২৯ নভেম্বর ২০২০

কেমন হতে পারে করোনা-উত্তর বিশ্ব

একটি অদৃশ্য জীবাণু করোনাভাইরাস - ছবি : সংগৃহীত

একটি অদৃশ্য জীবাণু করোনাভাইরাস তছনছ করে দিয়েছে পুরো পৃথিবীকে। বিশ্ববাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবনযাপন প্রণালী ধসে পড়েছে তাসের ঘরের মতো। দীর্ঘ প্রায় ছয়টি মাস ধরে কার্যত যেন অবরুদ্ধ সারা বিশ্ব। গ্লোবাল ভিলেজের কল্পজগৎ থেকে বেরিয়ে এসে দেশগুলো এখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন একেকটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে, যেখানে কারো সাথে কারো যোগাযোগের সুযোগ নেই। নেই নৌযোগাযোগ, নেই বিমান বা অন্য কোনো যানবাহনে যাতায়াত। দেশের ভেতরের জীবনযাত্রাও একই সূত্রে গাঁথা। সামাজিক দূরত্ব বা সোশ্যাল ডিসট্যান্স, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, লকডাউন জীবনকে এক ভিন্নমাত্রায় আটকে দিয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে বিশ্বব্যাপী মানুষের অকাল মৃত্যু। কে ধনী, কে গরিব, কে প্রাসাদে থাকে, কে রাজপথের ফুটপাথে অথবা কে মন্ত্রী বা সাবেক মন্ত্রী, কে দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা, কে নিরীহ ‘ভেজা বিড়াল’- সেসব কোনো কিছুই বিবেচনায় নিচ্ছে না ‘সাম্যবাদী’ নোভেল করোনাভাইরাস। 

ঘরে ঘরে বন্দী মানুষেরা হাঁপিয়ে উঠছে। কারণ মানুষ তো মূলত সামাজিক সত্তা। সবাই আশা করছে, শিগগিরই বিজ্ঞানীরা কোভিড-১৯ রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলবেন এবং মহামারীর বিরুদ্ধে মানবজাতির বিজয় নিশ্চিত হবে। আবার তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসবেন, স্বাভাবিক জীবন শুরু করবেন। আবার বাড়ির পাশের মাঠে ঘুরে বেড়াবেন। হাটে, বাজারে, সিনেমায়, পার্কে, শপিংমলে, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অবাধে ঘুরে বেড়াবেন। ইচ্ছে হলেই চলে যাবেন দেশ থেকে দেশান্তরে প্লেনে চড়ে; জাহাজে চড়ে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াবেন। ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় যাবে। সবাই স্বাদ পাবেন চিরচেনা সেই বন্ধনহীন জীবনের। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, বিশ্বের কোনো নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কোনো চিকিৎসক বা বিজ্ঞানী এমন কোনো সুখবর এখনো দিতে পারছেন না। তারা বরং উল্টোটাই বলছেন। অর্থাৎ বিশ্ববাসীকে সম্ভবত দীর্ঘ মেয়াদে করোনার সাথে বসবাস করতে হবে। বিজ্ঞানীরা আরো মনে করেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস যা করেছে, ভবিষ্যতে নতুন ও একই ধরনের ভয়াবহ কোনো রোগ মানবতাকে পঙ্গু করে ফেলতে পারে। মূলত এই পরিপ্রেক্ষিত মাথায় রেখে এরই মধ্যে বিশ্বটাকে নতুন করে সাজাতে এবং করোনা সংক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করে কিভাবে মানুষ কিছুটা হলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসতে পারে সেই পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন অনেকেই।

করোনা হয়তো চলে যাবে একসময়, কিন্তু তার পর কি সেই আগের বিশ্ব ফিরে পাবো আমরা? সেই আগের রাজনীতি, সেই অর্থনীতি, সেই যুদ্ধের বীভৎসতা, দেশে দেশে সহিংসতা আর ষড়যন্ত্র- এগুলোই কি চলতে থাকবে? এসব প্রশ্ন এখন বিশ্বের চিন্তাবিদ, ভাবুকদের মাথায়। সবাই একমত, বিশ্ব আর আগের মতো থাকবে না। তবে কী কী পরিবর্তন ঘটবে বা কিভাবে ঘটবে সে বিষয়ে নানা মুনির রয়েছে নানা মত। অনেকে আশার বাণী শোনাচ্ছেন। অনেকে হতাশার। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বড় ধরনের বিপর্যয়কর পরিবর্তন ঘটবে সে বিষয়ে কারো দ্বিমত নেই। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অস্বাস্থ্য অনাহার আবারো বিশ্বকে গ্রাস করবে। স্থায়ী পরিবর্তন ঘটবে রাজনীতিতেও। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাব দিয়ে এরই মধ্যে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস একটি বিবৃতি দিয়েছেন এবং তাতে শতাধিক দেশ সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্বের একচ্ছত্র নেতা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের অবসান ঘটতে পারে এবং চীন বিশ্বের নতুন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। 

কোনো কোনো চিন্তাবিদ বলছেন, করোনা মহামারীর পর বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেবে। উৎপাদনশীলতার নি¤œ প্রবৃদ্ধি হবে, বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ হ্রাস পাবে, সঙ্কটজনক পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার ক্ষেত্রে ধনী দেশগুলোর সাথে অন্যান্য দেশের ব্যবধান আরো বাড়বে, পৃথিবী মার্কিন ডলারের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের তোড়ে অনেক দেশ নিজেদের অন্যান্য দেশ থেকে বিযুক্ত করে ফেলবে। অর্থাৎ গ্লোবালাইজেশনের বিপরীত স্রোত সক্রিয় হয়ে উঠবে। তবে এর ফলে পূর্ণাঙ্গভাবে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জিত হবে, এমন আশাও কম। 

আপাতত বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে নগর পরিকল্পক ও প্রশাসকরা মানুষের জন্য নতুন করে সাজাতে চাইছেন নিজেদের নগরটিকে। সর্বসাধারণের চলাচলের বা ব্যবহারের জায়গাগুলো এমনভাবে পুনর্বিন্যাস করতে চাইছেন, যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও মানুষ সমবেত হতে পারে। বিনোদনের বা অন্তত স্বাভাবিক স্বস্তিকর জীবন কাটানোর একটু সুযোগ নিতে পারে। অনেকে মনে করছেন, ঘরে বসে কর্মীরা যাতে কাজ করতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ জন্য অফিসের আকৃতি ও কর্মপরিবেশ পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন তারা। যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার ভাবছে তাদের সব কর্মীই ঘরে বসে অফিসের কাজ করবে। অনেক কোম্পানি অফিসের আকার ছোট করার কথা ভাবছে। তবে ভিন্নমতও আছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭১ শতাংশ নিয়োগদাতা বলেছেন, কর্মীরা বাড়িতে থেকে কাজ করলে কাজের সমন্বয় করতে অসুবিধা হয়। ৬৫ শতাংশ নিয়োগদাতার মতে, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। আবার অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের গবেষণায় উঠে এসেছে, ৬৪ শতাংশ কর্মী বাসায় থেকে কাজ করছেন। এতে বলা হয়, বাসায় বা দূর-দূরান্তে থেকে কাজ করা একটি বিকল্প হিসেবে ব্যাপক স্বীকৃতি পাচ্ছে। এগুলো খুব বড় কোনো পরিবর্তন নয়। প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে খুব স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন এসে যায়। যেমন রোবোটের ব্যবহার বাড়ে, মানুষ সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত থাকার কারণে পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে, অনলাইন শপিং জনপ্রিয় হওয়ায় বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন ফুরায়, ইত্যাদি।

ইতোমধ্যে বিশ্লেষকরা ভালোভাবেই উপলব্ধি করছেন যে, করোনা-উত্তর পৃথিবী হবে সম্পূর্ণ এক নতুন পৃথিবী। বিভিন্ন দেশের দার্শনিক, পণ্ডিত, ভাবুকরা ধারণা করছেন সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি হতে পারে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। বিশ্বের নেতৃত্বের আসন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। এখন চীনের উত্থানের সময়। এটি এখন বিশ্বের দেশে দেশে, বিশেষ করে এশিয়ায় বহুল আলোচিত একটি বিষয়। আমরাও এ বিষয়ে কিঞ্চিত আলোকপাত করতে পারি। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার ভয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলো যখন আমেরিকাকে যুদ্ধে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায় তখনই বিশ্ব রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে বসে দেশটি। আর যুদ্ধে জয়ী হয়ে আমেরিকা হয়ে যায় বিশ্বের প্রধানতম শক্তি। ইউরোপের দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত রাখার প্রেক্ষাপটে দেশটির মুদ্রা ডলার হয়ে ওঠে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। যুদ্ধের পর জার্মানি ও জাপানকে নানা অপমানজনক শর্তে চুক্তিবদ্ধ করে এবং নিজের শিখণ্ডি হিসেবে জাতিপুঞ্জ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে বিশ্বে একক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সর্বত্র, সব বিষয়ে নাক গলানো থেকে শুরু করে সব কিছুরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দিকে, যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে ‘একসময় সূর্যাস্ত যেত না’ সেই ঔপনিবেশিক পরাশক্তি ব্রিটেন সব উপনিবেশ থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী। ফলে ব্রিটেন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তার সব প্রভাব-প্রতিপত্তি হারিয়ে ‘বামন’ শক্তিতে পরিণত হয়। সেই থেকে গত আটটি দশক অর্থাৎ প্রায় এক শ’ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। ’৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর একক শক্তি হিসেবে বিশ্বের সর্বত্র ছড়ি ঘুরিয়েছে আমেরিকা। 

সম্প্রতি সেই অবস্থানে কিছুটা ভাটার লক্ষণ টের পাওয়া যাচ্ছে। এমন এক ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট যিনি আমেরিকার অর্থনৈতিক স্বার্থটাই বড় করে দেখছেন এবং বিশ্বের চলমান ঘটনাপ্রবাহ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইছেন। এরই মধ্যে তিনি জাতিসঙ্ঘের একাধিক সংস্থা থেকে নিজের দেশকে বের করে নিয়েছেন। আমেরিকা আগে বিশ্বের বড় বড় সঙ্কট মোকাবেলায় যেভাবে সামনে থেকে অর্থ-বিত্ত-মেধা-শক্তি সব কিছু দিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখান থেকে সরে আসতে শুরু করেছেন। এইডস, ইবোলার মতো বৈশ্বিক মহামারী প্রতিরোধে আমেরিকাই নেতৃত্ব দিয়েছে। মানবতার নামে বিশ্বে অনেক অমানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক সংস্থাগুলোতে সব দেশের চেয়ে বেশি অর্থের জোগান আমেরিকাই দিয়ে এসেছে। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সর্বস্তরে সুশাসন, আইনি সাম্য, দুর্যোগে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার যে ঐতিহ্য আমেরিকা তৈরি করেছে, সেটিই বিশ্বে তার নেতৃত্বকে দীর্ঘস্থায়িত্ব দিয়েছে বলতেই হবে।

কিন্তু ট্রাম্পের আমেরিকা শুধু বৈশ্বিক পরিমণ্ডল থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে তা-ই নয়। বরং বড় সঙ্কটে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, স্রেফ আত্মরক্ষার সামর্থ্যও দেশটির নেই, সেটি প্রমাণ করে ছেড়েছেন ট্রাম্প। করোনাযুদ্ধে তিনি এক পরাস্ত সৈনিক। দেশের লাখ লাখ মানুষের সংক্রমিত হওয়া এবং হাজার হাজার মানুষের অসহায় মৃত্যু এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে দেশটিকে। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্র স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ, পানশালা, শপিং সেন্টার সব বন্ধ হয়ে গেছে। সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে চলছে অচলাবস্থা। কলকারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কোটি কোটি মানুষ চাকরি হারাচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে নেমেছে ভয়াবহ ধস। হাজার কোটি ডলারের ফেডারেল অর্থ প্রণোদনা দিয়েও অর্থনৈতিক ধস ঠেকাতে পারছে না।

অন্য দিকে, যে দেশে এই রোগের উৎপত্তি সেই চীন কিন্তু অভাবিত দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে তারা সারা দেশে এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সক্ষম হয়। শুধু উহান প্রদেশে সীমাবদ্ধ রেখে ভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে নি¤œতম পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হলো। ফলে, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উৎপত্তিস্থল উহানসহ পুরো চীনের জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে; লকডাউন উঠে যায় এবং অর্থনীতির চাকা পুরোপুরি সচল হয়। এরপর করোনা শনাক্তের কিট থেকে শুরু করে এর সংক্রমণ রোধে কার্যকর উপায়, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, এমনকি বিশেষজ্ঞ টিম পাঠিয়ে অনেক দেশকে সাহায্য করছে চীন। অনেক দেশই চীনের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও দেশটি এখন এক নম্বরে। এমনই প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করছেন ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নেতৃত্ব দেবে চীন। পাশ্চাত্যের বহু কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, করোনাকালীন সঙ্কট পুঁজি করে চীন চাইছে বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। একে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। যেকোনো দেশ বা জাতিই বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে আসতে পারে যদি সে যোগ্যতা তাদের থাকে। তবে আমাদের ধারণা, চীনের সেই সক্ষমতা অর্জন এখনো সময়সাপেক্ষ। বিশ্বের নেতৃত্ব গ্রহণের মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিমত্তা, সর্বোপরি মানবিকতার গুণ চীনের আছে- এমন মনে করার কোনো কারণ ঘটেনি। বরং বিশ্বের আরো অনেক দেশের মতো চীনও আরো বেশি রেজিমেন্টেড শাসনের দিকে এগিয়ে যায় কিনা সেটিও দেখার বিষয়।

করোনাভাইরাস-পরবর্তী বিশ্ব কেমন হতে পারে সে সম্পর্কে গত কিছু দিন ধরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ইয়োভাল নোয়াহ হারারির (ণাঁধষ ঘড়ধয ঐধৎধৎর) বক্তব্য। তিনি মূলত একজন ইসরাইলি ইতিহাসবিদ, দার্শনিক ও লেখক। তার লেখা বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ‘সেপিয়েন্স’, ‘হোমো দেউস’ ইত্যাদি। সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এবং ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক লেখায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই মহামারীর পর এমন এক গণনজরদারি রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হতে পারে, যেখানে সরকার প্রতিটি নাগরিকের প্রতি মুহূর্তের চলাফেরা শুধু নয়, তার আবেগ-অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দের খবরও তারা জেনে যাবে। লৌহ যবনিকার দেশ চীনই যে সে ধরনের প্রথম রাষ্ট্র হবে না, তারই বা নিশ্চয়তা কী? 

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে বিশ্ব নেতার আসন দখলের যোগ্যতা চীন কত দিনে অর্জন করতে পারবে অথবা আদৌ পারবে কিনা সেটি দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে। 

[email protected]


আরো সংবাদ