৩০ মে ২০২০
অন্য দৃষ্টি

নভেল করোনা কতটা নভেল

নভেল করোনা কতটা নভেল - সংগৃহীত

ইউরোপ আমেরিকাসহ ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করতে সফল হয়েছে। ভাত-কাপড়-বাসস্থান নিয়ে তাদের আর কোনো সঙ্কট নেই। প্রতিদিন তারা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পায়। তাদের খাদ্যে কোনো ভেজাল নেই। ফরমালিন কিংবা কার্বাইড মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করার ঝুঁকি তাদের নেই। জীবন ধারণের জন্য যা যা মৌলিক প্রয়োজন তার সব তারা অনায়াসে পূরণ করেছে। বলতে হবে আর্থিক দারিদ্র্য সেখানে নেই। জীবন ভোগ করার জন্য আরো অসংখ্য উপায়-উপকরণ তারা জোগান দিয়েছে। মৌলিক প্রয়োজনের সাথে সেগুলোকেও অনায়াসে তারা ভোগ করতে পারছে। সেখানে নেই বায়ুদূষণ। নেই যানবাহনের মাত্রা ছাড়ানো আওয়াজ। কলকারখানায় পরিবেশ রক্ষায় সব নিয়ম মেনে চলে তারা। চোর-ডাকাতের ভয় নেই। কিংবা পুলিশের ক্রসফায়ারের ভয় নেই। কোনোকালে অর্থের সঙ্কট হওয়ার দূরতম আশঙ্কাও তারা বোধ করে না।

জীবন সেখানে শুধুই ভোগ করার। হোটেল-রেস্তোরাঁ-পানশালাসহ যতসব বিনোদনের মাধ্যম সব সেখানে জমজমাট। গরিব দেশের লোকজন ওইসব দেশে পাড়ি জমাতে জীবন পর্যন্ত বাজি রাখছে। ইউরোপ আমেরিকায় পৌঁছাতে এশিয়া ও আফ্রিকার কত ভাগ্যান্বেষী যুবক প্রাণ দিয়েছে, তার সঠিক খবর জানা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এই মিছিল আমরা দেখেছি। প্রায় প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগর পার হতে গিয়ে মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আমেরিকার ডিভি ভিসার জন্য লম্বা লাইন যারপরনাই লম্বা হয়েছে। আগের রাতে গিয়ে শত শত মানুষ এ জন্য জমায়েত হয়েছে মার্কিন দূতাবাসে। স্বপ্নের আমেরিকা পাড়ি জমানোর জন্য হুলুস্থুল এখন কি নিছক স্মৃতি হয়ে যাবে? আমেরিকায় এমন এক বর্ণবাদী প্রেসিডেন্টের আগমন হয়েছে তিনি কালো ও বাদামি চামড়ার মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন। তিনি নির্দিষ্ট কিছু ধর্মকে পছন্দ করেন। বাকি সবার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ান। ‘গণতন্ত্র ও মানবতার সবচেয়ে বড় রক্ষক’ আমেরিকায় দাঙ্গার পরিবেশও সৃষ্টি হয়েছে। সেখানকার হোয়াইট সুপ্রিমিস্টরা মৌলবাদীদের সব সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। সুখের কাক্সিক্ষত আবাস আর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নয়। সেটা ঘৃণা আতঙ্ক আর ভয়ের দেশ হতে চলেছে। কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস যেন এর ওপর আরো বড় কামান দাগাল।

‘নিরাপত্তা’ বলতে আমাদের ধারণায় ছিল ধনী দেশগুলোর মডেল। একটি জাতিকে বহিঃরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত করা। এ জন্য প্রধান দুটো সুরক্ষা হচ্ছে, শক্তিশালী অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনী। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এ দুটোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়। সেই অর্থে ইউরোপ ও আমেরিকা শক্তিশালী। তারা নিজেদের মানুষের উন্নত জীবনকে নিরাপদ করার জন্য অর্থনীতির সর্বোচ্চ বিকাশ করেছে। গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনী কতটা শক্তিশালী তা নির্ভর করে সে দেশের গুদামে কতটি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইউরোপের উন্নত জীবনকে পাহারা দেয়ার জন্য আমেরিকার নেতৃত্বে ন্যাটো জোট গঠন করা হয়েছে। এ বাহিনী আবার আমেরিকার বিরুদ্ধে পরিচালিত আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য একসাথে লড়বে। বিগত কয়েক বছরে ন্যাটোর ঐক্য ও সংহতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এটাও প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে যে, শক্তিশালী অর্থনীতি ও সামরিক বাহিনী মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারে না।

মানুষের নিরাপত্তাগত ধারণা অনেক আগে থেকে বদলাতে শুরু করেছে। চলতি শতাব্দীতে এ ধারণা করা শুরু হয়েছে যে, মানুষের জীবনের ওপর বড় ধরনের দুর্যোগ নেমে আসতে পারে। এ দুর্যোগ পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় ও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাস পুরো বিশ্বকে ওলট পালট করে দিয়েছে। আকার আকৃতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাইরাসটি আঘাত হানার তিন মাসের মাথায় এতে আট লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এটি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৪০ হাজারের বেশি মানুষের। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু দুই লাখের কম হলেই বড় সফলতা। আমেরিকা পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ। তাদের রয়েছে সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতি।

সে দেশের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি দুই লাখ মানুষকে ‘বলি’ দিয়ে সন্তুষ্ট হন, তা হলে দরিদ্র দেশগুলোর অবস্থা কী হবে? তবে করোনার বিস্তার ও মৃত্যুর হার নিয়ে রহস্য কেবলই বাড়ছে। সবচেয়ে ভালো চিকিৎসার আয়োজন করে এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যায়, তার প্রমাণ কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। আবার হাসপাতাল বা ডাক্তারের অভাবে করোনার আক্রমণে মানুষেরা হাজার হাজারে প্রাণ হারাচ্ছেন, তাও ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত অরক্ষিত দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ দেশগুলোতে করোনা ছড়িয়ে পড়া এবং এতে মৃত্যুহার উন্নত দেশগুলো থেকে অনেক কম। শেষ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ও এর দ্বারা প্রাণহানি কোন জনপদে কত হবে, আমরা কেউ জানি না।

দরিদ্র দেশ নেপালে ২১ মার্চ পর্যন্ত তিনজনের মধ্যে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তাদের প্রতিবেশী চীনে করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ৯ জানুয়ারি। পাশেই অবস্থিত মিয়ানমারের পাঁচজনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। একই সময় জনসংখ্যায় চীনের কাছাকাছি তবে আর্থিক সচ্ছলতার দিক দিয়ে দরিদ্র এবং ১৪০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৭২৪ জন। সেখানে মারা গেছে ১৭ জন। চীনের বাইরে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে থাইল্যান্ডে। এ দেশটিতে ২১ মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৩৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছে পাঁচজন। এশিয়া ও আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবার মান দুর্বল। করোনার মতো রকেট গতিতে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিবিধানমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সামর্থ্য তাদের কম। যেমন আফ্রিকার বুরুন্ডির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের দেশে করোনায় আক্রান্ত কেউ নেই, কারণ করোনা আক্রান্ত হয়েছে কি না সেটা পরীক্ষার জন্য আমাদের কাছে কোনো কিট নেই।’ বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এ দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত এ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশত এবং মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনা ছড়ানোর চিত্রটি দেখলে আমাদের আশান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। অনেক দেশেই প্রথমে এক-দু’জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরে সেখানে হাজার হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেখানে মারা যাচ্ছে শত শত মানুষ।

করোনা সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা ভাবিয়ে তুলছে উন্নত দেশগুলোকে। এসব দেশের অর্থনীতি যেমন মজবুত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও অত্যন্ত টেকসই। ইউরোপের ইতালি ও স্পেন এমন দুটো দেশ। করোনার আক্রমণে দেশ দুটোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত দেশ দু’টিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১ হাজার ৫৯১ ও ৭ হাজার ৩৪০। আর আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে এক লাখ এক হাজার ৭৩৯ ও ৮৫ হাজার ১৯৫। এ দুটো দেশে গড়ে প্রতিদিন ছয় শ’ থেকে আট শ’ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। গড়ে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ। ঠিক যে গতিতে ভাইরাসটি আঘাত হেনেছে সেটা অব্যাহত থাকলে জনপদগুলো বিরান হয়ে যেতে বেশিদিন লাগবে না। ইউরোপ এ মহাদেশের দুটো নেতৃস্থানীয় দেশ ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের অবস্থাও একই লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। ফ্রান্সে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। যুক্তরাজ্যে মারা গেছেন এক হাজার ৪০০ বেশি মানুষ, আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজারের বেশি। ইউরোপের জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের মতো নিট অ্যান্ড ক্লিন দেশ বিশ্বে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এ দেশগুলোও একই ভয়াবহতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এসব দেশের উন্নত প্রযুক্তিও শক্তিশালী অর্থনীতি- কিছুই তাদের দেশের মানুষদের রক্ষা করতে পারছে না।

পৃথিবীবাসীর জন্য সবচেয়ে ভীতির কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা। চীনে প্রথম যখন ভাইরাসটি শনাক্ত হলো তখনই দেশটি বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়। চীনের সাথে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়। যেসব বিমান ক্রুরা সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করেছে তাদের ওপর দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০ জানুয়ারি। এর পরের ৫০ দিনে মোট এক হাজার রোগী শনাক্ত করা হয়। এর পরের এক সপ্তাহের মধ্যেই করোনা রোগী পাঁচ হাজার ছড়িয়ে যায়। পরের ১২ দিনে রোগী বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৩৫ হাজার। সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত সেখানে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি। মারা গেছেন আড়াই হাজারের বেশি। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস জানি। দেশটি সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু বোমা বানিয়েছে। চাঁদের বুকে তারা মনুষ্য অভিযান চালিয়েছে। এর অর্থনীতি এত বড় ও শক্তিশালী যে, বাকি বিশ্ব সে তুলনায় তুচ্ছ বলতে হবে। তাদের অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তির কাছে সারা বিশ্ব পদানত। কিন্তু সেই দেশটি করোনার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করছে। করোনার বিরুদ্ধে খুব একটা কিছু তারা করতে পারছে তার নজির নেই। সামনে এ অবস্থা আরো করুণ হবে সে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত দেশটি তাদের নিরাপত্তা জোরদার করেছে মানুষ শত্রুদের লক্ষ্য করে। এগুলো ছিল উন্নতমানের বোমা ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। বাকি বিশ্বের মানুষদের লক্ষ করে নেয়া তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন অকার্যকর। মানুষেরা শত্রু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনের ওপর আঘাত করেনি। সেখানে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে একটি ক্ষুদ্র ভাইরাস।

শুক্রবার নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যটিতে ৫১২ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আরো তিন হাজার ১৬ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এসব সদস্য জ্বর, কাশি, সর্দি ও মাথাব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছেন। রাজ্যটির পুলিশ সদস্যদের ১০ শতাংশের বেশি অসুস্থ। সামরিক বাহিনীর মধ্যেও একইভাবে করোনার বিস্তার ঘটতে পারে। এতে তাদের সামরিক বাহিনী শক্তিহীন হয়ে গেলে বিস্ময়ের কিছু নাও হতে পারে।
করোনা নামের ভাইরাস পৃথিবীতে আগে থেকেই আছে। বর্তমান ভাইরাসটিকে বলা হচ্ছে নভেল করোনা, অর্থাৎ ‘অদ্ভুত বা নতুন’ এক করোনা। এ করোনা প্রতিদিন তার চেহারা পরিবর্তন করছে বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন। আমরা যদি মনে করি, এই করোনার কোনো কর্তৃপক্ষ নেই, সেটা বোকামি হবে। করোনার মতো চেতনাহীন একটা ভাইরাস নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না। তার নিশ্চয়ই রয়েছে এক শক্তিশালী নিপুণ কারিগর কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ক্রিস হুইটির শরীরেও ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এগুলো কি নেহায়েত কাকতালীয় ব্যাপার? ব্রিটিশ রাজপরিবারেও হানা দিয়েছে ভাইরাসটি। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসও করোনায় আক্রান্ত। করোনার কোনো প্রতিষেধক নেই। তাই এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই এ থেকে বাঁচার প্রধান কৌশল। বলা হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের চেয়ে বেশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলেনÑ এমন মানুষ পৃথিবীতে নেই। রাজপরিবারের মানুষেরা সাবান বা স্যানিটাইজার ব্যবহার না করে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করবেন এটি চিন্তাও করা যায় না। তা হলে কোন ফাঁক দিয়ে রাজপরিবারের ঢুকে পড়ল এই ভাইরাস? এ দিকে স্পেনের রাজকুমারী মারিয়া তেরেসা করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবার মারা গেছেন।

জার্মানির এক মন্ত্রী এ নিয়ে মানসিক টানাপড়েনে ভয়াবহ আত্মহত্যা ঘটিয়ে বসলেন। তিনি দেশটির হেসে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী টমাস শেফার। গত শনিবার হাইস্পিড ট্রেন লাইন থেকে তার ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার হয়। করোনার ভয়ে আত্মাহুতির আরো ঘটনার খবর আছে। কেন এই রহস্যময় নভেল করোনার দুর্ভেদ্য আক্রমণ? এ ভাবনা মানুষের জন্য জরুরি। হ
[email protected]


আরো সংবাদ