২৯ নভেম্বর ২০২০

স্বাস্থ্য খাত : নানা দুর্নীতিতে আক্রান্ত

স্বাস্থ্য খাত : নানা দুর্নীতিতে আক্রান্ত - ছবি : নয়া দিগন্ত

দেশের স্বাস্থ্য খাতে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। এ রকম বেহাল দশা অতীতে কখনো হয়নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: রশীদ-ই মাহবুব বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। উভয়েই পরস্পরবিরোধী কথা বলেছিল, এখন তারা নিজেরাই স্বীকার করে নিলো, তারা ব্লেম গেম খেলছে। মন্ত্রণালয় প্রতিটি দফতর কিভাবে চলবে, সে বিষয়ে নিয়মকানুন, আইন আছে। এটিকে বলা হয় ‘রুল অব বিজনেস।’ কিন্তু তারা রুল অব বিজনেস মানেনি। ফলে একে অন্যকে দোষারোপ, কাদা ছোড়াছুড়ির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু তারাও নিজেদের রুল অব বিজনেস মানেনি। এখান থেকে সমস্যার শুরু। এ জন্য প্রকৃত দোষী যারা তাদের খুঁজে বের করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাই এসব বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। ডা: রশীদ-ই মাহবুব আরো বলেন, এত দিন অন্য সবাই তাদের সমন্বয়হীনতার কথা বলত। এখন তো তারা নিজেরাই গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলছে, তাদের মধ্যে সমন্বয় নেই। মানুষের জীবন নিয়ে রাজনীতি চলে না। গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিপর্যস্ত। প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। এগুলোর নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে রাখতে হবে। কার্যত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেইফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিটিবলিটিস (এফডিএসআর) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: আবুল হাসনাত মিল্টন বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ নেতৃত্ব ও সুশাসনের অভাবেই দশকের পর দশক ধরে তিলে তিলে বর্তমানের এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে দুর্নীতিবাজরা সিন্ডিকেট করে কেনাকাটার নামে হরিলুট চালিয়েছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের রথী-মহারথীদের যোগসাজশ না থাকলে এ ধরনের দুর্নীতি সম্ভব হতো না। শুধু ডাক্তারদের কাঁধে সব ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা সফল হয় না। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাবশালীরাই দুর্নীতিবাজদের মন্ত্রণালয়ে কাজের সুযোগ করে দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক এসব দুর্নীতির সাথে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও জড়িত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের মুখোমুখি অবস্থান প্রসঙ্গে ডা: আবুল হাসনাত মিল্টন বলেছেন, এটি নিজের দোষ অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেয়ার একটি অপচেষ্টা। স্বাস্থ্য খাতে ভালোমন্দ যা ঘটছে সব কিছুর দায় যৌথভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওপর বর্তায়। রিজেন্ট হাসপাতালকে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল করা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদফতরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রীই উপস্থিত ছিলেন। তা হলে কে কাকে কারণ দর্শায়? আশা করব, উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকৃত সত্যটাই তুলে ধরবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অসংখ্য দুর্নীতির মধ্যে জেকেজি-রিজেন্ট হাসপাতালের ঘটনা স্রেফ ‘টিপ অব দ্য আইসবাগ’। এর মধ্যে দিয়ে মিঠু, জেএমআই যেন আলোচনায় হারিয়ে না যায়। তবে করোনাকালে এমন কর্মকাণ্ড অবশ্যই নিন্দনীয়। এই দুটো প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। হাসপাতাল হিসেবে রিজেন্টের কোনো লাইসেন্স নেই, আর জেকেজির তো নামই কোনো দিন শুনিনি। অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটো কাজে এদের দায়িত্ব দেয়া হলো। স্বভাবতই সংশয় জাগে, এর পেছনে কোনো অবৈধ লেনদেন আছে কি না।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, করোনাভাইরাস টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট ধরা পড়ায় বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের দিকে বাঁকা চোখে তাকাচ্ছে। এ অনিয়মের কারণে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের ভাবমর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়েছে। গার্মেন্ট খুলে দেয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন, গার্মেন্ট কে খুলতে বলেছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন এলোমেলো কথা শোভন নয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক বললেন, করোনা তিন বছরের আগে যাবে না। গবেষণা নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এসব কথা জনগণের মধ্যে হতাশা, আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংক্রমণ ছড়ানোর সময় গার্মেন্ট খুলে দিয়ে শ্রমিকদের আসতে বলা হলো। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে এক রকমের লকডাউন করা হলো। কিন্তু কেউ মানল না। জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে যে ধরনের কাজ করা উচিত ছিল সে দিকেও নজর নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একার পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়। কিট, মাস্ক নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি মানুষের অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক তদন্ত শুরু করেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় যে অনিয়ম চলছে, সেটি সংশোধনের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে দেয়া হলো তাদের শরীরে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার কারণে। এসব নিয়ে বিদেশী গণমাধ্যমে প্রচুর সংবাদ ছাপানো হয়েছে। শুধু স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের অব্যাহতিতে সমস্যার সমাধান হবে না।

শুধু করোনা নয়, স্বাস্থ্য খাতের পুরো ব্যবস্থাপনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নেই। ওষুধ প্রশাসনে নকল ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ শনাক্ত করার আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। শুধু জরিমানা নয়, কঠোর বিচারব্যবস্থা প্রতারকদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্ব মিডিয়ায় সাহেদ-সাবরিনা কাহিনী নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে ধূলিসাৎ হয়েছে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা। বাংলাদেশে জাল করোনা সনদ বিক্রির জমজমাট ব্যবসা শিরোনামে বিশাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। এ ছাড়া সাহেদ ও সাবরিনার গ্রেফতার হওয়ার এবং তাদের প্রতারণার খবর প্রচার হয়েছে বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, গার্ডিয়ানসহ বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রায় প্রতিটিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে (১৬ জুলাই ২০২০) ‘বাংলাদেশে জাল করোনা সনদ বিক্রির জমজমাট ব্যবসা’ এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিম, জেকেজি ও ডা: সাবরিনা-আরিফুল দম্পতির প্রতারণাসহ বাংলাদেশে করোনার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দেশটির করোনা পরিস্থিতি মূলত অস্পষ্ট। ১৬ কোটির বেশি মানুষ বাংলাদেশে (২৮ জুলাই) করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জন। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সে চেয়ে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার হার তুলনামূলক কম। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে সরকারি হিসাবে যা দেখাচ্ছে, দেশটিতে প্রকৃত করোনা আক্রান্ত এর চেয়ে অনেক বেশি। ২৮ জুলাই বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, দেশে ৭০ শতাংশ হাসপাতাল ও ক্লিনিক অনুমোদনহীন, ভুয়া ক্লিনিক ল্যাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা, মৃত ডাক্তারের নামে রিপোর্ট, নকল ডিগ্রিতে প্রতারণা। মানবজমিন ১১ জুলাই পত্রিকার লিড নিউজ ছিল, ‘১৫ হাজার সিটের ১০ হাজারই ফাঁকা, ১০ দিনে বাড়িতে ৯৮ জনের মৃত্যু, কেন হাসপাতালবিমুখ করোনা-আক্রান্ত মানুষ। আরেকটি নিউজ ছিল ‘প্রতারণার শিল্পী শাহেদ’। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টকশোতে কথার ফুলঝুড়ি ফুটত তার মুখে। শোনাতেন নীতিবাক্য। রাষ্ট্রযন্ত্রের টপ লেভেলে সবার সাথে তার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে আটকে পড়া অভিবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকরা এই সার্টিফিকেট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ফলে সেখানে জাল সার্টিফিকেটের বিশাল এক বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিবাসী শ্রমিকরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত। তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরতে চান। কাজে যোগ দেয়ার শর্ত হিসেবে কর্তৃপক্ষ করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দাবি করায় সম্প্রতি জাল সার্টিফিকেট নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে ফেরেন অনেক শ্রমিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতাল ১০ হাজারের বেশি করোনা সার্টিফিকেট দিয়েছে, যার বেশির ভাগই ভুয়া। শুধু সাহেদই নয়, সম্প্রতি ঢাকার জেকেজি হেলথ কেয়ার নামে আরো একটি ল্যাবরেটরির দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাও জাল সার্টিফিকেটের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। গত ১৭ জুলাই সাহেদের গ্রেফতার নিয়ে সিএনএনের খবরের শিরোনাম ছিল- ‘বাংলাদেশে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট দিয়ে ৩৫ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়ে হাসপাতাল মালিকের দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা’, আলজাজিরায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম- ‘বাংলাদেশে ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের দায়ে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক গ্রেফতার।’ সাত দিন আগে আরব নিউজের লিড নিউজ ছিল- ‘বাংলাদেশে নকল করোনা সনদ বিক্রির দায়ে এক ডজন স্বাস্থ্যকর্মী অভিযুক্ত।’

এর আগে ইতালির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘ইলমেসেজেরো’ তাদের প্রথম পাতায় লিড নিউজ ছিল- ‘বাংলাদেশে মাত্র ৩৬ ইউরো বা সাড়ে তিন হাজার টাকা হলেই জ্বর নিয়েও দেশ ত্যাগ করা যায়।’ ইতালির আরেক প্রভাবশালী দৈনিক লানুয়োভা তাদের খবরের শিরোনাম করেছে ‘সাড়ে তিন হাজার জ্বর নিয়েই বাংলাদেশ ত্যাগ’। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের কারণে ইতালিতে নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে দেশটির ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেও। ইয়াহু নিউজের পাটনার ‘ইয়াহু ফিনাঞ্জা’ লিখেছে- ‘বাংলাদেশে দুর্নীতিবাজরা ভুয়া করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট বানিয়ে দিচ্ছে, যা দিয়ে সহজেই দেশত্যাগ করা যায়।’ তথ্যসূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৮ জুলাই ২০২০। সম্প্রতি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খান করোনা সনদ জালিয়াতিতে আটকে গেছেন। তিনি পজিটিভ রিপোর্টকে নেগেটিভ বানিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে ধরা পড়েন (ইনকিলাব ২৭ জুলাই ২০২০)।

উল্লেখ্য, বিশ্বের এমন টালমাটাল অবস্থায় করোনা বাংলাদেশে থাবা বিস্তার করার আগেই আমরা কিন্তু ডিসেম্বর ১৯ থেকে মার্চ ২০ পর্যন্ত তিন মাস সময় হাতে পেয়েছিলাম প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞ পর্যায় করোনা মোকাবেলা কিভাবে করা যায় তা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভাবেনি। সরকারি আমলা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেদের মতো করে কতগুলো ফাইলওয়ার্ক করে রাখে এবং গণমাধ্যমগুলোতে বলে বেড়ায় যে, করোনা কোনো বিষয় না, সময়মতোই তাকে ঘায়েল করা হবে। এ-ও বলেছিল, করোনা মোকাবেলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র করোনা মোকাবেলায় বিরোধী দলসহ দেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করছে এবং পরিশেষে তারা সফল হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রায় সময়ে বলে থাকেন, অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এখনো অনেক ভালো আছে। অথচ ১৭ কোটি মানুষের দেশে এখনো আমরা প্রত্যহ ২০ হাজার টেস্ট করতে পারছি না। শনাক্তকৃত রোগীদের দ্বিতীয় টেস্ট সবার হচ্ছে কি না তারও কোনো সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেই এবং কোনো কাজে শৃঙ্খলাও নেই। পত্রিকার পাতা উল্টালেই নজরে আসে স্বাস্থ্য খাতে বহুবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর। সবাই ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। এখনো অনেক হাসপাতালে রোগীর বিছানা নেই, আইসিইউ নেই, ভেন্টিলেটরের অভাব এবং বহু হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই। অথচ হাজার হাজার রোগী প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারি হিসাব ছাড়াও বহু মানুষ এই ঘাতক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ তথ্য স্বাস্থ্য অধিফতরে নেই। বর্তমান বাংলাদেশে দুটো সমস্যা জটিল আকার ধারণ করেছে। করোনা এবং ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। আর যারা বেঁচে আছেন তারাও কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়। কখন আমাদের দেশে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য খাতে সুদিন ফিরে আসবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতে সুদিনের জন্য প্রহর গুনছি।

লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক

 


আরো সংবাদ