২৯ নভেম্বর ২০২০

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের এখনই সময়

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের এখনই সময় - ছবি : নয়া দিগন্ত

‘ব্যর্থতা সফলতার চাবিকাঠি’- অনেক পুরনো প্রবাদ। প্রত্যেক বিপর্যয়ের নেতিবাচক ও ইতিবাচক দুটি দিক থাকে। আমরা বেশির ভাগ মানুষ নেতিবাচক দিকটি নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ইতিবাচক দিক আলোচনার বাইরেই থেকে যায়। অথচ এই ইতিবাচক দিকটি কাজে লাগাতে পারলে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে আরো বেশি সমৃদ্ধি অর্জন করা যেত। আজ যখন করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে তখনো এ কথা সত্য। প্রয়োজন শুধু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব বদলানোর। এই মহামারী অনেক কিছুই আমূল বদলে দিচ্ছে। করোনা-উত্তর ও করোনা-পূর্ব বিশ্ব এক হবে না। করোনা কখন পুরোপুরি নির্মূল হবে তা কেউ জানে না। কখন এটি নিরাময়ের জন্য কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে সেটাও কেউ জানে না। আদৌ পুরোপুরি কার্যকর প্রতিষেধকের সন্ধান মিলবে কিনা তাও অজানা। ফলে সেই অনুপাতে আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করাও জরুরি।

কিন্তু আমরা কি তা নিচ্ছি? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কথাই ধরা যাক। আমাদের দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার বড় অভাব। এর ভুক্তভোগী আমি নিজেই। আমার ব্যক্তিগত স্টাফ, ব্যক্তিগত সচিব দরকার হয়। আমার রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্ট দরকার হয়। বলতে লজ্জাবোধ করি, আমার কাছে এসেছে ইংরেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে; কিন্তু মিস্টার, মিসেস, মিস- এসবের পার্থক্য বোঝে না। অ্যাকাউন্টিংয়ে পাস করা ছেলে রয়্যালটি হিসাব করতে জানে না। অর্থনীতিতে মাস্টার্স করে এসেছে; অথচ ‘মার্কেট’ বলতে কি বুঝায় তা বলতে পারে না। এর কারণটি কী? এর কারণ হলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গলদ। যে গলদ থেকে খুব কম শিশুই তার শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়।

আমাদের দেশে একটি শিশু তার শিক্ষাজীবন শুরু করে অনেকটা ভারবাহী পশুর মতো, কাঁধে বইয়ের বোঝা নিয়ে। একটি শিশুকেই ক্লাস পরীক্ষা, সাপ্তাহিক পরীক্ষা, মাসিক পরীক্ষা, সাময়িক পরীক্ষা, বার্ষিক পরীক্ষাসহ কত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। আমার পাঁচ বছর বয়সী এক নাতিকে দেখেছি, সে সারাদিন উদ্বেগের মধ্যে থাকে। অথচ স্কুলকে শিশুর জন্য আতঙ্কের জায়গায় পরিণত না করে আনন্দের জায়গায় পরিণত করার দরকার ছিল। শিশুটি বাসায় থাকার চেয়ে স্কুলে যাওয়ার জন্য বেশি উতলা হতো। এখন হয়েছে উল্টো। এই ওভারস্কুলিং যে আমাদের শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা, চিন্তার স্বাধীনতা নষ্ট করে দিচ্ছে সেটা আমরা ভাবছি না। এর পরিণাম কী হতে পারে, সেটাও আমাদের মাথায় নেই। এর পরিণাম বুঝা যাবে ২৫ বছর পর। ২০৪০ সালের পর জনগোষ্ঠীর মূল ধারা এরাই হবে। যে শিক্ষাব্যবস্থা ভয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যে শিক্ষাব্যবস্থা সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে, যে শিক্ষাব্যবস্থা কোচিং বা টিউশনির ওপর নির্ভরশীল তা আসলে অচল। এই শিক্ষাব্যবস্থা ওইসব শিশুকে কর্মজীবনের উপযোগী করে গড়ে তুলছে না, যে শিক্ষাব্যবস্থা একটি শিশুকে বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার মতো করে তৈরি করছে না, সেই শিক্ষা অকার্যকর, অনুৎপাদনশীল।

প্রতি বছর বাজেটে শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয় তার দুই-তৃতীয়াংশই নাকি অশিক্ষা বা শিক্ষাবহির্ভূত খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। এমন রিপোর্ট আমরা দেখেছি। এমন সব অদ্ভুত অদ্ভুত খাতে শিক্ষা খাতের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে; তা ভেবে আশ্চর্য হতে হয়। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটিও রয়েছে। কিন্তু এসব বিশেষজ্ঞ শিক্ষার কতটুকু উন্নয়ন করছেন তার হিসাব কে রাখছে? এমন কমিটির বৈঠকে লাখ লাখ টাকা খরচের খবরও পত্রিকায় আসছে। কিন্তু উপকার কী হচ্ছে? আমরা যদি এসব অপব্যয় বন্ধ করে শিশুদের জন্য পার্ক করতাম, শিশুদের জন্য খেলার মাঠ করতাম, সুইমিং পুল করতাম তাহলে শিশুদের প্রতিভা বিকাশ হতো। আজ দেশের কয়টি প্রাইমারি স্কুলের খেলার মাঠ আছে? ভূরি ভূরি কিন্ডারগার্টেনের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখি। এগুলো কি আসলেই শিশুর সার্বিক বিকাশের উপযুক্ত? এমপিওভুক্তির জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে সরকার। কারো এক বিঘা জমি আছে, সে স্কুল খুলে দিচ্ছে। কিন্তু একটি স্কুলের ন্যূনতম অবকাঠামো যা থাকার দরকার তা থাকছে না।

এই করোনার সময়েও আমরা কি শিক্ষা প্রক্রিয়ার আমূল কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি? করোনা-উত্তর বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় ছিল এখন। কিন্তু তা নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নজরে পড়ছে না। গতানুগতিক পাঠদান শ্রেণীকক্ষের বদলে অনলাইনে দিলেই তো আর মহামারী-পরবর্তী বিশ্বের উপযোগী শিক্ষা দেয়া হলো না। এখন অনলাইনে শিক্ষার নামে আমাদের শিশুদের যে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে তা আরো হাস্যকর মনে হয়। এখানেও সেই গতানুগতিক শিক্ষা। এমনিতেই করোনার মধ্যে শিশুরা গৃহবন্দীর মতো দিন কাটাচ্ছে। এই বয়সে খোলা মাঠে দৌড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-কান্নায় সময় কাটানোর কথা যাদের তারা সেটা করতে পারছে না। তার ওপর তাদের কাঁধে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। অনলাইন ক্লাসে গতানুগতিক শিক্ষা না দিয়ে পড়ানো যেত মহামারীর ইতিহাস। কিভাবে এই মহামারী এলো, এই জীবাণুগুলো কিভাবে মানুষকে আক্রমণ করছে, মানুষকে কিভাবে ক্ষতি করছে, কিভাবে এ থেকে সুরক্ষা পেতে হবে- এগুলো। সংক্রমণের বিষয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষা, যুগে যুগে এরকম যেসব মহামারী এসেছে সে সবের ইতিহাস।

মহামারী আমাদের জীবনকে, আচরণকে কিভাবে বদলে দিচ্ছে, আমাদের সামনের দিনগুলোর জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যুগে যুগে এ ধরনের দুর্যোগ এসেছে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মানবতা আগেও এ ধরনের দুর্যোগ দেখেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়ে এগিয়ে যেতে হবে- এটা হবে শিক্ষা। প্লেগ, স্প্যানিশ ফ্লু, ডায়রিয়া- এগুলো বহু জনপদ উজাড় করেছে। একসময় ডায়রিয়া হলে মানুষ মারা যেত। তখন কারো ডায়রিয়া হলে বলা হয় তাকে স্যালাইন খাওয়াও, পানি খাওয়াও। এতে ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়। এই জ্ঞান শিশুদের দিতে হবে। তাহলে তাদের চিন্তার খোরাক দেয়া হবে। তখন শিশুদের সৃজনশীলতা বিকশিত হবে।

শিক্ষা খাত নিয়ে বিকল্প চিন্তা করার মহাসুযোগ এনে দিয়েছে এই বৈশ্বিক মহামারী। আমি বলছি, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য, পার্ক, সুইমিংপুল, জিম, বিনোদন কেন্দ্র, পিকনিক স্পট এগুলো প্রয়োজন। সুস্থ শিশু না হলে সুস্থ মনন হবে কিভাবে? করোনার সময়ে শিশুদের ঘরে বন্দী করে রেখে তাদের মানসিক সুস্থতা আমরা আরো নষ্ট করছি। কিন্তু উপরোক্ত সুবিধাগুলো থাকলে এটা হতো না। বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকের পেছনে টাকা খরচ না করে শিশুর জন্য খেলার মাঠ তৈরির পেছনে টাকা খরচ করলে কাজ হতো। আমরা কেন বিকল্প চিন্তা করতে পারছি না? দুঃখের বিষয় হলো, করোনা আমাদের ধাক্কা দেয়ার পরও আমরা গতানুগতিক চিন্তাধারা থেকে বের হতে পারছি না। আমরা এখনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষার পেছনেই ছুটছি। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ছে; কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি বাড়ছে না। শিক্ষার্থীরা প্রকৃত শিক্ষা না পেলে সে কাজ করবে কিভাবে? পাকিস্তান আমলে আমাদের দেশে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে কয়েকশ’। তার পরও সম্প্রতি এক রিপোর্টে দেখলাম এ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির অন্যতম কারণ তথাকথিত রাজনীতির অনুপ্রবেশ। আমাদের রাজনীতিবিদদের সব ক্ষেত্রে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিও শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশ্বের আর কোনো দেশে এভাবে শিক্ষা খাতকে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। দেশে বিদেশে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছি। কর্মজীবনে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে নানাভাবে জড়িত থেকেছি। শিক্ষার্থীদের কোথাও দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে দেখিনি। তবে হ্যাঁ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়েছে বৃহত্তর স্বার্থে। যেমন তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে। কিন্তু আমেরিকার শিক্ষার্থীরা ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান দলের পক্ষে ক্যাম্পাসে স্লোগান দেয় না। ১৯৭৪ সালে পাপুয়া নিউগিনির ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজিতে যোগ দেই। তখনো দেশটি স্বাধীন হয়নি, ছিল অস্ট্রেলিয়ার একটি টেরিটরি। পরের বছর এটি স্বাধীন হয়। সেখানে যখন বিভিন্ন দল রাজনৈতিক আন্দোলন করেছে এতে শিক্ষার্থীরা যোগ দিত না। পশ্চিমা বিশ্বে ক্যাম্পাসে রাজনীতি হয়। তবে তা জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি। সেখানে শিক্ষকদের গবেষণামূলক কাজ না থাকলে শাস্তি পেতে হয়। গবেষণা কর্ম প্রকাশ করতে হবে। ‘পাবলিশ অর পানিশ’- এটা পাশ্চাত্যের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্লোগান। এর পুরোপুরি বিপরীত চিত্র দেখা যায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

শিক্ষাক্ষেত্র কি রাজনীতির জায়গা? এটা আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য। শিক্ষাকে জাতির স্বার্থে চিন্তা করতে না পারার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নৈরাজ্য কি আমরা দেখছি না? শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষকের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা কি বিরল? অন্যান্য দুঃখজনক ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। সব দেশেই দলীয় রাজনীতি হয়ে থাকে। সেটা পার্লামেন্টে। সেখানে যখন কোনো ইস্যুতে ভোটাভুটি হয় তখন দলীয় বিবেচনায় এমপিরা ভোট দেন। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাই এক হয়ে যান। শিক্ষাব্যবস্থা কি জাতীয় স্বার্থ নয়? তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন দলীয় রাজনীতি থাকবে? আমরা কি অন্য দেশের ভালো অনুশীলনগুলো গ্রহণ করতে পারি না? দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সে ধরনের মানসিকতা সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারা যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম কেন্দ্র মনে করেছে, তেমনি আওয়ামী লীগও তাই মনে করছে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের আরেকটি কারণ হলো, এর অতিমাত্রায় বাণিজ্যিকীকরণ। একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ১৯৯৩ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমার কিছুটা যোগসূত্র তৈরি হয় কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে থাকার সুবাদে। প্রফেসর সৈয়দ আলী আশরাফ ছিলেন কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটির ইংলিশ লিটারেচার ডিপার্টমেন্টের প্রধান। যখন সেখানে ছিলাম আমাদের বসার জায়গা ছিল পাশাপাশি। তিনি আমাকে বললেন, চলুন দেশে গিয়ে শিক্ষার জন্য কিছু করি। আমি বললাম, না এখন যেতে পারছি না; আপনি যান। তিনি দেশে এসে এই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি মারা গেলে প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসান পরিচালনার হাল ধরেন। তিনিও কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটিতে আমার কলিগ ছিলেন। আমি দেশে আসার পর আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। আলী আহসান মারা যাওয়ার পর এটি শ্রেফ সার্টিফিকেট বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলো। এসব দেখে সেখান থেকে সরে আসি। আজ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থা কারো অজানা নয়। আমি নিজেও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করায় এই স্বপ্ন এখনো লালন করি। জানি না, কবে পূরণ হবে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ করেও এর অনুমতি মেলেনি। যখন অনুমতির জন্য গেছি তখন বলা হলো ‘খরচপাতি’ দিতে। কিন্তু ‘খরচপাতি’ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে রাজি হইনি। যদি আমার স্বপ্ন পূরণ নাও হয় তবুও কারো অনৈতিক আবদার পূরণ করব না। আমি শেষ ব্যক্তি হিসেবে নীরবে হলেও এর প্রতিবাদ করে যাবো।

আমার কর্মজীবনের বিশাল অংশ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতায় ব্যয় করেছি। ৬০ বছরের কর্মজীবনে ২০ বছরের বেশি প্রত্যক্ষ শিক্ষকতায় ব্যয় করেছি। বাংলাদেশে পড়িয়েছি, আমেরিকায় পড়িয়েছি, পাপুয়া নিউগিনিতে পড়িয়েছি, সৌদি আরবে পড়িয়েছি। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকেছি। এই অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি- আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের মন-মননকে, সৃজনশীলতাকে, উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে ধ্বংস করা উচিত হবে না। তাদেরকে মনের খোরাক দিতে হবে।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড; সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক, জেদ্দা

[email protected]


আরো সংবাদ