হুমায়ুন ভাইকে অনুরোধ করি। নয়া দিগন্তে প্রথমে চিফ রিপোর্টারের দায়িত্ব পাই। পরে বার্তা সম্পাদক আযম ভাইকে দিগন্ত টেলিভিশনের বার্তা প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হলে আমাকে পত্রিকার বার্তা বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। হুমায়ুন ভাইয়ের সহযোগিতা আমার কাজকে তখন অনেকটাই সহজ করে দেয়। প্রতিদিন ৪টায় অফিসে এসে অনেকগুলো রুটিন কাজ নিজে করে পাঠিয়ে দিতেন কম্পোজের জন্য। তিনি নিজে ভালো সম্পাদনা করতেন। শুধু তাই নয়, টেবিলের সাব-এডিটরদের কাজের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্ন নিয়ে পরামর্শ দিতেন, গাইড করতেন।

বৈরী প্রশাসনের কারণে নয়া দিগন্ত এ সময় বেশ চাপে পড়ে যায়। এ ধরনের চাপের মধ্যে ভারসাম্য কিভাবে সংবাদ ব্যবস্থাপনায় বজায় রাখতে হয়, সেটি হুমায়ুন ভাইয়ের জানা ছিল। নয়া দিগন্তে যে ক’বছর ছিলেন হুমায়ুন ভাই; তিনি ছিলেন সবার পছন্দের একজন মানুষ। বাংলা ভিশনের অন্যতম মালিক ‘অর্থনীতি প্রতিদিন’-এর বার্তা সম্পাদক হিসেবে অধিক বেতনে নিয়োগের অফার দেন হুমায়ুন ভাইকে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন পত্রিকাটিকে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক দৈনিকে পরিণত করবেন। সেটি তিনি পারতেন। কিন্তু উদ্যোক্তাদের নানা ভুল সিদ্ধান্ত পত্রিকাটির আয়ু বছর দুই-তিনের মধ্যে সীমিত করে ফেলে। এ সময় জাতীয়তাবাদী ঘরানার একের পর এক গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যেতে থাকে। হুমায়ুন ভাইয়ের মতো উচ্চমানের একজন পেশাদার ব্যক্তিকে একটার পর একটা অনলাইনে কাজ করে সময় পার করতে হয়। শেষের দিকে অনেকটা ফ্রিল্যান্সার হিসেবেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করতেন।

গণমাধ্যম শিল্পে করোনার আঘাত একপর্যায়ে পরিস্থিতিকে আরো বিরূপ করে ফেলে। করোনার আঘাত হুমায়ুন ভাইয়ের পরিবারকে আরো বেশি বিধ্বস্ত করেছে। মার্চ মাসে করোনা নিয়ে হুমায়ুন ভাই একটি ছড়া লিখেছিলেন যেখানে তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন এই আপদ যেন বিশ্ব শান্তি ও মানবতাকে যারা হত্যা করতে উদ্যত হয়, তাদের আঘাত করে। আর দেশের মানুষকে করোনাজয়ের স্বপ্ন দেখতে উদ্দীপ্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি। করোনার আপদ হয়তো জয় করার মতো নয়। মানুষের কর্মফলে ‘ভয়ঙ্কর দৈত্য’ যখন গলা টিপে ধরে তখন সর্বশক্তিমান হয়তো বা তাঁর ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটান না।

এই করোনা হুমায়ুন ভাইয়ের দুই ভাইকে নিয়ে গেছেন। সর্বশেষ এক অজাতশত্রু নিপাট ভালো মানুষ হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী বিদায় নিলেন। তার করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। দুপুরে খাবারের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের ধারণা, হয়তোবা নানামুখী চাপে থাকার কারণে তার স্ট্রোক হতে পারে।

মানুষের চূড়ান্ত ভালো-মন্দের ফায়সালা সর্বশক্তিমানের হাতে। বিশ্বাসীরা জানেন, দুনিয়ার পর আরেকটি জগৎ আছে, সেখানে দুনিয়ার ভালো কর্মের ফল পরম করুণাময় দান করবেন। আমরা যারা হুমায়ুন ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে গেছি তারা সাক্ষ্য দিতে পারি- কোনো মানুষের ক্ষতি করা তো দূরের কথা, ক্ষতির চিন্তাও করতেন না তিনি। অন্যায্য কোনো কিছুতে কেউ তাকে প্রলুব্ধ করলে বা চাপ দিলে নীরব থাকতেন, কিন্তু কাজ করতেন বিবেক অনুসারে। শাকিল রিয়াজ যথার্থই বলেছেন, ‘হুমায়ুন ভাইয়ের মতো অমায়িক আর বন্ধুবৎসল মানুষ আমি আর দেখিনি। তার জ্ঞান, জানার পরিধি আর সম্পাদনার হাত ছিল ঈর্ষণীয়। অপরিসীম জীবনবোধ আর রসবোধে ভরপুর এই বন্ধুটি এত অগোচরে চলে যেতে পারলেন অন্য ভুবনে?’

হুমায়ুন ভাই আজ যেখানে, আমাদের সবারই অনিবার্য গন্তব্য সেটিই। কারো আজ, কারোবা পরে। আমরা সবাই পরম করুণাময় আল্লাহর। তার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। মহান প্রভু, আমাদের হুমায়ুন সাদেক চৌধুরীকে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলেও ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাত দান করুন। তার শোকাহত বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীর কল্যাণের ভার আপনার হাতে তুলে নিন।

[email protected]



আরো সংবাদ