২৩ জানুয়ারি ২০২১
`
আল কুরআনে অর্থনীতি : ৫

কিছু নিষিদ্ধ কাজ : অর্থনৈতিক তাৎপর্য

কিছু নিষিদ্ধ কাজ : অর্থনৈতিক তাৎপর্য - নয়া দিগন্ত

‘বলুন! এসো, তোমাদেরকে ওই সব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করো না। মা-বাবার সাথে সদয় ব্যবহার করবে, নিজেদের সন্তানদের দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে জীবিকা দেই। নির্লজ্জতার কাছেও যেও না, প্রকাশ্য হোক কী অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তাকে হত্যা করো না, অবশ্য সত্য ও ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝে কাজ করো। ইয়াতিমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না, কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ করো ন্যায়সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত দায়িত্বের বোঝা দেই না। আর যখন কথা বলো, ইনসাফের সাথে কথা বলো, যদিও সে আত্মীয় হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। এসব বিষয়েই আল্লাহ তোমাদের হেদায়াত দিয়েছেন যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।’ (সূরা আল-আনআম : ১৫১-১৫১)

আয়াতদ্বয়ের সাধারণ তাৎপর্য
সূরা আনআমের এ আয়াতে আল্লাহ পাক ৯টি কাজকে নিষিদ্ধ বা হারাম ঘোষণা করেছেন এবং এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর নির্দেশমতো চলা ও এসব কাজ থেকে বিরত থাকা ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। প্রথমত, আল্লাহর সাথে শিরক করাকে হারাম করা হয়েছে। শিরক অর্থ আল্লাহর বিশেষ গুণাবলি, আল্লাহর ক্ষমতা, ইখতিয়ার ও অধিকারে অন্যকে অংশীদার করা। যেমন- আল্লাহর বিশেষ গুণাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি সব কিছু জানেন ও শোনেন। অন্য কারো সম্পর্কে এ ধারণা করা যে, তিনিও গায়েব জানেন বা সব কিছু শোনেন ও জানেন- এরূপ মনে করলে শিরক করা হবে। তেমনি কারো সম্পর্কে ধারণা করা যে, তিনিও অতি-প্রাকৃতিক উপায়ে কারো ভাগ্য রচনা বা নষ্ট করতে পারেন বা অতি-প্রাকৃতিক উপায়ে কারো উপকার বা অপকার করতে পারেন, তা শিরক বলে গণ্য হবে। আল্লাহর জন্য যেমন আমরা রুকু, সিজদা করি বা যে বিনয়ের সাথে তাঁর সামনে দাঁড়াই, অন্যের জন্য এমন করাও শিরক। তার পর মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহারের আদেশ করা হয়েছে অর্থাৎ তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হারাম। এ আয়াতে দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আরবে ইসলাম-পূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে অনেক সময় জীবিকা নির্বাহ কঠিন হবে মনে করে নিজ হাতে সন্তানদের হত্যা করা হতো। আল্লাহ পাক এ জঘন্য প্রথা হারাম করে দিয়েছেন। তার পর ফাওয়াহেশ বা নির্লজ্জ কাজ কারবার সবই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যেই হোক বা গোপনেই হোক।

কুরআন-হাদিসের পরিভাষায় ‘ফাহেশা’ শব্দের অর্থ হচ্ছে- এমন সব কাজ যার অনিষ্টতা সুদূরপ্রসারী; যাবতীয় বড় গোনাহ এর অন্তর্ভুক্ত। ব্যাপক অর্থ ধরা হলে যাবতীয় বদভ্যাস, মুখ, হাত-পা ও অন্তরের যাবতীয় গুনাহই এর আওতায় এসে যায়। ফাহেশা কাজের নিকটে না যাওয়ার অর্থ, এরূপ মজলিস ও স্থান থেকে বেঁচে থাকা এবং ওই সব পন্থা থেকে দূরে থাকা, যা মাধ্যমে ওই সব গুনাহের পথ খুলে যায়। তার পর আল্লাহ পাক বৈধ কারণ ছাড়া অন্য সব হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছেন। যেমন- কেউ যদি অন্যকে হত্যা করে তাকে হত্যা করা যাবে। অবশ্য আইন মোতাবেক বিচার ফায়সালার মাধ্যমেই তা করতে হবে। বিনা কারণে মুসলমানকে হত্যা করা যেমন হারাম, অমুসলিমকে হত্যা করাও তেমনি হারাম। এরপর ইয়াতিমের ধনসম্পদ অবৈধভাবে ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে। এখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ইয়াতিমদের অভিভাবকদের মূলত সম্বোধন করা হয়েছে, যেন তারা অবৈধভাবে ইয়াতিমদের মাল নষ্ট না করেন। অর্থাৎ ইয়াতিমের মাল সংরক্ষণ এবং কারবারে নিয়োগ করে তা বৃদ্ধি করা অভিভাবকের কর্তব্য। অবশ্য ইয়াতিমের বয়ঃপ্রাপ্তির সাথে সাথে অভিভাবকদের এ দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। তার পর সঠিক ওজন ও মাপ দিতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ ওজন ও মাপে ত্রুটি করা ও কম করা হারাম। তারপর কথা বলার সময় ইনসাফের সাথে কথা বলতে আদেশ করা হয়েছে তা যদি আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হয়। অর্থাৎ মিথ্যা সাক্ষ্য ও অসত্য ফায়সালা হারাম গণ্য করা হয়েছে। সাক্ষ্য কিংবা ফায়সালার, কারো বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা এবং শত্রুতা ও বিরোধিতার ওপর কোনো প্রভাব থাকা উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ সা: মিথ্যা সাক্ষ্যকে শিরকের সাথে তুলনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সা: অসত্য ফায়সালাকারী বিচারককে ‘জাহান্নামি’ বলে উল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ, আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হারাম। ‘আল্লাহর অঙ্গীকার’ বলা হয়েছে- যার অর্থ আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার ও আল্লাহর নামে করা অঙ্গীকার। ঈমান আনার অর্থই হচ্ছে, আল্লাহকে সব বিষয়ে মেনে চলার অঙ্গীকার। সৃষ্টির শুরুতেও আদমের সব সন্তানের রূহ আল্লাহকে মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল। এসব অঙ্গীকারই রক্ষা করা ফরজ। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহর দেয়া এসব বিধিনিষেধকেই সহজ সরল পথ বলা হয়েছে এবং তা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

অর্থনৈতিক তাৎপর্য
এসব আয়াতে আল্লাহ পাক মানবতাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মূলনীতি শিক্ষা দিয়েছেন। শিরক না করার আদেশের মধ্যে এ শিক্ষা রয়েছে যে, অর্থনীতি কিভাবে গড়ে তুলতে হবে তার শিক্ষা ও মূলনীতি আল্লাহ পাক থেকেই নিতে হবে। আয়াত দু’টিতে যে ৯টি বিষয়ের নির্দেশ রয়েছে তার প্রতিটিরই আর্থসামাজিক তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, শিরক এড়িয়ে চলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে (বিশেষ করে ইকবাল, মওদূদী, আবুল হাশিম, সাইয়্যেদ কুতুব, মুহাম্মদ কুতুব প্রমুখ আধুনিক চিন্তানায়কের রচনায় বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। পূর্বতন চিন্তানায়কদের মধ্যে শায়খ আহমদ সরহিন্দ প্রমুখ ব্যক্তিত্ব সমধিক খ্যাত)। সমাজব্যবস্থা, রুচি প্রভৃতি ব্যাপারেই শিরকের প্রভাব এড়িয়ে চলা মুসলিম জীবনে অপরিহার্য। এখানে এটা প্রথমে উল্লিখিত হয়েছে। এটি আর্থসামাজিক জীবনে ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রনায়ক ও রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকারীদের বিশেষ অধিকার ও জাঁকজমক এ কারণে সীমিত হওয়ার কথা, এটি একটি উদাহরণ। এর অন্যতম হলো, অহেতুক ব্যয় হ্রাস এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে ক্ষমতা ও জাঁকজমক প্রদর্শন আল্লাহর নির্দেশমতো, অন্য রাষ্ট্রের অনুকরণে নয়। মা-বাবার সাথে সদয় ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এখানে যে নীতি দেয়া হয়েছে এবং কুরআন ও সুন্নাহর অন্যান্য বিধিবিধানের আলোকে যেসব মা-বাবা তাদের নিজেদের ভরণপোষণ করতে সক্ষম নন, তাদের ভরণপোষণ সন্তানদের ওপর ওয়াজিব। ইসলাম এমন এক সমাজ ও অর্থব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে মা-বাবারা বিপদাপন্ন হবেন না এবং যেখানে অক্ষম বৃদ্ধদের চাপ সরকারের ওপর নিপতিত হবে না। সরকারের ওপর অতিরিক্ত বোঝা কোনো সমাজের জন্যই কল্যাণকর হতে পারে না। তাই সন্তানরা সক্ষম হলে ইসলাম অক্ষম মা-বাবার দায়িত্ব তাদের ওপর দিয়েছে। এসব বিষয়ে আমাদের ফিকহের গ্রন্থগুলোয় অনেক আলোচনা রয়েছে। তথাপি কার্যকর করার সুবিধার্থে এ ব্যাপারে পার্লামেন্ট কর্তৃক বিস্তৃত আইন রচনা করা প্রয়োজন, যা সহজেই প্রয়োজন হলে এমনকি কোর্টগুলোও কার্যকর করতে পারবে।

দ্বিতীয়ত, সন্তানের জন্য মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার, বৃদ্ধ মা-বাবাকে শুধু ভরণপোষণের দায়িত্ব সূচকই নয়। অধিকন্তু আধুনিক Social security system অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর ব্যবস্থা করার দ্যোতক, যাতে মায়া-মমতা, ভক্তি-শ্রদ্ধা, স্নেহ-দয়া প্রভৃতি মানবিক গুণসহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের যত্ন নেয়ার ব্যবস্থা থাকে।

তৃতীয়ত, একমাত্র আল্লাহই যে রিজিকদাতা- এ সত্যের উপলব্ধি মানুষের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন এবং তদনুসারে তাদের আচরণ তাওহিদি যুক্তিভিত্তিক হওয়া উচিত। এটি শুধু পরিবার পরিকল্পনার প্রশ্নে নয়; সর্ব বিষয়ের আচরণেরই হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় নীতি ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত আচরণ সবই এভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। হত্যা নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক নির্দেশের সাথেই বিচার এবং কুরআন নির্দেশিত শাসনব্যবস্থার প্রশ্ন আছে। এ বিষয়ে ইজতিহাদ প্রয়োজন। দারিদ্র্যের ভয়ে সন্তান হত্যা করা এ আয়াতে সম্পূর্ণ হারাম করা হয়েছে, তা যেভাবেই হোক। কাজেই জনশক্তি পরিকল্পনায় কোনো ধরনের গর্ভপাত বা ভ্রুণ হত্যার স্থান থাকতে পারে না।

এখানে নির্লজ্জতা হারাম করা হয়েছে। ইসলামী অর্থনীতির উৎপাদন ব্যবস্থায় এর বিরাট তাৎপর্য রয়েছে। অশ্লীল দ্রব্যের উৎপাদন, বিক্রি, আমদানি, রফতানি সবই ইসলামী রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ। ইসলামী রাষ্ট্রে এসব উৎপাদন করা যাবে না। এসব উৎপাদনে ব্যাংকগুলোও বিনিয়োগ করতে পারে না।

ইয়াতিমদের ধন সম্পর্কে ইসলামী রাষ্ট্র বিশেষ খেয়াল রাখবে। তার সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে ইসলামী রাষ্ট্র প্রয়োজনে আইন রচনা করবে। ইয়াতিম ও অন্যান্য বঞ্চিতজনের সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর যে শিক্ষা রয়েছে তাতে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামী রাষ্ট্র সর্বাবস্থায় অক্ষম দরিদ্র ও বঞ্চিতদের ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখবে। এটি ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এখানে সঠিক মাপ ও পরিমাণ দেয়া ফরজ করা হয়েছে। সঠিক মাপ ও পরিমাণের ওপর অর্থনীতির অগ্রগতি নির্ভর করে। সঠিক মাপ ও পরিমাণ না থাকলে কোনো আস্থা থাকবে না। ইসলামী রাষ্ট্র তা পুরোপুরি রক্ষা করার চেষ্টা করবে। এ ব্যাপারে যারা ইসলামী আইনকে ভঙ্গ করবে, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ইসলামী অর্থনীতি রক্ষার জন্য তা অপরিহার্য। যদি শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে ফাঁকি দেয়, তাও মাপে কম দেয়ার আওতায় আসে। শ্রমিক-কর্মচারীদের এ বিষয়ে ইসলামী সমাজে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষিত করতে হবে। তেমনি শ্রমিক-কর্মচারীকে উপযুক্ত বেতন না দেয়াও এর আওতায় আসে। ইসলামী অর্থব্যবস্থায় অবশ্যই শ্রমিক-কর্মচারীকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে। অবশ্য সাধ্যের বাইরে নয়; তা করতে বাধ্য নয় কর্তৃপক্ষ। কেননা আল্লাহ কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত করতে বাধ্য করছেন না। ১৫২ নম্বর আয়াতে ‘আমি কাউকে সাধ্যাতিরিক্ত দায়িত্ব দেই না’ বাক্যাংশের ব্যাপক অর্থনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। ইসলামী অর্থনীতিতে করারোপ, কাজের সময় নির্ধারণ যেমন- পারিশ্রমিক নির্ধারণ ও অন্য সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামর্থ্যরে দিকে খেয়াল রেখে করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন, পার্লামেন্ট, বিচার বিভাগ সবাইকে এ মূলনীতি সামনে রাখতে হবে। তেমনি সুবিচার এবং আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করাও অর্থনৈতিক তাৎপর্যবহ। সুবিচার করা অর্থনীতিতে আস্থা ও শৃঙ্খলা নিয়ে আসে, সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে। আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করার মধ্যে গোটা ইসলামী শিক্ষা মেনে চলাই অন্তর্ভুক্ত। ইসলামী শিক্ষার অনুসরণ অবশ্যই অর্থনীতিতে সততা, বিশ্বস্ততা, উদ্যোগ, ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতা আনবে। তা কেবল কথায় হবে না, আইনের মাধ্যমে সব ইসলামী শিক্ষাকে কার্যকর করতে হবে।

আল্লাহর অঙ্গীকার বা আল্লাহর সাথে মানুষের কৃত অঙ্গীকার অত্যন্ত বড় দায়িত্ব বাচক। খলিফাতুল্লাহ হিসেবেও মানুষের এ বড় দায়িত্ববোধটা তার ছোট ছোট প্রয়োজনের বা কল্পিত প্রয়োজনের চাপে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। কুরআনের শিক্ষা অবলম্বন করে মানুষের এ ভুলটা ভাঙতে পারে। আলোচ্য আয়াত দু’টিতে যেসব মূলনীতি দেয়া হয়েছে তার যেমন রয়েছে নৈতিক, সামাজিক ও ব্যাপক সাধারণ তাৎপর্য; তেমনি রয়েছে ব্যাপক অর্থনৈতিক তাৎপর্য। এসব মূলনীতি অনুসরণ অর্থনীতিকে উন্নত ও দক্ষ রাখতে বাধ্য। এভাবেই এ আয়াত দু’টি মানুষের সঠিক পথনির্দেশের জন্য। এ থেকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, গোত্রগত, জাতীয়, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক ও সর্ববিধ দায়িত্ব বিষয়ে হেদায়াত পাওয়া যায়।

লেখক : সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার



আরো সংবাদ